📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে দা‘ঈর উপর যুলুম-নির্যাতন নেমে আসার সম্ভাব্য উপলক্ষ্য

📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে দা‘ঈর উপর যুলুম-নির্যাতন নেমে আসার সম্ভাব্য উপলক্ষ্য


দা‘ওয়াতের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং কন্টকাকীর্ণ । হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলে আসছে। বাতিলপন্থী ও শয়তানের অনুসারীদের স্বভাবই নিজেদের উপর অন্যায় মোকাবেলার উপর অত্যাচার করা, অবিচার করা। আর অন্যায়ের তুলনায় সত্যের দা‘ওয়াত ও দা‘ঈর ভূমিকা আরো কঠোর ও নির্লজ্জ। ফেতনা ফ্যাসাদ তথা নৈরাজ্য ও যুলমের পথ বেছে নেয়া ব্যতীত বাতিলপন্থীদের আর কোন গত্যন্তর নেই। তাই তারা বেছে নেয় সত্যকে দাবিয়ে দিতে। যুক্তি নয়, শক্তি প্রয়োগই তাদের সম্বল। তাই মোহাম্মাদী ফের‘আউন যখন মূসা (আ.) এর সাথে যুক্তি তর্কে হেরে গেল, আচমকা সদস্য বলে উঠল, আমি তোমাকে জেলে আবদ্ধ করব। ইরশাদ হয়েছে:
"قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين"
“সে বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্য গ্রহণ কর, তবে অবশ্যই তোমাকে নিক্ষেপ করব”(সূরা শু‘আরা:২৯)।
দ্বিতীয়ত: সাধারণ মানুষের উপর যালমের প্রভাব পড়ছে। যেমন, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনে কোন এলাকার জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হলে যা হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত: দা‘ওয়াতের উপরও যুলম হতে পারে। যেমন ইসলামের কোন পুনর্জাগরণী দল, অবকাঠামো করা, কুরআন সুন্নাহ অনুসারে এর পদ্ধতিতে লোকজনকে আহ্বান করা, ইত্যাদি।
দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে দা‘ঈর উপর যুলুম-নির্যাতন নেমে আসার সম্ভাব্য উপলক্ষ্য
দা‘ওয়াতের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং কন্টকাকীর্ণ । হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলে আসছে। বাতিলপন্থী ও শয়তানের অনুসারীদের স্বভাবই নিজেদের উপর অন্যায় মোকাবেলার উপর অত্যাচার করা, অবিচার করা। আর অন্যায়ের তুলনায় সত্যের দা‘ওয়াত ও দা‘ঈর ভূমিকা আরো কঠোর ও নির্লজ্জ। ফেতনা ফ্যাসাদ তথা নৈরাজ্য ও যুলমের পথ বেছে নেয়া ব্যতীত বাতিলপন্থীদের আর কোন গত্যন্তর নেই। তাই তারা বেছে নেয় সত্যকে দাবিয়ে দিতে। যুক্তি নয়, শক্তি প্রয়োগই তাদের সম্বল। তাই মোহাম্মাদী ফের‘আউন যখন মূসা (আ.) এর সাথে যুক্তি তর্কে হেরে গেল, আচমকা সদস্য বলে উঠল, আমি তোমাকে জেলে আবদ্ধ করব। ইরশাদ হয়েছে:
"وإن تطع أكثر من في الأرض يضلوك عن سبيل الله" - অর্থাৎ “যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে” (সূরা আন‘আম: ১১৬)।
