📄 ক. জিহাদ
ইবাদতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হলো জিহাদ। জিহাদের মাধ্যমে একজন মুজাহিদ সফলকাম ও পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হয়। জিহাদের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল এই বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাস্তায়, অতঃপর মারে ও মরে।’ ২৯৯
টিকাঃ
২৯৯. সুরা আত-তাওবা: ১১১
📄 খ. পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার
পিতা-মাতার আনুগত্য করা, তাদের সাথে সৎ ব্যবহার করা ও কোমল আচরণ করা, তাদের জীবদ্দশায় খিদমত করা এবং মৃত্যুর পর তাদের জন্য দুআ করা—এগুলো সন্তানের কর্তব্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো হয় দুবছর বয়সে। আর মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।’ ৩০০
তিনি আরও বলেন : ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার জোর নির্দেশ দিয়েছি। যদি তারা তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করার জোর প্রচেষ্টা চালায়, যার সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তাদের আনুগত্য করো না।’ ৩০১
টিকাঃ
৩০০. সুরা লুকমান: ১৪
৩০১. সুরা আল-আনকাবুত : ৮
📄 গ. অপরকে সহযোগিতা
অপর মুসলিমকে সাহায্য-সহায়তা করা, তাদের কল্যাণকামী হওয়া ও তাদের যেকোনো বিপদাপদ দূর করার ব্যবস্থা করা—এসব আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম উপায়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘কসম সময়ের। নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাগিদ করে সত্যের, তাগিদ করে সবরের।’ ৩০২
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি পার্থিব জীবনে কোনো মুমিনের কষ্ট দূর করবে, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো দুস্থ লোকের অভাব দূর করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে আল্লাহ তার দুরবস্থা দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষত্রুটি ঢেকে রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষত্রুটি ঢেকে রাখবেন। আর বান্দা যতক্ষণ তার মুসলিম ভাইয়ের সহযোগিতায় করতে থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন।’ ৩০৩
টিকাঃ
৩০২. সুরা আল-আসর: ১-৩
৩০৩. সহিহ মুসলিম : ৪/২০৭৪, হা. নং ২৬৯৯
📄 ঘ. আত্মীয়তার সম্পর্ক
এখানে আত্মীয় দ্বারা উদ্দেশ্য নিকটাত্মীয় নারীরা, যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম। যেমন: কন্যা, ফুফু, খালা, বোন, ভাতিজি, ভাগিনী। বংশীয় দিক থেকে হারাম হওয়া সকল নারীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। এদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, তাদের দেখাশোনা করা, তাদের প্রতি সদাচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে আল্লাহর ক্রোধের স্বীকার হতে হয়।
আয়েশা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সে বলতে থাকে, যে আমার সাথে সম্পর্ক রাখে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক রাখেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তাআলাও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।’ ৩০৪
আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ ৩০৫
টিকাঃ
৩০৪. সহিহ মুসলিম : ৪/১৯৮১, হা. নং ২৫৫৫
৩০৫. সহিহুল বুখারি : ৮/৩২, হা. নং ৬১৩৮