📄 বিচ্যুত আচরণসমূহের দায়ভার
উম্মতের মাঝে বিচ্যুত আচরণের উপস্থিতিকে শিক্ষাক্ষেত্রে অধঃপতনের আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ইসলামী শিক্ষার দায়িত্ব অর্পিত ব্যক্তিদের মাঝে ত্রুটি বিদ্যমানতার বিষয়ে এটা একটা ইন্ডিকেটর। বিচ্যুত আচরণের বিষয়ে শিক্ষার এই দায়ভার কোনটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্কিত নয়। বরং প্রত্যেক কর্তৃপক্ষই তাদের অবহেলার পরিমাণ অনুযায়ী দায়ী। সুতরাং দেশের কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে, অনুরূপভাবে পরিবারের, সমাজ ও ব্যক্তির তাদের পরিমাণ অনুযায়ী দায়ভার রয়েছে। নবী সাঃ বলেছেন: (তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক। আর প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। নেতা (イمام) একজন রক্ষক, সে তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে তার পরিবারের লোকজন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক, তাকে তার রক্ষনাবেক্ষন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ইবনু উমর রাঃ বলেন আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, ছেলে তার পিতার সম্পত্তির রক্ষক এবং সে জিজ্ঞাসিত হবে তার রক্ষনাবেক্ষন সম্বন্ধে। অতএব, তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।)
বিচ্যুত আচরণের জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষসমূহ নিম্নরূপঃ
প্রথমতঃ ব্যক্তিগত দায়ভারঃ
মানুষের উপর তার ব্যক্তিগত দায়ভার বর্তায়। সুতরাং সে তার চলাচল, বিচ্যুতি ও তদসংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে দায়িত্বশীল। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ﴿ [প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ।] তিনি আরো বলেন: ﴾فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ﴿ [কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে।]
কাজেই কোন ব্যক্তির জন্য উচিত নয় যে, সে তার বিচ্যুতির জন্য সামাজিক পরিবেশকে দায়ী করবে, -যে পরিবেশে সে বসবাস করছে তা যদি বিচ্যুত হয়- অথবা খারাপ বন্ধু বা পরিবারকে দায়ী করবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যেন সে তার দায়িত্ব বহন করতে পারে। তাকে জ্ঞান দান করেছেন যা বিধি-বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ভিত্তি, আর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, যাদের সর্বশেষ হলেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাঃ, কুরআন আমাদের মাঝে বিদ্যমান, অনুরূপভাবে সুন্নাহ ও বিদ্যমান যা আমাদেরকে হকের পথ দেখায় এবং আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য কি আবশ্যক করেছেন আর কি নিষেধ করেছেন তা বর্ণনা করে এবং মানব মনে এমন কিছুর উদ্রেক করে যা এগুলোকে আবশ্যক করে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا﴿ [তারপর তাকে তার সৎকাজের এবং তার অসৎ-কাজের জ্ঞান দান করেছেন।] অর্থাৎ তার জন্য ভাল-মন্দ বর্ণনা করে দিয়েছেন। শাওকানী বলেন: অর্থাৎ তাকে জানিয়েছেন ও বুঝিয়েছেন তার জন্য কি এবং এর মাঝে কি ভাল-মন্দ রয়েছে।
মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে আখেরাতের জন্য কি কাজ করেছে ও কি অর্জন করেছে সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে ও চিন্তা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন: ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ﴿ [হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; এবং প্রত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা আগামী কালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।]
নবী সাঃ ব্যক্তির চলাফেরারের বিষয়ে তার স্বীয় দায়িত্বের কথা বর্ণনা করে বলেন, (কিয়ামত দিবসে কোনো বান্দার পা ততক্ষণ পর্যন্ত নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: কোন কাজে তার জীবন অতিবাহিত করেছে এবং ইলম অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে এবং তার ধন-সম্পদ কোথা হতে উপার্জন করেছে এবং তা কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার দেহ কোন কাজের মধ্য দিয়ে জীর্ণ করেছে।)
মুসলিম ব্যক্তির জানা উচিত যে, নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা সর্বোত্তম জিহাদের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি এটাকে সর্বশ্রেষ্ট জিহাদ বলা হয়েছে। নবী সাঃ বলেছেন: (প্রকৃত মুজাহিদ হলো সেই, যে স্বীয় নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।) আর অপারগ ব্যক্তি সে যার সম্পর্কে উমর রাঃ বলেন: (প্রকৃত অপারগ ব্যক্তি সেই যে তার স্বীয় নফসকে পরিচালনা করতে অক্ষম।)
ফেরাউনের স্ত্রীর কথা চিন্তা করুন! সে একজন কাফের, উদ্ধত ও প্রতাপশালী ব্যক্তির গৃহে এবং আল্লাহর শত্রুর বাড়ীতে ছিল, কিন্তু সে তার নিজের দায়িত্বের বিষয় অনুধাবন করতে পেরেছিল, তাই সে কুফরীর দায় প্রকাশ করেনি যদিও সে তার অধীনে থাকত। বরং সে ঈমান এনেছিল এবং এমন কথা বলেছিল যার বর্ণনা পবিত্র কুরআনে এসেছে: ﴾وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا لِّلَّذِينَ آمَنُوا امْرَأَتَ فِرْعَوْنَ إِذْ قَالَتْ رَبِّ ابْنِ لِي عِندَكَ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ وَنَجِّنِي مِن فِرْعَوْنَ وَعَمَلِهِ وَنَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ﴿ [আর যারা ঈমান আনে, আল্লাহ্ তাদের জন্য পেশ করেন ফেরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত, যখন সে এ বলে প্রার্থনা করেছিল, হে আমার রব! আপনার সন্নিধানে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন এবং আমাকে উদ্ধার করুন ফেরাউন ও তার দুষ্কৃতি হতে এবং আমাকে উদ্ধার করুন যালিম সম্প্রদায় হতে।]
আবার অনেক মানুষ তাদের বিচ্যুতির পক্ষে দলিল পেশ করে তাকদীরের কথা বলে। অর্থাৎ এটা তাদের উপর নির্ধারিত ও লিপিবদ্ধ। আর তারা ভুলে যায় শরীয়তের পক্ষ হতে তাদের কর্ম ও চলাচলের বিষয়ে দায়িত্ববোধ সম্পর্কে। অপরপক্ষে তাদেরকে রিযিক অন্বেষনের পিছনে ছুটতে দেখা যায় এই বলে যে, আল্লাহ তায়ালা সাবাব তথা উপকরণ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তারা বিচ্যুতির ব্যাপারে নিজেদের বিভ্রান্ত করে, কিন্তু রিযিক উপার্জনের ক্ষেত্রে সঠিকপথে থাকে।
বান্দার নির্ধারিত তাকদীরের বিষয়ে দুটি অবস্থা এবং আদিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রেও দুটি অবস্থা। যখন এই অবস্থাগুলো বুঝবে তখন তার বিষয়গুলো ঠিক থাকবে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া এর বর্ণনা করেছেন যার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপঃ
প্রথম: তাকদীরের ক্ষেত্রে বান্দার অবস্থাঃ
১- তাকদীর পতিত হওয়ার পূর্বের অবস্থা: এই অবস্থায় তার কর্তব্য হচ্ছে সে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবে, তাঁর উপর ভরসা করবে এবং তাঁর নিকট দোয়া করবে।
২- তাকদীর পতিত হওয়ার পরের অবস্থা: যদি তার কর্ম ছাড়াই তাকদীর নির্ধারিত বিষয় এসে যায়, তবে তার কর্তব্য হচ্ছে, ধৈর্যধারণ করা ও সন্তুষ্ট থাকা। আর যদি তার কর্মের ফলে তাকদীর নির্ধারিত বিষয় আসে এবং সেটা নিয়ামত হয়, তবে তার কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহর প্রশংসা করবে, আর যদি পাপের কাজ হয় তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে。
দ্বিতীয়ঃ আদিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে বান্দার অবস্থাঃ
১- কাজ করার পূর্বের অবস্থাঃ তা বাস্তবায়নের জন্য সংকল্প করা ও সে ব্যাপারে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া।
