📄 দ্বীনি প্রভাব
খারাপ চরিত্রে জড়িত হওয়া ব্যক্তি দ্বীন নষ্টে প্রারম্ভ, উম্মতের দ্বীনকে দুর্বল করণ, আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও ধর্মের খারাপ রূপ প্রকাশ। ইসলামের শত্রুরা এর পৃষ্ঠেই তাদের কলমকে আরোহন করায়, এই দ্বীনের অনুসারীদের বিচ্যুত চরিত্র দিয়ে এই দ্বীন অঙ্কিত করতে; এর প্রকৃত মানহায দিয়ে নয়। খারাপ চরিত্রের দ্বীনি প্রভাব নিম্নে আলোচনা করা হল:
প্রথমত: ইসলামের হাকিকতের বিকৃতি:
নিঃসন্দেহে ইসলামকে আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জীন জাতীর জন্য ধর্ম হিসেবে মনোনিত করেছেন। এই দ্বীন নিয়ে জিবরাঈল সম্মানিত রাসূল মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর সাঃ উপর অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এই দ্বীন অতীব স্বচ্ছ। নবী সাঃ বলেন: (অবশ্যই তোমাদেরকে উজ্জল (স্পষ্ট দ্বীন ও হুজ্জতের) উপর ছেড়ে যাচ্ছি; যার রাত্রিও দিনের মতই। ধ্বংসোন্মুখ ছাড়া তা হতে অন্য কেউ ভিন্নপথ অবলম্বন করবে না।)
রাসূল সাঃ এই উজ্জল দ্বীনকে ধারণ করেছেন এবং এর উপরই সাহাবাগণকে গড়ে তুলেছেন। তারা আমাদেরসহ বিশ্ববাসীর সামনে দ্বীনের জীবন্ত, সত্য, সঠিক, স্বচ্ছ রূপ তুলে ধরেছেন, যা মানুষ অবলোকন করেছে, ফলে তারা দলে দলে এই দ্বীনে প্রবেশ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ * وَرأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا * فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا﴿ [যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়। আর আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহ্র দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন। তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী।]
সুতরাং যখন মুসলিম জনপদে খারাপ চরিত্র ছড়িয়ে পড়বে তখন তারা প্রকৃত ইসলামের বিকৃত রূপ প্রকাশ করবে। ফলস্বরূপ মানুষের মাঝে বিকৃত আচরণ দ্বারা এই ধারণা জাগ্রত করে যে, এটাই হল ইসলাম ধর্ম যা তার অনুসারীদের মাঝে বিদ্যমান। ফলে তারা মুসলিম সমাজে চুরি, প্রতারণা ও ধোঁকা দেখতে পায় এবং তারা এর সদস্যদের মাঝে যিনা ও মদ্যপানের বিস্তৃতি অবলোকন করে; যা তারা তাদের দেশে গোপন বা প্রকাশ্যে চর্চা করে অথবা অমুসলিম দেশে তাদের মতই চলাচল করে। তাদের আচরণে যুলুম, বলপ্রয়োগ ও সীমালঙ্ঘন লক্ষ্য করা যায়, এমনকি অনেক সময় তারা এটা ইসলামের নাম দিয়ে করে থাকে। সুতরাং এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর সঠিক দ্বীনের বিকৃত রূপ প্রকাশ করে।
কাজেই একজন মুসলিম যেন খারাপ চরিত্রের পরিণতি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তার মন্দ প্রভাব সম্পকে সতর্ক থাকে। নবী সাঃ বলেছেন: (যদি কোন ব্যক্তি ইসলামে কোন কুপ্রথা চালু করে তবে এ অসৎকর্মের গুনাহ তার উপর বর্তাবে এবং ঐ ব্যক্তির গুনাহও, যারা তার পরবর্তীতে সে অসৎকর্ম করবে, এতে তাদের গুনাহ বিন্দু পরিমাণও কমবে না।)
দ্বিতীয়তঃ জাতীর ধর্মকে সমালোচনার মুখোমুখী করা:
এই দ্বীনের অনুসারীদের খারাপ চরিত্রের ফলস্বরূপ তাতে যা কিছু আরোপিত হচ্ছে তার অন্যতম হল প্রচার মাধ্যমগুলোতে বাণী, ছবি বা প্রবন্ধের মাধ্যমে এর সমালোচনা করা; যেটা তারা এই দ্বীন ধ্বংসের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করছে।
কাজেই যখন কিছু মুসলিম নারী হিজাব বর্জন করেছে এবং খারাপ চরিত্রের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, তখন ইসলামের শত্রুরা বুঝতে পেরেছে যে, তারা যদি হিজাবের সমালোচনা করে তবে তাদের তারা সাহায্য করবে। ফলে তাদের কলম, পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যম হিজাবের সমালোচনা করতে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
ইসলামের শত্রুরা এর সমালোচনা করার সাহস করে না, তবে যদি তারা সুযোগ পায় তবে তাদের ধর্মীয় শত্রুতা প্রকাশ করে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِن يَثْقَفُوكُمْ يَكُونُوا لَكُمْ أَعْدَاءً وَيَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ وَأَلْسِنَتَهُم بِالسُّوءِ وَوَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ﴿ [তোমাদেরকে কাবু করতে পারলে তারা হবে তোমাদের শত্রু এবং হাত ও জিহ্বা দ্বারা তোমাদের অনিষ্ট সাধন করবে, আর তারা কামনা করে যদি তোমরা কুফরী করতে।]
