📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 এক. আল্লাহ তাআলা সম্পর্কিত আকিদা

📄 এক. আল্লাহ তাআলা সম্পর্কিত আকিদা


আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অবিনশ্বর। তিনি অনাদি ও অন্তহীন, যাঁর কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই। তিনি সবকিছু শুনেন ও দেখেন। তিনি সবকিছু জানেন, কোনো জিনিস তাঁর থেকে গোপন নেই। তিনি সর্বশক্তিমান, যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তাঁর ইরাদা ও ইচ্ছা ছাড়া কিছুই হয় না। তিনি সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান, তাঁর কোনো কাজ প্রজ্ঞা থেকে খালি নয়। তিনি সকল মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। তিনিই সবাইকে রিজিক দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর কোনো মৃত্যু নেই। তিনি কথা বলেন, হাঁসেন, খুশি হন, রাগান্বিত হন, তবে মাখলুকের মতো করে নয়; বরং তাঁর মর্যাদা ও শান মোতাবেক। তিনিই মাখলুকের জীবন দান করেন এবং তাকে পুনরায় মৃত্যুমুখে পতিত করেন। তিনিই বিধানদাতা, অন্য কারও বিধান তৈরি করার অধিকার নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী, কিন্তু সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি যাকে ইচ্ছা দয়া করেন। তিনি ন্যায়পরায়ন, কারও প্রতি ন্যূনতমও জুলুম করেন না। তিনিই সবকিছুর ফয়সালাকারী, কেউ-ই তাঁর ফয়সালা প্রতিহত করতে পারে না। গাইবের চাবিকাঠি সব তাঁর কাছে। তিনি ছাড়া কেউ গাইব জানে না। তিনি আরশে আছেন এবং পুরো সৃষ্টিজগত তাঁর ইলম ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর কোনো পরিবার, যথা স্ত্রী, বাবা-মা ও ছেলেমেয়ে কেউ নেই। তিনি এগুলো থেকে পুতঃপবিত্র। তিনি খাবার খান না, তন্দ্রা যান না, নিদ্রা যান না। তিনি স্থান, কাল, দিক, সীমা, দেহ, অঙ্গ ইত্যাদি থেকে পবিত্র। তিনি মাখলুকের সত্তাগত বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি থেকে পবিত্র। কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তাঁর সবকিছুই তাঁর শান মোতাবেক। আল্লাহর ব্যাপারে ওটটুকুই বলা যাবে, যতটুকু কুরআন ও সুন্নাহয় স্পষ্টভাবে এসেছে। এর অতিরিক্ত কোনো কিছু বলা এবং এ নিয়ে বিতর্ক ও গভীর চিন্তায় মগ্ন হওয়া জায়িজ নেই।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 দুই. ফেরেশতা সম্পর্কিত আকিদা

📄 দুই. ফেরেশতা সম্পর্কিত আকিদা


ফেরেশতারা আল্লাহর বিশেষ বান্দা। আল্লাহ ছাড়া তাদের সংখ্যা কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা তাদের এমন শক্তি দিয়েছেন, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। তাঁরা নূরের তৈরি। তাঁরা আমাদের মতো খান না, ঘুমান না। আল্লাহ তাঁদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁরা সর্বদা আল্লাহর হুকুম মেনে চলেন, কখনো তাঁর অবাধ্য হন না। তাঁরা পুরুষও নন, নারীও নন। তাঁদের মধ্যে প্রধান হলেন চারজন। যথা : জিবরাইল, মিকাইল, ইসরাফিল ও আজরাইল। জিবরাইল হলেন ফেরেশতাদের সরদার। তিনি আম্বিয়ায়ে কিরামের প্রতি ওহি নিয়ে আসতেন। দুনিয়ায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর আজাবের ক্ষেত্রেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মিকাইল মেঘ-বৃষ্টি ও আসমানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং মাখলুকের রিজিক পৌঁছানোর দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। ইসরাফিল আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করেন। তাঁর দৃষ্টির সামনেই রয়েছে লাওহে মাহফুজ। কিয়ামতের সময় তিনিই শিঙ্গায় ফুৎকার দেবেন। আজরাইল, যাকে কুরআন-সুন্নাহর ভাষায় 'মালাকুল মওত' বলা হয়, তিনি সব প্রাণীর রুহ কবজ করার দায়িত্বে আছেন।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 তিন. আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কিত আকিদা

📄 তিন. আম্বিয়ায়ে কিরাম সম্পর্কিত আকিদা


আম্বিয়ায়ে কিরাম আল্লাহর নির্বাচিত বিশেষ বান্দা। তাঁরা সমগ্র মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ও শ্রেষ্ঠ। তাঁরা সত্তাগতভাবে মানুষ ও মাটির তৈরি, কিন্তু তাঁদের অন্তর আল্লাহপ্রদত্ত নূরের দ্বারা আলোকিত। তাঁরা আল্লাহ ও বান্দাদের মাঝে সংযোগকারী। তাঁরা আল্লাহর বাণী মানুষকে পৌঁছে দিতেন। প্রথম নবি হলেন আদম এবং সর্বশেষ নবি হলেন মুহাম্মাদ। তাঁর পরে আর কোনো নবি আসবে না। নবিদের মধ্যে সবার সরদার ও শ্রেষ্ঠ হলেন শেষ নবি মুহাম্মাদ। আম্বিয়ায়ে কিরাম সবাই নিস্পাপ। তাঁদের কোনো গুনাহ নেই। কখনো তাঁদের অনিচ্ছাকৃতভাবে ইজতিহাদি ভুল হলে আল্লাহ তাআলা সাথেসাথে তা সংশোধন করে দিয়েছেন। তাঁদের ওপর অর্পিত আমানত তাঁরা যথাযথভাবে উম্মতের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁদের থেকে প্রকাশিত মুজিজাসমূহ সত্য।

📘 ইসলামি জীবনব্যবস্থা 📄 চার. কিতাবসমূহ সম্পর্কিত আকিদা

📄 চার. কিতাবসমূহ সম্পর্কিত আকিদা


আল্লাহর কিতাবসমূহ সত্য। এগুলো বিভিন্ন সময়ে নবিদের ওপর নাজিল হয়েছিল। মোট কিতাবের সংখ্যা একশ চারটি। এর মধ্যে চারটি হলো প্রধান। যথা: তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কুরআন। প্রথম তিনটি পূর্বের যুগের নবিদের ওপর নাজিল হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে উম্মতেরা পরিবর্তন ও বিকৃত করে ফেলেছে। আর কুরআন নাজিল হয়েছে সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবি মুহাম্মাদ এর ওপর, যা এখনও অবিকৃত রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। কেননা, এর হিফাজতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। কুরআন আল্লাহর কালাম ও অবিনশ্বর সিফাত। এটাকে মাখলুক বা সৃষ্ট বলা যাবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px