২- কাজ করার পরের অবস্থাঃ ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং কল্যাণকর কাজের নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া করা। এর মাধ্যেমে ব্যক্তি তার উত্তম আচরণ বাস্তবায়ন করবে এবং আদিষ্ট বিষয় ও তাকদীরের বিষয় হৃদয়াঙ্গম করতে পারবে।
কাজেই একজন মুসলিম তার চলাচল ও বিচ্যুতির বিষয়ে নিজের দায়িত্ববোধ অনুধাবন করবে। যদি সে শাস্তির উপযুক্ত হয় তবে দুনিয়াতে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। আর পরকালে আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন, নইলে তাকে শাস্তি দিবেন। তার কর্তব্য হল আল্লাহ থেকে যথাযথ লজ্জাবোধ করা যে, তিনি তাকে পাপকাজ করতে দেখবেন。
দ্বিতীয়তঃ পারিবারিক দায়ভারঃ
প্রতিপালনের পরিভাষায় পরিবারের অর্থ: তারা সে সমস্ত লোক যারা তার চারপাশে অবস্থান করে এবং তাদের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশ্বায়নের ফলে বর্তমানে মুসলিম পরিবারগুলো অসংখ্য আক্বীদাগত, চরিত্রগত ও চিন্তাগত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে; যে বিশ্বায়নের মাধ্যমে চরিত্রগত ও ধর্মীয় সামাজিক পার্থক্যগুলোকে দূর করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলো সন্তানদের প্রতি পরিবারের লালন-পালনগত দায়ভার বাড়িয়ে দিচ্ছে; বিশেষত এমন বিশ্বে যখন পঠনযোগ্য ও ভিষ্যুয়াল প্রচার মাধ্যমেগুলো বিস্তার লাভ করেছে যা পূর্ব হতে পশ্চিমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, তাকে পথের দুর্গমতা বা দূরত্ব বাধা দিতে পারে না। বিশেষ যখন তা আকর্ষণীয় মোড়কে প্রচার করা হয়।
উপরাস্তু যখন মুসলিম পরিবারগুলো বৈশ্বিক সামাজিক পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, নারীরা কর্মক্ষেত্রে বের হচ্ছে, পুরুষের সাথে অফিস, মার্কেট ও কারখানায় মেলামেশা করছে। এ সকল বিষয়গুলো মুসলিম পরিবারকে নষ্টের হুমকি দিচ্ছে এবং এর সদস্যদের প্রতি শিক্ষার দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করছে。
ইসলাম পরিবারের উপর তার সদস্যদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। রাসূল সাঃ বলেছেন: (তোমরা প্রত্যেকেই রক্ষক। আর প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। নেতা (ইমাম) একজন রক্ষক, সে তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ তার পরিবারের রক্ষক, সে তার পরিবারের লোকজন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীর ঘরের রক্ষক, তাকে তার রক্ষনাবেক্ষন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।) এই হাদিস স্ত্রী-সন্তান ইত্যাদি পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে ব্যক্তির দায়িত্বকে শক্তিশালী করে, যারা তার অধীনস্থ। অনুরূপভাবে মহিলা তার বাড়ীর সদস্যদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল, তাদের হক আদায় ব্যতীত তার এই দায়িত্ব সম্পন্ন হবে না। যে দায়িত্বের অন্যতম হল রক্ষণাবেক্ষণ করা, দিকনির্দেশনা দেয়া এবং ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতিতে উপদেশ দেয়া; যার মাঝে থাকবে উত্তম আদর্শ, সদুপদেশ, উপমা বর্ণনা, আগ্রহী করা ও ভীতি প্রদর্শন করা এবং সবশেষ আদব শিক্ষা দেয়া。
মহান আল্লাহ বলেন: ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ﴿ [হে ইমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর।] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রাঃ বলেন: তোমরা আল্লাহর আনুগত্যের কাজ কর, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমাদের পরিবারকে যিকিরের নির্দেশ দাও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। আলী বিন আবু তালেব রাঃ বলেন: তোমরা তাদের শিক্ষা দাও ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও。
পরিবারকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা পরিপালনগত দায়িত্ব পালনের দাবী রাখে; নসিহত ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে। কাজেই মুসলিম পরিবারের উপর আবশ্যক তাদের সন্তানদের প্রতি গুরুত্ব দেয়া ও হেফাযত করা এবং তাদেরকে সকল ধরণের চারিত্রিক বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করা।
এই উম্মতের সালাফে সালেহীনগণ পরিবারের দায়িত্ব ও তার বিশাল গুরুত্ব অনুধাবন করতেন। উমর বিন আব্দুল আজিজ রহঃ আমাদের জন্য পরিপালনগত দায়িত্ববোধের একটি উত্তম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে গেছেন। তিনি তার সন্তানদেরকে উত্তমভাবে লালন-পালন করেছিলেন। তার নিকট সংবাদ পৌছেছিল যে, তার এক সন্তান একহাজার দিরহাম দিয়ে আংটির পাথর ক্রয় করেছেন, তখন তার কাছে লিখে পাঠালেন: আমার নিকট সংবাদ এসেছে যে, তুমি একহাজার দিরহাম দিয়ে একটি আংটির পাথর ক্রয় করেছ, তুমি সেটা বিক্রয় করে দিয়ে তার দ্বারা একহাজার জন ক্ষুধার্থকে খাবার দাও। আর তুমি একটি লোহার চায়না আংটি খরিদ কর এবং তাতে লিখে রাখ, আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে তার নিজের মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞাত।
সুতরাং বর্তমানে পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে; যেহেতু জীবনকে বিশ্বায়ন, স্নায়ুযুদ্ধ ও আক্বীদাগত বিচ্যুতি বেষ্টন করে রেখেছে এবং সরাসরি সম্প্রচার ও দ্রুত ভ্রমণমাধ্যমের কারণে দূরত্ব কমে এসেছে।
তৃতীয়তঃ সামাজিক দায়ভারঃ
আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে একটি মহান বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যদি তারা এই বৈশিষ্ট্যের দাবী অনুযায়ী কাজ করে। বৈশিষ্ট্যটি হল উত্তমতা যার চাহিদা হল সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে পারস্পরিক কল্যাণকামনার দায়িত্ব পালন করা। মহান আল্লাহ বলেন : ﴾كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ﴿ [তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে।]
উপরোক্ত আয়াতে এই উম্মতের প্রশংসা করা হয়েছে যতক্ষণ প্রর্যন্ত তারা এটা বাস্তবায়ন করবে এবং এই বৈশিষ্ট্য ধারণ করবে। আর যখন তারা বাধা দেয়া ছেড়ে দিবে এবং খারাপ কাজে সহমত পোষণ করবে তখন তাদের থেকে এই প্রশংসা বিলীন হয়ে যাবে। কাজেই এই উম্মতের যে ব্যক্তি উক্ত গুণগুলো ধারণ করবে সে তাদের সাথে প্রশংসার অন্তর্ভুক্ত হবে। কাতাদা রহঃ বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌছেছে উমর রাঃ একবার হজ করতে গিয়ে মানুষের মাঝে সহনশীলতা দেখতে পেলেন, তখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন [তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের বের করা হয়েছে;] অতঃপর বললেন: যে ব্যক্তি এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আনন্দিত হতে চায় সে যেন এর শর্ত পূরণ করে। আর যে ব্যক্তি এই গুণগুলো ধারণ করবে না, সে আহলে কেতাবদের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ হবে যাদেরকে আল্লাহ তিরস্কার করেছেন।
এটা উপরোক্ত উপকরণগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ হতে এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠত্ব দান; যার মাধ্যমে তারা বৈশিষ্ট্য মন্ডিত হয়েছে এবং সকল উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। তারা শ্রেষ্ঠ মানুষ নসিহত পেশ, কল্যাণের প্রতি ভালবাসা, দাওয়াত, শিক্ষা, দিকনির্দেশনা এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎকাজের বাধা প্রদানের দিক থেকে। তাই আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে আদেশ করেছেন যেন তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করণের দায়িত্ব পালন করে। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ﴿ [আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।]