স্থান-কাল- পাত্র ভেদে প্রত্যেক যুগের প্রতিটি প্রেক্ষাপটে শক্তি তথা তাই যেমন রাসূলগণ সম্পর্কে তারা যা বলত তা আল কুরআনে নিম্নরূপ এসেছে:
"وقال الذين كفروا لرسلهم لنخرجنكم من أرضنا أو لتعودن في ملتنا فأوحى إليهم ربهم لنهلكن الظالمين . ولنسكننكم الأرض من بعدهم ذلك لمن خاف مقامي وخاف وعيد . واستفتحوا وخاب كل جبار عنيد"
“কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিল: হয়, আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের মতবাদে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি যালেমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব। তাদের পর তোমাদেরকে দিয়ে এ দেশ আবাদ করব। এটা ঐ ব্যক্তি পায়, যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার ধমককে ভয় করে। পয়গম্বরগণ ফয়সালা চাইলেন এবং প্রত্যেক অবাধ্য, হঠকারী ব্যর্থকাম হল”(সূরা ইবরাহীম: ১৩-১৫)।
অতএব দা‘ওয়াহ ও দা‘ঈর দিকে নিষ্ঠা নিয়ে অটলটা দা‘ওয়াতী পথে স্বভাবের সাথে আপত্তিকর জড়িত। দা‘ওয়াত ও তার বাহকের উপর যুলম আসতেই পারে। ইসলামের প্রতিবর্তী ও বিরাট দিকে দিয়ে চিন্তা করেছেন।
‘আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী বলেন, "إن تلك الدعوة تتضمن أمرهم بالرجوع عن كل مألوفاتهم من الدين والملة ويأمرهم بالانقطاع عن معبودات آبائهم وأسلافهم وبالإعراض عن شهوات النفس وطيبات الدنيا والحكم عليهم بالكفر والضلالة وذلك مما ينوش القلوب ويوحش الصدور ويحمل أكثر المستمعين على قصد ذلك الداعي بالقتل تارة وبالضرب ثانيا وبالشتم ثالثا ، ثم أن ذلك الحق إذا شاهد تلك السفاهات وسمع تلك المشاغبات لان أن يحمل طبعه على تأديب أولئك السفهاء تارة بالقتل وتارة بالضرب"
অর্থাৎ“দা‘ওয়াত যে নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত করে চলেছে: তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করা, তা থেকে দূরে থাকা, এবং সেই ধর্মকে কুফর ও ভ্রান্ত হিসেবে গণ্য করা। আর এ গুলো অন্তঃকরণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রথমত ধর্ম সন্মন্ধে হয়তো ইসলামী উন্মুক্ত হয়, এ অবস্থায় রূহ তথা অধিকাংশ শ্রোতা হকের দা‘ঈকে করত উদ্যত হয়। কখনো হত্যার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত: মারধরের মাধ্যমে। তৃতীয়ত: কখনো গালি গালাজ করে মাধ্যমে। আর সত্যের দাই যখন এ ধরনের বেকামী প্রত্যক্ষ করে, এমনি প্রলাপ শোনে, তখন তার মধ্যেও এমন প্রতিক্রিয়াটি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক যে, সে ও তাদেরকে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়। কখনো প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে। চতুর্থত: কখনো মারপিটের মাধ্যমে।

