📄 যুলুম-নির্যাতনের স্বরূপ
যুলুম শব্দটি আরবী যার প্রচলিত অর্থ হল আরবী। আরবীতে যুলম (ظلم) শব্দ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত যেমন উৎপীড়ন, নির্যাতন, দুর্দশাগ্রস্ত,” অন্যায়, অবিচার, অধিকারহরণ, সীমালংঘন করা, সঠিক পথ হতে বিচ্যুত হওয়া, কোন বস্তু বা বিষয়কে যথাস্থানে না রাখা, রাখা দেওয়া ইত্যাদি।
‘আল্লামা আলী আল-জুরজানী এর একটি প্রসিদ্ধ সংজ্ঞা উল্লেখ করেন। তাহলো:
الظلم: وضع الشيء في غير محله
অর্থাৎ যুলম হল কোন বস্তু বা বিষয়কে যথাস্থানে না রাখা। কেননা উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞার ক‘টি দিকের উপর আলোকপাত করে বলা গেল:
১. যুলম অর্থ অন্যায়, অসংগত ও অযাচিত মন্তব্য বা পদক্ষেপ।
আল্লাহর বাণী, "الشرك لظلم عظيم" অর্থাৎ “নিশ্চয় শিরক করা বড় যুলম”(সূরা লুকমান:১৩)। সুতরাং শিরক করা ন্যায় সঙ্গত নয়। আল্লাহ পাককে যথাযথ মর্যাদায় রাখা হয়নি।
প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনুল কায়্যিম-জুরজানী-শিরক বিভিন্ন দিক দিয়ে যুলম। এর দ্বারা সৃষ্টি কর্তার অধিকারকে যুলম তথা অস্বীকার করা হয়। ফিরকে লিপ্ত ব্যক্তি নিজের জন্য যুলম। কেননা নিকৃষ্ট এর দাওয়াতেয় সত্তার অধীনে নিজেকে প্রতিস্থাপন করেছে। আর ইহা সত্যিকারের ঈমানদারদের উপর যুলম উপলব্ধি। কেননা ইহা মুমিনদেরকে চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া, ইহা বস্তসমূহের মূলনীতির বিরুদ্ধে যুলম। কারণ শিরকের দ্বারা এর প্রকৃত অবস্থা পরিবর্তিত হয়, परस्पर সম্পর্ক বিঘ্নিত হচ্ছে।
২. অধিকার হরণ ও নির্যাতন
যেমন কাউকে ঘরবাড়ী, ধন সম্পদের কর্তৃত্ব থেকে অন্যায় ভাবে উৎখাত করা, এ অপরাধে যে, একমাত্র আল্লাহরই রব তথা পালনকর্তা ও আইনদাতা হিসেবে মানে।
আল্লাহর বাণী, "الذين يقاتلون بأنهم ظلموا وإن الله على نصرهم لقدير الذين أخرجوا من ديارهم بغير حق إلا أن يقولوا ربنا الله"
“যাদেরকে যুদ্ধে বাধ্য করা হচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। কারণ তারা নির্যাতিত। অবশ্যই আল্লাহ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন। আর সে সব লোক, যাদেরকে তাদের গৃহ থেকে বের করা হয়েছে। তাদের একমাত্র অপরাধ তারা বলে আল্লাহই আমাদের পালনকর্তা”(সূরা হজ্জ: ৩৯)।
যালিমেরা যুগে যুগে ইসলামী দা‘ঈগণ তথা রাসূলগণকে দেশ থেকে বিতাড়নের মাধ্যমে যুলম করেছে। এ মর্মে ইরশাদ হয়েছে:
"وقال الذين كفروا لرسلهم لنخرجنكم من أرضنا أو لتعودن في ملتنا فأوحى إليهم ربهم لنهلكن الظالمين"
“ কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিল: আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব, অথবা তোমরা আমাদের মতবাদে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের প্রভু প্রত্যাদেশ করলেন যে, আমি যালেমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব”(সূরা ইবরাহীম: ১৩)।
৩. শারীরিক নির্যাতন ও কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদান
এতে প্রহার করা, জেলাবদ্ধ করা, হত্যা করা সবই অন্তর্ভুক্ত । যালিমেরা এমন জঘন্যকর্ম রাসূলগণের উপরও সে ধরনের যুলম করত । যেমন হযরত নূহ (আ.)কে যালেম কওম বলেছিল, সে সম্পর্কে উদ্ধৃত হয়:
"قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين"