ইসলাম সমাজের উপর সেই দায়িত্ব অর্পণ করে যা তার সাধ্যের মধ্যে। তাইতো সাধ্য ও ক্ষমতা অনুযায়ী কল্যাণ কামনার দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে। নবী সাঃ বলেছেন: (তোমাদের কেউ যদি অন্যায় কাজ দেখে, তাহলে সে যেন হাত দ্বারা এর সংশোধন করে দেয়। যদি এর ক্ষমতা না থাকে, তাহলে মুখের দ্বারা, যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তর দ্বারা (উক্ত কাজকে ঘৃণা করবে), আর এটাই ঈমানের নিম্নতম স্তর।)
সামাজিক দায়িত্ব শুধু খারাপ কাজে বাধা প্রদানের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কর্তব্য হল খারাপ কাজ বিদ্যমানতার কারণ দূর করা; দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতার মাধ্যমে। যেন সে তার প্রয়োজন পূরণে চুরি ধোঁকাবাজী ইত্যাদি বিচ্যুত আচরণের দিকে না যায়।
আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য আয়াতে দান করার নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ﴾لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴿ [তোমরা যা ভালবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না। আর তোমরা যা কিছু ব্যয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবগত।] আবু তালহা রাঃ এই আয়াত শ্রবণের পর খুবই চমৎকার ঘটনা ঘটান, যা আনাস রাঃ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (মদিনার আনসারীগণের মধ্যে আবু তালহা (রাঃ) সব চাইতে অধিক খেজুর বাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববীর নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিল। রাসূল সাঃ তাঁর বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ [তোমরা যা ভালোবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো সওয়াব অর্জন করবে না] তখন আবূ তালহা (রাঃ) রাসূল সাঃ এর কাছে গিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ বলছেনঃ তোমরা যা ভালোবাস তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনও পূণ্য লাভ করবেনা। আর বায়রুহা বাগানটি আমার কাছে অধিক প্রিয়। এটি আল্লাহর নামে সাদকা করা হল, আমি এর কল্যাণ কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আপনি যাকে দান করা ভাল মনে করেন তাকে দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমাকে ধন্যবাদ এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ, এ হচ্ছে লাভজনক সম্পদ।)
চতুর্থতঃ রাষ্ট্রের দায়ভারঃ
রাষ্ট্র ব্যতীত সামাজিক মূল্যবোধ ঠিক হয় না, আর শাসক ব্যতীত কোন রাষ্ট্র হতে পারে না যে শাসক সেখানে ফয়সালা করবে ও আল্লাহর বিধান কায়েম করবে। আর শাসকের বিষয়গুলো প্রজা ছাড়া বাস্তবায়িত হবে না, যারা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানবে, শাসকের হক আদায় করবে, তার কথা শ্রবণ করা, তার জন্য কল্যাণ কামনা ও একনিষ্টতার মাধ্যমে এবং সমাজের হক আদায় করবে রক্ষণাবেক্ষণ, সংশোধন ও ক্ষতি প্রতিরোধের মাধ্যমে, সর্বোপরি দেশ থেকে তা নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে।
সুতরাং খারাপ চরিত্র দূরীভূত করা ও তা প্রতিরোধ করা শাসকের দায়িত্ব। এরা দুই ধরণের: ওলামা ও শাসকবর্গ। এদের সাথে অন্তর্ভুক্ত হল, রাজাগণ, মাশায়েখগণ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ও সরকারী কর্মচারীবৃন্দ। তাদের প্রত্যেকের উপর আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার আদেশ দেয়া এবং তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বারণ করা আবশ্যক।
রাষ্ট্রের আমানত বাস্তবায়নের ব্যাপারে শাসক আল্লাহর সামনে জিজ্ঞাসিত হবে। নবী সাঃ বলেছেন: (তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর সকলেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। শাসক একজন দায়িত্বশীল এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।) তিনি আরো বলেন: (আল্লাহ তায়ালা যে বান্দাকে জনগণের দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে খেয়ানতকারীরুপে যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।) তিনি আরো বলেন: (এমন আমীর যার উপর মুসলিমদের শাসন ক্ষমতা অর্পিত হয় অথচ এরপর সে তাদের কল্যাণ সাধনে চেষ্টা না করে বা তাদের মঙ্গল কামনা না করে; সে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ প্রবেশ করতে পারবে না।) তিনি শাসনভারের দায়িত্ব সম্পর্কে আবু যার রাঃ কে বলেছিলেন: (হে আবূ যার! তুমি দুর্বল অথচ এটা হচ্ছে একটা আমানত। আর কিয়ামতের দিন এটা লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ হবে। তবে যে এটা যথাযথরূপে গ্রহন করবে এবং তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে (তার কথা স্বতন্ত্র)।)
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শাসকের জন্য যে বিষয়গুলো পালন আবশ্যকীয় তা নিম্নরূপঃ
১- প্রমাণিত মূলনীতি ও সালাফে সালেহীনের ঐক্যমতের আলোকে দ্বীনের হেফাযত করা।
২- বিবাদমান দুই পক্ষের মাঝে সমাধান করে দেয়া, যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোন যালিম সীমালঙ্ঘন করতে না পারে বা কোন নির্যাতিত নিজেকে দুর্বল মনে না করে。
৩- জাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও নারীর সংরক্ষণ করা যেন মানুষেরা জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে ও সফরের সময় নিরাপত্তা অনুভব করে নিজের ব্যক্তি বা সম্পদের ক্ষতি হওয়া থেকে।
৪- শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়ন করা; যেন আল্লাহর হারামকৃত বিষয় লঙ্ঘন করা না হয় এবং বান্দার হক নষ্ট থেকে রক্ষা পায়।
৫- অপচয় ও কৃপণতা মুক্তভাবে বায়তুল মাল থেকে দান ও বেতন ভাতা নির্ধারণ করা এবং তা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করা।
রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে ভালকাজের প্রচার করা ও খারাপ কাজ প্রতিহত করা যা বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হল মানুষের মাঝে শরয়ী শিক্ষার বিস্তার করা এবং খারাপ চরিত্রবানদের উপর শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা। শাস্তি দুই ধরণের;
সাধারণ শাস্তিঃ তা হল শরয়ীতের নিষিদ্ধ কাজ করার ফলে কিংবা শরীয়তের আদেশ পালন না করার কারণে সে শাস্তি হয়।
হদের শাস্তিঃ আল্লাহর হক লঙ্ঘনের কারণে শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট শাস্তি। যেমন যেনা, সমকামিতা, চুরি, মদ্যপান, মুরতাদ হওয়া, মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ইত্যাদি হদের শাস্তি。
অনির্ধারিত শাস্তিঃ যে সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রে শরীয়তে নির্দিষ্ট হদ নেই তার জন্য শাস্তি দেয়া। এর হুকুম ব্যক্তি ও কর্ম ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সুতরাং এটা এক দিক থেকে হদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কেননা তা সংশোধন ও সতর্ক করার জন্য শাস্তি, আর হদ থেকে ভিন্ন এ কারণে যে, অপরাধের ভিন্নতার কারণে তা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে。
সুতরাং রাষ্ট্র যদি তার শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের দায়িত্ব পালন করে তাহলে সমাজের বিষয়গুলো ঠিক থাকে এবং বিচ্যুত ব্যক্তিরা বিরত থাকে। আর যদি এই দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাহলে সমাজের মানুষদের মাঝে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে, খারাপ চরিত্র ব্যাপকতা লাভ করে এবং বিপদ নেমে আসে। তাই মুসলিম দেশের তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা আবশ্যক।
