📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ৭. দ্বীনের ব্যাপারে কাফিরদের সাথে নমনীয়তা দেখানো

📄 ৭. দ্বীনের ব্যাপারে কাফিরদের সাথে নমনীয়তা দেখানো


এখানে নমনীয়তার অর্থ, সৌজন্যবশত কাফিরদের ভ্রান্ত ও ভুল কোনো কাজের ব্যাপারে নীরব থাকা বা সাপোর্ট করা এবং তাদের প্রতি সৌহার্দ্যভাব প্রকাশ করে নমনীয়তা দেখানো। সুতরাং সে কাজটি যদি কুফরি হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানোও কুফরি হবে। যেহেতু কুফরির প্রতি সন্তুষ্ট থাকাও কুফরির অন্তর্ভুক্ত। আর যদি কাজটি কুফরি না হয়ে নাজায়িজ কিছু হয়, তাহলে নমনীয়তা দেখানো নাজায়িজ হবে। মোটকথা, কাফিরের কাজের ধরন অনুসারে মুসলমানের নমনীয়তার ওপর হুকুম আরোপিত হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
( وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ )
'তারা চায়, যদি আপনি নমনীয় হোন, তাহলে তারাও নমনীয় হবে।'

ইমাম তাবারি বলেন:
দুটি মত হতে অধিক বিশুদ্ধ মত হলো, যারা বলেন, “আয়াতটির অর্থ হলো, ওই সকল মুশরিক কামনা করে, হে মুহাম্মাদ, আপনি যদি তাদের মাবুদদের প্রতি নরম হয়ে তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে আপনার দ্বীনের বিষয়ে একটু নমনীয়তা দেখান, তাহলে তারাও আপনার মাবুদের ইবাদতের ব্যাপারে নমনীয়তা দেখাবে।” যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর যদি আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখতাম, আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন। তখন অবশ্যই আমি আপনাকে ইহজীবনে দ্বিগুন ও পরজীবনে দ্বিগুন শাস্তি আস্বাদন করাতাম। এ সময় আপনি আমার বিপরীতে কোনো সাহায্যকারী পেতেন না।” [সুরা বনি ইসরাইল : ৭৪-৭৫] শব্দটি الدُّهْنِ (তেল) থেকে নির্গত হয়েছে। কথার নমনীয়তাকে তেলের তরলতার সাথে উপমা দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :
﴿ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ ﴾
'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। আর তাঁর সহচরগণ কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল।'

ইমাম তাবারি এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:
আল্লাহ তাআলা বলেন, মুহাম্মাদ হলেন আল্লাহর রাসুল। আর অনুসারী সঙ্গীগণ, যারা তাঁর সাথে তাঁর দ্বীনের ওপর আছেন—তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, তাদের ব্যাপারে তাঁদের অন্তর শক্ত ও দয়ার পরিমাণ সীমিত। “নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল।” আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের অন্তর একে অপরের জন্য নরম, কোমল ও সহজ।

এখানে মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে যে, মুমিনগণ নিজেদের মধ্যে তো খুবই সহনশীল ও নরমদিল হবে, একে অপরের প্রতি সহায়তাপরায়ণ হবে এবং নিজেদের মধ্যে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখবে। কিন্তু কাফিরদের ব্যাপারে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো হবে। তাদের সাথে কোনো বিষয়ে নরমি ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখা যাবে না। বিশেষত দ্বীনের বিষয়ে ছাড় দেওয়া বা নমনীয়ভাব দেখানোর ন্যূনতম কোনো সুযোগ নেই।

টিকাঃ
১৬৯. সুরা আল-কলাম : ০৯
১৭০. তাফসিরুত তাবারি: ২৩/৫৩৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
১৭১. সুরা আল-ফাতহ : ২৯
১৭২. তাফসিরুত তাবারি: ২২/২৬১ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ৮. দ্বীন নিয়ে হাসিঠাট্টা ও বিরোধিতার মজলিসে বসা