অর্থাৎ যদি তারা সুযোগ পায় তবে কথা ও কাজ দ্বারা তোমাদেরকে কষ্ট দিতে কোন দ্বিধা করবে না।
বর্তমান বিশ্ব নিয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তি দেখতে পাবে যে এই সময়ে ইসলামের কঠোর সমালোচনা করা হয়, বিশেষ করে নারী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এই বলে যে, ইসলাম নারীদেরকে কর্মক্ষেত্র ও উঠাবসায় পুরুষদের সমপর্যায় হতে বাধা দিচ্ছে।
এর পিছনে তাদের উদ্দেশ্য হল নারীকে তার বাড়ী ও পরিপালনগত দায়িত্ব থেকে বের করা, যেন মার্কেট, কারখানা ও হাসপাতালে পুরুষদের সাথে মিলিত হয়। যার ফলে মুসলিম উম্মাহর চারিত্রিক অধঃপতন ঘটবে যেমনভাবে তাদের সমাজে চারিত্রিক অধঃপতন ঘটেছে।
তৃতীয়তঃ ইসলাম গ্রহণে মানুষদের পিছপা হওয়া:
মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের মাঝে খারাপ চরিত্র ছড়িয়ে পড়লে তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে তার অন্যতম হল, মানুষেরা এই দ্বীন গ্রহণ করা থেকে পিছিয়ে যাবে। কেননা যারা ইসলাম গ্রহণ করে তারা তা গ্রহণ করে ধর্মীয় প্রশান্তি পাওয়ার জন্য যা অন্য কোন ধর্মে পাওয়া যায় না। কাজেই যখন তারা দেখে যে মুসলিমদের মাঝে সেসব খারাপ চরিত্র রয়েছে যা অন্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিদ্যমান, তখন তারা ধারণা করে এটাই ইসলামের পথ। ফলে এ থেকে ফিরে যায়। সুতরাং শান্তি প্রত্যাশীদের এই দ্বীন থেকে ফিরে যাওয়ার কারণ হল মুসলিমদের খারাপ ও নিকৃষ্ট চরিত্রে জড়িত হওয়া।
এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল একজন ইহুদী যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তিনি শান্তির খোঁজে বিভিন্ন ধর্ম অনুসন্ধান করেছেন, কিন্তু তিনি আরব দেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও ইসলাম ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হননি। তিনি বলেন: আশ্চর্যের বিষয় হল আমি আরব দেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও ইসলামকে সেরূপ গুরুত্ব দেইনি। অতঃপর আমি লন্ডনের একজন বিখ্যাত দায়ীর সন্ধান পাই, ফলে আমি আশ্চর্যন্বিত হই আরবদের অমুসলিমদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে ঘাটতি দেখে। (১)
প্রশ্ন: তিনি আরব দেশে থেকেও কেন প্রভাবিত হননি? অথচ বৃটিশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর একজন মুসলিমের আদর্শ দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন: তিনি বার্মার জলপথে একটি ছোট নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন, আর নৌকার নাবিক ছিল একজন মুসলিম ব্যক্তি, যিনি আমলে ছিলেন দক্ষ, দ্বীনের শিক্ষা ধারণকারী, একনিষ্ঠ ব্যক্তি, সময়মত সালাত আদায়ে যত্নবান ও তাকওয়াবান। তিনি শুধু আমার নিকট সম্মানিত ব্যক্তিই ছিলেন না, বরং আমার উপর প্রভাব বিস্তার করেন তার দ্বীন সম্পর্কে জানতে যা তাকে একজন মুত্তাকী বান্দায় রূপান্তরিত করেছে। (২)
সুতরাং মুসলিম উম্মাহ ও মুসলিম ব্যক্তি কখনো উত্তম আদর্শ সম্পন্ন হয়, যে মানুষকে এই দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং এই দ্বীনের মহান শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী করে, যার অন্যতম হল উত্তম চরিত্র। পক্ষান্তরে কখনো খারাপ চরিত্রের অধিকারী হয়, সে এই দ্বীনকে কলুষিত করে যদি সে খারাপ ও মন্দ চরিত্রে জড়িত হয়।
চতুর্থতঃ দ্বীনকে দুর্বল করার মাধ্যমে উম্মতকে দুর্বল করা:
উম্মতের শক্তি হচ্ছে দ্বীনকে মুজবুতভাবে ধারণ করার উপর ভিত্তি করে, আর তার দুর্বলতা হচ্ছে আক্বীদাকে দুর্বলভাবে ধারণ করার কারণে। অনুরূপভাবে জাতীর শক্তিই দ্বীনের শক্তি, এবং দ্বীনের দুর্বলতাই জাতীর দুর্বলতা। চিন্তা করুন! শাসকের শক্তিই হল দ্বীনের শক্তি (নিশ্চয় আল্লাহ শাসক দ্বারা এমন কিছু বাধা প্রদান করেন তা কুরআন দ্বারা হয় না।) তাহলে যদি শাসকের শক্তির সাথে মুমিনদের শক্তি মিলিত হয় তবে কেমন হবে?!