নবী সাঃ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদের শাস্তি প্রয়োগ না করার ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেছেন: (যে মহান আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং যে সীমা লঙ্ঘন করে, তাদের দৃষ্টান্ত সেই যাত্রীদলের মতো, যারা কুরআ'র মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায় আর কেউ নীচ তলায় (পানির ব্যবস্থা ছিল উপর তলায়) কাজেই নীচের তলার লোকেরা পানি সংগ্রহ কালে উপর তলার লোকদের ডিঙ্গিয়ে যেত। তখন নীচ তলার লোকেরা বলল, উপর তলার লোকেদের কষ্ট না দিয়ে আমরা যদি নিজেদের অংশে একটি ছিদ্র করে নেই (তবে ভালো হয়) এমতাবস্থায় তারা যদি এদেরকে আপন মর্জির উপর ছেড়ে দেয় তাহলে সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা এদের হাত ধরে রাখে (বিরত রাখে) তবে তারা এবং সকলেই রক্ষা পাবে।)
রাষ্ট্রের শাসকের উপর আবশ্যক হল উপযুক্ত লোকদের উপর দায়িত্ব অর্পন করা। কেননা মানুষেরা হল আল্লাহর বান্দা আর শাসকগণ হলেন বান্দাদের উপর আল্লাহর প্রতিনিধি এবং তারা বান্দাদের ব্যাপারে কার্যনির্বাহী; পরস্পর অংশিদারিত্ব পর্যায়ের। সুতরাং তাদের মাঝে দায়িত্ব ও প্রতিনিধিত্বের অর্থ রয়েছে। সুতরাং দয়িত্বশীল ও প্রতিনিধি যখন কোন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয় এবং তার চেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তিকে বাদ দেয় অথবা কোন পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বেশি দামে ক্রয় করার লোক থাকা সত্ত্বেও কম দামে বিক্রি করে তাহলে সে খিয়ানত করল।
যখন মুসলিম রাষ্ট্র এই দায়িত্বগুলো পালন করবে, তখন তাদের অবস্থা ভাল হবে, তাদের চরিত্র সংশোধিত হবে এবং তাদের চারিত্রিক বিচ্যুতি কমে আসবে। উমর রাঃ মদিনায় নৈশ প্রহরী রাখতেন এবং তিনি নিজে দিন-রাত মদিনার রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন মুসলিমদের অবস্থা জানার জন্য, বঞ্চিতদেরকে তাদের হক দেয়ার জন্য এবং অত্যাচারিতদেরকে সাহায্য করা ও যালিমদেরকে পাকড়াও করার জন্য।
যদি সমাজ এমন দেশে হয় যে দেশ কল্যাণ প্রচারে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করে এবং শরয়ী শাস্তি বাস্তবায়ন করে, তাহলে সে সমাজের লোকদের মাঝে এই হদগুলোর প্রতি সম্মানবোধ জাগ্রত হবে, বিচ্যুত ও খারাপ আচরণ থেকে দূরে থাকবে এবং উন্নত চরিত্রের প্রতি তারা আগ্রহী হবে। সুতরাং এই সমাজের মাঝে কোন অপরাধ বিস্তার লাভ করবে না। কেননা যখন সমাজের মাঝে অকল্যাণ ও খারাপ চরিত্রের পথ রুদ্ধ হবে তখন অবশ্যই কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের পরিধি বিস্তার লাভ করবে। ফলে মানুষেরা ইসলামী চরিত্রে ভরপুর সুখী জীবন যাপন করবে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা প্রয়োজন তা হল, যদি শাসক তার প্রজাদের প্রতি যুলুম করে, তবে মুসলিমের প্রতি আবশ্যক হল ধৈর্যধারণ করা, বিদ্রোহ ও বিতর্কের মাধ্যমে তার মোকাবেলা করা বৈধ নয়। কেননা তাতে মুসলিমদের উপর অনেক বিপদ ও ক্ষতি নেমে আসে। যখন কোন সম্প্রদায় তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তখন তাদের আঙ্গিনায় অকল্যাণ নেমে আসে। নবী সাঃ বলেছেন: (তোমরা আমার ওফাতের পর অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া দেখতে পাবে, তখন তোমরা ধৈর্যধারণ করবে, হাউযে কাওসারে আমার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত।) এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ কে জিজ্ঞেস করেছিল, (হে আল্লাহর নবী! যদি আমাদের উপর এমন শাসকেরা ক্ষমতাবান হয় যে, তারা তাদের হক তো আমাদের কাছে দাবী করে কিন্তু আমাদের হক তারা দেয়না। এমতাবস্থায় আপনি আমাদেরকে কি করতে বলেন? তিনি তার উত্তর এড়িয়ে গেলেন। তিনি আবার তাকে প্রশ্ন করলেন, আর তিনি এড়িয়ে গেলেন। এভাবে প্রশ্নকারী দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আশআস ইবন কায়েস রাঃ তাকে টান দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা শুনবে এবং মানবে। কেননা তাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তাদের উপর বর্তাবে আর তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্বের বোঝা তোমাদের উপর বর্তাবে।)
পঞ্চমতঃ শিক্ষার পরিবেশের দায়ভারঃ
এর দ্বারা শিক্ষা ও সংশোধনের জন্য প্রস্তুতকৃত স্থানসমূহ। যেমন: মাদরাসা, মসজিদ, সামাজিক সংরক্ষণ অফিস, কিশোর সংরক্ষণ অফিস ও জেলখানা। এই পরিবেশগুলোর কার্যকর প্রভাব রয়েছে, খারাপ চরিত্রের প্রতিষেধকমূলক বা প্রতিরোধমূলক হোক। যেহেতু এর মাধ্যমে উত্তম চরিত্রের পরিপালনের বিস্তার এবং নোংরা চরিত্রের প্রতিকার করা হয় ও যারা এতে অভ্যস্ত তাদের থেকে তা দূর করা হয়।
মানুষের মাঝে উত্তম চরিত্র প্রথিত করতে এবং তাদের খারাপ ও বিচ্যুত আচরণকে প্রতিরোধ করতে এই পরিবেশের উপর শিক্ষণীয় গুরুত্বারোপের দায়িত্ব অর্পিত হয়। যা নবী সাঃ এর এই কথা থেকে গ্রহণ করা হয় (তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর সকলেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।) সুতরাং শিক্ষক তার ক্লাসে ছাত্রদের বিষয়ে দায়িত্বশীল, মসজিদের ইমাম তার মসজিদের লোকদের বিষয়ে দায়িত্বশীল, তার এলাকায় খারাপ চরিত্রগুলো খুজে বের করে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তার প্রতিকার করবে; আকর্ষণীয় জুমার খুতবার মাধ্যমে যাতে থাকবে ভাল কাজে উৎসাহ প্রদান, খারাপ থেকে সতর্কবার্তা, সত্য ঘটনা, কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উদাহরণ বর্ণনা এবং খারাপ চরিত্রের ফলে সমাজে যে সব ঘটনা ঘটছে তার পর্যালোচনা।
জেলার তার জেলে বন্দী লোকদের বিষয়ে দায়িত্বশীল, সে তাদের দেখাশোনা করবে, তাদেরকে উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহিত করবে, তাদের বিচ্যুতির দিকগুলো জানবে এবং তাদেরকে শিক্ষা, উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগ দিবে যে তাদের থেকে অজ্ঞতা ও নোংরা চরিত্রকে দূর করবে।
অনুরূপভাবে সামাজিক সুরক্ষা অফিসসমূহ ও কিশোর অপরাধ বিষয়ক অফিসসমূহ তাদের সদস্যদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। তারা তাদের সন্তানতুল্য। আর আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে সৎকর্ম, অনুগ্রহ ও পারস্পারিক সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন : ﴾وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴿ [নেককাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না।] নবী সাঃ বলেছেন: (আল্লাহ তায়ালা যে বান্দাকে জনগণের দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু তাদের সঙ্গে খেয়ানতকারীরুপে যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।)
এ সকল দায়িত্বের ক্ষেত্রে বর্ণিত পরিণতি মুসলিমদের কোন বিষয়ে দায়িত্বশীলদের বিশাল মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। চায় তিনি শাসক হোন বা শিক্ষক হোন বা কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান হোন। কেননা মানুষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করা সহজ কথা নয়। বরং ইসলামী মানহাজে তা বিশাল আমানত আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ; যা মানুষদের সকল বিষয় ও কর্মে পূর্ণ প্রচেষ্টার দাবী রাখে। আর এটা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের সকল ধরণের প্রতিপালন ও দিকনির্দেশনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তায়ালা এই আমানত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ﴾إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا﴿ [নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে।] তিনি আরো বলেন: ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴿ [হে ঈমানদারগণ! জেনে-বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের খেয়ানত করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও খেয়ানত করো না।]
