📄 ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করা
দা‘ওয়াতের কাজে সফলতা লাভের জন্য ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করা অপরিহার্য। ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ছাড়া দা‘ওয়াতের কাজে সফলতা লাভ করা যায় না। ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্য দা‘ঈকে কিছু কাজ করতে হবে। যেমন-
১. সালামের প্রসার ঘটানো।
২. মুসাফাহা করা।
৩. একে অপরকে হাদিয়া দেয়া।
৪. একে অপরের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা।
৫. একে অপরের বিপদে আপদে এগিয়ে আসা।
৬. একে অপরের সুখে দুঃখে শরীক হওয়া।
এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ।” (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)।
📄 অভিযোগ খণ্ডন এবং সংশয় ও সন্দেহ নিরসনের চেষ্টা করা
দা‘ওয়াতের কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় দা‘ঈকে বিভিন্ন অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয়। তখন দা‘ঈকে ধৈর্যের সাথে সে সব অভিযোগের জবাব দিতে হবে। দা‘ওয়াতের কাজে কোন প্রকার অভিযোগ উঠলে, তা খণ্ডন করার জন্য দা‘ঈকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“তারা কি লক্ষ্য করে না, প্রতি বছর তারা দু‘একবার বিপর্যস্ত হয়, অথচ তারা এরপরও তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।” (সূরা তওবা : ১২৬)।
দা‘ওয়াতের কাজে অভিযোগ খণ্ডন ও সংশয় নিরসনের কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. অভিযোগ খণ্ডন করলে দা‘ওয়াতের কাজ সহজ হয়।
২. অভিযোগ খণ্ডন করলে দা‘ওয়াতের কাজ ফলপ্রসূ হয়।
৩. অভিযোগ খণ্ডন করলে দা‘ওয়াতের কাজ টেকসই হয়।
৪. অভিযোগ খণ্ডন করলে দা‘ওয়াতের কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয়।
📄 মনোপুতঃ না হলেও আল্লাহর আদেশ মেনে নেয়া
দা‘ওয়াতের কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় দা‘ঈকে এমন অনেক কাজ করতে হয়, যা তার মনোপুতঃ নয়। তখন দা‘ঈকে নিজের ইচ্ছার উপর আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর যখন কোন বিষয় নাযিল হয়, তখন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তা পালন করা হয়, আর যদি রসূলের পক্ষ থেকে হয়, তবে তা পালন করা হয় না।” (সূরা নিসা : ৮৩)।
দা‘ওয়াতের কাজে নিজের ইচ্ছার উপর আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়ার কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে আল্লাহ খুশী হন।
২. আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে আল্লাহ পুরস্কার দেন।
৩. আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে আল্লাহ বিপদাপদ দূর করেন।
৪. আল্লাহর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলে আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করেন।
📄 আমরু বিল মারুফ ওয়ান্ নাহিল আনিল মুনকার
দা‘ওয়াতের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধ করা। এ কাজকে ‘আমরু বিল মা‘রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ বলা হয়। এ কাজ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান : ১০৪)।
‘আমরু বিল মা‘রূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার’ এর কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. এ কাজ করলে আল্লাহ খুশী হন।
২. এ কাজ করলে আল্লাহ পুরস্কার দেন।
৩. এ কাজ করলে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪. এ কাজ করলে সমাজ থেকে অন্যায় অবিচার দূর হয়।