📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 এক. গাইরুল্লাহর ইবাদত করা

📄 এক. গাইরুল্লাহর ইবাদত করা


উলুহিয়্যার ক্ষেত্রে শিরক হলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পূজা করা বা কাউকে ইবাদতের উপযুক্ত মনে করা। এটা কুফর হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। গাইরুল্লাহর ইবাদত বা এতে বিশ্বাস করা মাত্রই ব্যক্তি কাফিরে রূপান্তরিত হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন :
বলুন, আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন, আমার মরণ জগতসমূহের রব একমাত্র আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমাকে এই আদেশই করা হয়েছে এবং আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম।

শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বলেন :
'চার মাজহাবের উলামায়ে কিরাম এবং অন্য সকলেই 'মুরতাদের হুকুম' অধ্যায়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, অর্থাৎ আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করবে, চাই তা যে প্রকারের ইবাদতই হোক না কেন, সে কাফির।”'

টিকাঃ
৪৭. সুরা আল-আনআম : ১৬২-১৬৩
৪৮. তাইসিরু আজিজিল হামিদ : ১৮৮ (আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত)

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দুই. রুবুবিয়্যার ক্ষেত্রে শিরক

📄 দুই. রুবুবিয়্যার ক্ষেত্রে শিরক


রুবুবিয়্যার ক্ষেত্রে শিরক হলো, এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, সৃষ্টির কর্তৃত্বকারী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ। যেমনটি জাহিল সুফিগণ অনেক অলিদের ব্যাপারে এমন বিশ্বাস রাখে যে, তাদের হাতে বিভিন্ন বিষয়ের কর্তৃত্ব এবং বিপদ দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। অনুরূপ ইমামিয়া, ইসমাইলিয়া ও বাতিনি সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে, সৃষ্টিজগতে তাদের ইমামদের অদৃশ্য ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে। এসব বিশ্বাস শিরকপূর্ণ। কোনো মুমিন এমন বিশ্বাস রাখতে পারে না। কেউ এমন বিশ্বাস রাখলে তার ইমান বিনষ্ট হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
'আর আল্লাহ যদি তোমার ওপর কোনো কষ্ট আরোপ করেন, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই, যে তা দূর করবে। আর আল্লাহ যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে এমন কেউ নেই, যে তাঁর অনুগ্রহ করবে। তাঁর বান্দাদের মধ্যে তিনি যাকে ইচ্ছা কল্যাণ দান করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।'

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
'আল্লাহ মানুষের জন্য অনুগ্রহের মধ্য থেকে যা খুলে দেন, তা ফেরাবার কেউ নেই এবং তিনি যা বারণ করেন, তিনি ব্যতীত কেউ তা প্রেরণ করতে পারে না। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।'

আল্লাহ তাআলা অপর এক আয়াতে বলেন:
'বলুন, তোমরা তাদের ডাকো, যাদের তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে ইলাহ মনে করো। ওরা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে ওদের কোনো অংশ নেই আর ওদের কেউ তাঁর সহায়কও নয়।'

টিকাঃ
৪৯. সুরা ইউনুস: ১০৭
৫০. সুরা ফাতির : ২
৫১. সুরা সাবা: ২২

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. অকাট্য কোনো বিধান অস্বীকার করা

📄 তিন. অকাট্য কোনো বিধান অস্বীকার করা


একজন মুমিনের জন্য দ্বীনের অকাট্য সব বিধানের ব্যাপারে স্বীকৃতি প্রদান আবশ্যক। যদি কেউ দ্বীনের এমন কোনো বিষয়ে মিথ্যারোপ বা অস্বীকৃতি প্রকাশ করে, তাহলে তৎক্ষণাৎ সে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে কিংবা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে? নিশ্চয়ই অপরাধীরা সফলকাম হবে না।’

আল্লামা ইবনে আবুল ইজ হানাফি বলেন:
‘মুসলমানদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি দ্বীনের অকাট্য ও সুস্পষ্ট ওয়াজিব বা হারাম বা এ জাতীয় কোনো বিধানকে অস্বীকার করে তাহলে তাকে তাওবা করতে বলা হবে। সুতরাং তাওবা করলে তো ভালো; নতুবা তাকে কাফির ও মুরতাদ হিসাবে হত্যা করা হবে।’

আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘তারা (ইহুদিরা) অন্যায়ভাবে ও সীমালঙ্ঘন করে নির্দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করল; যদিও তাদের অন্তর এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল। অতঃপর দেখুন, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।’

আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন :
‘অবশ্যই আমি জানি, তারা যা বলে তা তোমাকে নিশ্চয়ই কষ্ট দেয় কিন্তু তারা তো তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না; বরং জালিমরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে।’

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
‘যার ওপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে, সে ব্যতীত যে কেউ বিশ্বাসী হওয়ার পর আল্লাহতে অবিশ্বাসী হবে এবং কুফরির জন্য মন উন্মুক্ত করে দেবে, তাদের ওপর আপতিত হবে আল্লাহর গজব এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।’

টিকাঃ
৫২. সুরা আল-আনআম: ২১
৫৩. শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যা: ২/৪৩৩ (মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)
৫৪. সুরা আন-নামল: ১৪
৫৫. সুরা আল-আনআম: ৩৩
৫৬. সুরা আন-নাহল: ১০৬

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চার. হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম মনে করা

📄 চার. হারামকে হালাল বা হালালকে হারাম মনে করা


শরিয়তের হারামকে হারাম জানা আর হালালকে হালাল জানা ইমানের জন্য অন্যতম শর্ত। অতএব, কেউ যদি দ্বীনের প্রমাণিত কোনো হারামকে হালাল দাবি করে বা অন্তরে হালাল মনে করে কিংবা প্রমাণিত কোনো হালালকে হারাম দাবি করে বা অন্তরে হারাম বলে বিশ্বাস করে, তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
'যে সমস্ত আহলে কিতাব আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন-তা হারাম মানে না এবং সত্য ধর্ম গ্রহণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় করজোড়ে জিজিয়া প্রদান করে। '

ইমাম ইবনে একদুম বার বর্ণনা করেন:
'আদি বিন হাতিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গলায় ক্রুশ ঝুলানো অবস্থায় আমি একবার রাসুল -এর নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন, হে হাতিমপুত্র আদি, তোমার গলা থেকে এ মূর্তি ফেলে দাও। আমি যখন তাঁর নিকট পৌঁছলাম তখন তিনি সুরা তাওবা তিলাওয়াত করছিলেন। অতঃপর তিলাওয়াত করতে করতে যখন এ আয়াত (اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ ) (তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসার বিরাগীদের তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে। -সুরা তাওবা : ৩১) পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা তো তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিনি! তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই করেছ। তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছিল, তারা কি তা হালাল করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হালাল বলে গ্রহণ করেছ? আর তোমাদের জন্য যা হালাল করা হয়েছিল, তারা কি তা হারাম করেনি, যদ্দরুন তোমরাও তা হারাম বলে গ্রহণ করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, এটাই ছিল তাদের ইবাদত ও উপাসনা।'

শাইখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বলেন :
'আর ঐকমত্যপূর্ণ হারামকে হালাল মনে করা বা এর উল্টো ঐকমত্যপূর্ণ হালালকে হারাম মনে করা কুফরে ইতিকাদি বা বিশ্বাসগত কুফর। কেননা, একমাত্র ইসলাম বিদ্বেষী, বিধিবিধানের বাধ্যবাধকতা অস্বীকারকারী ও কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা অগ্রাহ্যকারীরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কর্তৃক হালালকে হালাল আর হারামকে হারাম মানতে অস্বীকৃতি জানায়।'

টিকাঃ
৫৭. সুরা আত-তাওবা: ২৯
৫৮. জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাজলিহ : ২/৯৭৫, হা. নং ১৮৬২ (দারু ইবনিল জাওজি, সৌদিআরব)
৫৯. আত-তাওজিহ আন তাওহিদিল খাল্লাক: ৯৮ (দারু তাইয়িবা, রিয়াদ)

ফন্ট সাইজ
15px
17px