টিকাঃ
২৩১.ফখরুদ্দীন রাযী, প্রাগুক্ত, ১৪খ. পৃ.১০৮।
২৩২.রাযী নাসিফী, প্রাগুক্ত, পৃ.১৬৯।

📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে আপতিত নির্যাতন প্রতিরোধের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা

📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে আপতিত নির্যাতন প্রতিরোধের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা


পূর্বোক্ত আলোচনায় প্রণিধান হয় যে, মানব সমাজে যুলম নির্যাতন সংঘটিত হওয়া সম্ভব। এর বাস্তবতা রয়েছে, কিন্তু দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এর বাস্তবতা আরো বেশী আরো দেখা হয়, নির্যাতনের উপর দা‘ঈর কোন নির্যাতন হলে তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহর পথে সবর করার আদেশের সাথে সঙ্গতি দিয়ে প্রধান আল্লাহর পাক বলছেন:
"وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ولئن صبرتم لهو خير للصابرين"
অর্থাৎ“আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবর কারীদের জন্য উত্তম”(সূরা নাহল: ১২৬)।
বাড়িত এ আয়াতে ওয়া‘য করা হয়, নির্যাতন প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে এর চেয়ে ধৈর্য ধারণকেই মানবকল্যাণে বা প্রশংসনীয় বলা হয়েছে। উপর্যোগিতা কিছু প্রকৃতপক্ষে এখানে সবর বলতে নীরবে সহ্য করা বুঝানো হয়নি। বরং মানে প্রতিরোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রীতিকর অবস্থা প্রদর্শনে করা। অন্যথায় অত্যাচারী প্রতিরোধের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালের প্রচুর আয়াতে এর সাথে এর সঙ্গতি দেখা দিবে। তাছাড়া, আল্লাহ পাক স্পষ্ট ভাষায় শক্তি সঞ্চয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে: "وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة" “তাদের মোকাবেলায় যথা সম্ভব শক্তি প্রস্তুতি রাখো”(সূরা ‘আনফাল:৬০)।
উপস্থিত আলোচনায় প্রণিধান হয় যে, মানব সমাজে যুলম নির্যাতন সংঘটিত হওয়া সম্ভব। এর বাস্তবতা রয়েছে, কিন্তু দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এর বাস্তবতা আরো বেশী আরো দেখা হয়, নির্যাতনের উপর দা‘ঈর কোন নির্যাতন হলে তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহর পথে সবর করার আদেশের সাথে সঙ্গতি দিয়ে প্রধান আল্লাহর পাক বলছেন:
"وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ولئن صبرتم لهو خير للصابرين"
অর্থাৎ“আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবর কারীদের জন্য উত্তম”(সূরা নাহল: ১২৬)।
বাড়িত এ আয়াতে ওয়া‘য করা হয়, নির্যাতন প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে এর চেয়ে ধৈর্য ধারণকেই মানবকল্যাণে বা প্রশংসনীয় বলা হয়েছে। উপর্যোগিতা কিছু প্রকৃতপক্ষে এখানে সবর বলতে নীরবে সহ্য করা বুঝানো হয়নি। বরং মানে প্রতিরোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রীতিকর অবস্থা প্রদর্শনে করা। অন্যথায় অত্যাচারী প্রতিরোধের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালের প্রচুর আয়াতে এর সাথে এর সঙ্গতি দেখা দিবে। তাছাড়া, আল্লাহ পাক স্পষ্ট ভাষায় শক্তি সঞ্চয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে: "وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة" “তাদের মোকাবেলায় যথা সম্ভব শক্তি প্রস্তুতি রাখো”(সূরা ‘আনফাল:৬০)।

📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 যুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় দা‘ঈর কৌশল ও মাধ্যম সমূহ

📄 যুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় দা‘ঈর কৌশল ও মাধ্যম সমূহ


