📄 অসীম ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন
দা‘ওয়াতের কাজ করতে গিয়ে দা‘ঈকে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই ধৈর্যহারা হওয়া যাবে না। দা‘ওয়াতের কাজে সফলতা লাভ করার জন্য এটা একটা বড় গুণ। ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
“আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা আনফাল: ৪৬)।
দা‘ওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণ করা নবীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষের মধ্য থেকে শত্রু সৃষ্টি করে দিয়েছি। (সূরা আল ফুরকান : ৩১)।
দা‘ওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণ করা মানে অলসভাবে বসে থাকা নয়। বরং দা‘ওয়াতের কাজে যে সব বাধা বিপত্তি আসে, তা ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞানই না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয়, তবুও কি?” (সূরা বাকারা : ১৭০)।
দা‘ওয়াতের কাজ করতে গিয়ে ধৈর্য ধারণ করা মানে অলস হয়ে বসে থাকা নয়। বরং দা‘ওয়াতের কাজে যে কোন বাধা বিপত্তি আসুক না কেন, তা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা তারই অনুসরণ করব, যার উপর আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে পেয়েছি। যদি তাদের বাপ দাদারা কোন জ্ঞানই না রাখে এবং হেদায়েত প্রাপ্ত না হয়, তবুও কি?” (সূরা বাকারা : ১৭০)।
দা‘ওয়াতের কাজে ধৈর্য ধারণের অনেক উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ খুশী হন।
২. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ পুরস্কার দেন।
৩. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ বিপদাপদ দূর করেন।
৪. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করেন।
📄 জোর জবরদস্তি করে দ্বীনে প্রবেশ করানোর চেষ্টা না করা
ইসলাম দা‘ওয়াতের পথে কোন জোর জবরদস্তিকে সমর্থন করে না। কাউকে জোর করে ইসলামে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা যাবে না। ইসলামের সত্য ও সুন্দর দিক মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে, যাতে করে মানুষ ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,
“দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয় হেদায়েত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহীকে অস্বীকার করে আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধরবে, যা কখনও ছিন্ন হওয়ার নয়। আর আল্লাহ সব কিছু শুনেন ও জানেন।” (সূরা বাকারা : ২৫৬)।
ইসলাম দা‘ওয়াতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দা‘ঈকে সবর করার নির্দেশ দেয়। দা‘ওয়াতের কাজ করতে গিয়ে যদি কোন বাধা বিপত্তি আসে, তবে তা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনার কাজ হলো সুস্পষ্টভাবে পৌছে দেয়া।” (সূরা নহল : ৮২)।
দা‘ওয়াতের কাজে সফলতা লাভ করার জন্য দা‘ঈকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কারণ,
১. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ খুশী হন।
২. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ পুরস্কার দেন।
৩. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ বিপদাপদ দূর করেন।
৪. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করেন।
📄 ভারসাম্য রক্ষা করা
দা‘ওয়াতের কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে দা‘ঈকে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হবে। কোন অবস্থাতেই যেন ভারসাম্য নষ্ট না হয়। দা‘ওয়াতের কাজে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি কোনটাই কাম্য নয়। দা‘ওয়াতের কাজে সব সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য।” (সূরা বাকারা : ১৪৩)।
দা‘ওয়াতের কাজে ভারসাম্য রক্ষা করার অর্থ হলো, দা‘ওয়াতের কাজে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি না করা। দা‘ওয়াতের কাজে সব সময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করা। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য।” (সূরা বাকারা : ১৪৩)।
দা‘ওয়াতের কাজে ভারসাম্য রক্ষার কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. ভারসাম্য রক্ষা করলে আল্লাহ খুশী হন।
২. ভারসাম্য রক্ষা করলে আল্লাহ পুরস্কার দেন।
৩. ভারসাম্য রক্ষা করলে আল্লাহ বিপদাপদ দূর করেন।
৪. ভারসাম্য রক্ষা করলে আল্লাহ সম্মান বৃদ্ধি করেন।
📄 দা‘ওয়াতের স্তরসমূহ অতিক্রম নিরবচ্ছিন্ন ধারা অব্যাহত রাখা
দা‘ওয়াতের কাজে স্তর অতিক্রম করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দা‘ওয়াতের কাজ শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। তারপর আত্মীয় স্বজন, তারপর পাড়া প্রতিবেশী, তারপর গ্রাম, তারপর থানা, তারপর জেলা, তারপর দেশ এবং তারপর সারা বিশ্বে দা‘ওয়াতের কাজ ছড়িয়ে দিতে হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন,
“আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।” (সূরা শু‘আরা : ২১৪)।
দা‘ওয়াতের স্তরসমূহ অতিক্রম করার কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-
১. স্তর অতিক্রম করলে দা‘ওয়াতের কাজ সহজ হয়।
২. স্তর অতিক্রম করলে দা‘ওয়াতের কাজ ফলপ্রসূ হয়।
৩. স্তর অতিক্রম করলে দা‘ওয়াতের কাজ টেকসই হয়।
৪. স্তর অতিক্রম করলে দা‘ওয়াতের কাজ দীর্ঘস্থায়ী হয়।