📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. অকাট্য কোনো বিধান অস্বীকার করা

📄 তিন. অকাট্য কোনো বিধান অস্বীকার করা


একজন মুমিনের জন্য দ্বীনের অকাট্য সব বিধানের ব্যাপারে স্বীকৃতি প্রদান আবশ্যক। যদি কেউ দ্বীনের এমন কোনো বিষয়ে মিথ্যারোপ বা অস্বীকৃতি প্রকাশ করে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিংবা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে? নিশ্চয়ই অপরাধীরা সফলকাম হবে না।’

আল্লামা ইবনে আবুল ইজ হানাফি বলেন:
‘মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি দ্বীনের অকাট্য ও সুস্পষ্ট ওয়াজিব বা হারাম বা এ জাতীয় কোনো বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে তাকে তাওবা করতে বলা হবে। সুতরাং তাওবা করলে তো ভালো; নতুবা তাকে কাফির ও মুরতাদ হিসাবে হত্যা করা হবে।’

আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘তারা (ইহুদিরা) অন্যায়ভাবে ও সীমালঙ্ঘন করে নির্দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করল; যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতঃপর দেখুন, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।’

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন :
‘অবশ্যই আমি জানি, তারা যা বলে তা তোমাকে নিশ্চয়ই কষ্ট দেয় কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না; বরং জালিমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে।’

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
‘যার ওপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে, সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হবে এবং কুফরির জন্য মন উন্মুক্ত করে দেবে, তাদের ওপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।’

টিকাঃ
৫২. সুরা আল-আনআম: ২১
৫৩. শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যা: ২/৪৩৩ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
৫৪. সুরা আন-নামল: ১৪
৫৫. সুরা আল-আনআম: ৩৩
৫৬. সুরা আন-নাহল: ১০৬

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চার. হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম মনে করা

📄 চার. হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম মনে করা


শরিয়তের হারামকে হারাম জানা আর হালালকে হালাল জানা ইমানের জন্য অন্যতম শর্ত। অতএব, কেউ যদি দ্বীনের প্রমাণিত কোনো হারামকে হালাল দাবি করে বা অন্তরে হালাল মনে করে কিংবা প্রমাণিত কোনো হালালকে হারাম দাবি করে বা অন্তরে হারাম বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
'যে সমস্ত আহলে কিতাব আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন-তা হারাম মানে না এবং সত্য ধর্ম গ্রহণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে। '

ইমাম ইবনে একদুম বার বর্ণনা করেন:
'আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গলায় ক্রুশ ঝুলানো অবস্থায় আমি একবার রাসুল -এর নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, হে হাতিমপুত্র আদি, তোমার গলা থেকে এ মূর্তি ফেলে দাও। আমি যখন তাঁর নিকট পৌঁছলাম তখন তিনি সুরা তাওবা তিলাওয়াত করছিলেন। অতঃপর তিলাওয়াত করতে করতে যখন এ আয়াত (اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ ) (তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদের তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে। -সুরা তাওবা : ৩১) পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা তো তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিনি! তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই করেছ। তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছিল, তারা কি তা হালাল করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হালাল বলে গ্রহণ করেছ? আর তোমাদের জন্য যা হালাল করা হয়েছিল, তারা কি তা হারাম করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হারাম বলে গ্রহণ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এটাই ছিল তাদের ইবাদত ও উপাসনা।'

শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বলেন :
'আর ঐকমত্যপূর্ণ হারামকে হালাল মনে করা বা এর উল্টো ঐকমত্যপূর্ণ হালালকে হারাম মনে করা কুফরে ইতিকাদি বা বিশ্বাসগত কুফর। কেননা, একমাত্র ইসলাম বিদ্বেষী, বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা অস্বীকারকারী ও কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা অগ্রাহ্যকারীরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কর্তৃক হালালকে হালাল আর হারামকে হারাম মানতে অস্বীকৃতি জানায়।'

টিকাঃ
৫৭. সুরা আত-তাওবা: ২৯
৫৮. জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহ : ২/৯৭৫, হা. নং ১৮৬২ (দারু ইবনিল জাওজি, সৌদিআরব)
৫৯. আত-তাওজিহ আন তাওহিদিল খাল্লাক: ৯৮ (দারু তাইয়িবা, রিয়াদ)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 পাঁচ. ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া