📄 ৮. দ্বীন নিয়ে হাসিঠাট্টা ও বিরোধিতার মজলিসে বসা


দ্বীন নিয়ে ঠাট্টার মজলিস বলতে সাধারণ মজলিসও হতে পারে, অনুরূপ তাগুতদের আইনসভা বা সংসদও হতে পারে, যেখানে আল্লাহর দ্বীন নিয়ে মশকরা করা হয়, ইসলামের বিধানের ব্যাপারে কটুক্তি করা হয় এবং শরিয়তের হুকুমের বিরোধিতা করা হয়। এসব মজলিসে অংশগ্রহণ করে দ্বীনের ব্যাপারে ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা বিরোধিতা করতে দেখলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ করতে হবে এবং স্থান ত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তাদের কথায় মৌন সমর্থন থাকায়, তাদের মতো সে-ও কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكিতাবِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذَا مِثْلُهُمْ إِنَّ اللهَ جَامِعُ الْمُنَافِقِينَ وَالْكَافِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا
'কিতাবে তোমাদের প্রতি তিনি নাজিল করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে, আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এবং তা নিয়ে বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তখন যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে কথা শুরু করে, তোমরা তাদের সাথে বসবে না। নয়তো তোমরাও তাদের মতো হয়ে যাবে। নিশ্চয় মুনাফিক ও কাফির সবাইকে আল্লাহ জাহান্নামে একত্র করবেন।'

ইমাম বাগাবি বলেন:
যদি তোমরা কাফিরদের সাথে বসো, যে সময়ে তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে অশালীন কথাবার্তা ও বিদ্রুপ করছে এবং তোমরা তাতে সন্তুষ্ট থাকো, তাহলে তোমরাও তাদের মতো কাফির বলে গণ্য হবে। আর যদি তারা অন্য কথায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের সাথে বসা অনুত্তম হলেও এতে কোনো সমস্যা নেই।

টিকাঃ
১৭৩. সুরা আন-নিসা: ১৪০
১৭৪. তাফসিরুল বাগাবি: ১/৭১৪ (দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ৯. প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাফিরদের নিয়োগ দেওয়া

📄 ৯. প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে কাফিরদের নিয়োগ দেওয়া


আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿وَلَنْ يَجْعَلَ اللهُ لِلْكَافِرِينَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ سَبِيلًا ﴾
'আর আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদের জন্য কোনো পথ রাখবেন না।'

আবু মুসা আশআরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :
আমি উমর -কে বললাম, আমার একজন খ্রিষ্টান কেরানি আছে। উমর বললেন, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! এ তুমি কী করেছ? তুমি কি এ আয়াত শোনোনি? আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর একে অপরের বন্ধু।” [সুরা আল-মায়িদা : ৫১] তুমি কি তাকে একনিষ্ঠ কর্মী বানাওনি? আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন, তার লেখাটাই আমার দরকার হয় আর তার ধর্ম তার থাকবে! তিনি বললেন, আল্লাহ যখন তাদের অপমানিত করেছেন, আমি তাদের সম্মান দেবো না। আল্লাহ যখন তাদের লাঞ্ছিত করেছেন, আমি তাদের মর্যাদা দেবো না। আল্লাহ যখন তাদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন, আমি তাদের কাছে টানব না।

ইমাম কুরতুবি বলেন :
উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো আহলে কিতাবকে (ইহুদি-খ্রিষ্টানকে) সরকারি পদে নিয়োগ দেবে না। কারণ, তারা ঘুষ বৈধ মনে করে। তোমরা নিজেদের ও জনগণের কাজের জন্য এমন লোকদের থেকে সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ করো, যারা আল্লাহকে ভয় করে। উমর রা-কে বলা হলো, এখানে হীরার জনৈক খ্রিষ্টান আছে, যে লেখালেখি ও কলম চালনায় বেশ পারঙ্গম। সে কি আপনার লেখার কাজ করতে পারে না? তিনি বললেন, “আমি অমুসলিমদের অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করব না।” সুতরাং জিম্মিকে কেরানি পদে নিয়োগ দেওয়া কিংবা ব্যবসার পরিচালক ও অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া জায়িজ নেই। আমি বলি, এ যুগে অবস্থার পরিবর্তন এসেছে। এখন আহলে কিতাবকে (ইহুদি-খ্রিষ্টানকে) রেজিস্টার ও আমানতদার বানানো হচ্ছে। এ কারণে অনেক বোকা ও অজ্ঞদের দৃষ্টিতে তারা প্রশাসক ও গভর্নর হিসাবে পরিগণিত হচ্ছে।