সমাজের মাঝে খারাপ ও মন্দ চরিত্রের বিস্তার এর অনুসারীদের দুর্বলতা ও দ্বীনের প্রতি তুচ্ছজ্ঞানের প্রমাণ বহন করে। আর এটি দ্বীনকে দুর্বল ও হেয় করার শামিল।
নবী সাঃ এর এই বাণীর বিষয়ে চিন্তা করুন: (খাদ্য গ্রহণকারীরা যেভাবে খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একত্র হয়, অচিরেই বিজাতিরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই একত্রিত হবে। এক ব্যক্তি বললো, সেদিন আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ কি এরূপ হবে? তিনি বললেনঃ তোমরা বরং সেদিন সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে; কিন্তু তোমরা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার মতো। আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের পক্ষ থেকে আতঙ্ক দূর করে দিবেন, তিনি তোমাদের অন্তরে (আল ওয়াহন তথা) ভীরুতা ভরে দিবেন। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! 'আল-ওয়াহন' কি? তিনি বললেনঃ দুনিয়ার মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা।) (১)
অর্থাৎ কাফের ও পথভ্রষ্টরা একে অপরকে ডাকবে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তোমাদের শক্তি খর্ব করার জন্য এবং তোমাদের গৃহ ও সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার জন্য। যেমনভাবে খাদ্য গ্রহণকারীরা খাবারের পাত্রের চতুর্দিকে একে অপরকে ডেকে থাকে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। ফলে তারা কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই ভালভাবে খেতে পারে। তোমাদের বিরুদ্ধে এই আহ্বান সংখ্যার স্বল্পতার কারণে নয়, বরং সংখ্যার আধিক্য থাকবে কিন্তু তা হবে প্লাবনের স্রোতে ভেসে যাওয়া আবর্জনার ন্যয়। তাদেরকে এই সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে তাদের কাপুরুষতা ও মর্যাদাহীনতার কারণে। আর শত্রুদের অন্তর থেকে ভয় ও আতঙ্ক দূর করে দেয়া হবে এবং আল্লাহ তোমাদের অন্তরে দুর্বলতা দিয়ে দিবেন। আল্লাহর রাসূল সাঃ দুর্বলতা দ্বারা তার আনুসঙ্গিক বিষয় বুঝাতে চেয়েছেন, তাই তার ব্যাখ্যা করেছেন দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও মৃত্যুকে অপছন্দ করা এই বাক্য দ্বারা। (২)
কাজেই যখন মুসলিম সমাজে খারাপ ও মন্দ চরিত্র বিস্তার লাভ করবে ও তা প্রাধান্য লাভ করবে, তখন এই উম্মাহর অন্তরে ভয় প্রবেশ করবে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের শক্তিকে দুর্বল করা হবে; যা শক্তিশালী থাকা আবশ্যক, যেন তার তার মাধ্যম দ্বীন শক্তি ও বিস্তার লাভ করে। সুতরাং মুসলিম সন্তানদের দ্বীনের উপর এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের নিজেদের উপর বিচ্যুতির ভয়াবহতা অনুধাবন করা উচিত।
টিকাঃ
(১) সুনানে ইবনে মাজাহ (১/১৬, হাঃ ৪৩), শায়খ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আল-জামে আস-সগীর (২/৮০৫)।
(২) সূরা আন-নাসরঃ (১-৩)।
(১) সহীহ মুসলিম (২/৭০৫, হাঃ ৬৯-১০৪)।
(২) সূরা আল-মুমতাহিনাঃ (২)।
(৩) তাফসীরে ইবনে কাসীর (৪/২৭১)।
(১) আমি কেন ইসলাম গ্রহণ করলাম, পৃঃ (১৩৩)।
(২) পূর্বোক্ত পৃঃ (১২৬)।
(১) সুনানে আবু দাউদ (৪/৪৮৩-৪৮৪, হাঃ ৪২৯৭), শায়খ আলবনী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
(২) আউনুল মাবুদ শরহু সুনানে আবু দাউদ (১১/৪০৪-৪০৫)।
📄 নিরাপত্তাগত প্রভাব
ব্যক্তি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সুখী-সমৃদ্ধ জীবনে জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে মনে করা হয়।
ইসলাম ব্যক্তি, সমাজ ও মানবতার নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে, এমনকি তাকে সুখী জীবনের তিনটি স্তম্ভের একটি হিসেবে গণ্য করেছে। নবী সাঃ বলেন: (তোমাদের মধ্যে যে লোক নিজের গৃহে নিরাপদে শারীরিক সুস্থতা সহকারে সকালে উপনীত হয় এবং তার কাছে সে দিনের প্রাণ রক্ষা পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য বিদ্যমান থাকে, তার জন্য যেন দুনিয়ার সমস্ত নি'আমাত একত্রিত করে দেয়া হয়েছে।) (১)
এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম অন্যায়ভাবে একজন ব্যক্তিকে হত্যা করাকে সমস্ত মানব জাতীকে হত্যা হিসেবে গণ্য করেছে; সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে ও ফাসাদ সৃষ্টি থেকে ভীতি প্রদর্শনার্থে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا جَمِيعًا﴿ [যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করল কিংবা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করা ছাড়া, যে কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল। আর যে তাকে বাঁচাল, সে যেন সব মানুষকে বাঁচাল।] (২)
অনুরূপভাবে ইসলাম খারাপ চরিত্রের সকল রূপ ও আকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে; যেহেতু তা ব্যক্তি, সমাজ ও উম্মাহর ক্ষতি সাধন করে। তাই ইসলাম যিনা, সমকামিতা, মদ্যপান, গীবত, চোগলখোরী, মিথ্যা বলা ইত্যাদিকে হারাম করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ﴿ [বলুন, নিশ্চয় আমার রব হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা। আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালংঘন করা।] (৩)
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এসকল মন্দ চরিত্রের খারাপ প্রভাব রয়েছে, যা আমরা নিম্নে ব্যাখ্যা করবঃ
প্রথমতঃ হত্যা:
খারাপ চরিত্র বিস্তার লাভ করলে অন্যতম যা সৃষ্টি হয় তা হল তুচ্ছ কারণে অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা, যার উৎস হল খারাপ চরিত্র। যেমন ঐ ব্যক্তি যে মাদক বা নেশাদ্রব্য ক্রয় করার জন্য কিছু টাকা চুরি করল, বা তুচ্ছ কোন বিষয় তাকে কেউ রাগান্বিত করল বা সে হত্যা করল নিহত ব্যক্তির সম্পদ ভক্ষণ করার জন্য। (৪) জাতির মাঝে খুনাখুনির বিস্তৃতি তার নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে ও তার সদস্যদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করে এবং মানুষের সাথে লেনদেন ও উঠাবসায় সন্দেহ ও কুধারণার সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়তঃ সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে:
মাদক ও নেশাদ্রব্য ব্যবহারের অন্যতম ভয়াবহতা হল তা সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে; কেননা নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন সমাজেরই সদস্য, তাদের মাঝে তা বিস্তার লাভ করে যা সমাজে বিস্তার লাভ করে। আর যখন নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝে মাদক ও নেশাদ্রব্য গ্রহণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন জাতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়।
অনুরূপভাবে যখন জাতির মাঝে যৌন বিকৃতি বিস্তার লাভ করে তখন তা সমারিক শক্তির উপর প্রভাব ফেলে। এর দলিল হল ফ্রান্সের তিক্ত অভিজ্ঞতা, যেখানে ফ্রান্সের সেনাবাহিনীর মাঝে যৌন বিকৃতি বিস্তার লাভ করার কারণে তাদের সামরিক শক্তি দিন দিন লোপ পাচ্ছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ফ্রান্সের শাসকগণ সৈন্যদের শারীরিক সুস্থতা ও শক্তির শর্তের বিষয়ে শিথিলতা করেছিল। ফলে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে সিফিলিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তারা ৭৫ হাজার সৈন্যকে কাজ থেকে অবসর দিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে বাধ্য হয়েছিল। একটি মধ্যম সেনা ছাউনিতে একই সময়ে (২৪২) জন আক্রান্ত হয়েছিল। (১)
তৃতীয়তঃ ছিনতাই:
খারাপ চরিত্রের ফলস্বরূপ এর ধারকরা তাদের শরীরের স্বাভাবিক চাহিদা মেটায় ছিনতাই করার মাধ্যমে; যা সমাজের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। আর এটা মূলত বিচ্যুতি ও খারাপ আচরণের ফল।
চতুর্থতঃ ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করাঃ
খারাপ চরিত্রের প্রভাব হল ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পদ ধ্বংস করা, যেমন বিভিন্ন কারণে আগুন লাগানো, হয়ত দায়িত্ব পালনে তার অপারগতাকে গোপন করতে বা কোন কর্মচারীর ক্ষতি করতে, বা চুরি ও হত্যার অপরাধ গোপন করতে। (২) এগুলো শুধুমাত্র খারাপ চরিত্রের অধিকারীরাই করে থাকে, যা জাতির নিরাপত্তাকে নষ্ট করে।
পঞ্চমতঃ চুরি করা:
যা জাতির মাঝে নিরাপত্তার ফাটল সৃষ্টি করে তার অন্যতম হল বিচ্যুত ও খারাপ চরিত্রের দরুন চুরির বিস্তার লাভ। যেহেতু তাদের মাঝে কোন দ্বীনি প্রতিবন্ধকতা কাজ করে না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে পাকড়াও হওয়ার ভয় থাকে না। কাজেই এর উপযুক্ত চিকিৎসা হল ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়ন করা।
ষষ্ঠতঃ চোরা-কারবারী:
খারাপ ও মন্দ চরিত্রের অরেকটি দিক হল তারা সমাজের সদস্যদের মাঝে হারাম ও নিষিদ্ধ জিনিস পাচার করে এবং তাদের মাঝে এমন জিনিসের প্রচলন ঘটায় যা তাদেরকে বিচ্যুতির দিকে নিয়ে যায়। যেমন সেক্স সিডি, খারাপ বই, হারাম ছবি, মাদক, নেশাদ্রব্য পাচার করা; যা জাতির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। একটি সমাজের নিরাপত্তাগত গবেষণার পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে যে, সমাজে যে বিষ আমদানি হচ্ছে তা মূলত শরীয়ত পরিপন্থী পথে।
সপ্তমত: হিংসা ও শত্রুতার সৃষ্টি:
খারাপ চরিত্র নিয়ে গবেষক মাত্রই লক্ষ্য করবেন যে, জাতির মাঝের হিংসা ও শত্রুতা তাদের ধ্বংসের কারণ। সুতরাং গীবত ও চোগলখোরী হল জাতির নিরাপত্তা ধ্বংসকারী; কেননা তা হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার সৃষ্টি করে যা সমাজের নিরাপত্তাকে নষ্ট করে। অনুরূপভাবে অন্যান্য খারাপ চরিত্রও হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার সৃষ্টি করে যা নিরাপদ সমাজের ভিত্তিকে প্রভাবিত করে।
