📘 ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি ও আধুনিক প্রেক্ষাপট > 📄 ইসলামী দা‘ওয়াতের পদ্ধতিতে কুরআনিক সংবিধান

📄 ইসলামী দা‘ওয়াতের পদ্ধতিতে কুরআনিক সংবিধান


আল-কুরআনুল কারীম ইসলামী দা‘ওয়াতের প্রথম ও মৌলিক উৎস । ইসলামী দা‘ওয়াতের পদ্ধতি বর্ণনায় আল- কুরআনে মানব জাতির জন্য যে ক‘টি আয়াতের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দিয়েছে, তন্মধ্যে ইসলামী দা‘ওয়াতের সংবিধানগুলো ক‘টি আয়াত হলো:
প্রথমত: আল-কুরআনুল কারীম ইসলামী দা‘ওয়াতের প্রধান ও মৌলিক উৎস । ইসলামী দা‘ওয়াতের পদ্ধতি বর্ণনায় আল- কুরআনে মানব জাতির জন্য যে ক‘টি আয়াতের মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দিয়েছে, তন্মধ্যে ইসলামী দা‘ওয়াতের সংবিধানগুলো ক‘টি আয়াত হলো:
"ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي أحسن إن ربك هو أعلم بمن ضل عن سبيله وهو أعلم بالمهتدين . وإن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به ، ولئن صبرتم لهو خير للصابرين . واصبر وما صبرك إلا بالله ، ولا تحزن عليهم ولا تك في ضيق مما يمكرون . إن الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون"
“ আপনি দা‘ওয়াত দেন হিকমত ও মাউ‘যায়া হাসানার দ্বারা, আর সর্বোত্তম পন্থায় যুক্তি তর্ক করুন । নিশ্চয় আপনার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে । আর যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঐ পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমাদেরকে কষ্ট দেয়া হয় । আর আপনি যদি সবর করেন, তবে তা সবরকারীদের জন্য উত্তম । আপনি সবর করবেন । আপনার সবর আল্লাহর জন্যই, অন্য কারো জন্য নয় । আর তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তারা তাদের চক্রান্তের কারণে মন ছোট করবেন না । নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা পরহেযগার এবং যারা সৎকর্ম করে ”(সূরা আন নাহল :১২৫-১২৮)।
এ আয়াত সমূহের আলোকে কয়েকটি মন্তব্য করা যায় :
প্রথমত: প্রথম আয়াতে প্রথমত বলা হল, উক্ত আয়াত সমূহ যদিও মহানবী (স.) কে উদ্দেশ্য করে বলা, তবু তাঁর উম্মত ও অনুসারী হিসেবে এ আদেশ সকল যুগের দাঈর জন্যই কার্যকর । নবী করীম (স.) এ পদ্ধতিই তার সাহাবাগণকে শিক্ষা দিয়েছিলেন এ মর্মে অন্য স্থানে ইরশাদ হয়েছে:
قل هذه سبيلي أدع إلي الله على بصيرة أنا و من اتبعني
“বলুন, এটাই আমার পথ যে, আমি আমার অভিজ্ঞতার উপর আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেই । আর আমার যারা অনুসরণ করে, তারাও তাই” (সূরা ইউসুফ: ১০৮)।
দ্বিতীয়ত: কথা হল, পূর্বেই বলা হয় যে, পদ্ধতিও কোন দা‘ওয়াতের পরিকল্পনা নিতে হলে অবশ্যই চারটি উপাদান থাকতে হবে । সে গুলো হল: দা‘ঈ, মাদ‘উ, দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু, উপস্থাপন কৌশল ও মাধ্যম । উপরোক্ত আয়াতগুলোতে চারটি উপাদানই এখানে বিদ্যমান । কেননা আপনি দা‘ওয়াত দেন বলে যাকে সম্বোধন করা হয়েছে, তিনি দা‘ঈ । যাকে সম্বোধন করা হয় । অতএব দা‘ওয়াতের প্রকৃতি ও কৌশলের উপরোক্ত আয়াতগুলোতে বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য নেই ।