আর যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলগণ শিক্ষার দায়িত্বের আমানত আদায় করতে অক্ষম হবে তখন শিক্ষাদান দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তাদের অধীনস্তদের মাঝে উত্তম চরিত্র বির্নিমাণে ও বিচ্যুত চরিত্র দূরীকরণে ব্যর্থ হবে। তার ফলে সমাজে অপরাধ ও ছিনতাই বৃদ্ধি পাবে এবং ফাসাদ ও সম্ভ্রমহানী ব্যাপক আকার ধারণ করবে। সর্বোপরি মানুষের হক নষ্ট করা হবে। বর্তমান সমাজ যে চারিত্রিক অধঃপতন লক্ষ্য করছে তা মূলত দায়িত্ব ও তার মহত্ব অনুভব না করার কারণে। আর এ থেকে সৃষ্টি হয়েছে দুর্বল ও ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা যা মানুষকে তার প্রবৃত্তি, আকাঙ্খা ও শয়তানী খেয়াল প্রতিরোধ করার ব্যাপারে শক্তিশালী করে না। সুতরাং মুসলিম সমাজকে অবশ্যই খারাপ চরিত্র প্রতিরোধে তার শিক্ষার দায়িত্ববোধ অনুধাবন করতে হবে এবং এই পরিবেশ তার সর্বশক্তি দিয়ে উত্তম চরিত্র গঠন করতে ও খারাপ চরিত্র দাফন করতে চেষ্টা করবে。
টিকাঃ
(১) সহীহ বুখারী (১/২৮৪-২৮৫, হাঃ ৬৮৯৩), সহীহ মুসলিম (৩/১৪৫৯, হাঃ ২০/১৮২৯)。
(২) সূরা আল-মুদ্দাস্সিরঃ (৩৮)。
(৩) সূরা আয-যিলযালঃ (৭-৮)。
(১) সূরা আশ-শামসঃ (৮)。
(২) তাফসীরে ইবনে কাসীর (৪/৫৫১)。
(৩) ফাতহুল কাদীর (৫/৪৪৯)。
(৪) সূরা আল-হাশরঃ (১৮)。
(৫) সুনানে তিরমিযি (৪/৫২৯, হাঃ ২৪১৭), তিনি বলেছেনঃ হাদিসটি হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন。
(৬) আল-জামে লি আহকামিল কুরআন (১৩/২৪২)。
(৭) সুনানে তিরমিযি (৪/১৪২, হাঃ ১৬২১), মাসনাদে আহমাদ (৬/২০), শায়খ আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন。
(৮) আদাবুদ দুনিয়া ওয়া আদদ্বীন পৃঃ (২৩৪)。
(১) খালেদ হামেদ রচিত আল-মুশকিলা আত-তারবাবীয় আল-উসারীয়া পৃঃ (৪)。
(২) সহীহ বুখারী (১/২৮৪-২৮৫, হাঃ ৬৮৯৩), সহীহ মুসলিম (৩/১৪৫৯, হাঃ ২০/১৮২৯)。
(৩) সূরা আত-তাহরীমঃ (৬)。
(৪) তাফসীরে ইবনে কাসীর (৪/২৩৩)。
(৫) পূর্বোক্ত ((৪/৪১৭)。
(১) সিরাত ও মানাকিবু উমার বিন আব্দুল আজীজ, পৃঃ (৩১৫)。
(২) সূরা আলে ইমরানঃ (১১০)。
(৩) আল-জামে লি আহকামিল কুরআন (৪/১১১)。
(৪) তাফসীরে ইবনে কাসীর (১/৪০৪)。
(১) তাফসীরে সাদী (১/২৬২)。
(২) সূরা আলে ইমরানঃ (১০৪)。
(৩) সহীহ মুসলিমঃ (১/৬৯, হাঃ ৭৮-৪৯)。
(৪) সূরা আলে ইমরান (৯২)。
(১) সহীহ বুখারী (৩/২০৯, হাঃ ৪৫৫৪)。
(২) ইবনে তাইমিয়া রচিত সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, পৃঃ (৬৮)。
(৩) সহীহ বুখারী (১/২৮৪-২৮৫, হাঃ ৮৯৩), সহীহ মুসলিম (৩/১৪৫৯, হাঃ ২০/১৮২৯)。
(৪) সহীহ মুসলিম (১/১২৫, হাঃ ২২৭-১৪২)。
(৫) পূর্বোক্ত (১/১২৬, হাঃ ২২৯-১৪২)。
(৬) পূর্বোক্ত (৩/১৪৫৭, হাঃ ১৬/১৮২৫)。
(১) আল-আহকাম আস-সুলতানিয়াঃ পৃঃ (১৮)。
(২) আল- উকুবাত ফিত তাশরী আল ইসলামী, পৃঃ (১৯)。
(৩) নায়লুল আওতার (৭/৮৭)。
(৪) আল-আহকাম আস-সুলতানিয়াঃ পৃঃ (১৮)。
(১) সহীহ বুখারী (২/২০৫-২০৬, হাঃ ২৪৯৩)。
(২) আস-সিয়াসা আশ-শারয়িয়া, পৃঃ (১৪)。
(৩) তারিখু উমার বিন খাত্তাব (১০২-১১৩)。
(৪) সহীহ মুসলিম (৩/১৪৭৪, হাঃ ৪৮-১৮৪৫)。
(৫) সহীহ মুসলিম (৩/১৪৭৪-১৪৭৫, হাঃ ৪৯-১৮৪৬)。
(১) সূরা আল-মায়েদাঃ (২)。
(২) সহীহ মুসলিম (১/১২৫, হাঃ ২২৭-১৪২)。
(১) সূরা আন-নিসা: (৫৮)。
(২) সূরা আল-আনফাল: (২৭)。
📄 মন্দ চরিত্র নিরাময়ের পদ্ধতি
প্রত্যেক রোগেরই ঔষুধ রয়েছে, কেই হয়ত জানে আবার কেউ জানে না। ইসলামী মানহাজের আলোকে দিক-নির্দেশনার মাধ্যমে বিচ্যুত আচরণের চিকিৎসা মৃত অন্তরকে জীবিত করে; যেহেতু এর ফলে জীবন উত্তম চরিত্রের চর্চা করে এবং পৃথিবীকে উত্তমতা ও কল্যাণ দিয়ে আবাদ করে। মন্দ চরিত্র নিরাময়ের পদ্ধতি নিম্নে আলোচনা করা হল:
প্রথমতঃ শরয়ী জ্ঞানের প্রচার করাঃ
ইলমের মর্যাদা তার বিষয় বস্তুর আলোকে হয়ে থাকে। বস্তুত ইলমের উপকারিতা চরিত্রের মাঝে তার প্রভাব বাস্তবায়নের মাঝে নিহিত থাকে। আর সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ ইলম হল দ্বীনের ইলম; কেননা তা জানার ফলে মানুষ পথ পায় আর এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়।
ইলমের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি জানতে পারে আল্লাহ তাকে কী নির্দেশ করেছেন, ফলে তার অনুসরণ করে এবং জানতে পারে কোন বিষয় থেকে তিনি নিষেধ করেছেন, ফলে তা থেকে বিরত থাকে। আর সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ ইলম হল শরীয়ত ও এর শাখা-প্রশাখার ইলম। এটা এমন ইলম যা বান্দাকে তার রবের নিকটবর্তী করে, তার নিকট উত্তম চরিত্রকে সুশোভিত করে যেন তা গ্রহণ করে, মন্দ চরিত্র থেকে তাকে দূরে রাখে এবং তার নিকট পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে তোলে। তাই আলেমগণই আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করে এবং মন্দ চরিত্র থেকে দূরে থাকে। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ﴿ [আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাকে ভয় করে।]
কাজেই মানুষ আল্লাহর সম্পর্কে যত বেশি জানবে তত বেশি তাকে ভয় করবে। আল্লাহর ভয় তার জন্য পাপমুক্ত থাকা এবং তার সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকাকে আবশ্যক করে। এটা ইলমের ফযিলতের প্রমাণ বহন করে, কেননা তা আল্লাহকে ভয় করার প্রতি আহ্বান করে।
ইবনুল কায়্যিম রহঃ বলেন: ইলম হল জীবন ও নূর আর অজ্ঞতা হল মৃত্যু ও অন্ধকার। সকল অকল্যাণের কারণ হল জীবন ও নূরের অনুপস্থিতি, আর সকল কল্যাণের উৎস হল নূর। কিতাব ও সুন্নাহর নূরের চেয়ে উত্তম কিছু নেই। এই দুয়ের মাধ্যমে অন্তর পূণর্জ্জীবিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجিীবُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ۖ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ ۖ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ﴿ [মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও; যখন সে তোমাদেরকে আহবান করে তার প্রতি, যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন। আর নিশ্চয় তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।]
অর্থাৎ তোমরা আনুগত্যের আহবানে সাড়া দাও এবং কুরআনের অন্তর্গত আদেশ-নিষেধের বিষয়ে সাড়া দাও, কেননা এতেই রয়েছে স্থায়ী জীবন ও দীর্ঘস্থায়ী নিয়ামত।
সুতরাং পরিবার, মাদরাসা ও সকল শিক্ষার মাধ্যমসমূহ সবচেয়ে উত্তম যে চিকিৎসা উপস্থাপন করতে পারে তা হল শরয়ী ইলম শিক্ষা দেয়া; যা মন্দ আচরণকে দূরীভূত করে আর উত্তম চরিত্র গঠন করে।
কাজেই শুধু ইসলামী বিভাগগুলোতেই শরয়ী শিক্ষা সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, যেমনটি ইসলামী সমাজের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান, বরং বিজ্ঞান বিভাগের সকল শাখায় পর্যাপ্ত পরিমাণ শরয়ী শিক্ষা থাকা আবশ্যক। এটাই হল সঠিক চিকিৎসা ও নিরাময়। যারা মাদকাসক্তি থেকে ফিরে এসেছে তাদের একটা বিরাট অংশ দ্বীনি দিক-নির্দেশনার ফলেই ফিরে এসেছে, যেমনটি গবেষণা থেকে প্রমাণিত। আর এটি আমাদের নিকট কুরআন ও সুন্নাহর ইমানের মাধ্যমেও প্রমাণিত।