“ তারা বলল হে নূহ, যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিত প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে”(সূরা শু‘আরা:১১৬)। এমনি ভাবে জনৈক প্রাচীন পদ্ধতির যালিমরা রাসূলগণকে বলেছিল, তা নিম্নরূপ:
"قالوا إنا تطيرنا بكم لئن لم تنتهوا لنرجمنكم وليمسنكم منا عذاب أليم"
“তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গল মনে করছি। যদি তোমরা (দা‘ওয়াত থেকে) বিরত না হও, তবে আমরা তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে বধ করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি স্পর্শ করবে”(সূরা ইয়াসীন: ১৮)। আর ফের‘আউনের সম্পর্কে বলা হয়:
"ونادى فرعون في قومه قال يا قوم أليس لي ملك مصر وهذه الأنهار تجري من تحتي . أفلا تبصرون"
“মূসাকে আপনার প্রভু থেকে বলেন-তুমি যালম সম্প্রদায়ের কাছে ফের‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে যাও”(সূরা শু‘আরা:১০-১১)। এর ক‘টি আয়াত পরেই ফের‘আউনের যালমের তার দম্ভোক্তি উল্লেখ করা হয়:
"قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين"
সে বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্য গ্রহণ কর, তবে অবশ্যই তোমাকে নিক্ষেপ করব”(সূরা শু‘আরা:২৯)। অন্যত্র প্রতিশোধ গ্রহণের মধ্যে মূসা (আ.)‘র দাওয়াতিক প্রক্রিয়ার উপর যে নির্যাতন নেমে এসেছিল, কিভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল কুরআনে তাহাই প্রতিময়:
"قال آمنتم له قبل أن آذن لكم إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمونه لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين"
“সে (ফেরআউন) বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তার উপর ঈমান এনে ফেললে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে যাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে, আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব এবং তোমাদের সবাইকে শূল বিদ্ধ করব”(সূরা শু‘আরা:৪৯)। এমনিভাবে বনী ইসরাঈলের উপর নির্মম নির্যাতন চলে ও দাসের উম্মার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জনসম্মুখে কেলিয়ে তুলে । যেন ফেরআউনের কওমের ভাষায়: ----وقال فرعون ذروني أقتل موسى وليدع ربه إني أخاف أن يبدل دينكم أو أن يظهر في الأرض الفساد”
“তখন তারা বলল, ফেরআউন বলল, তোমরা আমাকে সন্তান হত্যা করার জন্য, আমি মূসাকে হত্যা করতে ----- ফের‘আউন বলল, তোমরা আমাকে অবকাশ দাও, আমি মূসাকে হত্যা করতে চাই। ----- ফের‘আউন বলল, তোমরা আমাকে অবকাশ দাও, আমি মূসাকে হত্যা করতে চাই এবং তার প্রভুকে সে ডাকতে থাকুক । আমি আশংকা করছি, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে”(সূরা মু’মিন: ২৫-২৬)।
৪. নিপীড়ন সীমালংঘন করা: আল কুরআনে একে اعتداد বলে আখ্যা দেয়া। যেমন আল্লাহর বাণী:
"ويقتلون الأنبياء بغير حق ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون"
“ আর তারা নবীগণকে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে কারণ তারা নাফরমানী করেছে এবং সীমা লংঘন করেছে”(সূরা আল ইমরান: ১১২)।
৫. মনগড়া আইন তৈরী করা যুলম:
"فمن أظلم ممن افترى على الله كذبا ليضل الناس بغير علم"
“সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় আল্লাহ সম্প্রদায়ের পথ প্রদর্শন করেন না”(সূরা আন‘আম: ১৪৪)
৬. মনগড়া আইন বাস্তবায়ন করা: ইরশাদ হচ্ছে:
"ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الظالمون"
“যে সব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী হুকুম চালায় না, তারাই যালেম”(সূরা মায়িদা: ৪৫)।
টিকাঃ
২২৫. ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, আরবী-বাংলা ব্যবহারিক অভিধান, (ঢাকা: রিয়াদ প্রকাশনী,১৯৯৯)।
২২৬.মুহাম্মদ ‘আলী জুরজানী, প্রাগুক্ত, ২৪. পৃ.১০৫।
২২৭.আল মু‘জামুল ওসীত, প্রাগুক্ত. পৃ.৫৩৩।
২২৮.আলী আল জুরজানী, প্রাগুক্ত. পৃ.১৬৫।
২২৯.ইবনুল কায়্যিম আল জাওযিয়্যাহ, তাফসীরুশ শিরকি ওয়াও আনওয়ারিহি, (ডিউবন্দ: দার সাদর,১৯৯৭ইং).পৃ. ১৫৫।
২৩০.প্রাগুক্ত।
📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে দা‘ঈর উপর যুলুম-নির্যাতন নেমে আসার সম্ভাব্য উপলক্ষ্য
দা‘ওয়াতের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং কন্টকাকীর্ণ । হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলে আসছে। বাতিলপন্থী ও শয়তানের অনুসারীদের স্বভাবই নিজেদের উপর অন্যায় মোকাবেলার উপর অত্যাচার করা, অবিচার করা। আর অন্যায়ের তুলনায় সত্যের দা‘ওয়াত ও দা‘ঈর ভূমিকা আরো কঠোর ও নির্লজ্জ। ফেতনা ফ্যাসাদ তথা নৈরাজ্য ও যুলমের পথ বেছে নেয়া ব্যতীত বাতিলপন্থীদের আর কোন গত্যন্তর নেই। তাই তারা বেছে নেয় সত্যকে দাবিয়ে দিতে। যুক্তি নয়, শক্তি প্রয়োগই তাদের সম্বল। তাই মোহাম্মাদী ফের‘আউন যখন মূসা (আ.) এর সাথে যুক্তি তর্কে হেরে গেল, আচমকা সদস্য বলে উঠল, আমি তোমাকে জেলে আবদ্ধ করব। ইরশাদ হয়েছে:
"قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين"
“সে বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্য গ্রহণ কর, তবে অবশ্যই তোমাকে নিক্ষেপ করব”(সূরা শু‘আরা:২৯)।
দ্বিতীয়ত: সাধারণ মানুষের উপর যালমের প্রভাব পড়ছে। যেমন, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসনে কোন এলাকার জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হলে যা হয়ে থাকে।
তৃতীয়ত: দা‘ওয়াতের উপরও যুলম হতে পারে। যেমন ইসলামের কোন পুনর্জাগরণী দল, অবকাঠামো করা, কুরআন সুন্নাহ অনুসারে এর পদ্ধতিতে লোকজনকে আহ্বান করা, ইত্যাদি।
দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে দা‘ঈর উপর যুলুম-নির্যাতন নেমে আসার সম্ভাব্য উপলক্ষ্য
দা‘ওয়াতের পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং কন্টকাকীর্ণ । হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত চলে আসছে। বাতিলপন্থী ও শয়তানের অনুসারীদের স্বভাবই নিজেদের উপর অন্যায় মোকাবেলার উপর অত্যাচার করা, অবিচার করা। আর অন্যায়ের তুলনায় সত্যের দা‘ওয়াত ও দা‘ঈর ভূমিকা আরো কঠোর ও নির্লজ্জ। ফেতনা ফ্যাসাদ তথা নৈরাজ্য ও যুলমের পথ বেছে নেয়া ব্যতীত বাতিলপন্থীদের আর কোন গত্যন্তর নেই। তাই তারা বেছে নেয় সত্যকে দাবিয়ে দিতে। যুক্তি নয়, শক্তি প্রয়োগই তাদের সম্বল। তাই মোহাম্মাদী ফের‘আউন যখন মূসা (আ.) এর সাথে যুক্তি তর্কে হেরে গেল, আচমকা সদস্য বলে উঠল, আমি তোমাকে জেলে আবদ্ধ করব। ইরশাদ হয়েছে:
"وإن تطع أكثر من في الأرض يضلوك عن سبيل الله" - অর্থাৎ “যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে চলেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে” (সূরা আন‘আম: ১১৬)।