📄 পাঁচ. ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া


ধর্মনিরপেক্ষ হওয়া অর্থ দ্বীনের ব্যাপারে বিমুখতা প্রদর্শন করা। এভাবে বলা যে, আমার সাথে আল্লাহ ও রাসুলের বা ইসলামের কোনো শত্রুতাও নেই আবার কোনো বন্ধুত্বও নেই। আমি সবার ক্ষেত্রে সমতায় বিশ্বাসী ও সব ধর্মকেই সমান মর্যাদার চোখে দেখি। এমন কথা বলা বা বিশ্বাস করা নিঃসন্দেহে কুফরি।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
'তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ তাআলা যা অবতরণ করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো, তখন মুনাফিকদের তুমি দেখবে, তারা তোমার নিকট হতে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।'

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
'তারা বলে, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান আনলাম এবং আমরা আনুগত্য স্বীকার করলাম। কিন্তু এরপর ওদের একদল বিমুখতা প্রদর্শন করে। ওরা নিশ্চিত মুমিন নয়। যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের কাছে তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর যদি তাদের প্রাপ্য থাকে, তাহলে তারা বিনীতভাবে রাসুলের নিকট ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে? না তারা সংশয় পোষণ করে? না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ওদের প্রতিও জুলুম করবেন? বরং ওরাই তো জালিম। '

ইমাম ইবনে কাইয়িম জাওজিয়া বলেন:
'কুফরে ইরাজ বা বিমুখতামূলক কুফর হলো, কর্ণ ও অন্তর দিয়ে রাসুল থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করা। রাসুল-কে সত্যায়নও না করা, আবার শত্রুতাও না করা এবং তাঁর আনীত দ্বীনের প্রতি বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ না করা। '

টিকাঃ
৬০. সুরা আন-নিসা: ৬১
৬১. সুরা আন-নুর: ৪৭-৫০
৬২. মাদারিজুস সালিকিন: ১/৩৪7 (দারুল কিতাবিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 ছয়. দ্বীনের কোনো বিধান অপছন্দ করা

📄 ছয়. দ্বীনের কোনো বিধান অপছন্দ করা


ইমান ঠিক থাকার জন্য দ্বীনের সকল বিধানের প্রতি নিঃশর্ত সন্তুষ্টি ও আনুগত্য প্রকাশ আবশ্যক। অতএব, কেউ যদি দ্বীনের সুসাব্যস্ত কোনো বিধানের ব্যাপারে নাক ছিটকায় বা কোনো আইনের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে তা যত ছোট বিধান-ই হোক না কেন, এতে তার ইমান বিনষ্ট হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
'যারা কুফরি করেছে, তাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ এবং তিনি তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দেবেন। এটা এ জন্য যে, আল্লাহ তাআলা যা অবতরণ করেছেন, ওরা তা অপছন্দ করে। সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্ম নিষ্ফল করে দেবেন। '

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া শরিয়তের যে কোনো বিধান অপছন্দ করাকে 'নাওয়াকিজুত তাওহিদ' বা তাওহিদ ভঙ্গকারী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ উল্লেখ করে বলেন:
'কেননা, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল-এর প্রদানকৃত সকল সংবাদ স্বীকার করে, মুমিনরা যা সত্যায়ন করে, সেও তার সবই সত্যায়ন করে; এতদসত্ত্বেও তার প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার চাহিদা মোতাবেক না হওয়ার কারণে সে তা অপছন্দ করে, এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। সে বলে, আমি এটার স্বীকৃতি দেবো না এবং তা আঁকড়ে ধরব না। আমি এই বিধানের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করি এবং এটাকে ঘৃণা করি। এটা প্রথম প্রকার- ভিন্ন আরেকটি প্রকার। এই ব্যক্তির কুফরি ইসলামের সুনিশ্চিত দলিল দ্বারা প্রমাণিত এবং পুরো কুরআনে এ প্রকারের কুফরে লিপ্ত ব্যক্তিকে কাফির বলার বিষয়টি ভরপুর। '

টিকাঃ
৬৩. সুরা মুহাম্মাদ: ৮-৯
৬৪. আস-সারিমুল মাসলুল: ৫২২ (আল-হারাসুল অতনি, সৌদিআরব)

ফন্ট সাইজ
15px
17px