📄 ইসলামী দা'ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধরন ও প্রায়োগিক নমুনা
উল্লেখ্য, ইসলামী দা‘ওয়াতের কার্যক্রমে এ পরিধি যেমন ব্যাপক, তেমনি হিকমতের পরিধিও ব্যাপক । সুতরাং দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের ধরনসমূহ সম্পর্কে ধারণা নেয়া ও এর প্রয়োগ প্রসঙ্গে মন্তব্য নয় । তবে দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের মৌলিক কয়েকটি দিক আছে, যেমন প্রস্তুতি, স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনা, বিষয় বিবেচনা, উপস্থাপন এবং ভাষার নিজস্ব আচরণ । এসব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ক‘টি দিক পেশ করা হল:-
প্রথমত: দা‘ওয়াতের প্রস্তুতি বিষয়ক বিবেচনা
দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত প্রয়োগের প্রথম কথা হল- দা‘ওয়াতের প্রস্তুতি নিতে হবে । হঠাৎ আবেগাপ্লুত হয়ে একজনকে কিছু শুনিয়ে দেয়া বা আবেগের তোড়ে কাউকে কিছু বলা যায়। কোন পরিকল্পনা কিছু না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের দা‘ওয়াত তেমন ফলপ্রসূ হয় না । তাই দা‘ঈ কে দা‘ওয়াত দানকারীকে প্রস্তুতি নিতে হবে । এজন্য আল্লাহ পাক হযরত মূসা (আ.) কে নবুয়ত দিয়ে ফিরা‘উনের নিকট পাঠাবার জন্য পাঠানোর পূর্বে মূসা (আ.) প্রস্তুতিমূলক ভাবে তার নিজের নিকট থেকে দোয়া করলেন:
"رب اشرح لي صدري ويسرلي أمري واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي واجعل وزيرا من أهلي هارون أخي"
“হে আমার প্রভু পালক, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে, আর আমার পরিবারবর্গের মধ্যে থেকে আমার ভাই হারুনকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দিন”(সূরা ত্বহা:২৫-৩০)। দা‘ওয়াতী কাজ করতে গেলে ধৈর্য ও সংযমের জন্য অন্তরের প্রশস্ততা, দা‘ওয়াত উপস্থাপনে ভাষার সাবলীলতা ও সার্বিক কাজে সাহায্যকারী সঙ্গীর প্রয়োজন । অতএব মূসার (আ.) উপরোক্ত আবেদনটি এ ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এমনি ভাবে আখেরী নবী মুহাম্মদ (স.) কে দা‘ওয়াতী কাজের প্রস্তুতি স্বরূপ সুরা আলাক, মুযযাম্মিল ও মুদ্দাসসিরের প্রথম দিকের আয়াত গুলো অবতীর্ণ হয়েছিল । তাতে পড়া, ধৈর্য ধরা, ইবাদাতে রাত্রি জাগরণ ও পবিত্রতা অর্জন ইত্যাদি কার্যাবলি ও গুণাবলীর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছিল ।
এ ছাড়া প্রস্তুতি মূলক ভাবে আরো কিছু কাজ কিন্তু ফলপ্রসূ হয়, যথা:-
উল্লিখিত বিষয়টি দা‘ঈ নিজে কর্মে প্রতিপালন: যে বিষয়টির দা‘ওয়াত হচ্ছে তাই দা‘ঈ নিজে জীবনে বাস্তবায়ণ করা । এ জন্য আল কুরআনে বলা হয়েছে:
"يا أيها الذين آمنوا لم يقولون مالا تفعلون كبر مقتا عند الله أن تقولوا مالا تفعلون"
অর্থাৎ“হে মু‘মিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক” (সূরা আস সাফ:২-৩)। এ জন্য মহানবী (স.) বলেছেন- "ابدأ بنفسك" “তোমরা নিজের দ্বারা শুরু কর”১০৫।