স্থান-কাল- পাত্র ভেদে প্রত্যেক যুগের প্রতিটি প্রেক্ষাপটে শক্তি তথা তাই যেমন রাসূলগণ সম্পর্কে তারা যা বলত তা আল কুরআনে নিম্নরূপ এসেছে:
"وقال الذين كفروا لرسلهم لنخرجنكم من أرضنا أو لتعودن في ملتنا فأوحى إليهم ربهم لنهلكن الظالمين . ولنسكننكم الأرض من بعدهم ذلك لمن خاف مقامي وخاف وعيد . واستفتحوا وخاب كل جبار عنيد"
“কাফেররা পয়গম্বরগণকে বলেছিল: হয়, আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের মতবাদে ফিরে আসবে। তখন তাদের কাছে তাদের পালনকর্তা ওহী প্রেরণ করলেন যে, আমি যালেমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব। তাদের পর তোমাদেরকে দিয়ে এ দেশ আবাদ করব। এটা ঐ ব্যক্তি পায়, যে আমার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে এবং আমার ধমককে ভয় করে। পয়গম্বরগণ ফয়সালা চাইলেন এবং প্রত্যেক অবাধ্য, হঠকারী ব্যর্থকাম হল”(সূরা ইবরাহীম: ১৩-১৫)।
অতএব দা‘ওয়াহ ও দা‘ঈর দিকে নিষ্ঠা নিয়ে অটলটা দা‘ওয়াতী পথে স্বভাবের সাথে আপত্তিকর জড়িত। দা‘ওয়াত ও তার বাহকের উপর যুলম আসতেই পারে। ইসলামের প্রতিবর্তী ও বিরাট দিকে দিয়ে চিন্তা করেছেন।
‘আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী বলেন, "إن تلك الدعوة تتضمن أمرهم بالرجوع عن كل مألوفاتهم من الدين والملة ويأمرهم بالانقطاع عن معبودات آبائهم وأسلافهم وبالإعراض عن شهوات النفس وطيبات الدنيا والحكم عليهم بالكفر والضلالة وذلك مما ينوش القلوب ويوحش الصدور ويحمل أكثر المستمعين على قصد ذلك الداعي بالقتل تارة وبالضرب ثانيا وبالشتم ثالثا ، ثم أن ذلك الحق إذا شاهد تلك السفاهات وسمع تلك المشاغبات لان أن يحمل طبعه على تأديب أولئك السفهاء تارة بالقتل وتارة بالضرب"
অর্থাৎ“দা‘ওয়াত যে নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত করে চলেছে: তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করা, তা থেকে দূরে থাকা, এবং সেই ধর্মকে কুফর ও ভ্রান্ত হিসেবে গণ্য করা। আর এ গুলো অন্তঃকরণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। প্রথমত ধর্ম সন্মন্ধে হয়তো ইসলামী উন্মুক্ত হয়, এ অবস্থায় রূহ তথা অধিকাংশ শ্রোতা হকের দা‘ঈকে করত উদ্যত হয়। কখনো হত্যার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত: মারধরের মাধ্যমে। তৃতীয়ত: কখনো গালি গালাজ করে মাধ্যমে। আর সত্যের দাই যখন এ ধরনের বেকামী প্রত্যক্ষ করে, এমনি প্রলাপ শোনে, তখন তার মধ্যেও এমন প্রতিক্রিয়াটি সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক যে, সে ও তাদেরকে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমে শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়। কখনো প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে। চতুর্থত: কখনো মারপিটের মাধ্যমে।
টিকাঃ
২৩১.ফখরুদ্দীন রাযী, প্রাগুক্ত, ১৪খ. পৃ.১০৮।
২৩২.রাযী নাসিফী, প্রাগুক্ত, পৃ.১৬৯।
📄 দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে আপতিত নির্যাতন প্রতিরোধের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তা
পূর্বোক্ত আলোচনায় প্রণিধান হয় যে, মানব সমাজে যুলম নির্যাতন সংঘটিত হওয়া সম্ভব। এর বাস্তবতা রয়েছে, কিন্তু দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এর বাস্তবতা আরো বেশী আরো দেখা হয়, নির্যাতনের উপর দা‘ঈর কোন নির্যাতন হলে তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহর পথে সবর করার আদেশের সাথে সঙ্গতি দিয়ে প্রধান আল্লাহর পাক বলছেন:
"وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ولئن صبرتم لهو خير للصابرين"
অর্থাৎ“আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবর কারীদের জন্য উত্তম”(সূরা নাহল: ১২৬)।
বাড়িত এ আয়াতে ওয়া‘য করা হয়, নির্যাতন প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে এর চেয়ে ধৈর্য ধারণকেই মানবকল্যাণে বা প্রশংসনীয় বলা হয়েছে। উপর্যোগিতা কিছু প্রকৃতপক্ষে এখানে সবর বলতে নীরবে সহ্য করা বুঝানো হয়নি। বরং মানে প্রতিরোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রীতিকর অবস্থা প্রদর্শনে করা। অন্যথায় অত্যাচারী প্রতিরোধের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালের প্রচুর আয়াতে এর সাথে এর সঙ্গতি দেখা দিবে। তাছাড়া, আল্লাহ পাক স্পষ্ট ভাষায় শক্তি সঞ্চয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে: "وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة" “তাদের মোকাবেলায় যথা সম্ভব শক্তি প্রস্তুতি রাখো”(সূরা ‘আনফাল:৬০)।
উপস্থিত আলোচনায় প্রণিধান হয় যে, মানব সমাজে যুলম নির্যাতন সংঘটিত হওয়া সম্ভব। এর বাস্তবতা রয়েছে, কিন্তু দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে এর বাস্তবতা আরো বেশী আরো দেখা হয়, নির্যাতনের উপর দা‘ঈর কোন নির্যাতন হলে তা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন নেই। বরং আল্লাহর পথে সবর করার আদেশের সাথে সঙ্গতি দিয়ে প্রধান আল্লাহর পাক বলছেন:
"وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ولئن صبرتم لهو خير للصابرين"
অর্থাৎ“আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। যদি সবর কর, তবে তা সবর কারীদের জন্য উত্তম”(সূরা নাহল: ১২৬)।
বাড়িত এ আয়াতে ওয়া‘য করা হয়, নির্যাতন প্রতিরোধ বা প্রতিশোধ নেয়ার প্রয়োজন নেই। যেখানে এর চেয়ে ধৈর্য ধারণকেই মানবকল্যাণে বা প্রশংসনীয় বলা হয়েছে। উপর্যোগিতা কিছু প্রকৃতপক্ষে এখানে সবর বলতে নীরবে সহ্য করা বুঝানো হয়নি। বরং মানে প্রতিরোধে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অপ্রীতিকর অবস্থা প্রদর্শনে করা। অন্যথায় অত্যাচারী প্রতিরোধের বিরুদ্ধে জিহাদ ও কিতালের প্রচুর আয়াতে এর সাথে এর সঙ্গতি দেখা দিবে। তাছাড়া, আল্লাহ পাক স্পষ্ট ভাষায় শক্তি সঞ্চয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে: "وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة" “তাদের মোকাবেলায় যথা সম্ভব শক্তি প্রস্তুতি রাখো”(সূরা ‘আনফাল:৬০)।
📄 যুলুম-নির্যাতন মোকাবেলায় দা‘ঈর কৌশল ও মাধ্যম সমূহ
পূর্বেই দেখেছি, ইসলাম বিভিন্ন রকম যুলম নির্যাতন মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়াকে অনুমোদন করেছে। প্রয়োজনে প্রতিশোধও নেয়া যায়। যদি তাতে সমতার নীতি ও ‘আদল অবলম্বন করা হয়। তবে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন হয় যে, দাঈর মূল লক্ষ্য হল সাফল্য হওয়া, প্রতিশোধ নেয়া নয়। অর্থাৎ দা‘ঈকে শুধু দা‘ওয়াত কবুল করানোই তার টার্গেট। তাই প্রতিশোধ স্পৃহাকে উত্তেজিত না করে দা‘ওয়াতী কাজকে ফলপ্রসূ করাই উত্তম।
তাই মোকাবেলার প্রস্তুতি হতে দা‘ওয়াতের স্বার্থেই, প্রতিশোধের জন্য নয়। এ দিকে লক্ষ্য রেখে ইসলাম বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও মাধ্যম অবলম্বনের দিক নির্দেশনা দিয়েছে। দা‘ওয়াতের অতীত তথ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে সময়ক্ষণ বিবেচনা করে তা থেকে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।
১. ধৈর্য ও সংযম
ধৈর্য ও সংযমকে আরবীতে সবর বলা হয়। ইসলামী দা‘ওয়াতে এর গুরুত্ব অপরিসীম । বরং একে দা‘ওয়াতের মেরুদণ্ড বলা হয়। যুলম নির্যাতন প্রতিরোধে দাঈগণের শক্তির সামর্থ্য না থাকলে সে ক্ষেত্রে দুর্বলতা থাকলে ও সেখানে ধৈর্যধারী হওয়াটাই শ্রেয়। সে অবস্থায় প্রতিশোধ এবং এর সাথে সামান্য মানুষ হোক, সকলের হৃদয় আকৃষ্ট করার জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর নির্যাতন চলে, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ । কেননা মানুষ যখন তার উপর নির্যাতন চলে, ধৈর্য ও সহনশীলতা প্রদর্শন একটা বিরাট গুণ ।
অন্যদিকে প্রতি সাধারণ মানুষের মনে সমবেদনা অনুভব করতে থাকে। এ জন্য বলা হয়, জান্নাত স্বভাবতই মজলুমের পক্ষে থাকে। তাই সবরের মাধ্যমে জান্নাত তার পক্ষে আসে। অত্যাচারী ও সাধারণ জনগণ সকলের মাঝে দা‘ঈর দৃঢ়তা ও সততার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা জন্মে। এ জন্য সারা কুরআন অনেকবার ধৈর্যধারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন শুরুতেই আমরা দেখেছি। অন্য জায়গায় বলা হয়:
"واصبر على ما أصابك إن ذلك من عزم الأمور"
“তোমার উপর আপতিত মসিবতের উপর সবর কর, নিশ্চয়ই এটা সাহসিকতার কাজ”(সূরা লোকমান:১৭)। কেননা দা‘ওয়াতী কাজে বিভিন্ন লোকের সাথে মিশতে হয়, শুনতে হয় বিভিন্ন ধরনের কষ্ট, হাসি ঠাট্টা বিদ্রূপ। কথায় কথায় তাদের সাথে ঝগড়া বাধলে বা প্রতিশোধমূলক জবাব দিলে দা‘ওয়াতী কাজে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
ইরশাদ হয়েছে:
"لتبلون في أموالكم وأنفسكم ولتسمعن من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم ومن الذين أشركوا أذى كثيرا وإن تصبروا وتتقوا فإن ذلك من عزم الأمور"
“অবশ্য ধন-সম্পদে এবং জন-সম্পদে তোমাদের পরীক্ষা হবে এবং অবশ্যই তোমরা পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এবং মুশরিকদের কাছে বহু অশোভন উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, তবে তা হবে একান্ত সাহসিকের ব্যাপার”(সূরা আল ইমরান:১৮৬)।
অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব তবুও তাগুত ও বাতিলপন্থী লোক যদিও থাকে, তখন দা‘ঈর উপর ঐ ধরনের নির্যাতন ও নির্যাতন মেনে নেয়া ছাড়া আর অপর রাখে না।
হযরত মূসায় ইবন জাবাল (রা.)কে বর্ণিত রয়েছে যে, যখন মুসলমানদেরকে রাজীর ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন তাদের উপর এমন শাসক নিযুক্ত হবে, যারা তাদের সাথে জাতিতে শরিকত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে। লোকেরা যদি তাদের এ মতকে মেনে না নিলে তাদেরকে স্থান দিতে হবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল এ সংকটে কাকে আমারা কি করণীয়? তিনি উত্তরে বলেছেন:
“كما صنع أصحاب عيسى بن مريم نشروا بالمنشار وحملوا على الخشب، موت في طاعة الله خير من حياة في معصية الله”
“ এ সংকটে তোমরা তাই করবে যা ঈসা (আ.) এর সাথীরা করেছিল। ফাসিকাত্বে চড়িয়ে টুকরা টুকরা করা হয়েছিল।