টিকাঃ
(১) সুনানে তিরমিযি (৪/৫৭৬-৫৭৫, হাঃ ২৫১৬), মুসনাদে আহমাদ (১/২৯৩)। শায়খ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন।
(২) সূরা আল-মায়েদাঃ (৩২)।
(৩) সূরা আল-আরাফঃ (৩৩)।
(৪) দেখুনঃ আত-তারবিয়া আর-রুহিয়া: পৃ: (২৪৪)।
(১) হিজাব, আবুল আলা মাওদুদী, পৃ: (১০১-১০২)।
(২) মুখতাসারাত আদ-দিরাসাত আল-আমনিয়া (৬/২০৯)।
📄 স্বাস্থ্যগত প্রভাব
ইসলামী মানহায যা কিছু থেকে নিষেধ করেছে তাতে রয়েছে মহা কল্যাণ, অসংখ্য উপকারিতা ও বিরাট হিকমত। আর যা কিছু পালন করতে নির্দেশ দিয়েছে তাতে রয়েছে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ। তাই ইসলাম খারাপ চরিত্র থেকে নিষেধ করেছে, কেননা তাতে মানব সম্পর্কিত সকল দিকের অকল্যাণ রয়েছে, যার অন্যতম হল শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। যেহেতু অশ্লীল কর্ম সম্পাদন যেমন যিনা, সমকামিতা, মাদক ও নেশাদ্রব্য পান এবং হারাম জিনিস দর্শনের ফলে এমন কিছু রোগে আক্রান্ত হয় যা শরীরকে ধ্বংস করে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয়। এসকল স্বাস্থ্যগত পরিণতিগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমঃ এইডস রোগ:
এটা এমন রোগ যার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়। যা আবিষ্কার হয়েছে ১৪০১ হিঃ মোতাবেক ১৯৮১ খ্রীঃ। এই রোগ যিনা, সমকামিতা ও রক্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের মাঝে ছড়াই। এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয় সমকামিরা। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ যা সাদা কোষকে ধ্বংস করে, ফলে শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তা অণুজীবের আক্রমণের পথ পরিষ্কার করে, যা বিভিন্ন ধরণের প্রদাহ ও ক্যান্সার সৃষ্টি করে। আমেরিকাতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। (১)
দ্বিতীয়ঃ সিফিলিস রোগ:
এটি একটি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ যা শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি থেকে অপর জনের মধ্যে বিস্তার লাভ করে। তার প্রথম উপসর্গ হল শরীরের কোন একটি অঙ্গে ফুসকুড়ি হওয়া। পরবর্তীতে যা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এর উপসর্গগুলো হল মাথা ব্যাথা, জ্বর ও রক্ত স্বল্পতা। এই রোগটি তার তৃতীয় পর্যায়ে মৃত্যু ঘটায় যদি তা হার্ট বা কেন্দ্রীয় পরিপাকতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। আর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করলে তা প্যারালাইসিসের কারণ, যা অনেক সময় মস্তিষ্ক বিকৃতির দিকে নিয়ে যায়। (২)
তৃতীয়: ইনগুইনাল গ্রানুলোমা
এটি সামান্য ছোঁয়াচে, এটি শুরু হয় যৌনাঙ্গের বাইরের অংশে, যা অতি পুরাতন লাল ক্ষতের আকারে প্রকাশ পায়। এটা অনেক কষ্টে সেরে উঠে। রোগী যদি অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হয় তবে এই ক্ষত কষ্টদায়ক হয়ে উঠে। যদি এর চিকিৎসা না করানো হয় তবে চরম অক্ষমতা ও ওজন হ্রাস দেখা দেয় অতঃপর রোগীর মৃত্যু ঘটে। (৩)
চতুর্থঃ ফুসফুস ক্যান্সার:
ধুমপানের ফলে ফুসফুস সবচেয়ে মারাত্মক যে রোগটি দ্বারা আক্রান্ত হয় তা হল ফুসফুস ক্যান্সার। চিকিৎসকগণ পরীক্ষাগারে কিছু পরিমাণ জামানো সিগারেটের ধোঁয়া নিয়ে তা প্রাণীর চামড়ার উপর রেখেছিল, সাথেসাথে সে প্রাণীগুলো চামড়ার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিল। অতঃপর তারা একই পরীক্ষা প্রাণীর উপর চালালো এবং প্রাণীগুলোকে শ্বাসের সাথে ধোঁয়া গ্রহণের সুযোগ করে দিল, সেগুলো ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হল। (১)
পঞ্চমঃ লিভার সিরোসিস:
মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য লিভার সিরোসিস ঘটায় ও লিভারকে দুর্বল করে এবং তার কার্য সম্পাদনে অপারগ করে তোলে। আবার অনেক সময় তা ফুলে যায়। পরিসংখানে দেখা গেছে ফ্রান্সে ১৯৬৯ সালে (২৫০০০) ও বেশি লোক মারা গেছে। (২)
ষষ্ঠ: যৌন দুর্বলতাঃ
মাদকাসক্তি নারীদের ডিম্বাশয়ের ক্ষয় করে। জনৈক চিকিৎসক বলেন: আমি ময়নাতদন্তের সময় মদ্যপদের অণ্ডকোষে ক্ষয় ও অনমনীয়তা দেখেছি। আর আমি যে কেইসগুলো বিশ্লেষণ করেছি তার ৮৬% এর মাঝে শুক্রাণু উপস্থিতি লক্ষ্য করিনি। এ থেকে আমাদের নিকট মাদকাসক্তদের বন্ধ্যাত্বের কারণ স্পষ্ট হয়। (৩)
সপ্তম: স্নায়ুতন্ত্রের দুর্বলতাঃ
মাদকদ্রব্য সরাসরি স্নায়ুকে প্রভাবিত করে; যেহেতু তা অসাড়তা ও শিথিলতার সৃষ্টি করে পরবর্তীতে তা পক্ষাঘাত আক্রান্ত করে। যার ফলে স্নায়ুতে কম্পন, ব্যাথা ও দুর্বলতার সৃষ্টি হয়। (৪)
অষ্টম: ডিপ্রেশন ও মানসিক অস্থিরতাঃ
