📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 বিভিন্ন রকম প্রতিরোধে সময়ক্ষণ বিবেচনা

📄 বিভিন্ন রকম প্রতিরোধে সময়ক্ষণ বিবেচনা


উল্লেখ্য যে, যুলম ও নির্যাতন মোকাবেলায় বিভিন্ন রকম কৌশল ও মাধ্যম আছে। ক‘টিকে তুচ্ছ জ্ঞান ও তুচ্ছ মনে করার প্রয়োজন হয় না। যেমন, সবর, ক্ষমা ও উত্তম ব্যবহার, সাহায্য ও দু‘আ. আন্তগোপন .হিজরত। এগুলো দা‘ঈ তার নিজস্ব ব্যক্তিগত বা জামা‘আতী ভাবে তার নিজস্ব সামর্থ্য অনুসারে তা পদক্ষেপ নিবেন আবার কিছু কিছু আছে যেগুলোতে প্রতিরোধ সৃষ্টি হয়। এমনকি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। যেমন যুদ্ধ,গণ আন্দোলন, অবরোধ ও বয়কট, দর্ঘস্থায়ী বাস্তবায়ণ ইত্যাদি। এ মাধ্যম গুলো ব্যবহারের যথাযথ সময় আছে।
সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধরা বা ক্ষমা করা উচিৎ নয়। কেননা একই ধরনের যুলম বার বার আপতিত হওয়ার সামর্থ্য শক্তি প্রয়োগে প্রতিহত করা আবশ্যক।

📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 যুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় ইসলামী নৈতিকতা

📄 যুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় ইসলামী নৈতিকতা


অনেক ইসলামী চিন্তাবিদের নীতিমালা রয়েছে:
প্রথমত: যে মোকাবেলায় আল্লাহর রাস্তায় তথা তার সন্তুষ্টি অর্জনে ইসলামী দা‘ওয়াতের স্বার্থে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, অন্যায় বা পিছনের জন্য দা‘ঈ প্রতিরোধে এগিয়ে আসবে। যা কিছু আর হোক, সব হবে আল্লাহর রাস্তায়, আল্লাহ পাক বলেন:
"الذين آمنوا يقاتلون في سبيل الله والذين كفروا يقاتلون في سبيل الطاغوت"
“যারা ঈমানদার তারা যে জেহাদ করে আল্লাহর রাস্থায়। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে তাগুতের পক্ষে”(সূরা নিসা:৭৬)।
যালমের নিকটাত্মীয় হলেও দা‘ঈর শুধু অত্যাচার স্বার্থে তার মোকাবেলা থেকে পিছিয়ে যাবে না। ইরশাদ হচ্ছে:
"كتب الله لأغلبن أنا ورسلي إن الله قوي عزيز. لا تجد قوما يؤمنون بالله واليوم الآخر يوادون من حاد الله ورسوله ولو كانوا أباءهم أو أبناءهم أو إخوانهم أو عشيرتهم"
“আল্লাহ সিদ্ধান্ত করেছেন: আমি এবং আমার রাসূলগণ অবশ্যই বিজয়ী হব। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী। যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তাদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি গোষ্ঠী হয়”(সূরা মুজাদালা:২১-২২)।
দ্বিতীয়ত: সর্বাবস্থায় যুলম পরিহার্য। ইরশাদ হচ্ছে:
"ولا يجرمنكم شنآن قوم على ألا تعدلوا إعدلوا هو أقرب للتقوى"
“কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদেরকে যেন কখনও ন্যায়বিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। সুবিচার কর এটাই তাকওয়ার নিকটতর”(সূরা মায়িদা: ৮)। সুবিচার করতে এবং ইসলামকে যুলম করতে হোন ঘোষণা করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে:
"وقاتلوا في سبيل الله الذين يقاتلونكم ولا تعتدوا إن الله لا يحب المعتدين"
“তোমরা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ কর তাদের সাথে যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে। সীমা লংঘন করো না। আল্লাহ সীমালংঘনকারীদেরকে ভালবাসেন না”(সূরা বাকারা:১৯০)।
যুদ্ধে যুলমের মধ্যে একটি হল, প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করা। যেমন শস্য ক্ষেত্র, গৃহ পালিত জন্তু, ফলের গাছ ইত্যাদি।
এমনি ভাবে তাদেরকে হত্যা করা হয় যুলম, যারা সাধারণ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে না। যেমন শিশু সন্তান, বৃদ্ধ, মহিলা, সন্ন্যাসী, রোগাক্রান্ত ইত্যাদি এসব মহানবী হাদীস থেকে প্রমাণিত। আর কিছু তারা অংশ গ্রহণ করলে তাদেরকে হত্যা করা যাবে।
তৃতীয়ত: প্রস্তুতি ও ধারাক্রম নীতিও অবলম্বন করতে হবে। কেননা অন্যায় অপাত্রে কিংবা যথাযথ প্রস্তুতি না নিয়ে সংগ্রাম করলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশী। আর এটা দিক দিয়ে দা‘ওয়াতী কার্যক্রমের উপরই যুলম।
পঞ্চমত: দা‘ওয়াতে লাভজনক না হলে শক্তি প্রয়োগের চেয়ে ক্ষমা, সংযম ও ধৈর্যই উত্তম। ইরশাদ হচ্ছে:
"ولئن صبرتم لهو خير للصابرين"
“আর যদি তোমরা ধৈর্য ধর, তাহলে ধৈর্য শীলদের জন্য অবশ্যই কল্যাণকর হবে”(সূরা নাহল: ১২৬)।
বস্তুতঃ শক্তি প্রয়োগ ও যুদ্ধ কে যেন সংগ্রাম পন্থায়। আর উত্তম পন্থা হচ্ছে। উপরোক্ত বিষয়গুলোর সাথে সাথে আরো ক‘টি নীতি অবলম্বন প্রয়োজন। যথা:
১. যুদ্ধ শুরুর পূর্বে নতুন করে আবার দা‘ওয়াত দিতে হবে।
২. যুদ্ধের চেয়ে শান্তি ও সন্ধিকে প্রাধান্য দিতে হবে তথা অত্যাচারী পক্ষ যদি এগিয়ে আসে।
ইরশাদ হচ্ছে, "وإن جنحوا للسلم فاجنح لها وتوكل على الله" “আর তারা যদি শান্তি চুক্তি করতে চায়, তাহলে তাই কর, আর আল্লাহর উপর ভরসা কর”(সূরা আনফাল: ৬১)।
৩. প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা ও খেয়ানত না করা: ইরশাদ হচ্ছে:
"ولا تنقضوا الأيمان بعد توكيدها وقد جعلتم الله عليكم كفيلا"

টিকাঃ
২৪২.মুসলিম আহমদ, পৃ.৩০০।
২৪৩.ফখরুদ্দীন ইবন আসাকির, হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবন মাস‘উদ থেকে এটি বর্ণনা করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00