📄 ছয়. জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কিত আকিদা
জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহর দুটি সৃষ্টি, যা কখনো ধ্বংস হবে না। জান্নাত চিরসুখের আবাসস্থল আর জাহান্নাম চিরকষ্টের আবাসস্থল। নেককার ও আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাগণ জান্নাতে যাবে। তারা তা থেকে কোনোদিনও বের হবে না। আর জাহান্নামে কিছু গুনাহগার মুমিন ও সকল কাফির যাবে। তবে মুমিনরা নির্দিষ্ট এক সময় পর বের হয়ে আসবে, কিন্তু কাফিররা স্থায়ীভাবে থেকে যাবে। জান্নাতে সব ধরনের নিয়ামত থাকবে। কল্পনাতীত নাজ-নিয়ামতে ভরপুর থাকবে। সেখানে যা ইচ্ছা, তা-ই পাওয়া যাবে। জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো আল্লাহর দিদার। আর জাহান্নামে সব ধরনের কষ্ট থাকবে। এমন শাস্তি থাকবে, যা মানুষের কল্পনা থেকে অনেক অনেক দূরে।
📄 সাত. সাহাবা সম্পর্কিত আকিদা
সাহাবায়ে কিরাম হলেন উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম। তাঁদের মর্যাদা পরবর্তী যে কারও থেকে অনেক বেশি। তাঁরা হলেন সত্যের মাপকাঠি। তাঁদের ন্যায়পরায়ণতা সর্বজনবিদিত। তাঁদের মহব্বত করা ইমানের আলামত। তাঁদের গালি দেওয়া বা সমালোচনা করা নিফাকির আলামত। তাঁদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁদের কারও কারও থেকে কখনও গুনাহ প্রকাশ পেলেও তাঁদের তাওবাও ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তাঁদের ব্যাপারে আমরা আশা রাখি, আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। সাহাবিদের মধ্যে চারজন হলেন শ্রেষ্ঠ। যথা: আবু বকর রাঃ, উমর রাঃ, উসমান রাঃ ও আলি রাঃ। তাঁদের খিলাফত হক ও নবুওয়াতের মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। সাহাবিদের মধ্যে দশজন ছিলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবি। যথা আবু বকর রাঃ, উমর রাঃ, উসমান রাঃ, আলি রাঃ, তালহা রাঃ, জুবাইর রাঃ, সাদ রাঃ, সাইদ রাঃ, আবু উবাইদা রাঃ, ও আব্দুর রহমান বিন আউফ রাঃ।
📄 আট. মুমিনদের সম্পর্কিত আকিদা
মুমিনদের ভালোবাসা ও তাদের সাথে হৃদ্যতা রাখা ইমানের বৈশিষ্ট্য। তাদের কল্যাণকামনা, সাহায্য-সহযোগিতা করা মুমিনের কর্তব্য। তাদের মধ্যে মর্যাদার মাপকাঠি হলো তাকওয়া। মুমিনদের থেকে কারামত প্রকাশ পাওয়া সত্য। তাদের থেকে সুস্পষ্ট কুফরি প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত শুধু গুনাহের কারণে কাউকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। কুফর ও শিরক না করলে যত বড় গুনাহগারই হোক না কেন, চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে না। মৃত নেককার মুমিনদের ব্যাপারে ক্ষমা পাওয়ার সুধারণা রাখতে হবে এবং গুনাহগারদের ব্যাপারে আজাবের আশঙ্কা রেখে ইসতিগফার করতে হবে, নিরাশ হওয়া যাবে না।
📄 নয়. শাসকদের সম্পর্কিত আকিদা
শরিয়তের সীমার মধ্যে হলে মুসলিম খলিফা ও শাসকের আনুগত্য করা আবশ্যক। খলিফা জালিম ও ফাসিক হলেও স্পষ্ট কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়িজ নেই। জালিম হলেও তাদের পেছনে নামাজ পড়তে হবে। তাঁর সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে হবে। ন্যায়পরায়ণ শাসকদের অন্তর থেকে ভালোবাসতে হবে এবং জালিমদের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ রাখতে হবে। ইসলামি শাসকের হাতে বাইআতবিহীন মৃত্যু জাহিলিয়াতের মৃত্যু সমতুল্য। কোনো যুগে আল্লাহর জমিনে খিলাফত না থাকলে সকলের জন্য তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য পরিপূর্ণ চেষ্টা করা আবশ্যক।
টিকাঃ
৩৪. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর এসব আকিদার অধিকাংশই এসেছে 'আল-আকিদাতুত তাহাবিয়্যা' গ্রন্থটিতে। দেখুন : আল-আকিদাতুত তাহাবিয়্যা : ১-৩৩ (আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ؒ-এর 'আল-আকিদা' গ্রন্থটিতেও অনেক আকিদা বর্ণিত হয়েছে। দেখুন : আল-আকিদা, আহমাদ বিন হাম্বল : ১০১-১২৮ (দারু কুতাইবা, দিমাশক) এছাড়াও ইমাম আবু হানিফা ؒ-এর 'আল-ফিকহুল আকবার ও 'আল-ফিকহুল আবসাত' গ্রন্থ দুটিতেও রয়েছে বেশ কিছু আকিদা। দেখুন : আল-ফিকহুল আকবার ৫-১৬৭ (মাকতাবাতুল ফুরকান, আল-ইমারাতুল আরাবিয়্যা) আল-ফিকহুল আবসাত : ১২১-১৬৭ (মাকতাবাতুল ফুরকান, আল-ইমারাতুল আরাবিয়্যা)