📄 দ্বিতীয়ত, ইসলামি শরিয়ত সংস্কার থেকে মুক্ত
ইসলামি জীবনব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আকিদা, ইবাদত, আখলাক-সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো কালের বিবর্তন সত্ত্বেও কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, কম বা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে একবারেই মুক্ত। পূর্বে তা যেভাবে অটল ছিল, বর্তমানেও সেভাবেই অটল রয়েছে। ইসলামি জীবনব্যবস্থা শুদ্ধ হওয়ার সত্যতা প্রমাণে এ বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য। এ মূলভিত্তির ওপর নির্ভর করে মিল্লাতে ইসলামিয়া গঠিত হয়েছে দৃঢ়তা ও অবিচলতার গুণে। এ বৈশিষ্ট্য উম্মাহর মাঝে ধারাবাহিকতা রোপিত করে। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে ইসলামি শরিয়তের মাঝে কোনো অস্থিরতা বা এলোমেলো ভাব প্রবেশ করতে পারে না।
ইসলামি আকিদা, ইবাদত ও আখলাকসংশ্লিষ্ট শিক্ষার দৃঢ়তার কারণে ইসলামি জীবনব্যবস্থা একটি পৃথক ও অনন্য নির্দেশিকা। এখানে রয়েছে স্পষ্টতা ও বিন্যস্ততা। এতে বিশৃঙ্খলার সামান্যতম কোনো সম্ভাবনা নেই। এর বিপরীত মানবরচিত ব্যবস্থা পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও সংযোজন-বিয়োজনে ভরপুর। কেননা, তা কোনো আকিদাগত দৃঢ়তার ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই যেকোনো মানবরচিত আকিদা, যা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হওয়ার উপযুক্ত; তার অনুসারীরা তাতে কম-বেশি করার ক্ষেত্রে কোনো দোষ মনে করে না। একপর্যায়ে খোলা হস্তক্ষেপ ও আমূল পরিবর্তনের কারণে সকল ক্ষেত্রেই ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যা একটি মতাদর্শের মৃত্যু সমতুল্য।
কিন্তু ইসলামি আকিদা পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে অটল রয়েছে। কালের পর কাল, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এবং যুগের শত আবর্তন সত্ত্বেও তা স্বীয় দৃঢ়তায় অবিচল। তার এ দৃঢ়তা থেকেই বেরিয়ে আসে সমৃদ্ধ মুসলিম প্রজন্ম, যারা সুদৃঢ় ঐক্য, পরিকল্পনা ও পরিতৃপ্তির ক্ষেত্রে অভিন্ন সত্তাকে ধারণকারী। বিশ্বাস ও আচার-আচরণের ক্ষেত্রে যাদের কাঠামো এক ও অভিন্ন। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘নিশ্চয় এরা তো তোমাদেরই জাতি, একই ধর্মে বিশ্বাসী সবাই এবং আমিই তোমাদের রব; অতএব আমার ইবাদত করো।’ ২৫৯
টিকাঃ
২৫৯. সুরা আল-আম্বিয়া: ৯২
📄 তৃতীয়ত, ইসলামি জীবনব্যবস্থা স্পষ্ট
ইসলামে অস্পষ্টতা বলে কিছু নেই। ন্যায়পরায়ণতার ওপর এর ভিত্তিমূল স্থাপিত। ইসলাম তার অবস্থানে সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা কোনো হুকুম প্রকাশের ক্ষেত্রে কারও প্রবৃত্তির অনুসারী নয়; বরং তা প্রকৃত সত্যকে প্রকাশকারী। ইসলাম প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সত্য ও বাস্তবতার ওপর নির্ভর করে। রাগের বশবর্তী না হয়ে বা কারও প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে শুধু দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃষ্ট অবস্থার অনুসরণ করে। ইসলামের দৃষ্টিতে ন্যায় ও সত্য থেকে সরে যাওয়া কিংবা কারও ব্যক্তিগত আগ্রহ বা প্রবৃত্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা খুবই নিন্দনীয়।
অবস্থা যাই হোক না কেন, ইসলাম সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং সদা ন্যায়ের আলোকেই কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। ইসলাম খুবই সতর্কতা অবলম্বন করে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা বা সত্য থেকে পিছিয়ে যাওয়া থেকে বেঁচে থাকার কথা বলে। এ বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহয় অসংখ্য প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে। সকল প্রমাণাদিই ইসলামের মহান মর্যাদা ফুটিয়ে তোলে। ইসলাম সত্যকে রক্ষা ও মানুষের সাথে প্রকাশ্য ন্যায়ানুগ আচরণ করাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করে। ইসলামে মানুষের ভুল জ্ঞান থেকে উদ্ভাবিত মানদণ্ডের কোনো ভিত্তি নেই।
সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে বিচার ও শাসনের ক্ষেত্রে ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত, নারী-পুরুষ, সুন্দর-কুৎসিত—সবাই সমান। এ দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআন সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের ওপর ইসলামি শাসনব্যবস্থার ভিত্তিকে মজবুত রাখার জন্য বলেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হয়ে যাও আল্লাহর সাক্ষীরূপে, যদিও তা তোমাদের নিজের অথবা মাতা-পিতার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতিকূল হয়। কেউ যদি সম্পদশালী কিংবা দরিদ্র হয়, তাহলে আল্লাহ তোমাদের চেয়ে তাদের ব্যাপারে অধিক কল্যাণকামী। অতএব তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে কথা বলো কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে (জেনে রেখো) আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কর্ম সম্পর্কেই অবগত।’ ২৬০
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো। আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো। কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে অবিচার করার প্রতি প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার করো, এটা আল্লাহভীতির অধিকতর নিকটবর্তী। আর আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।’ ২৬১
কোনো ধরনের ঘুরানো-প্যাঁচানো বা ইতস্ততা করা ব্যতীত ইসলামের মহান বিধানের ওপর দৃঢ় থাকাকে ওয়াজিব করে রাসুলুল্লাহ এবং তাঁর সাথে মুসলিম উম্মাহকে সম্বোধন করে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে : ‘অতএব তুমি এবং তোমার সাথে যারা তাওবা করেছে, সবাই অটল থাকো; যেভাবে তোমাকে আদেশ করা হয়েছে। আর সীমালঙ্ঘন করো না, তোমরা যা কিছু করছ, নিশ্চয় তিনি তার প্রতি দৃষ্টি রাখেন।’ ২৬২
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন : ‘যারা বলে, আমাদের রব তো আল্লাহ এবং এই বিশ্বাসের ওপর অবিচল থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ ২৬৩
ইমাম মুসলিম সুফইয়ান বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ‘আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, ইসলাম সম্পর্কে আমাকে এমন একটি কথা বলুন, যে ব্যাপারে আমি আপনার পর আর কাউকে আর জিজ্ঞেস করব না। রাসুলুল্লাহ বললেন, তুমি বলো, আমি আল্লাহর প্রতি ইমান আনলাম, অতঃপর তার ওপর অবিচল থাকো।’ ২৬৪
টিকাঃ
২৬০. সুরা আন-নিসা: ১৩৫
২৬১. সুরা আল-মায়িদা: ৮
২৬২. সুরা হুদ: ১১২
২৬৩. সুরা আল-আহকাফ: ১৩
২৬৪. সহিহু মুসলিম: ১/৬৫, হা. নং ৩৮
📄 চতুর্থত, ইসলামি জীবনব্যবস্থা মানবপ্রকৃতির উপযোগী
মানুষের সৃষ্টিগত ইচ্ছা, ঝোঁক, আগ্রহ ও স্বভাবকে ফিতরাত বলে। প্রত্যেক মানুষেরই সৃষ্টিগতভাবে আত্মিক, মানসিক, শারীরিক কিছু আগ্রহ বা সহজাত বাসনা থাকে। মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহকে স্রষ্টা ও ইসলামকে ধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে। তাই বলা যায়, ইসলাম মানুষের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যশীল ধর্ম। ইসলামে রয়েছে সব ধরনের চাহিদা পূরণের সুষম ব্যবস্থা। মানুষ তার চাহিদা পূরণে ততটুকু এগোতে পারবে, যতটুকু শরিয়তসম্মত হবে।
আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে ইরশাদ করেন: ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ওই সব সুস্বাদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আর আল্লাহ তোমাদের যেসব বস্তু দান করেছেন, তন্মধ্য থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তুগুলো আহার করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।’ ২৬৫
যেসব মানুষ হালাল জিনিস পরিত্যাগ করে নিজেদের অনর্থক কষ্ট দেয়, তাদের নিন্দা জানিয়ে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন : ‘হে রাসুল, আপনি জিজ্ঞেস করুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যেসব শোভনীয় বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে? আপনি ঘোষণা করে দিন, এসব তো তাদের জন্যই, যারা পার্থিব জীবনে এবং বিশেষ করে কিয়ামত দিবসে বিশ্বাস করে। এমনিভাবে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে দিই।’ ২৬৬
রাসুলুল্লাহ বলেন: ‘অপচয় না করে এবং অহংকারের বশবর্তী না হয়ে তোমরা খাও, পান করো ও সদকা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর তাঁর দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন দেখতে পছন্দ করেন।’ ২৬৭