দা‘ওয়াতের উপস্থাপনা মূল্যায়ন করা: দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু, পদ্ধতি, ভাষা, দা‘ওয়াতের টার্গেটকৃত উপযুক্ত ব্যক্তি, যে মূল্যায়ন করে দা‘ওয়াতকে অগ্রসর হতে হবে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্টতা: দা‘ঈ যে বিষয়ে যে উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য দা‘ওয়াত দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট নিজের কাছে স্পষ্ট থাকতে হবে। ইসলামী দা‘ওয়াতের লক্ষ্য হল ইনসান প্রচার, আর উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এ ছাড়া ব্যক্তি বা সমষ্টি, প্রভৃতি, সুনাম ইত্যাদি কোন দা‘ওয়াতী কাজ করলে, তা ইসলামী দা‘ওয়াত হবে না, এবং দা‘ওয়াত ফলপ্রসূ হবে না। বরং এমন অজ্ঞতার জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি হবে।
পরিকল্পনা প্রণয়ন: হিকমত অনুসারে এ দা‘ওয়াতী কাজ ফলপ্রসূ করার জন্য সময় কালভিত্তিক সম্ভাব্য পর্যায়ে ভাগ করতে হবে । যেমন প্রস্তুতি পর্ব, উপস্থাপন পর্ব, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পর্ব এবং মোকাবিলার ও হকের বাস্তবায়ণ পর্ব ইত্যাদি। শুধু উপস্থাপনা করে দিলেই শেষ হবে না, প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
মূল সমস্যা নিরূপণ: যে ব্যক্তি বা সমাজে দা‘ওয়াতী কাজ করা উদ্দেশ্য, তার মূল সমস্যা নিরূপণ করতে হবে এবং সে অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে । এজন্য মূল সমস্যা নকল নবী (আ.) তাদের সমাজে বিরাজমান দা‘ওয়াতের ব্যাপারে মূল সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করেছেন। যেমন নূহ (আ.) এর যুগে শিরক দা‘ওয়াত, হূদ (আ.) ও সালেহ (আ.) এর সময়ে ইহ-পারত্রিক জীবনে ভারসাম্য, লূত (আ.) এর যুগে নৈতিক মৌলবাদ ভারসাম্য এবং শু‘আইব (আ.) এ যুগে ব্যবসা বাণিজ্যে সততা ও ইনসাফের দা‘ওয়াতের উপর দিয়ে ছিলেন।
দ্বিতীয়ত: বিষয় বিবেচনার ক্ষেত্র
দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে বিষয় বস্তু একটা মৌলিক দিক তথা উপকরণ । বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে হিকমত হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অগ্রাধিকার দেয়া । এজন্য দেশ, কাল মুসলমান যেহেতু পৃথিবীর শৈথিল্য সমাজে নামিয়ে হল। তাই মক্কী যুগে মানুষের সংশোধনের উপর জোর দেয়া হয়েছে । মাদানী যুগে তা ইসলামী ‘আকীদার বিষয়টি মূল। তা থেকে দ্বীনের অন্যান্য শাখা প্রশাখা বের হয়ে আসে।
মহানবী (স.) ও তাঁর দা‘ওয়াতের হিকমত অবলম্বনে করেছেন এবং তাঁর সাহাবাগণকে এভাবে অবলম্বনের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন । তাই হযরত মুআয (রা.) কে ইয়ামেনে পাঠানোর সময়ে নসীহত শিক্ষা দেন: হে মুয়ায ! তুমি আহলে কিতাবের একটা জাতির নিকট যাচ্ছ । তাই তাদেরকে (প্রথমে) এ কথা সাক্ষ্য দিতে দা‘ওয়াত দিবে যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল । সুতরাং এটা যদি তারা মেনে নেয়, তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর সাদকা (যাকাত) ফরজ করে । । এটা যদি মনে নেয়, তবে তাদের সর্বোত্তম সম্পদ নেয়া থেকে সতর্ক থেক । কারণ দু‘খ ও আল্লাহর মাঝে কোন আড়াল নেই”।
কে হিকমত দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, সর্ব প্রথম তাওহীদ তথা ‘আকীদার দা‘ওয়াত দিতে হবে । তা মনে নিলে ইবাদাতের দা‘ওয়াত । এমনি ভাবে ইসলামের অন্যান্য দিকে ধাবিত হতে হবে। এটাই হিকমতপূর্ণ পদ্ধতি।