পূর্বেই দেখেছি, ইসলাম বিভিন্ন রকম যুলম নির্যাতন মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়াকে অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনে প্রতিশোধও নেয়া যায়। যদি তাতে সমতার নীতি ও ‘আদল অবলম্বন করা হয়। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন হয় যে, দাঈর মূল লক্ষ্য হল সাফল্য হওয়া, প্রতিশোধ নেয়া নয়। অর্থাৎ দা‘ঈকে শুধু দা‘ওয়াত কবুল করানোই তার টার্গেট। তাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে উত্তেজিত না করে দা‘ওয়াতী কাজকে ফলপ্রসূ করাই উত্তম।
তাই মোকাবেলার প্রস্তুতি হতে দা‘ওয়াতের স্বার্থেই, প্রতিশোধের জন্য নয়। এ দিকে লক্ষ্য রেখে ইসলাম বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও মাধ্যম অবলম্বনের দিক নির্দেশনা দিয়েছে। দা‘ওয়াতের অতীত তথ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে সময়ক্ষণ বিবেচনা করে তা থেকে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।
১. ধৈর্য ও সংযম
ধৈর্য ও সংযমকে আরবীতে সবর বলা হয়। ইসলামী দা‘ওয়াতে এর গুরুত্ব অপরিসীম । বরং একে দা‘ওয়াতের মেরুদণ্ড বলা হয়। যুলম নির্যাতন প্রতিরোধে দাঈগণের শক্তির সামর্থ্য না থাকলে সে ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে ও সেখানে ধৈর্যধারী হওয়াটাই শ্রেয়। সে অবস্থায় প্রতিশোধ এবং এর সাথে সামান্য মানুষ হোক, সকলের হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর নির্যাতন চলে, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর নির্যাতন চলে, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ ।
অন্যদিকে প্রতি সাধারণ মানুষের মনে সমবেদনা অনুভব করতে থাকে। এ জন্য বলা হয়, জান্নাত স্বভাবতই মজলুমের পক্ষে থাকে। তাই সবরের মাধ্যমে জান্নাত তার পক্ষে আসে। অত্যাচারী ও সাধারণ জনগণ সকলের মাঝে দা‘ঈর দৃঢ়তা ও সততার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা জন্মে। এ জন্য সারা কুরআন অনেকবার ধৈর্যধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন শুরুতেই আমরা দেখেছি। অন্য জায়গায় বলা হয়:
"واصبر على ما أصابك إن ذلك من عزم الأمور"
“তোমার উপর আপতিত মসিবতের উপর সবর কর, নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ”(সূরা লোকমান:১৭)। কেননা দা‘ওয়াতী কাজে বিভিন্ন লোকের সাথে মিশতে হয়, শুনতে হয় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট, হাসি ঠাট্টা বিদ্রূপ। কথায় কথায় তাদের সাথে ঝগড়া বাধলে বা প্রতিশোধমূলক জবাব দিলে দা‘ওয়াতী কাজে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
ইরশাদ হয়েছে:
"لتبلون في أموالكم وأنفسكم ولتسمعن من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم ومن الذين أشركوا أذى كثيرا وإن تصبروا وتتقوا فإن ذلك من عزم الأمور"
“অবশ্য ধন-সম্পদে এবং জন-সম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্যই তোমরা পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এবং মুশরিকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, তবে তা হবে একান্ত সাহসিকের ব্যাপার”(সূরা আল ইমরান:১৮৬)।
অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব তবুও তাগুত ও বাতিলপন্থী লোক যদিও থাকে, তখন দা‘ঈর উপর ঐ ধরনের নির্যাতন ও নির্যাতন মেনে নেয়া ছাড়া আর অপর রাখে না।
হযরত মূসায় ইবন জাবাল (রা.)কে বর্ণিত রয়েছে যে, যখন মুসলমানদেরকে রাজীর ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তাদের উপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে, যারা তাদের সাথে জাতিতে শরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে। লোকেরা যদি তাদের এ মতকে মেনে না নিলে তাদেরকে স্থান দিতে হবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল এ সংকটে কাকে আমারা কি করণীয়? তিনি উত্তরে বলেছেন:
“كما صنع أصحاب عيسى بن مريم نشروا بالمنشار وحملوا على الخشب، موت في طاعة الله خير من حياة في معصية الله”
“ এ সংকটে তোমরা তাই করবে যা ঈসা (আ.) এর সাথীরা করেছিল। ফাসিকাত্বে চড়িয়ে টুকরা টুকরা করা হয়েছিল।

📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 বিভিন্ন রকম প্রতিরোধে সময়ক্ষণ বিবেচনা

📄 বিভিন্ন রকম প্রতিরোধে সময়ক্ষণ বিবেচনা


উল্লেখ্য যে, যুলম ও নির্যাতন মোকাবেলায় বিভিন্ন রকম কৌশল ও মাধ্যম আছে। ক‘টিকে তুচ্ছ জ্ঞান ও তুচ্ছ মনে করার প্রয়োজন হয় না। যেমন, সবর, ক্ষমা ও উত্তম ব্যবহার, সাহায্য ও দু‘আ. আন্তগোপন .হিজরত। এগুলো দা‘ঈ তার নিজস্ব ব্যক্তিগত বা জামা‘আতী ভাবে তার নিজস্ব সামর্থ্য অনুসারে তা পদক্ষেপ নিবেন আবার কিছু কিছু আছে যেগুলোতে প্রতিরোধ সৃষ্টি হয়। এমনকি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। যেমন যুদ্ধ,গণ আন্দোলন, অবরোধ ও বয়কট, দর্ঘস্থায়ী বাস্তবায়ণ ইত্যাদি। এ মাধ্যম গুলো ব্যবহারের যথাযথ সময় আছে।
সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধরা বা ক্ষমা করা উচিৎ নয়। কেননা একই ধরনের যুলম বার বার আপতিত হওয়ার সামর্থ্য শক্তি প্রয়োগে প্রতিহত করা আবশ্যক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00