আল্লামা ইবনে কাইয়িম বলেন:
ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদে জিম্মি কাফিরদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান : কাউকে কোনো পদে নিয়োগদান যেহেতু ক্ষমতা প্রদানেরই নামান্তর, বিধায় জিম্মিদের নিয়োগদান মানে তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা রাখা। অথচ আল্লাহ তাআলা ফয়সালা দিয়েছেন যে, যারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে, তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। তা ছাড়াও কাফিরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ না করে কারও ইমান পূর্ণ হবে না। আর কাউকে ক্ষমতা প্রদান তো সম্পর্কচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক। অতএব, সম্পর্কচ্ছেদ ও ক্ষমতা প্রদান কখনো একসাথে হতে পারে না। এ ছাড়াও ক্ষমতা প্রদান বস্তুত মর্যাদাদান বুঝায়। অতএব, কুফরির লাঞ্ছনার সাথে এটা কোনোদিন একত্রিত হতে পারে না। অনুরূপ ক্ষমতা প্রদান তো সম্পর্ক স্থাপন বুঝায়। অতএব, কাফিরদের শত্রুতার সাথে তা কখনো একত্রিত হতে পারে না।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন:
আর জিম্মিদের থেকে প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কোনো কাজে সাহায্য নেওয়া যাবে না। কেননা, এতে অনেক গোলযোগ ও অনিষ্ট দেখা দেবে বা এর কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আবু তালিব -এর বর্ণনায় এসেছে, ইমাম আহমাদ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, খারাজ উসুল করার মতো কোনো দায়িত্বে কি জিম্মিকে বসানো যাবে? তিনি বললেন, না। কোনো ব্যাপারেই তাদের মদদ নেওয়া যাবে না। ...আবু বকর অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তিনি কোনো মুরতাদকে সরকারি পদে নিয়োগ দেবেন না; যদিও তারা ইসলামে ফিরে আসুক। কারণ, তাদের দ্বীনদারি বিনষ্ট হওয়া নিয়ে আশঙ্কা আছে।

টিকাঃ
১৭৫. সুরা আন-নিসা: ১৪১
১৭৬. আহকামু আহলিল মিলাল ওয়ার-রিদ্দাহ: পৃ. নং ১১৭, হা. নং ৩২৮ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত) -হাদিসটি হাসান।
১৭৭. তাফসিরুল কুরতুবি: ৪/১৭৯ (আল-মাকতাবাতুল মিসরিয়‍্যা, কায়রো)
১৭৮. আহকামu আহলিজ জিম্মাহ: ১/৪৯৯ (রামাদি, দাম্মাম)
১৭৯. আল-ফাতাওয়াল কুবরা: ৫/৫৩৯-৫৪০ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ১০. কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখা

📄 ১০. কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখা


কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করার ক্ষেত্রে বিধান তিন ধরনের। এক. তাদের ধর্মীয় বিষয়ে সাদৃশ্য অবলম্বন করা এবং তা সম্মানের চোখে দেখা। সন্দেহ নেই যে, এটা পরিষ্কার কুফর। দুই. বৈধ পার্থিব বিষয়ে তাদের অনুসরণের উদ্দেশ্যে বা তাদের সাথে মিল রাখার নিয়তে সাদৃশ্য অবলম্বন করা। এটা মাকরুহ বা নাজায়িজ। তিন. বৈধ পার্থিব বিষয়ে তাদের সাথে সাদৃশ্য হওয়া, কিন্তু অন্তরে তাদের সাথে মিল রাখার কোনোরূপ চিন্তা থাকবে না; বরং পার্থিব প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা উদ্দেশ্য হবে। এটা জায়িজ ও মুবাহ।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
'নিশ্চয় যারা তাদের নিকট সৎপথ ব্যক্ত হওয়ার পর তা থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে, শয়তান তাদের কাজকে সুন্দর করে দেখায় এবং তাদেরকে মিথ্যা আশা দেয়। এটা এ জন্য যে, যারা আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব অপছন্দ করে, তারা তাদের বলে, “আমরা কিছু কিছু বিষয়ে তোমাদের কথা মান্য করব।” আর আল্লাহ তাদের গোপন অভিসন্ধি সম্বন্ধে অবগত আছেন।'

