📄 এক. আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান
আল্লাহ তাআলাকে সকল বিষয়ের একমাত্র অধিপতি হিসাবে মেনে নেওয়া। তিনি ইলাহ, ইবাদতের উপযুক্ত একক ও অদ্বিতীয় সত্তা। তিনিই একমাত্র স্রষ্টা। সবকিছুর পরিচালক। জগতের অধিপতি। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো জিনিস বা বস্তুর অস্তিত্ব নেই। তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তিনিই অহংকার ও বড়ত্বের একমাত্র উপযুক্ত সত্তা। আসমান ও জমিনসহ সমগ্র জাহান তিনিই সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাঁরই হাতে। তাঁর আদেশমতেই সব পরিচালিত হয়।
তিনি নিজেই তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করছেন:
'তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্য সব জানেন। তিনি সীমাহীন দয়ালু, পরম করুণাময়। তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র বাদশাহ, মহাপবিত্র, শান্তি বিধায়ক, নিরাপত্তাদাতা, সর্বনিয়ন্তা, মহাপরাক্রমশালী ও মহাপ্রতাপশালী। তারা যাকে অংশীদার করে, আল্লাহ তাআলা তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, সুন্দর নামসমূহ তাঁরই। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।'
টিকাঃ
১৭. সুরা আল-হাশর: ২১-২৪
📄 দুই. ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান
ফেরেশতাগণ হলেন আল্লাহর তাআলার বিশেষ এক সৃষ্টি। তাঁরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেন না। তিনি যা বলেন, তাঁরা যথাযথভাবে তা পালন করেন। তাঁদের কাজই হচ্ছে সর্বদা এক আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহ তাঁদের যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই তাঁরা সর্বদা তাঁর ইবাদতে নিয়োজিত আছেন। কেউ সিজদায়, কেউ রুকুতে, কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউ বসে তাঁর ইবাদত ও তাসবিহ পাঠে সদা মশগুল। তাঁরা কেউ আল্লাহর নির্দেশ পালনে কষ্ট-ক্লেশ, ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করেন না। এটাই তাঁদের স্বভাব, এটাই তাঁদের কাজ এবং এটাই তাদের ধর্ম। আল্লাহ তাঁদের এ কারণেই সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
'আর নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যত প্রাণী আছে সবাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে এবং ফেরেশতাগণও— তাঁরা অহংকার করে না।'
টিকাঃ
১৮. সুরা আন-নাহল: ৪৯
📄 তিন. আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
নবি-রাসুলদের ওপর অবতীর্ণ আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি ইমান আনা ইসলামি আকিদার অন্যতম ভিত্তি। আসমানি কিতাবসমূহ অনেক। তন্মধ্যে চারটি হলো বড় ও প্রধান কিতাব। তথা তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কুরআন। এই আসমানি গ্রন্থগুলোতে রয়েছে মানবতার হিদায়াত ও কল্যাণ, যা মানুষকে উভয় জাহানের শান্তি ও মুক্তির পথ দেখায়।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ﴿নَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ - مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ ﴾ 'তিনি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন সত্যতার সাথে; যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের। আর তিনি এ কিতাবের পূর্বে মানুষের হিদায়াতের জন্য নাজিল করেছেন তাওরাত ও ইনজিল এবং অবতীর্ণ করেছেন কুরআন।'
তিনি আরও ইরশাদ করেন : ﴿وَآتَيْنَا دَاوُودَ زَبُورًا ﴾ 'আর আমি দাউদকে দান করেছি জাবুর।'
টিকাঃ
১৯. সুরা আলি ইমরান : ৩-৪
২০. সুরা আন-নিসা : ১৬৩
📄 চার. নবি-রাসুলদের প্রতি ঈমান
অতঃপর নবি-রাসুলদের প্রতি ইমান আনা। তাঁরা ছিলেন মানবজাতির কান্ডারি। মানবতার শান্তি ও সৌভাগ্যের পথপ্রদর্শক। তাদের দান করা হয়েছে অদম্য মনোবল এবং অনন্য গুণাবলি। তাই তাঁরা আল্লাহ তাআলার রিসালাতের মহান দায়িত্ব আদায় করতে পেরেছেন। নিঃসন্দেহে নবি-রাসুলগণ ছিলেন সর্বোৎকৃষ্ট মানব। কারণ, তাঁরা ছিলেন এমন পরিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী, যার সামনে অন্য মানুষদের স্বভাব- চরিত্র একেবারেই নগণ্য।
এঁরাই হলেন রবের প্রেরিত দূত, মানবতার পথপ্রদর্শক, জগতের আলোকবর্তিকা। তাঁরা তাঁদের উচ্চ মনোবল, দৃঢ় ধৈর্যশক্তি ও পরিপূর্ণ ইমানের মাধ্যমে হতভাগ্য, দারিদ্র্য-দুর্দশাগ্রস্ত ও সংকীর্ণ একটি সমাজকে সুখী, সচ্ছল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় সমাজে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁরাই পেরেছেন দেশ ও মানবতার সকল ক্লান্তি, অবসাদ ও নির্যাতন বিদূরিত করে একটি শান্তিময় ও সুখের রাজ্য উপহার দিতে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : 'আর আমি অনেক রাসুল পাঠিয়েছি, ইতিপূর্বে যাদের ইতিবৃত্ত আমি আপনাকে শুনিয়েছি এবং অনেক রাসুল পাঠিয়েছি, যাদের বৃত্তান্ত আপনাকে শুনাইনি। আর আল্লাহ মুসার সাথে সরাসরি কথোপকথন করেছেন।'
উল্লেখ্য যে, নবি-রাসুলদের কাউকে অস্বীকার করার অধিকার কারও নেই। সকলের প্রতিই ইমান আনতে হবে সমানভাবে। কারও প্রতি ইমান আনবে আর কারও প্রতি আনবে না; এমনটি করার সুযোগ নেই। অবশ্য শরিয়তগুলোর মধ্য হতে বর্তমানে শুধু শেষ নবি মুহাম্মাদ- এর শরিয়তই বহাল আছে এবং পূর্বের নবিদের শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। তাই শরিয়তের ক্ষেত্রে এখন শুধু শরিয়তে মুহাম্মাদিই মানতে হবে; অন্যথায় নাজাত মিলবে না।
টিকাঃ
২১. সুরা আন-নিসা : ১৬৪