পরিবার যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক্ষেত্রে ঘাটতি লক্ষ্য করে, তাহলে তাদের উপর আবশ্যক হল তারা শরয়ী শিক্ষার এই ঘাটতি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে; যা তাদেরকে দ্বীন ও ফরয বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবে এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ শরীয়ত যা থেকে নিষেধ করেছে তার জ্ঞান দিবে। কোন মুসলিম পরিবার বা কোন মুসলিম ব্যক্তি যেন এই কারণ না দেখায় যে, যাদের বিভাগ ভিন্ন যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফিজিক্স বা কৃষি তাদেরকে শরয়ী জ্ঞান শিখানো হবে না। বরং প্রত্যেক মানুষের জন্য এতটুকু জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক যা দ্বীনের বিষয়ে তার অজ্ঞতাকে দূর করবে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিক্ষিতদের চেয়ে অশিক্ষিতদের মাঝে মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণের প্রবণতা অনেক বেশি। যেখানে তাদের পরিমাণ হল প্রায় ৭০%। মাদক গ্রহণের অন্যতম কারণ হল তার হাকিকত সম্পর্কে অজ্ঞতা ও তার উপকারিতার বিষয়ে ভুল ধারণা। যেহেতু অধিকাংশ মাদকসেবীরা মনে করে যে, মাদক তার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং বন্ধুদের সাথে সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়তঃ সৎ সঙ্গীঃ
চারিত্রিক প্রভাবকের অন্যতম হল সৎ সঙ্গী যারা তাকে কল্যাণের পথ দেখায় ও তা গ্রহণে উৎসাহিত করে এবং অকল্যাণের পথ হতে সতর্ক করে ও সে পথে চলতে নিরুৎসাহিত করে। এ মর্মে নবী সাঃ বলেন: (সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উপমা হল কস্তুরী বহনকারী (আতর বিক্রেতা) ও কামারের হাপরের ন্যায়। মৃগ-কস্তুরী বহনকারী হয়ত তোমাকে কিছু দান করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে কিংবা তার কাছ থেকে তুমি লাভ করবে সুবাস। আর কামারের হাপর হয়ত তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।) তিনি আরো বলেন: (মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের অনুসারী হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত যে, সে কার সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করছে।)
সুতরাং বিচ্যুত আচরণ নিরাময় করতে বা তার থেকে রক্ষা পেতে অথবা উত্তম চরিত্র গঠন করতে অবশ্যই সৎ সঙ্গী নির্বাচন করতে হবে। কেননা যে উত্তম চরিত্র গঠন করতে চায় তাকে অবশ্যই সেই পথেই চলতে হবে এবং এই পথে অবশ্যই তাকে সৎ সঙ্গী গ্রহণ করতে হবে, যে তাকে ভাল কাজ, সততা, উত্তম আচরণ, ধৈর্যধারণ ও প্রতিশ্রুতি পূরণে সহযোগিতা করবে।
সৎ সঙ্গীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল: শরয়ী জ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপ, বাস্তব জীবনে তার বাস্তবায়ন, উন্নত চিন্তাধারা, উত্তম আচরণকারী, কথার পূর্বে কর্মের মাধ্যমে কল্যাণের প্রতি আহবানকারী, আপনি তাকে কল্যণের পথে অগ্রগামী ও তার পথ উন্মোচনকারী পাবেন, সে হবে অকল্যাণের পথ রুদ্ধকারী, সে বন্ধুর ভুল এড়িয়ে যায়, তাকে সততার সাথে নসীহা করে, সে কাজকে ভালবাসে প্রফুল্লচিত্তে অলসতা বশত নয়।
পক্ষান্তরে অসৎ বন্ধু: তার বন্ধুত্ব গ্রহণের পর শুধু আফসোস ও অনুশোচনা করতে হবে; অথচ তখন অনুশোচনা কোন কাজে আসবে না। মহান আল্লাহ অসৎ সঙ্গের পরিণতি বর্ণনা করে বলেন: ﴾وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ عَلَى يَدَيْهِ يَقُولُ يَا لَيْتَنِي اتَّخَذْتُ مَعَ الرَّسُولِ سَبِيلًا * يَا وَيْلَتَى لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا * لَّقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي ۗ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْإِنسَانِ خَذُولًا﴿ [যালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের দু'হাত দংশন করতে করতে বলবে, হায়, আমি যদি রাসূলের সাথে কোন পথ অবলম্বন করতাম। হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ পৌছার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।]
সালাফে সালেহীনগণ অসৎ সঙ্গ থেকে সতর্ক করেছেন। জনৈক সালাফ বলেন: তোমরা দু'ধরণের মানুষ থেকে সতর্ক থাক। প্রবৃত্তির অনুসারী যাকে তার প্রবৃত্তি ফেতনাগ্রস্ত করেছে আর দুনিয়া অনুসন্ধানী লোক, দুনিয়া যাকে অন্ধ করে রেখেছে।
মাঠপর্যায়ের গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, খারাপ চরিত্রে জড়িত হওয়ার ক্ষেত্রে অসৎ সঙ্গীর কার্যকর প্রভার রয়েছ। গবেষণা স্পষ্ট করেছে যে, কর্মক্ষেত্রের লোকদের নতুন সদস্যদের উপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে তাদের নিকট ভুল বার্তা পৌছানোর ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে গবেষণা থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ৫৪.৬% মাদকাসক্ত ব্যক্তি বারবার মাদক ছাড়তে চেষ্টা করেছে, কিন্তু খারাপ বন্ধু থাকার দরুন তারা তা করতে পারেনি। বরং এ পথে ধাবিত হওয়ার জন্য প্রধান কারণ ছিল অসৎ সঙ্গ, যার পরিমাণ হল ৮৫.৫%।
তৃতীয়তঃ শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ করা:
বান্দার প্রতি আল্লাহর রহমতের অন্যতম নির্দশন হল, তিনি তাদের জন্য শরয়ী শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন এবং তা প্রয়োগ করা ওয়াজীব করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ﴿ [আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফের।] তিনি আরো বলেন: ﴾وَمَن لَّমْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ﴿ [আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই যালিম।]
সুতরাং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী ফয়সালা না করা কাফেরদের কাজ। ইবনে আব্বাস রাঃ অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: কুফর বিভিন্ন স্তরের, যুলুম বিভিন্ন স্তরের এবং ফাসেকী বিভিন্ন স্তরের। যখন সেটাকে হালাল মনে করে করা হবে তখন তা সবচেয়ে বড় যুলুম, আর হালাল মনে করে না করলে কবিরা গুনাহ হবে।
শরয়ী শাস্তি প্রয়োগের সময় অপরাধীর সাথে অনুকম্পা প্রদর্শনা না করা আবশ্যক যাতে করে মন্দ ও বিচ্যুত আচরণ বিস্তার লাভ না করে; কেননা অপরাধমূলক খারাপ ও বিচ্যুত চরিত্র বিস্তার লাভের অন্যতম কারণ হল অপরাধীকে কম শাস্তি দেয়া ও তাদের প্রতি অনুকম্পা করা। তাদের প্রতি অধিক দয়া দেখানো হয় এই দাবীতে যে তাদেরকে শাস্তি দিলে তাদের উপর মানসিক ও স্নায়ুবিক চাপ বাড়বে।
এটা হল মানব রচিত নীতি যা সমাজে বিচ্যুত আচরণ প্রসার ও বিস্তারের জন্য দায়ী। যদিও আমরা দেখতে পায় যে, শরয়ী শাস্তির ক্ষেত্রে অপরাধীর সাথে দয়া প্রদর্শনের কোন উপায় নেই। বরং কোন প্রকার নমনীয়তা ছাড়াই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে, যা অপরাধীকে তার কর্ম থেকে বিরত রাখবে এবং অন্যদেরকে বিচ্যুতি থেকে সতর্ক করবে। আমাদের নবী সাঃ বলেন: (সে মহান সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! যদি মুহাম্মাদ তনয়া ফাতিমা রাঃ চুরি করত তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।)
মহান আল্লাহ যিনার শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে বলেন: ﴾الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْকُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْমِ الْآখِرِ ۖ وَلْيَশْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ﴿ [ব্যব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী— তাদের প্রত্যেককে একশত বেত্রাঘাত করবে, আল্লাহর বিধান কার্যকরী করতে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ্ এবং আখেরাতের উপর ঈমানদার হও; আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।]
শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ ব্যক্তিকে তা পুণরায় করা হতে বিরত রাখে কেননা সেখানে তোষামোদ ও অনুকম্পার কোন স্থান নেই।