চারিত্রিক বিচ্যুতি তার মাঝে যা সৃষ্টি করে তার অন্যতম হল উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা; বিচ্যুতির অনুভূতি, সমাজের তার কর্ম ও আচরণ অগ্রহণযোগ্য হওয়া এবং আল্লাহর মানহায ও তাঁর স্মরণ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলস্বরূপ। কেননা আল্লাহকে স্মরণ না করা এবং তাঁর থেকে দূরে যাওয়ার মাঝে চরম অস্থিরতা রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ﴿ [আর যে রহমানের যিকর থেকে বিমুখ হয় আমি তার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সে হয় তার সহচর।] (১) সুতরাং যখন মানুষের জন্য শয়তান নিয়োজিত করা হয়, তখন সে বিকৃত চিন্তাধার ও ভুল ধারণা মাধ্যমে তার মাঝে উদ্বেগ ও অস্থিরতার সৃষ্টি করে।
পক্ষান্তরে দয়াময় আল্লাহর স্মরণে রয়েছে প্রশান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾الَّذِينَ آمَنُوا وَতَطْمৈِنُّ قُلُوبُهُم بِذִكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذִكْرِ اللَّهِ تَطْمৈِنُّ الْقُلُوبُ﴿ [যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের মন প্রশান্ত হয়; জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়।] (২)
অপর দিকে উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতার ক্ষেত্রে গীবত ও চোগলখোরীর প্রভাব খুবই স্পষ্ট। কেননা যারা এ ধরণের স্বভাবের অধিকারী তাদের মাঝে অস্থিরতা ও মানসিক কষ্টের সৃষ্টি হয়; চোগলখোরীর মাধ্যমে সৃষ্ট সম্পর্কচ্ছেদ ও শত্রুতার ফলস্বরূপ। যেহেতু চোগলখোর অনুভব করে যে, এটা তার কর্মের ফলেই হয়েছে তাই তার আফসোস ও কষ্ট বেড়ে যায়।
হিংসার মাঝে অস্থিরতার সমস্ত কারণ বিদ্যমান; কেননা হিংসুক যখন ঈর্ষান্বিত ব্যক্তির মাঝে কোন নেয়ামত দেখে তখন তার বিষণ্ণতা ও রাগ বেড়ে যায়, তার রাত দীর্ঘ হয় ও চিন্তাধারা বিক্ষিপ্ত হয়, ফলে সে শান্ত হয় না এবং ঘুমায় না। আপনি তাকে অস্থির ও অস্থিতিশীল পাবেন, সে মানুষের অবস্থা পর্যাবেক্ষণ করে, কিন্তু নিজের দিকে দেখে না। সে মনে করে তার নিকট যা আছে তা অতি সামান্য, অন্যের নিকট যা আছে তা প্রচুর এবং ক্ষুধা ও লোভ তার অন্তরকে গ্রাস করে রেখেছে।
টিকাঃ
(১) দালিলুল আনফাস বাইনাল কুরআনুল কারীম ওয়া ইলমুল হাদিস (৪০৮-৪০৯) সংক্ষিপ্ত আকারে।
(২) মুশকিলাতুশ শাবান আল-জিনসিয়া ওয়াল আতেফা (১৪৮-১৪৯)।
(৩) পূর্বোক্ত পৃঃ (১৫১)।
(১) আল-মুসকিরাত, আদরারুহা ও আহকামুহা, পৃঃ (২৯৬)।
(২) পূর্বোক্ত, পৃঃ (২০২)।
(৩) মাওকিফুল ইসলাম মিনাল খামর, পৃঃ (২৫)।
(৪) পূর্বোক্ত, পৃঃ (২৬)।
(১) সূরা আয-যুখরুফঃ (৩৬)।
(২) সূরা আর-রাদঃ (২৮)।
📄 মানসিক প্রভাবসমূহ
ইসলামী মানহায অমান্যতার অনেক খারাপ প্রভাব রয়েছে যা মানবসত্ত্বার নানা দিকে প্রতিফলিত হয়; তন্মধ্যে মানসিক দিক।
আর তা হল, যে ব্যক্তি ইসলামী মানহায পরিহার করে বিপথ অবলম্বন করবে; সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতার কারণে তার জন্য এমন একজনকে নির্ধারণ করে দেয়া হবে যে তার জন্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা নিয়ে আসবে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ﴿ [আর যে রহমানের যিকর থেকে বিমুখ হয় আমরা তার জন্য নিয়োজিত করি এক শয়তান, অতঃপর সে হয় তার সহচর।] (১) অর্থাৎ যে ব্যক্তি হেদায়েত থেকে উদাসীন হবে আমি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করব যে তাকে পথভ্রষ্ট করে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাবে। (২)
আর শয়তান মানুষকে কেবল যা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা আনায়ন করে তার প্রতিশ্রুতি দেয়। সে তাকে দরিদ্রতা, সংকটাপন্ন অবস্থা এবং অন্যের সম্পত্তিতে লোভ ও নিজের যা রয়েছে তাতে অতৃপ্তির কুমন্ত্রণা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِالْفَحْশَاءِ﴿ [শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্র্যের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়।] (৩) অর্থাৎ সে তোমাদেরকে দরিদ্রতার ভয় দেখায় যেন তোমরা তোমাদের সম্পত্তি আল্লাহর সন্তোষজনক কাজে ব্যয় না করে সঞ্চিত করে রাখ। এর সাথে সে তোমাদেরকে নিঃস্ব হওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্যয় করা থেকে নিষেধ করে এবং তোমাদেরকে পাপাচার, গর্হিতকাজ, হারামকাজ ও স্রষ্টার অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়। (৪)
আর মুমিনগণের উপর শয়তানের কোন কর্তৃত্ব নেই। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ﴿ [বিভ্রান্তদের মধ্যে যে তোমার অনুসরণ করবে সে ছাড়া আমার বান্দাদের উপর তোমার কোনই ক্ষমতা থাকবে না।] (৫) তিনি বলেন: ﴾إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ﴿ [নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও তাদের রবেরই উপর নির্ভর করে তাদের উপর তার কোন আধিপত্য নেই।] (৬) তিনি আরো বলেন: ﴾إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ ۚ وَكَفَىٰ بِرَبِّكَ وَكِيلًا﴿ [নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার রব'ই যথেষ্ট।] (১)