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন :
'হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা জালিমদের পথ প্রদর্শন করেন না।'

আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
'যে অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল, সে তাদেরই একজন।'

মুল্লা আলি কারি বলেন:
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখে” অর্থাৎ যে ব্যক্তি পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কাফিরদের সাথে নিজেকে সাদৃশ্যপূর্ণ করবে, অথবা ফাসিক-ফুজ্জার কিংবা বুজুর্গ ও নেক বান্দাদের সাথে, “তাহলে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।” অর্থাৎ গুনাহ ও সাওয়াবের ক্ষেত্রে। আল্লামা তিবি বলেন, এটা আকৃতি, স্বভাব ও ধর্মীয় প্রতীক সবগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর ধর্মীয় প্রতীক সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট হওয়ায় হাদিসটি এ অধ্যায়ে আনা হয়েছে। (মুল্লা আলি কারি বলেন) “আমি বলব, বরং এখানে শুধু প্রতীকই উদ্দেশ্য, অন্য কিছু নয়। কেননা, আকৃতিগত রূপে সাদৃশ্য অবলম্বন অসম্ভব। আর অভ্যন্তরীণ স্বভাব-চরিত্রের ক্ষেত্রে তো সাদৃশ্য অবলম্বন বলা হয় না; বরং বলা হয় স্বভাব গ্রহণ।”

আল্লামা মুনাবি এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন:
'অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে তাদের ফ্যাশনের মতো, চলাফেরায় তাদের কর্মের মতো ও স্বভাব-চরিত্রে তাদের আচার-আচরণের মতো সাজ গ্রহণ করে। আর বেশ-ভূষা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের আদর্শ-কালচার অনুসরণ করে।'

শাইখিজাদা দামাদে আফিন্দি বলেন:
'বিশুদ্ধ মতানুসারে মাথায় অগ্নিপূজারিদের টুপি পরিধান করার দ্বারা কাফির হয়ে যাবে। তবে বন্দীকে মুক্তি করার জন্য, বা কারও মতে গরম-ঠান্ডা থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে হলে সমস্যা নেই। আর কারও মতে এতে যদি কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বন করা উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কাফির হয়ে যাবে। অনুরূপ কোমরে জুন্নার (বিজাতিদের ধর্মীয় বিশেষ ফিতা) বাঁধলেও কাফির হয়ে যাবে।'

イমাম নববি বলেন :
'কোমরে জুন্নার (বিজাতিদের ধর্মীয় ফিতা) বাঁধলে কাফির হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি মাথায় অগ্নিপূজারিদের টুপি পরিধান করবে, তার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরাম মতভেদ করেছেন। তবে বিশুদ্ধ মত হলো, সে কাফির হয়ে যাবে। যদি কোমরে কোনো ফিতা বাঁধে, অতঃপর তাকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সে উত্তরে বলল, এটা জুন্নার; তাহলে অধিকাংশ ফুকাহায়ে কিরামের মতে সে কাফির হয়ে যাবে। যদি কোমরে জুন্নার বেঁধে সে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দারুল হারবে প্রবেশ করে, তবুও সে কাফির হয়ে যাবে। আর যদি বন্দীদের মুক্ত করার উদ্দেশ্যে যায়, তাহরে কাফির হবে না।'

টিকাঃ
১৮০. সুরা মুহাম্মাদ: ২৫-২৬
১৮১. সুরা আল-মায়িদা: ৫১
১৮২. সুনানু আবি দাউদ: ৪/৪৪, হা. নং ৪০৩১ (আল-মাকতাবাতুল আসরিয়‍্যা, বৈরুত) -হাদিসটি সহিহ।
১৮৩. মিরকাতুল মাফাতিহ : ৭/২৭৮২, হা. নং ৪৩৪৭ সংশ্লিষ্ট আলোচনা (দারুল ফিকর, বৈরুত)
১৮৪. ফাইজুল কাদির: ৬/১০৪ (আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়‍্যাতিল কুবরা, মিশর)
১৮৫. মাজমাউল আনহুর: ১/৬৯৮ (দারu ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)
১৮৬. রাওজাতুত তালিবিন: ১০/৬৯ (আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px