📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ১৩. কাফিরদের জন্য রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা

📄 ১৩. কাফিরদের জন্য রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করা


কাফিরদের জন্য রহমত ও ক্ষমার প্রার্থনা করা হারাম। মৃত কাফির হলে তো বিষয়টি পরিষ্কার। আর জীবিত হলে তার জন্য শুধু হিদায়াতের দুআ করা যাবে। তবে মাগফিরাত বা রহমতের দুআ করার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। বিশুদ্ধ মত হলো, হিদায়াতের অর্থে মাগফিরাত বা রহমতের দুআও করা যেতে পারে, সরাসরি মাগফিরাত বা রহমতের অর্থে নয়। অর্থাৎ জীবিত কোনো কাফিরের ব্যাপারে যখন এ দুআ করা হবে যে, “হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করো, তাকে রহম করো।” তখন এর অর্থ হবে, হিদায়াত দিয়ে তাকে ক্ষমা করো এবং রহম করো। এমন অর্থ উদ্দেশ্য না নিয়ে সরাসরি ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা জায়িজ হবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন : ﴿ مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَنْ يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴾ 'আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবি ও মুমিনদের জন্য সংগত নয়, যখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামের অধিবাসী। '

আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাসির সাদি বলেন:
‘অর্থাৎ নবি ও মুমিনদের জন্য সমীচীন নয় যে, “মুশরিকদের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করবে।” যারা আল্লাহকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর সাথে অন্যেরও উপাসনা করেছে। “আত্মীয়-স্বজন হলেও নয়, যখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, নিশ্চিতই তারা জাহান্নামের অধিবাসী।” কেননা, এ অবস্থায় তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার দ্বারা কোনো লাভ নেই। অতএব, নবি ও মুমিনদের জন্য এমনটা করা উচিত হবে না। কেননা, তারা যখন শিরকের ওপর মারা গেছে কিংবা কোনোভাবে জানা গেছে যে, তারা শিরকের ওপরই মরবে, তখন তাদের জন্য আল্লাহর আজাব অবধারিত হয়ে যাবে। তাদের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম আবশ্যক হয়ে গেছে। সুপারিশকারীদের সুপারিশ ও ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা প্রার্থনা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। এ ছাড়াও নবি ও মুমিনগণের ওপর আবশ্যকীয় করণীয় হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির ব্যাপারে স্বীয় রবের সিদ্ধান্তে সম্মতি জানানো, আল্লাহ যাকে বন্ধু বানিয়েছেন তাকে বন্ধু বানানো এবং আল্লাহ যাকে শত্রু ঘোষণা করেছেন তাকে শত্রু জ্ঞান করা। আর কারও জাহান্নামি হয়ে যাওয়া স্পষ্ট হওয়ার পরও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এর (আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার) সাথে সাংঘর্ষিক ও বিপরীত।”

আল্লাহর রাসুল তো জীবিত কাফিরদের জন্যও অনুগ্রহ ও ক্ষমার দুআ করেননি; বরং তাদের হিদায়াতের দুআ করেছেন। অতএব, মৃত কাফিরদের জন্য দুআ করার কোনোই অবকাশ নেই। আবু মুসা আশআরি বলেন :
'ইহুদিরা রাসুলুল্লাহ-এর সামনে এসে হাঁচি দিত এবং এ আশা করত যে, তিনি তাদের হাঁচির জবাবে বলবেন, “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের প্রতি রহম করুন)। কিন্তু তিনি বলতেন, “ইয়াহদিকুমুল্লাহ ওয়া ইউসলিহু বালাকুম” (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের হিদায়াত করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন)।

ইমাম নববি বলেন :
'আর কাফিরের জানাজার নামাজ পড়া এবং তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করা কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্য ও ইজমার ভিত্তিতে হারাম।'

ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন:
'কেননা, কাফিরদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার ভিত্তিতে নাজায়িজ। '

হাফিজ বদরুদ্দির আইনি বলেন:
'যদি প্রশ্ন করা হয়, এক হাদিসে তো এভাবে এসেছে, “হে আল্লাহ, আমার জাতিকে ক্ষমা করুন। কেননা, তারা জানে না।” তাহলে উত্তরে বলব, এর অর্থ হলো, তাদেরকে ইসলামের পথ প্রদর্শন করুন, যদ্দরুন তাদের মাগফিরাত করা যায়। যেহেতু কুফরের গুনাহ তো মাফ করা হয় না। অথবা এর অর্থ এমন হবে, তারা যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তাদের ক্ষমা করুন।'

টিকাঃ
২০১. সুরা আত-তাওবা: ১১৩
২০২. তাফসিরুস সাদি: ৩৫৩ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
২০৩. সুনানুত তিরমিজি: ৪/৩৭৯, হা. নং ২৭৩৯ (দারুল গারবিল ইসলামি, বৈরুত)-হাদিসটি সহিহ।
২০৪. আল-মাজমু শারহুল মুহাজ্জাব: ৫/১৪৪ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
২০৫. মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া: ১২/৪৮৯ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদিনা)
২০৬. উমদাতুল কারি: ২৩/১৯ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px