উল্লেখ্য যে, এ জন্য সে সমাজে, যখন মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত । তাই ইসলামী সমাজে ‘আকীদার দা‘ওয়াত না দিয়ে ইবাদাতের ওয়ায করতে হিকমত মতে হাদীস তাদের সামনে সম্বোধন করে না।
তৃতীয়ত: সময় নির্বাচনের ক্ষেত্র
সময় নির্বাচন দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ । অনেক দা‘ঈ সময় না বুঝে দেয়ার জন্য দা‘ওয়াতী কাজ ফলপ্রসূ হয় না । দা‘ওয়াতের সময় বিবেচনায় হিকমতের বিভিন্ন দিক রয়েছে । নিম্নে ক‘টি দিক আলোচনা করা হল:
সময় নির্বাচন : নির্দিষ্ট দা‘ওয়াতের প্রতি মনোযোগ দিতে পারে, এমনি সম্ভাব্য একটা সময় নির্বাচন, যাকে দা‘ওয়াত হচ্ছে, সে যদি অন্য কোন জরুরী কাজে ব্যস্ত থাকে, তবে সে সময় তাকে দা‘ওয়াত দেয়া যাবে না । এজন্য আল্লাহ পাক বলেছেন- "فذكر إن نفعت الذكرى"
“উদ্দেশ্য ফলপ্রসূ হলে তবেই উপদেশ দাও ”(সূরা আল-‘আ‘লা:৯)
সুতরাং যে ব্যক্তি তার নিজের ছাত্ররা জরুরী কাজে ব্যস্ত, সে দা‘ওয়াতের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবে না। আর জরুরী কাজ কোনটি, তা দা‘ঈর নিজের প্রজ্ঞা ও ইসলামী মূলনীতির দ্বারা উপলব্ধি করতে হবে।
টিকাঃ
১০৫.সহীহ মুসলিম, কিতাবুল যাকাত, (মুহাদ্দীস নওয়াবীর মুসলিম, বৈরুত, ১৯৮৬)খ. পৃ. ১৩৫. বুখারী কিতাবুল যাকাত, বাবু সালাতিল ইবন সুম‘আ ওয়া দু‘আয়িহি, ২৭. পৃ. ২৬১।
📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের অবস্থান ও গুরুত্ব
পূর্বের আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম । হিকমত ব্যতীত দা‘ওয়াতী কার্যক্রম হতে পারে না। দা‘ওয়াতের পদ্ধতি হিকমত নির্ভর । অন্যথায় সে কার্যক্রম হবে সাময়িক প্রচেষ্টার মতো ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে।
আল্লাহ পাকের অন্যতম সিফাত বা গুণ হল হিকমত, যা থেকে আমরা আল্লাহকে হাকীম নামে অভিহিত করি। কোরআন কারীমে দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমতকে নসীহতের পূর্বে স্থান দিয়ে হিকমতের গুরুত্ব প্রমাণ করা হয়েছে। তিনি সকলকে হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন। মানব জীবনে তার জন্য শিক্ষা, তা-ই শিক্ষা ছিলেন। হিকমত অবলম্বনের কিয়ামত পর্যন্ত দা‘ওয়াতের উপর ফরত দিয়েছেন তিনি। নবী মুহাম্মদ (স.) এর রিসালাতের দায়িত্বের অন্যতম একটা দিক ছিল মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেয়া।
ইরশাদ হচ্ছে- الكتاب يعلمهم "তিনি তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবেন"।
টিকাঃ
১১৮.মুহাম্মদ আহমদ, পৃ. ৯৬। ১
📄 হিকমত শিক্ষা লাভে দা‘ঈর করণীয়
এ হিকমত দ্বারা যে ভাবে তার দা‘ওয়াত সফল লাভ করবে, অন্য কিছু দ্বারা সম্ভব নয় । দ্বীনি দা‘ওয়াতের কৌশলে মানব সমাজে জ্ঞান চর্চা হয়। তা প্রতিষ্ঠিত হয় সমাজে। সমাজের সকল সদস্যের মাঝে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। বর্তমানে মনোবিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র, সমাজ বিজ্ঞান তথা জ্ঞান বিজ্ঞান গবেষণার উৎকর্ষের প্রেক্ষাপটে দা‘ওয়াতের হিকমত অবলম্বনের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
