📄 দশ. মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাগুতকে সাহায্য করা
মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফির ও তাগুতকে সাহায্য-সহযোগিতা করা বা তাদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করা তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করার নামান্তর। আর যে কেউ মুমিনদের বিপরীতে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে ইমান থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
'হে ইমানদারগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। '
ইমাম ইবনে কাইয়িম জাওজিয়া বলেন :
'আল্লাহ তাআলা ফয়সালা দিয়েছেন—আর তাঁর ফয়সালার চেয়ে উত্তম কোনো ফয়সালা নেই—যে ব্যক্তি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। (আল্লাহ তাআলা বলেন,) “তোমাদের মধ্য হতে যে তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সুরা মায়িদা: ৫১] সুতরাং যখন কুরআনের ভাষ্যানুসারে কাফিরদের বন্ধুরা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত বলে সাব্যস্ত হলো, তখন তাদের হুকুমও কাফিরদের মতোই হবে।'
শাইখ বিন বাজ বলেন:
'উলামায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদের যেকোনো প্রকারে সাহায্য-সহযোগিতা করবে, সেও তাদের মতো কাফির। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সেও তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।” [সুরা আল-মায়িদা: ৫১] তিনি আরও বলেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয়পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ইমান অপেক্ষা কুফরকে ভালোবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা সীমালঙ্ঘনকারী।" [সুরা আত-তাওবা: ২৩]'
টিকাঃ
৭৯. সুরা আল-মায়িদা: ৫১
৮০. আহকামু আহলিজ জিম্মাহ: ১/১৯৫ (রামাদি, দাম্মাম)
৮১. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনি বাজ: ১/২৬৯ (মুহাম্মাদ বিন সাদ আশ-শুওয়াইয়ি’র কর্তৃক সংকলিত ও প্রকাশিত)