📄 আকিদা
আকিদা ইসলামের সকল ভিত্তি ও স্তম্ভের মূল। প্রত্যেকের জন্য ইসলামের আকিদা হৃদয়ের গভীরে বদ্ধমূল করে নেওয়া আবশ্যক। যেন এর মাধ্যমে মানুষ একজন আদর্শ, পরিপূর্ণ ও উদ্যমী মুসলিম হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই আকিদা ছাড়া মানুষের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, মানবজীবনের চালিকাশক্তিই হলো আকিদা-বিশ্বাস। তাই যার আকিদা ঠিক নেই, তার জীবনের কোনো ভিত্তিই নেই।
যদি মানুষ বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী না হয়, তাহলে তার হিম্মত ও মনোবল দুর্বল হয়ে পড়বে। সে আশা ও অনুভূতি হারিয়ে ফেলবে। নিশ্চল হয়ে যাবে ইচ্ছা ও সহানুভূতির শক্তি। এর চেয়েও অধিক ক্ষতিকর দিক হচ্ছে, বিশুদ্ধ আকিদা না থাকলে মানুষ ভ্রান্ত আকিদা গ্রহণ করে। যেমন : নাস্তিকতা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, নৈরাজ্যবাদ ইত্যাদি। যদি কোনো মানুষ এমন ভ্রান্ত আকিদার ওপর তার জীবনের ভিত্তি স্থাপন করে, তাহলে নিশ্চিতভাবে সে এক ভ্রষ্ট, নিকৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রণহীন মানুষে পরিণত হবে। তার অন্তরে সর্বদা কুধারণা ও কুমন্ত্রণা উঁকি দিতে থাকবে। সে পৃথিবীতে কেবল অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্যই সৃষ্টি করবে এবং নিরাপত্তার বিঘ্নতা ঘটাবে।
📄 তাকওয়া
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি এমন একটি সূক্ষ্ম অনুভূতি, যা সহিহ আকিদা থেকে উৎসারিত হয়। যা অন্তরে সূক্ষ্ম ও প্রফুল্ল ভাব সৃষ্টি করে। মানুষকে সর্বদা নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। সকল অকল্যাণ, মন্দ কাজ, খারাপ চিন্তার মাঝে এবং ওই ব্যক্তির মাঝে আড়াল সৃষ্টি করে। এটি হলো মুসলিম হৃদয়ে প্রোথিত ও লালিত তাকওয়ার বিনিময়। এই তাকওয়াই একজন মুমিনের চালিকাশক্তি ও প্রেরণাশক্তি। তাকে মন্দ থেকে সতর্ককারী ও নিষেধকারী। আর যাদের অন্তরে তাকওয়া ঠিক নেই, তারা নানা অন্যায়-অপরাধ ও পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত থাকে।
তাকওয়া হচ্ছে হৃদয় গভীরে প্রোথিত একটি উপলব্ধির নাম। তাকওয়ার মাধ্যমে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রিত হয়। এর মাধ্যমে সুস্থ চিন্তা-চেতনা ও উত্তম আচরণের প্রকাশ ঘটে। যেমন: মুত্তাকি ব্যক্তি কখনো মিথ্যা বলবে না; বরং সদা সত্য বলবে এবং আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকবে। তার হাত সর্বদা কল্যাণকর কাজ করবে। তার পা সর্বদা অগ্রসর হবে সৎ কাজের প্রতি। এমনিভাবে শরীরের সকল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তাকওয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।
সর্বোপরি তাকওয়া হচ্ছে, সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। আর তাকওয়াহীনতা হচ্ছে সকল মন্দের চাবিকাঠি। অতএব, যে ব্যক্তি সব সময় আল্লাহকে ভয় করে, মনে করে যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন, তার সকল কার্যক্রম তিনি প্রত্যক্ষ করছেন এবং মনের সকল গুপ্ত মনোভাব তাঁর সামনে প্রকাশ্য, তাহলে সে অবশ্যই একজন নিরাপদ ও নেককার বলে বিবেচিত হবে। কারণ, সে সর্বদা তার অন্তরে তাকওয়ার কারণে শান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করে। তার দ্বারা কখনো কারও ক্ষতি হওয়ার চিন্তা করা যায় না।
📄 আখলাক
আখলাক হলো হৃদয়ে বদ্ধমূল আকিদার প্রকাশমাধ্যম বা ফলাফল। এর মাধ্যমেই মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। উত্তম চরিত্রবান ব্যক্তি সব সময় সততা, ন্যায়পরায়ণতা, লজ্জাশীলতা, মানবিকতা, বিনয়, সদাচরণ ও এমন অসংখ্য উত্তম গুণে গুণান্বিত হয়। এমন ব্যক্তির মাধ্যমে কখনো কোনো অন্যায় কাজ সাধিত হতে পারে না; বরং তার মাধ্যমে সর্বদা তার নিজের ও অন্যদের শান্তি-নিরাপত্তা অর্জিত হয়। এটাই হলো সহিহ আকিদায় আধারিত উত্তম আখলাকের ফলাফল। এমন সুচরিত্রই মানুষকে নিরাপদে, নিশ্চিন্তে ও স্বাধীনভাবে চলতে সহযোগিতা করে। পরস্পর ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও ঐক্য অর্জনে সাহায্য করে। ফলে সকলের অবস্থা এমন হয় যে, সবাই একটি দেহে পরিণত হয়ে যায়। এক অঙ্গ ব্যথা পেলে সব অঙ্গ ব্যথিত হয়। এটাই হলো শান্তি ও নিরাপত্তা। এভাবেই সারা দুনিয়া কল্যাণ ও ভালোবাসায় ছেয়ে যায়। এর মাধ্যমেই মানুষের মাঝে আত্মীয়তার বন্ধন না থাকলেও পরস্পরে তারা আত্মার আত্মীয় হয়ে যায়। আর এ বন্ধনের মূলভিত্তিই হচ্ছে বিশুদ্ধ আকিদা। একমাত্র ইসলামই পৃথিবীবাসীকে এরকম আকিদা-বিশ্বাস উপহার দিয়েছে।
যার আকিদা, আখলাক ও তাকওয়া সহিহ হয় না—অন্যভাবে বলা যায়, যার অন্তর কুফর, শিরক, নাস্তিকতা ইত্যাদি ভ্রান্ত মতবাদ দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের ছিটেফোঁটাও যার মাঝে থাকে না—তবে সে সামান্যতম শান্তি পাওয়ার যোগ্য হবে না। ইহজগতে এই ব্যক্তির সকল চেষ্টাই ব্যর্থ। সে কল্যাণ ও রহমত থেকে বঞ্চিত।
তার অবস্থা দুটির যেকোনো একটি হবে। হয়তো সে হবে কোনো ধরনের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও কার্যক্ষমতাহীন একজন নেতিবাচক নির্জীব মানুষ। ইসলাম এমন মানুষকে পছন্দ করে না। অথবা সে হবে অত্যন্ত খারাপ ও পাপিষ্ঠ—যাকে ভ্রষ্টতা, নষ্টামি ও কষ্ট-ক্লেশে চুবিয়ে রাখা হয়েছে। যার থেকে নিকৃষ্টতা, হীনতা ও অহংকারের বোটকা গন্ধ বের হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ আকিদা বঞ্চিত লোকেরা এই দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। বিশুদ্ধ আকিদা, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ইত্যাদি গুণাবলি না থাকায় তাদের এমন দুরবস্থা হয়ে থাকে।