📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের অবস্থান ও গুরুত্ব

📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের অবস্থান ও গুরুত্ব


পূর্বের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম । হিকমত ব্যতীত দা‘ওয়াতী কার্যক্রম হতে পারে না। দা‘ওয়াতের পদ্ধতি হিকমত নির্ভর । অন্যথায় সে কার্যক্রম হবে সাময়িক প্রচেষ্টার মতো ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে।
আল্লাহ পাকের অন্যতম সিফাত বা গুণ হল হিকমত, যা থেকে আমরা আল্লাহকে হাকীম নামে অভিহিত করি। কোরআন কারীমে দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতকে নসীহতের পূর্বে স্থান দিয়ে হিকমতের গুরুত্ব প্রমাণ করা হয়েছে। তিনি সকলকে হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন। মানব জীবনে তার জন্য শিক্ষা, তা-ই শিক্ষা ছিলেন। হিকমত অবলম্বনের কিয়ামত পর্যন্ত দা‘ওয়াতের উপর ফরত দিয়েছেন তিনি। নবী মুহাম্মদ (স.) এর রিসালাতের দায়িত্বের অন্যতম একটা দিক ছিল মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেয়া।
ইরশাদ হচ্ছে- الكتاب يعلمهم "তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন"।

টিকাঃ
১১৮.মুহাম্মদ আহমদ, পৃ. ৯৬। ১

📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 হিকমত শিক্ষা লাভে দা‘ঈর করণীয়

📄 হিকমত শিক্ষা লাভে দা‘ঈর করণীয়


এ হিকমত দ্বারা যে ভাবে তার দা‘ওয়াত সফল লাভ করবে, অন্য কিছু দ্বারা সম্ভব নয় । দ্বীনি দা‘ওয়াতের কৌশলে মানব সমাজে জ্ঞান চর্চা হয়। তা প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজে। সমাজের সকল সদস্যের মাঝে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। বর্তমানে মনোবিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র, সমাজ বিজ্ঞান তথা জ্ঞান বিজ্ঞান গবেষণার উৎকর্ষের প্রেক্ষাপটে দা‘ওয়াতের হিকমত অবলম্বনের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
যদিও হিকমত একটা আল্লাহ প্রদত্ত নে‘আমত হিসেবে ধরা হয়েছে, তবুও কিছু নিয়ম আছে, যা অনুসরণ করলে হিকমত শিক্ষা লাভ করা যায়। আর আল্লাহ পাক নিজেই হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন। তবুও একটা হলো, হিকমত শিক্ষা দেয়া। তেমনি শরিফে আছে যে, দুজনের উপর হিংসা তথা তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা যায়, তন্মধ্যে হিকমত প্রাপ্ত ব্যক্তি, যিনি নিজে গিয়ে তা কাজ করছেন, সত্য মিথ্যার ফয়সালা করছেন এবং অন্যকে শিক্ষা দিচ্ছেন।
তাই একজন দা‘ঈর নিন্ম লিখিত দিকগুলো লক্ষ করে কাজ করলে হিকমত শিক্ষা করতে পারেন:
অত্যন্ত গভীর চিন্তা ভাবনা ও অনুসন্ধানের দৃষ্টিকোণ দিয়ে আল কুরআন, মহানবী (স.) এর সুন্নাহ ও সীরাত অধ্যয়ণ।
পবিত্রাত্মা পেয়গম্বর দা‘ওয়াতী পদ্ধতি অধ্যয়ণ।
হাকীম হিসেবে খ্যাত ব্যক্তিদের সাহচর্য লাভ করে তাদের জীবন চরিত থেকে হিকমত পূর্ণ আচরণ চয়ন ও চর্চা।
হিকমতের সাথে কাজ করা এবং দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ণ করা । আর তার চর্চা করা।
দা‘ওয়াতের বিভিন্ন পদ্ধতির রহস্য অনুধাবনে করতে চেষ্টা করা ব্যক্তি গত ভাবে দা‘ওয়াতী অভিজ্ঞতা শিক্ষা লাভ করা,ইত্যাদি।
উপর্যুক্ত কথা ও কাজে হিকমত একটা গভীর সম্পর্কযুক্ত ব্যাপক ধারণা সম্মিলিত প্রভাব । কথা ও কাজে বুদ্ধিদীপ্ত ও যুক্তিগুলো সে যথাস্থানে সম্পর্কিত হিকমত । আর হিকমত হলো স্থান-কাল-পাত্র তথা পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে কথা বলা । আর এটা ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । একজন দা‘ঈর এ বিভাগের যেমন মূল বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন দিকে বিবেচনা করা বিদগ্ধতার মূল থেকে সমাধান খোঁজে বের করে আনেন, তেমনি একজন দা‘ঈকে মানব সমাজের গভীর অধ্যয়ণ করে সমস্যা নিরূপণ ও নিরসন করে প্রকৃত সত্যকে যখন যথাযথ ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । সম্ভবত এ জন্যই ডাক্তার, বিচারককে হাকীম নামেও অভিহিত করা হয় । আর যেহেতু হিকমতে প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দিকটি বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়, সে জন্য অনেক এটাকে বিজ্ঞান তথা ফলিত বিজ্ঞান মনে করেন। আর দা‘ওয়াতী কাজটি মূলত ফলিত । তাই তার সকল দিক হিকমতের সাথে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত । হিকমত শিক্ষা করা যায় । ব্যক্তির মাঝে এটা একটা গুণ । তাই এটা অর্জিতও করা যায়। সকল কার্যক্রমের শ্রেষ্ঠ ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হাকীম নাম সহ মানবীয় সত্ত্বাধিকারী পূর্ববর্তী হিকমত ওয়ালা ব্যক্তিগণের বাস্তব শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তা ধীরে ধীরে অর্জিত অর্জন সম্ভব । বস্তুবাদী কাজে তথা অভিজ্ঞতায় অর্জন ছাড়া হাকীম হওয়া যায় না। আর দা‘ঈ হাকীম না হলে এবং তার দা‘ওয়াতে হিকমত অবলম্বন করতে পারলে, দা‘ওয়াতের সফলতা আসতে পারে বলে আশা করা যায়।

টিকাঃ
১১৯. সহীহ বুখারী (ফতহুল বারীসহ), কিতাবুল ইলম, বাবুল ইগতিবাত ফিল ইলমি ওয়াল হিকমাহ ,১খ. পৃ. ১৬৫।
১২০ ড. ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আনওয়ারী, ইসলামী দা‘ওয়াহ কার্যক্রমে হিকমত: স্বরূপ ও প্রয়োগ, দি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ, ৭ম খ. ১ম সংখ্যা, কুষ্টিয়া, ডিসেম্বর, ১৯৯৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00