একমাত্র ইসলামই হচ্ছে এমন ধর্ম, যা মানুষের স্বভাব-প্রকৃতির সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ। মানবরচিত সকল মতাদর্শের মাঝে দুটি অবস্থা সর্বদা দৃশ্যমান থাকে। হয় তাতে অতি ছাড়াছাড়ি রয়েছে নতুবা রয়েছে অতি বাড়াবাড়ি। ইসলাম যেহেতু মানুষের ফিতরাতের বিবেচনা করে, তাই ইসলাম ফিতরাতের চাহিদা পূরণ করে থাকে সুষম পদ্ধতিতে। ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যা মধ্যপন্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘এভাবে আমি তোমাদের মধ্যপন্থী জাতি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হয়। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ইমান বিনষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুণাময়।’ ২৬৮
সহিহ সনদে মুতাররিফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ‘সকল কিছুতে মধ্যপন্থাই উত্তম।’ ২৬৯
টিকাঃ
২৬৫. সুরা আল-মায়িদা: ৮৭-৮৮
২৬৬. সুরা আল-আরাফ: ৩২
২৬৭. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৪/১৫০, হা. নং ৭১৮৮
২৬৮. সুরা আল-বাকারা : ১৪৩
২৬৯. মুসান্নাফু ইবনি আবি শাইবা : ৭/১৭৯, হা. নং ৩৫১২৮
📄 পঞ্চমত, ইসলাম দলিলনির্ভর জীবনব্যবস্থা
ইসলাম কখনো বলপ্রয়োগ ও অন্যায় হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। সকল ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধিবিধান সমাধানের ক্ষেত্রে দলিল-প্রমাণের ওপর নির্ভর করে। কারণ, দলিল-প্রমাণ মানুষকে সূক্ষ্মদৃষ্টি ও গভীর জ্ঞান দান করে। তাই আল্লাহ তাআলা ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: ‘তুমি মানুষকে তোমার রবের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সুন্দর পন্থায়। তোমার রব ভালো করেই জানেন, কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় আর কে সৎ পথে আছে।’ ২৭০
কঠোরতা পরিহার করে দয়ার্দ্র ভঙ্গিতে দাওয়াত দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘অতএব, আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আপনি যদি কর্কশভাষী, কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে নিশ্চয়ই তারা আপনার পাশ থেকে সরে পড়ত। তাই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন।’ ২৭১
স্বাভাবিকভাবে ইসলাম দয়া, কোমলতা, নম্রতা, উদারতা ও বদান্যতার ধর্ম, যা অন্তর ও আত্মায় প্রভাব সৃষ্টি করে। তথাপি ক্ষেত্রবিশেষে কঠোরতা অবলম্বন করতে হয়। কল্যাণের জন্য সেটা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করো, যেন তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা খুঁজে পায়। আর জেনে রেখো, আল্লাহ মুত্তাকিদের সাথেই আছেন।’ ২৭২
তিনি আরও ইরশাদ করেন : ‘যে সমস্ত আহলে কিতাব আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন—তা হারাম মানে না এবং সত্য ধর্ম গ্রহণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে।’ ২৭৩
ইসলামে অন্যায়ভাবে রক্ত প্রবাহ বা ধ্বংসের নেশার কারণে যুদ্ধের বিধান দেওয়া হয়নি; বরং ইসলামের শান্তির দাওয়াত গ্রহণ না করার কারণে অবাধ্য কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ আবশ্যক করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম ও অমুসলিমদের যুদ্ধের পার্থক্য বর্ণনা করে ইরশাদ করেন: ‘যারা মুমিন, তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে এবং যারা কাফির, তারা শয়তানের পক্ষে যুদ্ধ করে। সুতরাং তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল দুর্বল।’ ২৭৪
ইসলাম মানুষের বিভিন্ন অন্যায়, অকল্যাণ থেকে সমাজ ও জাতিকে রক্ষা করার জন্য সমুচিত শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। অপরাধের শাস্তি দিতে ইসলাম ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা করেছে। আর এই ফৌজদারি আইনে শাস্তি তিন ধরনের। যথা: হুদুদ, কিসাস ও তাজির। এগুলোর প্রতিটিই সুদীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে, যা দণ্ডবিধির আলোচনায় বিশদভাবে উল্লেখ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
২৭০. সুরা আন-নাহল: ১২৫
২৭১. সুরা আলি ইমরান: ১৫৯
২৭২. সুরা আত-তাওবা : ১২৩
২৭৩. সুরা আত-তাওবা : ২৯
২৭৪. সুরা আন-নিসা: ৭৬