📄 আখলাক
আখলাক হলো হৃদয়ে বদ্ধমূল আকিদার প্রকাশমাধ্যম বা ফলাফল। এর মাধ্যমেই মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তি সব সময় সততা, ন্যায়পরায়ণতা, লজ্জাশীলতা, মানবিকতা, বিনয়, সদাচরণ ও এমন অসংখ্য উত্তম গুণে গুণান্বিত হয়। এমন ব্যক্তির মাধ্যমে কখনো কোনো অন্যায় কাজ সাধিত হতে পারে না; বরং তার মাধ্যমে সর্বদা তার নিজের ও অন্যদের শান্তি-নিরাপত্তা অর্জিত হয়। এটাই হলো সহিহ আকিদায় আধারিত উত্তম আখলাকের ফলাফল। এমন সুচরিত্রই মানুষকে নিরাপদে, নিশ্চিন্তে ও স্বাধীনভাবে চলতে সহযোগিতা করে। পরস্পর ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও ঐক্য অর্জনে সাহায্য করে। ফলে সকলের অবস্থা এমন হয় যে, সবাই একটি দেহে পরিণত হয়ে যায়। এক অঙ্গ ব্যথা পেলে সব অঙ্গ ব্যথিত হয়। এটাই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা। এভাবেই সারা দুনিয়া কল্যাণ ও ভালোবাসায় ছেয়ে যায়। এর মাধ্যমেই মানুষের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন না থাকলেও পরস্পরে তারা আত্মার আত্মীয় হয়ে যায়। আর এ বন্ধনের মূলভিত্তিই হচ্ছে বিশুদ্ধ আকিদা। একমাত্র ইসলামই পৃথিবীবাসীকে এরকম আকিদা-বিশ্বাস উপহার দিয়েছে।
যার আকিদা, আখলাক ও তাকওয়া সহিহ হয় না—অন্যভাবে বলা যায়, যার অন্তর কুফর, শিরক, নাস্তিকতা ইত্যাদি ভ্রান্ত মতবাদ দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের ছিটেফোঁটাও যার মাঝে থাকে না—তবে সে সামান্যতম শান্তি পাওয়ার যোগ্য হবে না। ইহজগতে এই ব্যক্তির সকল চেষ্টাই ব্যর্থ। সে কল্যাণ ও রহমত থেকে বঞ্চিত।
তার অবস্থা দুটির যেকোনো একটি হবে। হয়তো সে হবে কোনো ধরনের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও কার্যক্ষমতাহীন একজন নেতিবাচক নির্জীব মানুষ। ইসলাম এমন মানুষকে পছন্দ করে না। অথবা সে হবে অত্যন্ত খারাপ ও পাপিষ্ঠ—যাকে ভ্রষ্টতা, নষ্টামি ও কষ্ট-ক্লেশে চুবিয়ে রাখা হয়েছে। যার থেকে নিকৃষ্টতা, হীনতা ও অহংকারের বোটকা গন্ধ বের হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ আকিদা বঞ্চিত লোকেরা এই দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। বিশুদ্ধ আকিদা, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ইত্যাদি গুণাবলি না থাকায় তাদের এমন দুরবস্থা হয়ে থাকে।