আচরণগত বিচ্যুতির কিছু মানসিক প্রভাব নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে আলোচিত হল:
প্রথমত: মানসিক অসঙ্গতি:
ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ গঠনকারী হল মানসিক সঙ্গতি। আর তা হল, ব্যক্তির চারপাশের সামাজিক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়া এবং সফলভাবে উত্থাপিত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা। (২) মানসিক অসঙ্গতির বাহ্যিকরূপের অন্যতম হল: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, খাবারে অনীহা, গুটিয়ে থাকা ও অতিরিক্ত লাজুকতা, তরিৎ রেগে যাওয়া, একগুঁয়েমি, আক্রমণাত্মক শত্রুতার প্রবণতা, দিবা-স্বপ্ন এবং মিথ্যা বলা ইত্যাদি মানসিক অস্থিরতার বাহ্যিকরূপ।
মানসিক অসঙ্গতি সৃষ্টিতে আচরণগত বিচ্যুতির বড় প্রভাব রয়েছে। কেননা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ফিজিওলজির ল্যাবের পরিক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মদের সামান্য পরিমাণ অংশও মানসিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। (৩)
দ্বিতীয়ত: হতাশা অনুভব করা:
আশার বিপরীত হল হতাশা। (৪) হতাশা মানুষকে অলসতা, উদাসীনতা এবং পরিশ্রমহীনতার দিকে ধাবিত করে। উপরন্তু তাকে প্ররোচিত করে প্রতারণামূলক ও অবৈধ পন্থায় সম্পদ অনুসন্ধানে। অনুধাবন করুন চোর ও ভিক্ষুকের বিষয়টি, তাদের অনেকের কাজ ও উপার্জন করার শারীরিক সক্ষমতা থাকার পরেও তাদের চারিত্রিক বিচ্যুতি বেকারত্ব ও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ধাবিত করেছে।
অনুরূপভাবে নেশাদ্রব্য অযৌক্তিক ভয়, হতাশা, নিরাশা, উৎকণ্ঠা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এটা চারিত্রিক মূল্যবোধ হারানোর দিকে নিয়ে যায় এবং পাগল বানিয়ে ফেলে। কেননা পর্যবেক্ষণে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ৫০% পাগল মদপানে আসক্ত ছিল। (৫)
একজন মিথ্যাবাদীকে দেখবে যে, সত্য তাকে নাজাত দিতে পারে -এ ব্যাপারে হতাশা থেকে সে মিথ্যা বলে এবং একজন হিংসুক অন্যের ন্যায় তারও নেয়ামত প্রাপ্তি হতে পারে -সে এ বিষয়ে হতাশ। আর ইসলামী শিক্ষা মানুষকে আচরণগত বিচ্যুতি থেকে দূরে রাখে, তার অনুসারীদের হৃদয়ে প্রশান্তি ও ধীরস্থিরতা রোপন করে এবং হৃদয়কে সাহসিকতা ও অগ্রগামিতা দ্বারা পরিপূর্ণ করে। সুতরাং তাকে তুমি মিথ্যাবাদী বা হিংসুকরূপে পাবে না। যেমন রাসূল সাঃ বলেছেন: (কোন বান্দার হৃদয়ে ঈমান ও হিংসা একত্রে থাকে না)। (১)
তৃতীয়ত: উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা:
আরবি (القلق) অর্থ হল: বিরক্তি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা। (২) উদ্বেগ হল অন্তরের এমন অবস্থা যা অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যায় এবং চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে ও প্রশান্তিকে দূর করে দেয়।
উদ্বেগ ও অস্থিরতার মূল হল ইসলামী মানহায থেকে দূরে থাকা; কেননা অন্তর প্রশান্তি লাভ করে আল্লাহর যিকিরে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾أَلَا بِذִক্রِ اللَّهِ تَطْمৈِنُّ الْقُلُوبُ﴿ [জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্ত হয়।] (১)
ইসলামী মানহায থেকে ব্যক্তি যত দূরে সরে যাবে এবং খারাপ চরিত্রে লিপ্ত হবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা তাকে করায়ত্ব করবে। এ কথার স্বপক্ষে সর্বোত্তম সাক্ষী হল ইসলামী শিক্ষার মানহায থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি। তথা ডাক্তারদের বরাতে গবেষণা ইঙ্গিত করছে যে, প্রতি বিশজনে একজন আমেরিকান তার জীবনের কোন এক সময় মানসিক রোগ নিরাময়কেন্দ্রে কাটায়। বাস্তবতা হল, সর্বশেষ বিশ্বযুদ্ধকালীন যে যুবকেরা সামরিক সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিল তাদের প্রতি ছয়জনে একজন অস্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছিলো। কেননা সে অসুস্থ অথবা মানসিকভাবে দুর্বল ছিল। অনুরূপভাবে পরিসংখ্যাণ প্রমাণ করছে যে, আমেরিকায় মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ হল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সর্বশেষ বিশ্বযুদ্ধের সময়ে উদ্বিগ্নতার ব্যাধি দুই মিলিয়ন মানুষের প্রাণ নাশ করেছে। তন্মধ্যে এক মিলিয়ন মানুষের ব্যাধি সৃষ্টি হয়েছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও স্নায়ুবিক উত্তেজনা থেকে। (৪)
উদ্বিগ্নতা ও মানসিক অস্থিরতা আনায়নে মাদকদ্রব্য ও নেশাদ্রব্য পানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। মাদকাসক্তদের উপর সরেজমিনের সমীক্ষা নিশ্চিত করেছে যে, তাদের নিকট তুচ্ছ বিষয়ের প্রভাব ৯.৯৬%, স্নায়ুবিক উত্তেজনা ৮.৮৬%, স্থায়ী উদ্বিগ্নতা ৬.৮৮%, অবসাদগ্রস্ততা ৫.৮৬%, ঘুমের সমস্যা ৫.৮৪% এবং স্থায়ী ভীতি ১.৭০%। (৫)
গভীরভাবে পর্যবেক্ষণকারী মানুষের জীবনে ও আচরণে মানসিক উদ্বিগ্নতার কু-প্রভাব প্রত্যক্ষ করবে এবং এর থেকে একমাত্র মুক্তির উপায় হল ইসলামী মানহাযকে ধারণ করা ও মন্দ চরিত্র থেকে দূরে থাকা। একজন তাওহীদবাদী মুমিন অন্তরকে প্রশান্তি ও হৃদয়কে দৃঢ় বিশ্বাসে পূর্ণ রাখে তার বিপদাপদ যতই বৃদ্ধি পাক, দুর্ঘটনার ঝাঞ্চা বায়ু তার উপর দিয়ে যতই বয়ে যাক এবং দুঃখ-কষ্টে যতই আক্রান্ত হোক। কেননা সে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হল পরিক্ষা গৃহ; যেমনটি বর্ণনা করেছেন বিশ্বপালনকর্তা এবং তাদের উপর ধৈর্যশীলদের তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন: ﴾وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ মِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ﴿ [আর আমি তোমাদেরকে অবশ্যই পরিক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে।] (১)
চতুর্থত: অন্তরের ব্যাধি:
মহান আল্লাহ তায়ালা অন্তরের ব্যাধি ও তা থেকে মুক্তির উপায় সম্পর্কে আল-কুরআনে আলোচনা করেছেন। ﴾فِي قُلُوبِهِم মَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ﴿ [তাদের অন্তরসমূহে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারন তারা মিথ্যাবাদী।] (২) তিনি বলেন: ﴾يَا نِسَاءَ النَّبيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ মِّنَ النِّসَاءِ ۚ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا﴿ [হে নবী-পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর সুতরাং পর-পুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, কারণ এতে যার অন্তরে ব্যাধি আছে, সে প্রলুব্ধ হয় এবং তোমরা ন্যায়সংগত কথা বলবে।] (৩) তিনি আরো বলেন: ﴾لَّئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم মَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا﴿ [এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে আর যারা নগরে গুজব রটনা করে, তারা বিরত না হলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আপনাকে প্রবল করব; এরপর এ নগরীতে আপনার প্রতিবেশীরূপে তারা স্বল্প সময়ই থাকবে।] (৪)
আর অন্তরের ব্যাধি হল মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া এক ধরণের ভ্রান্তি; যা সত্য সম্পর্কে তার ভাবনা ও অভিপ্রায়কে নষ্ট করে দেয়। ফলে সে সত্যকে সত্য মনে করে না বা সত্যকে তার বিপরীত অবস্থায় দেখে বা তার সত্যকে উপলদ্ধি করার ক্ষমতা হ্রাস পায় বা সে ক্ষতিকর বাতিলকে ভালবাসে অথবা দুটিই তার মাঝে থাকে তবে বাতিল প্রাধান্য বিস্তার করে। (৫) এ জন্য বিপথগামীরা হকপন্থী ও সৎলোকদের সংস্পর্শ থেকে পালায়ন করে। বরং কখনো তাদেরকে ঘৃণা করে; কেননা সৎলোকেরা হারাম দ্বারা তাদের প্রবৃত্তিকে পরিতৃপ্ত করতে নিষেধ করেন এবং তারা তাদের মত নয়। কখনো তারা সৎকর্মশীলদের অবুঝ মনে করে। আর এটি জাহালত ও ভ্রষ্টতার চূড়ান্ত পর্যায়।
আর এর প্রতিকার সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: ﴾يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ﴿ [হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে তার আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।] (১)
সুতরাং যে ব্যক্তি কল্যাণ ও অন্তরের আরোগ্য কামনা করে-যা অসংখ্য মানুষ প্রত্যাশা করে- সে যেন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে; কেননা এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে সুখ- শান্তি।
টিকাঃ
(১) সূরা আয-যুখরুফ: (৩৬)।
(২) তাফসীরে ইবনে কাসীর: (৪/১৩৮)।
(৩) সূরা আল-বাকারা: (২৬৮)।
(৪) প্রাগুক্ত (১/৩২৯)।
(৫) সূরা আল-হিজর: (৪২)।
(৬) সূরা আন-নাহাল: (৯৯)।
(১) সূরা আল-ইসরা: (৬৫)।
(২) আব্দুল মজীদ আহমদ, আস-সুলুক আল-ইজরামী (১/১৪৫)।
(৩) মাহমুদ হাসান, মুকাদ্দিমাতুল খিদমাহ (পৃ: ৪২৪)।
(৪) ইবনে মানযূর, লিসানুল আরব (৬/২৫৯)।
(৫) সালেহ আব্দুল আজীজ, মাওকিফুল ইসলাম মিনাল খামর (৩৫-৩৬)।
(১) সুনানে ইবনে মাজাহ (২/৯২৭, হাঃ ২৭৭৪), সুনানে নাসায়ী (৬/১৩, হাঃ ৩১০৯), ইমাম হাকেম হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন (২/৭২)।
(২) ইবনে মানযুর, লিসানুল আরব (১০/৩২৩-৩২৪)।
(১) সূরা আর-রাদ: (২৮)।
(৪) আব্দুর রহমান ওয়াসেল, মুশকিলাতুশ শাবাব (পৃ: ৪৩)।
(৫) মুতাওয়াল্লী আশমাবী, আল-জাওয়ানেব আল-ইজতেমাইয়্যাহ (২/১২২)।
(১) সূরা আল-বাকারা: (১৫৫)।
(১) সূরা ইউনুস: (৫৭)।
(২) সূরা আল-বাকারা: (১০)।
(৩) সূরা আল-আহযাব: (৩২)।
(৪) সূরা আল-আহযাব: (৬০)।
(৫) ইবনুল কায়্যিম, ইগাসাতুল লাহফান (১/২৩)।