📄 ঘ. আত্মীয়তার সম্পর্ক
এখানে আত্মীয় দ্বারা উদ্দেশ্য নিকটাত্মীয় নারীরা, যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম। যেমন: কন্যা, ফুফু, খালা, বোন, ভাতিজি, ভাগিনী। বংশীয় দিক থেকে হারাম হওয়া সকল নারীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের দেখাশোনা করা, তাদের প্রতি সদাচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে আল্লাহর ক্রোধের স্বীকার হতে হয়।
আয়েশা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সে বলতে থাকে, যে আমার সাথে সম্পর্ক রাখে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তাআলাও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।’ ৩০৪
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ ৩০৫
টিকাঃ
৩০৪. সহিহ মুসলিম : ৪/১৯৮১, হা. নং ২৫৫৫
৩০৫. সহিহুল বুখারি : ৮/৩২, হা. নং ৬১৩৮
📄 ঙ. ইলম অর্জন
ইলম অন্বেষণ করা বড় ধরনের একটি ইবাদত। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। ইলমের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য হাসিল করতে পারে। এমনকি কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর নিকট পাপীদের জন্য সুপারিশও করতে পারবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমানদার ও যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা সমুন্নত করে দেবেন।’ ৩০৬
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণের জন্য পথ চলবে, আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেবেন।’ ৩০৭
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : ‘কেবল আল্লাহর জিকির, জিকিরসংক্রান্ত বিষয়াদি, আলিম ও ইলম অর্জনকারীগণ ব্যতীত দুনিয়া ও তার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহ অভিশপ্ত।’ ৩০৮
আবু দারদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : ‘যে ইলম অন্বেষণের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তার জান্নাতের পথকে সহজ করে দেন। ফেরেশতারা তালিবুল ইলমের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে রাখেন। আর আলিমের জন্য আসমান ও জমিনবাসী এমনকি পানির মাছও ক্ষমা প্রার্থনা করে। সাধারণ মানুষের ওপর আলিমের মর্যাদা তারকার ওপর চাঁদের মর্যাদার মতো। আর আলিমগণ হলেন নবিদের উত্তরাধিকারী। নবিরা কখনো দিনার-দিরহামের উত্তরাধিকারী বানান না; বরং তাঁরা ইলমের উত্তরাধিকারী বানান। সুতরাং যে তা অর্জন করল, সে পূর্ণ অংশই গ্রহণ করল।’ ৩০৯
টিকাঃ
৩০৬. সুরা আল-মুজাদালা : ১১
৩০৭. সহিহু মুসলিম: ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
৩০৮. সুনানুত তিরমিজি: ৪/১৩৯, হা. নং ২৩২২ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
৩০৯. সুনানু আবি দাউদ : ৩/৩১৭, হা. নং ৩৬৪১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যা, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
📄 চ. প্রতিবেশীদের সহায়তা
প্রতিবেশীর এমন কিছু অধিকার রয়েছে, যেগুলো অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়। আল্লাহ তাআলা যেভাবে পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন এবং অন্যান্য হকদারের জন্য অসিয়ত করেছেন, সেভাবে প্রতিবেশীর জন্যও অসিয়ত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘পিতা-মাতার সাথে এবং নিকটাত্মীয়, এতিম-মিসকিন, নিকটবর্তী ও দূরবর্তী প্রতিবেশী ও পার্শ্ববর্তী সহচরের প্রতি সদয় ব্যবহার করো।’ ৩১০
আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী সেই, যে তার সঙ্গীর নিকট উত্তম। আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী সেই, যে তার প্রতিবেশীদের নিকট উত্তম।’ ৩১১
টিকাঃ
৩১০. সুরা আন-নিসা: ৩৬
৩১১. সুনানুত তিরমিজি: ৩/৩৯৭, হা. নং ১৯৪৪ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত) - হাদিসটি হাসান।
📄 ছ. পরিবারের দেখাশোনা
নিজের পরিবারের দেখাশোনা করা এবং তাদের বিভিন্ন ব্যয়ভার বহন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটা তো বরং আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা ও দান-সদকার চাইতেও অধিক পুণ্যের কাজ।
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘আল্লাহর রাস্তায় তুমি একটি দিনার খরচ করলে, গোলাম আজাদের জন্য একটি দিনার খরচ করলে, মিসকিনকে দান করার জন্য একটি দিনার খরচ করলে; আর নিজ পরিবারের জন্য একটি দিনার খরচ করলে; এর মধ্যে পরিবারের জন্য খরচকৃত দিনারের প্রতিদান সবচেয়ে বেশি হবে।’ ৩১২
টিকাঃ
৩১২. সহিহু মুসলিম : ২/৬৯২, হা. নং ৯৯৫ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)