অপর দিকে ব্যক্তির সংশোধনের ক্ষেত্রে শাস্তি প্রয়োগের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই যেখানে খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে তা থেকে বেঁচে থাকতে চেষ্টা করে, যেমনভাবে ভাল অভিজ্ঞতার কাজ বারবার করতে আগ্রহী থাকে।
ইসলামী শরীয়ত ব্যতীত সমাজে এমন কোন শরীয়ত পাওয়া যাবে না যা বিচ্যুত আচরণকে প্রতিরোধ করে; যেহেতু ইসলামী শরীয়তের শাস্তি অপরাধ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তা প্রয়োগে শৈথিল্যের কোন স্থান নেই। তা মানুষকে বিচ্যুত আচরণ থেকে দূরে থাকতে ও উত্তম চরিত্রের দিকে আগ্রসর হতে উৎসাহিত করে। যে সমাজে ইসলামী শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না সে সমাজ নিয়ে পর্যাবেক্ষণকারী লক্ষ্য করবে যে, সেখানে অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা সমাজের লোকদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করছে। পক্ষান্তরে নববী সমাজ পর্যাবেক্ষণকারী লক্ষ্য করবে যে, অপরাধ প্রবণতা সেখানে হ্রাস পাচ্ছে। এমনকি যখন আবু বকর রাঃ খেলাফতের সময় উমর রাঃ বিচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন এক বছরে একটি বিচারের আবেদনও করা হয়নি। বর্তমান সময়ে রাজকীয় সৌদি আরব তার বড় প্রমাণ, যেখানে মানুষেরা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা উপভোগ করছে যা এর জনগণের জন্য আরামদায়ক ও শান্তিময় জীবন নিশ্চিত করছে।
চতুর্থতঃ প্রচার মাধ্যমগুলোর সঠিক ব্যবহার:
মিডিয়াকে তার বিভিন্ন পঠন ও শ্রবণযোগ্য মাধ্যমগুলোতে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি কার্যকর প্রভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষত বর্তমান সময়ে যখন তার সাথে যোগাযোগ ও তথ্যের প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে এমনকি তা ঘরের গোপন বিষয় প্রকাশ করতে ও যা ইচ্ছা তা প্রচার করতে সক্ষম হচ্ছে।
যেহেতু এগুলো মাধ্যম তাই তার হুকুম হল, তাতে যা ভাল বা মন্দ প্রচার করা হয় সে অনুযায়ী। আর তার পরিণতি কখনো ভাল হয় বা কখনো খারাপ হয় তাতে উপস্থাপিত বিষয়ের আলোকে। সুতরাং তা কল্যাণের সুবাতাস ও উন্নত চরিত্রের প্রচার এবং খারাপ ও মন্দ আচরণ প্রতিরোধের মাধ্যম যদি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় ও ইসলামের সঠিক দিক-নির্দেশনা পেশ করা হয়।
মন্দ চরিত্র ও বিচ্ছিন্নতার আস্তানা থেকে মানবতাকে বাঁচাতে ইসলামই হল সঠিক মানহাজ। কাজেই এর উপর ভিত্তি করে ইসলামী মিডিয়া গড়ে তোলা আবশ্যক যা নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করবেঃ
১- ইসলামের দিকে আহ্বান।
২- নির্দেশনা ও নসীহার ব্যাপারে সততা অবলম্বন।
৩- অশ্লীলতা প্রচার থেকে দূরে থাকা।
এর ফলে পৃথিবীর সকল স্থানে সংশোধনমূলক দাওয়াতের প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়বে, তাকে কোন শত্রু বা হিংসুক বাধা দিতে পারবে না।
সীমালঙ্ঘনকারীরা দায়ীদেরকে মানুষদের নিকট আল্লাহর আহবান পৌছাতে বাধা দেয়। সুতরাং মিডিয়গুলো এই বন্দীত্বকে শেষ করে দিয়েছে। কাজেই তাওহীদের বাণী ও তার ফযিলত কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রচার করা যায়। এখানে সীলঙ্ঘনকারী ও শত্রুরা আক্রমণ করতে পারে না। তাই যদি মুসলিম সমাজে এই মিডিয়াগুলো সঠিক ব্যবহার করা হয় তবে তা হবে সমাজ ও ব্যক্তির উপর প্রভাব বিস্তারকারী সবচেয়ে সফল ও কার্যকরী মাধ্যম। শরীয়ত সম্মত চ্যানেল প্রতিষ্ঠার দ্বারা বিশ্ববাসীর নিকট তাওহীদের বাণী ও তার আলো প্রচার করবে এবং এমন মানহায প্রচার করবে যা দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ বাস্তবায়ন করবে, এর মাধ্যমে অকল্যাণ ও মন্দ আচরণের বন্ধনকে ছিন্ন করবে; যা বর্তমান ইসলামী সমাজের মূলকে আতঙ্কিত করছে।
পঞ্চমতঃ মসজিদগুলোর সঠিক ব্যবহার:
এই উম্মতের উপর আল্লাহর তায়ালার একটি অন্যতম নিয়ামত হল তিনি তাদের জন্য মসজিদে জামাতে সালাত আদায়ের বিধান দিয়েছেন; যে মসজিদ হল দাওয়াতের কেন্দ্র, দিক-নির্দেশনার মিম্বার যা অন্তরকে কল্যাণের মাধ্যমে আবাদ করে এবং তা হতে জাহেলিয়াতের চরিত্র, পাপাচারের অন্ধকার ও তার দূর্বিপাককে দূরীভূত করে।
অনুরূপভাবে আরেকটি নিয়ামতে হল তিনি জুমার দিনে খুতবার বিধান দিয়েছেন, যার মাধ্যমে একজন খতিব মানুষকে দিক-নির্দেশনা, সঠিক বিষয়ে বর্ণনা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করতে সক্ষম হবেন; আলেমের হিকমতের সাথে এবং তাদের প্রতি দয়াদ্র হয়ে ও তাদেরকে ভালবেসে। জাবের রাঃ কর্তৃক বর্ণিত নবী সাঃ এর খুতবার বিবরণে এসেছে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভাষণ দিতেন তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেতো, কণ্ঠস্বর জোরালো হতো, তাঁর ক্রোধ বৃদ্ধি পেতো, যেন তিনি কোন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলছেন: তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় আক্রান্ত হতে পারো।)
একজন খতিবের কর্তব্য হল সে সমাজের সমস্যা ও তাতে প্রচলিত খারাপ চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানবে, যাতে তাদের নিকট শরীয়তের হুকুম এবং ব্যক্তি, সমাজ ও উম্মতের উপর দুনিয়া ও আখেরাতে এর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে পারে। তবে তা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলবে না। কেননা সাধারণভাবে বললে নির্দিষ্ট করে বলার প্রয়োজন হয়না। কারণ মিম্বারে কারো প্রকাশ্য সমালোচনা ও দোষ বর্ণনা শ্রোতার সাথে অসৌজন্যতার ও অপরাধীকে ধমক দেয়ার শামিল, যা তাকে নসীহা গ্রহণ না করতে ও পাপে ডুবে থাকতে উৎসাহিত করে।
দুইটি বিষয় থাকলে খুতবা কাঙ্খিত ফলাফল দিতে পারে:
এক: খতিবের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ঃ
১- সে উত্তম আদর্শ হবে এবং মানুষের মাঝে এ বিষয়ে সুপরিচিত হবে। কেননা যার কাছে কিছু নেই সে দেয়ার ক্ষমতা রাখে না।
২- ভাষা ও উপস্থাপনার দিকে থেকে খুতবার জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি নিবে।
৩- খুতবা হবে বিষয় ভিত্তিক।
৪- খুতবায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কুরআন-সুন্নাহ, আলেমদের উক্তি ও তাদের জীবনী থাকবে।
৫- খতীব খুতবা দীর্ঘ করবে না বা কারো কন্ঠ নকল করবে না।
৬- খুতবা ভাল কাজের প্রতি উৎসাহ ও মন্দ বিষয় হতে ভীতি সম্বলিত হবে এবং তা সমাজের সমস্যার সমাধান করবে যার অন্যতম হল মন্দ চরিত্র।
একই সাথে খুতবার ক্ষেত্রে মুসল্লীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়:
১- সকাল সকাল মসজিদে উপস্থিত হওয়া।
২- চুপ করে বসা ও মনোযোগ সহকারে খুতবা ও খুতবার দিক-নির্দেশনা শ্রবণ করা। নবী সাঃ বলেছেন: (তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে জুম'আর দিবসে ইমাম খুৎবা দেয়ার সময় বল চুপ কর, তাহলে তুমি অনর্থক কথা বললে।)
এজন্য ইমামের উচিত খুতবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মুসল্লীদেরকে চুপ করে খুতবা শোনার প্রতি আকৃষ্ট করা।
অন্য দিক থেকে মসজিদ শিক্ষণীয় কার্যকরী দায়িত্ব পালন করতে পারে, যেমনঃ
ক- শরয়ী ইলমের দারস প্রদান।
খ- দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা যেখানে মানুষদেরকে ভাল কাজে উৎসাহিত করা হবে এবং খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করা হবে।
গ- কুরআনুল কারীমের হালাকার ব্যবস্থা করা, কেননা কুরআন চরিত্রের সংবিধান ও অন্তরের চিকিৎসক, এর মাধ্যম উম্মত সুখী হবে এবং তা বর্জনে মানুষেরা হতভাগা হবে।
ঘ- শরয়ী কিতাব সম্বলিত লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করা, যার দায়িত্ব পালন করবে কোন আলেম বা ছাত্র এবং ছাত্র-শিক্ষক ও মূর্খ সকলের জন্য সেবা দিবে।
