📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 নয়. আল্লাহর আইনের বিপরীত আইন প্রণয়ন করা

📄 নয়. আল্লাহর আইনের বিপরীত আইন প্রণয়ন করা


যেসব ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বিধান ও আইন রয়েছে, সেসব আইনের বিপরীত ভিন্ন কোনো আইন প্রণয়ন করা সুস্পষ্ট কুফরি। কেননা, এটা শরিয়তের সাথে সরাসরি যুদ্ধ ও বিদ্রোহের নামান্তর। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শরিয়তের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি অবস্থান পরিষ্কার কুফরি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তাদের কি এমন কিছু শরিক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন সব বিধান তৈরি করে, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকত, তাহলে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। '

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: 'মানুষ যখন ঐকমত্যপূর্ণ হারামকে হালাল বানায় অথবা ঐকমত্যপূর্ণ হালালকে হারাম বানায় কিংবা ঐকমত্যপূর্ণ আইন পরিবর্তন করে, তখন সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির হয়ে যায়। '

আল্লাহ তাআলা বলেন: 'তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস করে? তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়; অথচ তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়।'

শাইখ মুহাম্মাদ আমিন শানকিতি তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী ব্যক্তির কুফরি বর্ণনা করে বলেন :
'এ ব্যাপারে সবচেয়ে স্পষ্ট দলিল হলো, আল্লাহ তাআলা সুরা নিসায় সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যারা আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইনে বিচার প্রার্থনা করে, তারা নিজেদের মুমিন দাবি করায় আল্লাহ তাআলা আশ্চর্যবোধ করেছেন। এটা কেবল এ জন্যই যে, তাগুতের কাছে বিচার প্রার্থনা করা সত্ত্বেও মৌখিকভাবে তাদের ইমানের দাবি এমন চূড়ান্ত পর্যায়ের মিথ্যা, যাতে আশ্চর্য না হয়ে পারা যায় না। আর তা রয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে- "তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে তারা বিশ্বাস করে? তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়। অথচ তাগুতকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়।” [সুরা নিসা: ৬০] '

আল্লামা সাদি বলেন: 'মুনাফিকদের অবস্থা অবলোকনে আল্লাহ তাআলা আশ্চর্যবোধ করেছেন যে, যারা রাসুলের আনীত এবং পূর্ববর্তী নবীদের আনীত কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী হওয়ার দাবি করে, তবুও তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়! তাগুত হলো, প্রত্যেক ওই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য আইন দ্বারা বিচার ফয়সালা করে; অথচ তাদের আদেশ দেওয়া হয়েছিল তাগুতকে অস্বীকার করার। সুতরাং এটা আর ইমান কীভাবে একত্র হতে পারে? কেননা, ইমানের দাবি হলো, আল্লাহর আইনের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং সকল বিষয়ে আল্লাহকেই বিচারক ও বিধানদাতারূপে মেনে নেওয়া। সুতরাং যে নিজেকে মুমিন বলে দাবি করবে, আবার আল্লাহর হুকুমের ওপর তাগুতের হুকুমকে প্রাধান্য দেবে, সে ইমানের দাবিতে মিথ্যাবাদী। '

টিকাঃ
৭৪. সুরা আশ-শুরা: ২১
৭৫. মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া: ৩/২৬৭ (মাজমাউল মালিক ফাহাদ, মদিনা)
৭৬. সুরা আন-নিসা: ৬০
৭৭. আজওয়াউল বায়ান: ৩/২৫৯ (দারুল ফিকর, বৈরুত)
৭৮. তাফসিরুস সাদি: ১/১৮৪ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দশ. মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাগুতকে সাহায্য করা

📄 দশ. মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাগুতকে সাহায্য করা


মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফির ও তাগুতকে সাহায্য-সহযোগিতা করা বা তাদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করা তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করার নামান্তর। আর যে কেউ মুমিনদের বিপরীতে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে ইমান থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
'হে ইমানদারগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। '

ইমাম ইবনে কাইয়িম জাওজিয়া বলেন :
'আল্লাহ তাআলা ফয়সালা দিয়েছেন—আর তাঁর ফয়সালার চেয়ে উত্তম কোনো ফয়সালা নেই—যে ব্যক্তি ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। (আল্লাহ তাআলা বলেন,) “তোমাদের মধ্য হতে যে তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সুরা মায়িদা: ৫১] সুতরাং যখন কুরআনের ভাষ্যানুসারে কাফিরদের বন্ধুরা কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত বলে সাব্যস্ত হলো, তখন তাদের হুকুমও কাফিরদের মতোই হবে।'

শাইখ বিন বাজ বলেন:
'উলামায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে, যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদের যেকোনো প্রকারে সাহায্য-সহযোগিতা করবে, সেও তাদের মতো কাফির। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, সেও তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।” [সুরা আল-মায়িদা: ৫১] তিনি আরও বলেন, “হে ইমানদারগণ, তোমরা স্বীয়পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ইমান অপেক্ষা কুফরকে ভালোবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তারা সীমালঙ্ঘনকারী।" [সুরা আত-তাওবা: ২৩]'

টিকাঃ
৭৯. সুরা আল-মায়িদা: ৫১
৮০. আহকামু আহলিজ জিম্মাহ: ১/১৯৫ (রামাদি, দাম্মাম)
৮১. মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনি বাজ: ১/২৬৯ (মুহাম্মাদ বিন সাদ আশ-শুওয়াইয়ি’র কর্তৃক সংকলিত ও প্রকাশিত)

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية