📄 ইসলামী দা‘ওয়াতে মুজাদারা প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ
আর নতুন ক্রিয়া পদ বলার অর্থ অনেকে বেশী গুরুত্ব দেয়ার উদ্দেশ্যে তারা নতুন ক্রিয়া পদ বলা হয়। কারণ মুজাদালা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিনিষ্ঠ হওয়ার কারণে এর উপর ভিত্তি করে যে মতামত প্রতিষ্ঠিত হয়, তা সাধারণত স্থায়ী রূপ নিতে পারে। যেমন রাসূলুল্লাহর হিজরত হিকমত। অতএব এর দ্বারা দ্বীনের তার‘ঈ सर्वोत्तम ভাবে হতে পারে।
এজন্য ইসলামী দা‘ওয়াতী মুজাদালার ধরন, ও তা প্রয়োগের পদ্ধতি জানতে হবে। যার বিস্তারিত আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে।
ইসলামী দা‘ওয়াতে মুজাদালা প্রয়োগের ক্ষেত্রসমূহ
পূর্বেই দা‘ওয়াতী মুজাদালার ধরন, তা প্রয়োগের পদ্ধতি জানার পর তা কোন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত, তা জানা প্রয়োজন । কেননা মুসলিম সমাজে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে যে,‘আকীদার ক্ষেত্রে তা করা যাবে কি না, মুসলমানগণ পরস্পরে মুজাদালা করতে পারবেন কিনা, ইত্যাদি।
প্রথমত: বিষয়বস্তু দিক বিবেচনায় বলা বলতে গেলে বলতে হয় যে, যেহেতু ‘আকীদা, শরী‘আত, আখলাক এবং এসব ক‘টিই ইসলামী দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু, সেহেতু এসব দিক নিয়েই মুজাদালা চলতে পারে। আমরা পূর্বেই দেখেছি, আল কুরআনে আল্লাহ, রাসূল, তাঁর নবী, মালাক পুনরুত্থান এবং হাশর ইত্যাদি ব্যাপারে মুজাদালা করা হয়েছে মুশরিক ও আহলে কিতাবের সাথে।
‘আকীদা একটি স্পর্শকাতর গায়েবী বিষয় নিঃসন্দেহে। কিন্তু তার ভিত্তি যদি মজবুত দলীলের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বরং এতে ঈমান দৃঢ় হয়। সে অনুসারে জীবন পথে উঠে। অন্যথায় সৃষ্টি হয় নেফাকী। অতএব দা‘ওয়াতের সকল বিষয়বস্তুতে মুজাদালা করা যাবে। কারণ ইসলাম এমন যুক্তি নির্ভর তথা বিজ্ঞান সম্মত জীবন বিধান। অন্ধ বিশ্বাসের স্থান ইসলামে নেই।
দ্বিতীয়ত: দা‘ঈর নিজ মুজাদালার প্রতিপক্ষ বিবেচনায় মুসলিম সকলকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। কেননা অমুসলিমদেরকে যুক্তি খণ্ডন মুজাদালার পাশাপাশি মুসলমানদের সাথেও তা করা যাবে । কারণ মানুষ স্বভাবত তর্কপ্রিয় হওয়ার কারণে তাদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে। তাই মুসলমানগণও এর বহির্ভূত নয়। এ জন্য আল কুরআনে বলা হয়:
"ولو شاء ربك لجعل الناس أمة واحدة ولا يزالون مختلفين إلا من رحم ربك"
“আল্লাহ ইচ্ছা করলে একই শরীয়তে একই দলভুক্ত করতে পারতেন, আর তারা মতবিরোধের উপর চলেন। এমনিভাবে যাদেরকে আপনার প্রভু রহম করেছেন তারা মতবিরোধের উপর চলেন। এমনিভাবে যাদেরকে আপনার প্রভু রহম করেছেন তারা মতবিরোধের উপর চলেন”(সূরা হূদ:১১৮-১১৯)। এমনিভাবে দেখা যায় মুসলিম মহিলা একটা মদীনায় (স.) এর কাছে এসে মুজাদালা করতে এসেছিল। আল্লাহ পাক তার কাজকে তিরষ্কার করেননি। বরং এ ঘটনাটি যে সূরাতে বর্ণিত হয়, তার নামকরণ করা হয়েছে সূরা আল মুজাদালা। অতএব মুসলিম সমাজেও চলতে পারে । এতে দ্বীন বাণীতে হয়ে যাবে না যদি এতে পূর্বে বর্ণিত নীতিমালা ও আদব কায়দা অবলম্বন করা হয়।
তেমনিভাবে সামগ্রিক মর্যাদায় যে কোন স্তরের লোকজনের সাথে মুজাদালা করা যাবে । এমনকি রাজনৈতিক হলেও হযরত ইবরাহীম এর সময়কার ঘটনা সম্রাট নমরূদ এবং হযরত মূসা (আ.) এর সময়কার ফেরা‘উনের সাথে মুজাদালা করেছিলেন, যা কুরআন কারীমেই বর্ণিত হয়েছে।
এমনি ভাবে যারা তর্ক প্রিয় বা যুক্তি দিয়ে না বুঝালে কোন কিছু মানতে চায় না তাদের সাথে মুজাদালা করাকে মুফাসসিরগণ প্রায় মনে করেছেন। যা এর বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। যারা তর্কের পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞাত সাথে মুজাদালা করা সম্ভবপর। আর যারা সাধারণ শ্রেণী বা অজ্ঞ, তাদের সাথে মুজাদালা না করাই ভাল। কারণ হল তারা আবেগ প্রবণ সর্ব সাধারণ স্বভাব প্রকৃতির মানুষ এবং তাদের সাথে মাউ‘য়িযাই উত্তম, নতুবা তারা তর্কে করতে অজ্ঞতা বসত, তাদের সাথে বিতর্কে সিদ্ধান্ত পৌঁছা কষ্টকর। অনেক ক্ষেত্রে ফাসাদ সৃষ্টি হওয়ার চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে বিবেচনা করে একজন দা‘ঈ মুজাদালা প্রয়োগ করতে পারেন।
উপসংহারে বলা যায়, পরস্পরের বিতর্কপূর্ণ বিষয়ে যুক্তি প্রমাণ প্রদর্শনমূলক মত বিনিময়, যাকে ‘আরবীতে বলা হয় মুজাদালা, তা ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও শর্তসাপেক্ষে বিষয়, তা হতে হবে সর্বোত্তম পন্থায়। শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক নয় বরং সত্য প্রতিষ্ঠা ও উত্তম ভাব রাজত্বা এবং চিন্তাকর্ষক আচারের মাধ্যমে তা সম্পাদিত হলে তবে তা সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। বিরোধ মীমাংসা করবে। পরস্পরে সম্পর্ক বিনষ্ট করার পরিবর্তে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে। মানব সমাজে বহুল প্রচলিত একটি পদ্ধতিকে বাদ দেয়ার অবকাশ নেই। বরং কুরআন কারীম নির্দেশিত ও রাসূল করীম (স.) প্রদর্শিত পন্থায় সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে তথা যথাযথ ক্ষেত্রে মুজাদালার প্রয়োগে ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য আসতে পারে বলে আশা করা যায়।