📄 তিন. আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কিত আকিদা
আম্বিয়ায়ে কিরাম আল্লাহর নির্বাচিত বিশেষ বান্দা। তাঁরা সমগ্র মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ। তাঁরা সত্তাগতভাবে মানুষ ও মাটির তৈরি, কিন্তু তাঁদের অন্তর আল্লাহপ্রদত্ত নূরের দ্বারা আলোকিত। তাঁরা আল্লাহ ও বান্দাদের মাঝে সংযোগকারী। তাঁরা আল্লাহর বাণী মানুষকে পৌঁছে দিতেন। প্রথম নবি হলেন আদম এবং সর্বশেষ নবি হলেন মুহাম্মাদ। তাঁর পরে আর কোনো নবি আসবে না। নবিদের মধ্যে সবার সরদার ও শ্রেষ্ঠ হলেন শেষ নবি মুহাম্মাদ। আম্বিয়ায়ে কিরাম সবাই নিস্পাপ। তাঁদের কোনো গুনাহ নেই। কখনো তাঁদের অনিচ্ছাকৃতভাবে ইজতিহাদি ভুল হলে আল্লাহ তাআলা সাথেসাথে তা সংশোধন করে দিয়েছেন। তাঁদের ওপর অর্পিত আমানত তাঁরা যথাযথভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের থেকে প্রকাশিত মুজিজাসমূহ সত্য।
📄 চার. কিতাবসমূহ সম্পর্কিত আকিদা
আল্লাহর কিতাবসমূহ সত্য। এগুলো বিভিন্ন সময়ে নবিদের ওপর নাজিল হয়েছিল। মোট কিতাবের সংখ্যা একশ চারটি। এর মধ্যে চারটি হলো প্রধান। যথা: তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কুরআন। প্রথম তিনটি পূর্বের যুগের নবিদের ওপর নাজিল হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে উম্মতেরা পরিবর্তন ও বিকৃত করে ফেলেছে। আর কুরআন নাজিল হয়েছে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি মুহাম্মাদ এর ওপর, যা এখনও অবিকৃত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কেননা, এর হিফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। কুরআন আল্লাহর কালাম ও অবিনশ্বর সিফাত। এটাকে মাখলুক বা সৃষ্ট বলা যাবে না।
📄 পাঁচ. মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কিত আকিদা
মৃত্যুর পর নেককার মুমিনদের রুহ ইল্লিয়িয়নে শান্তির সহিত থাকে এবং ফাসিক ও কাফিরদের রুহ সিজ্জিনে কষ্টের মধ্যে থাকে। কবরের আজাব বাস্তব ও সত্য। কবরে মুনকার নাকিরের সুওয়াল-জবাব সত্য। কবর হয় জান্নাতের একটি টুকরো হবে, না হয় জাহান্নামের একটি গর্ত। নির্ধারিত সময় পর কবর থেকে পুনরুত্থান সত্য। হিসাব-নিকাশ সত্য। পুলসিরাত সত্য। মিজান সত্য। ডান হাতে বা বাম হাতে আমলনামা পাওয়া সত্য। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা নেককারদের জান্নাতে দেবেন, কাফিরদের জাহান্নামে দেবেন এবং গুনাহগার মুমিনদের অনেককে ক্ষমা করে দেবেন এবং অনেককে জাহান্নামে শাস্তি দিয়ে তারপর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
📄 ছয়. জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কিত আকিদা
জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহর দুটি সৃষ্টি, যা কখনো ধ্বংস হবে না। জান্নাত চিরসুখের আবাসস্থল আর জাহান্নাম চিরকষ্টের আবাসস্থল। নেককার ও আল্লাহর ক্ষমাপ্রাপ্ত বান্দাগণ জান্নাতে যাবে। তারা তা থেকে কোনোদিনও বের হবে না। আর জাহান্নামে কিছু গুনাহগার মুমিন ও সকল কাফির যাবে। তবে মুমিনরা নির্দিষ্ট এক সময় পর বের হয়ে আসবে, কিন্তু কাফিররা স্থায়ীভাবে থেকে যাবে। জান্নাতে সব ধরনের নিয়ামত থাকবে। কল্পনাতীত নাজ-নিয়ামতে ভরপুর থাকবে। সেখানে যা ইচ্ছা, তা-ই পাওয়া যাবে। জান্নাতের সবচেয়ে বড় নিয়ামত হলো আল্লাহর দিদার। আর জাহান্নামে সব ধরনের কষ্ট থাকবে। এমন শাস্তি থাকবে, যা মানুষের কল্পনা থেকে অনেক অনেক দূরে।