যদিও হিকমত একটা আল্লাহ প্রদত্ত নে‘আমত হিসেবে ধরা হয়েছে, তবুও কিছু নিয়ম আছে, যা অনুসরণ করলে হিকমত শিক্ষা লাভ করা যায়। আর আল্লাহ পাক নিজেই হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন। তবুও একটা হলো, হিকমত শিক্ষা দেয়া। তেমনি শরিফে আছে যে, দুজনের উপর হিংসা তথা তাদের সাথে প্রতিযোগিতা করা যায়, তন্মধ্যে হিকমত প্রাপ্ত ব্যক্তি, যিনি নিজে গিয়ে তা কাজ করছেন, সত্য মিথ্যার ফয়সালা করছেন এবং অন্যকে শিক্ষা দিচ্ছেন।
তাই একজন দা‘ঈর নিন্ম লিখিত দিকগুলো লক্ষ করে কাজ করলে হিকমত শিক্ষা করতে পারেন:
অত্যন্ত গভীর চিন্তা ভাবনা ও অনুসন্ধানের দৃষ্টিকোণ দিয়ে আল কুরআন, মহানবী (স.) এর সুন্নাহ ও সীরাত অধ্যয়ণ।
পবিত্রাত্মা পেয়গম্বর দা‘ওয়াতী পদ্ধতি অধ্যয়ণ।
হাকীম হিসেবে খ্যাত ব্যক্তিদের সাহচর্য লাভ করে তাদের জীবন চরিত থেকে হিকমত পূর্ণ আচরণ চয়ন ও চর্চা।
হিকমতের সাথে কাজ করা এবং দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ণ করা । আর তার চর্চা করা।
দা‘ওয়াতের বিভিন্ন পদ্ধতির রহস্য অনুধাবনে করতে চেষ্টা করা ব্যক্তি গত ভাবে দা‘ওয়াতী অভিজ্ঞতা শিক্ষা লাভ করা,ইত্যাদি।
উপর্যুক্ত কথা ও কাজে হিকমত একটা গভীর সম্পর্কযুক্ত ব্যাপক ধারণা সম্মিলিত প্রভাব । কথা ও কাজে বুদ্ধিদীপ্ত ও যুক্তিগুলো সে যথাস্থানে সম্পর্কিত হিকমত । আর হিকমত হলো স্থান-কাল-পাত্র তথা পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে কথা বলা । আর এটা ইসলামী দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য । একজন দা‘ঈর এ বিভাগের যেমন মূল বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন দিকে বিবেচনা করা বিদগ্ধতার মূল থেকে সমাধান খোঁজে বের করে আনেন, তেমনি একজন দা‘ঈকে মানব সমাজের গভীর অধ্যয়ণ করে সমস্যা নিরূপণ ও নিরসন করে প্রকৃত সত্যকে যখন যথাযথ ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে । সম্ভবত এ জন্যই ডাক্তার, বিচারককে হাকীম নামেও অভিহিত করা হয় । আর যেহেতু হিকমতে প্রতিটি বিষয়ে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দিকটি বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়, সে জন্য অনেক এটাকে বিজ্ঞান তথা ফলিত বিজ্ঞান মনে করেন। আর দা‘ওয়াতী কাজটি মূলত ফলিত । তাই তার সকল দিক হিকমতের সাথে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত । হিকমত শিক্ষা করা যায় । ব্যক্তির মাঝে এটা একটা গুণ । তাই এটা অর্জিতও করা যায়। সকল কার্যক্রমের শ্রেষ্ঠ ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হাকীম নাম সহ মানবীয় সত্ত্বাধিকারী পূর্ববর্তী হিকমত ওয়ালা ব্যক্তিগণের বাস্তব শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তা ধীরে ধীরে অর্জিত অর্জন সম্ভব । বস্তুবাদী কাজে তথা অভিজ্ঞতায় অর্জন ছাড়া হাকীম হওয়া যায় না। আর দা‘ঈ হাকীম না হলে এবং তার দা‘ওয়াতে হিকমত অবলম্বন করতে পারলে, দা‘ওয়াতের সফলতা আসতে পারে বলে আশা করা যায়।
টিকাঃ
১১৯. সহীহ বুখারী (ফতহুল বারীসহ), কিতাবুল ইলম, বাবুল ইগতিবাত ফিল ইলমি ওয়াল হিকমাহ ,১খ. পৃ. ১৬৫।
১২০ ড. ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আনওয়ারী, ইসলামী দা‘ওয়াহ কার্যক্রমে হিকমত: স্বরূপ ও প্রয়োগ, দি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ, ৭ম খ. ১ম সংখ্যা, কুষ্টিয়া, ডিসেম্বর, ১৯৯৮।