তৃতীয়ত: আর মাদ‘উ উভয় রাখা হয়েছে এজন্য যে, যাতে এ দা‘ওয়াতের আওতায় গোটা মানব জাতি অন্তর্ভুক্ত হয় । এমনিভাবে যাতে বস্তুত ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে বুঝানো হয়েছে । আর এটাই হলো দা‘ওয়াতের বিষয়বস্তু। আর হিকমত, মাউ‘যায়া হাসানা, মুজাদালা, মু‘আকাবা, সবর ইত্যাদি হলো দা‘ওয়াতের উপস্থাপন কৌশল, যা তার মাধ্যমও নির্ধারণ করে ।
চতুর্থত: যে কোন দা‘ওয়াতী পদ্ধতির বাস্তবায়ন পূর্বে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় । আর তা হলো:
১. কিভাবে তা সূচনা করা হবে।
২. কি ধরনের উপস্থাপন করা হবে, তা প্রাথমিক পেশ পরেই হোক,আর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরেই হোক
৩. উপস্থাপনের পর এর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও অগ্রগতি সংরক্ষণ তথা ধরে রাখার চেষ্টা করা।
৪. ভাবোত্তীর্ণ হয়ে চিন্তা থাকা ও একে সফল রাখা । আর তা জিহাদ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে । যেন দা‘ওয়াতী প্রবাহকে প্রতিষ্ঠিত করা ও এ পথে বাধা অপসারণ করা যায় ।
উপরোক্ত আয়াতসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আয়াতগুলোতে এর দিকনির্দেশনা সম্পর্কে চমৎকার দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে । কেননা প্রথমেই বলা হয়েছে, দা‘ওয়াত দেন আল্লাহর রাস্তার দিকে।এখানে দা‘ওয়াতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে । এর দ্বারাই দা‘ওয়াতের সূচনা করতে হবে । ব্যক্তি বা দলের সুনামের দিকে দা‘ওয়াত দিলে তা ইসলামী দা‘ওয়াত সূচনা হবে না, কিংবা হঠাৎ করে শুরু করে দিয়েই সে দা‘ওয়াতের কাঙ্খিত সূচনা হবে না। সবস্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং এর মাঝে ইসলামী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্বাচন করতে হবে । এটাই সূচনা পর্ব ।
অতঃপর তা উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে জবরদস্তি বা প্রতারণাপূর্ণ পন্থায় নয়, বরং সুস্পষ্টফলে, যেন দা‘ওয়াতকৃত ব্যক্তিরা মজলিসগুলোতে আলোচনা শুনে পরিবর্তন আসে, যাতে সে ব্যক্তিগত তথা তার বাস্থ্য আচরণে আল্লাহ পরিবর্তন আনতে থাকে । আর করা হয় । করা হয় হিকমত ও মাউ‘যায়ার মাধ্যমে, ওয়ায়েজ মাধ্যমে। এ ওয়ায়েজকে চালানো হয়েছে দলীল এবং মাউ‘যায়া পরিভাষায় বাতেন্ত করা হয়েছে । এমনিযোগে চালানো হয়েছে মাউ‘যায়ায় পরিমাণ বাতেন্ত হবে। আর এ পর্যায়ে নির্বাচন হলে চলবে না, কেননা ফলাফলের মালিক আল্লাহ পাক । দা‘ঈর কর্তব্য দা‘ওয়াতী কাজ চালিয়ে যাওয়া । যার দিক নির্দেশনা ঐ আয়াতেই আছে যে, এ দা‘ওয়াত হল দাওয়াতের হেদায়েত করতে, সে মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি ব্যক্ত আছে । আর এটা হল তাঁর অপর দিকে এ ব্যাপারে আল্লাহ ব্যক্তিকে যদি দা‘ওয়াত কবুল করে নেয়, তা হলে তাকে টেনে নিতে হবে । সেই হিকমত ও মাউ‘যায়ীয়া নীতি অনুসারেই শিক্ষা দিতে হবে । এর সাধারণ ভুল ত্রুটি, বিচ্যুতি মার্জণীয় । প্রজ্ঞা ও সাংঘিক উদ্দেশ্য प्रशंसনীয়।

টিকাঃ
১৬. সুনান তিরমিযী, প্রাগুক্ত ।
১৭. সুনানে দারেমী, ১৪, খ.পৃ.২৯. ( হযরত তাউস আন দাউদ হতে মুরসাল হতে বর্ণিত )
১৮. মায়িযোদীন ফতহ, ফী যিলালিল কুরআন, (বৈরুত: দারুশ শুরুক ১৯৮২ইং)খ.পৃ.২২৩১ ।
১৯. ড. মুহাম্মদ আব্দুর রহমান আনওয়ারী, মানহাজুদ দা‘ওয়াতে ওয়াছ ছুল কিতাবিল কারীম, (ইসলামাবাদ পি.এইচ.ডি থিসিস, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৮ ) পৃ. ৪৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00