ঙ- মসজিদে একটি চ্যারিটেবল প্রতিষ্ঠান থাকবে, যা ধনীদের থেকে সম্পদ সংগ্রহ করবে। ফলে তা দরিদ্রদের জন্য প্রশান্তির মাধ্যম হবে, যা তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে রক্ষা করবে এবং মন্দ চরিত্র থেকে হেফাযত করবে।
মসজিদ যদি এই মহান দায়িত্বগুলো পালন করে তবে তা সমাজ থেকে খারাপ আচরণের মূলোৎপাটন করতে এবং ও উত্তম চরিত্রের বিস্তারে অবদান রাখবে। অনুরূপভাবে তা উত্তম জাতী গঠনে ভুমিকা রাখবে, মানব জাতীর জন্য যাদেরকে বের করা হয়েছে।
ষষ্ঠতঃ মনের বিরুদ্ধে জিহাদ:
মনের মাঝে অকল্যাণ ও বিচ্যুতির প্রতি আকর্ষণ রয়েছে, আর এগুলোকে মানুষের নিকট সুশোভিত করে দেখায় মানব ও জিন শয়তান। সুতরাং যদি স্বীয় প্রচেষ্টা না থাকে তবে মন সে দিকে আকৃষ্ট হয়; তাই মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করা হল সর্বোচ্চ জিহাদ। যদি মন ভাল চরিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হতো এবং প্রবৃত্তি ও তার আকর্ষণ দ্বারা প্রভাবিত না হতো তবে মনের জিহাদের কোন অর্থ থাকত না। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ﴿ [নিশ্চয় মানুষের নাফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়েই থাকে।]
মনের মাঝে অন্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তার সাথে হিংসা করে, তার হক নষ্ট করার মাধ্যমে যুলুম করার প্রতি আকর্ষণ থাকে। মনের মাঝে নিজের প্রতি যুলুম করার আগ্রহ থাকে, খারাপ প্রবৃত্তি যেমন যিনা ও হারাম ভক্ষণে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে। তাইতো যে কখনো এমন ব্যক্তির উপর যুলুম করে, যে তার প্রতি যুলুম করেনি। এই প্রবৃত্তিগুলো তার উপর প্রভাব বিস্তার করে যদিও অন্য কিছু না করে। সুতরাং যখন দেখে যে তার সমপর্যায়ের কেউ যুলুম করছে বা এই প্রবৃত্তিগুলো গ্রহণ করছে তখন তার মাঝে এতে জড়িত হতে বা যুলুম করতে বেশি আগ্রহ জাগে।
তাই মনের নিয়ন্ত্রণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ * فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ﴿ [আর যে তার রবের অবস্থানকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিজকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।]
ইবনুল কায়্যিম রহঃ জিহাদকে চারটি স্তর বিভক্ত করেছেন: মনের বিরুদ্ধে জিহাদ, শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ।
মনের বিরুদ্ধে জিহাদের চারটি স্তরঃ
১- হেদায়েত ও সত্য দ্বীন শিক্ষার জন্য জিহাদ; যা ব্যতীত দুনিয়া ও আখেরাতে মনের কোন সাফল্য ও সৌভাগ্য নেই।
২- জ্ঞান শিক্ষার পর সে অনুযায়ী আমল করার জন্য জিহাদ।
৩- সে দিকে আহ্বান করার জন্য জিহাদ।
৪- দাওয়াতের পথে যে কষ্ট আসে তার উপর ধৈর্যধারণ করার জন্য জিহাদ।
শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ, এর দুটি স্তরঃ
১- বান্দার নিকট ঈমান বিধ্বংসী যে সন্দেহ ও শুবহাত আসে তা প্রতিহত করার জন্য জিহাদ।
২- তার যে খারাপ ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি জাগ্রত হয় তার বিরুদ্ধে জিহাদ।
মনকে উপযোগী করার প্রথম কাজ হল কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করা। কেননা সেটা কোন সহজ বিষয় নয়; তাই তার প্রতিদান মহান, তার পরিণতি কল্যাণকর এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তা বান্দার জন্য আনন্দদায়ক। আল্লাহ তায়ালা তাকওয়া ও ধৈর্যের সওয়াবের বিষয়ে বলেন: ﴾إِنَّهُ مَن يَتَّقِ وَيَصْبِرْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيעُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ﴿ [নিশ্চয় যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্যধারণ করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ মুসহিনদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।]
অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম কর্ম সম্পাদনে আল্লাহকে ভয় করবে এবং কষ্ট, বিপদ ও আদেশ পালনে ধৈর্যধারণ করবে, নিশ্চয় তা সৎকর্মের অন্তর্গত, আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।
সপ্তমতঃ দূরদৃষ্টি:
দুনিয়া পরবর্তী বিষয়ে দূরদৃষ্টি মন্দ চরিত্র পরিহার ও উত্তম চরিত্র গ্রহণে শক্তিশালী ও কার্যকরী অনুঘটক। পক্ষান্তরে অদূরদর্শিতা, দুনিয়ার সম্ভোগে দ্রুততা ও বিচ্যুত প্রবৃত্তিকে পরিতৃপ্ত করা তার দূরদৃষ্টির অভাবের পরিচায়ক, যেমনটি দুর্বল ঈমানের লোকদের হয়ে থাকে। এ বিষয়ে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেন: ﴾تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا * وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ﴿ [কিন্তু তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।]
আর এর চিকিৎসা হল যা এই খারাপ চরিত্রকে প্রতিহত করবে ও তাকে সমূলে উৎপাটিত করবে, তা হল এই জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাস যে দুনিয়া হল পরীক্ষাগার ও অস্থায়ী। মহান আল্লাহ বলেন: ﴾وَلَنَبْلُوَنَّকُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَبَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ﴿ [আর আমি তোমাদেরকে অবশ্যই পরিক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে। যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।] তিনি আরো বলেন: ﴾الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ﴿ [যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য—কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।] তিনি অন্যত্র বলেন: ﴾إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا﴿ [নিশ্চয় যমীনের উপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা করেছি, মানুষকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তাদের মধ্যে কাজে কে শ্রেষ্ঠ।]
সুতরাং যমীনের উপর যা কিছু আছে সুস্বাদু খাদ্য ও পানীয়, সুন্দর পোষাক, গাছপালা, নদীনালা, ক্ষেত, ফলমূল, আকর্ষণীয় দৃশ্য, চিত্তাকর্ষক বাগান, শব্দাবলী, আকর্ষণীয় চিত্র, স্বর্ণ, রোপ্য, ঘোড়া, উট ইত্যাদি এই সবগুলোকে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার জন্য শোভা বানিয়েছেন এবং তাদের জন্য পরীক্ষা ও ফেতনা স্বরূপ করেছেন। তা সত্বেও আল্লাহ তায়ালা এগুলোকে বিনাশ করবেন এবং যমীন পুনরায় তৃণবিহীন ভূমিতে পরিণত হবে।
সুতরাং মানুষ যখন এই বাস্তবতা উপলব্ধি করবে এবং তার প্রতি ঈমান রাখবে, তাহলে কি সে অদূরদর্শী হতে পারে এবং আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার এই কষ্টদায়ক প্রবৃত্তিকে অগ্রাধিকার দিতে পারে?! মহান আল্লাহ বলেন: ﴾إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا * حَدَائِقَ وَأَعْنَبًا * وَكَوَاعِبَ أَتْرَابًا * وَكَأْسًا دِهَاقًا * لَّا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّابًا * جَزَاءً مِّن رَّبِّكَ عَطَاءً حِسَابًا﴿ [নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য আছে সাফল্য, উদ্যানসমূহ, আঙ্গুরসমূহ, আর সমবয়স্কা উদভিন্ন যৌবনা তরুণী এবং পরিপূর্ণ পানপাত্র। সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার ও মিথ্যা বাক্য; আপনার রবের পক্ষ থেকে পুরস্কার, যথোচিত দানস্বরূপ।]
সুতরাং ইসলামী শিক্ষার মানহায তার অনুসারীদের নিকট থেকে প্রত্যাশা করে যে, তারা ভবিষ্যতের দিকে ও ভবিষ্যতের আনন্দের দিকে দৃষ্টি দিবে এবং অস্থায়ী দুনিয়া ও তার কষ্ট হতে দূরে থাকবে। তারা প্রবৃত্তি ও তার যন্ত্রণাদায়ক প্রভাবকে প্রত্যাখ্যান করবে যেন স্থায়ী স্বাদ আস্বাদন করতে পারে; যা প্রেমময়ী, দয়াশীল ও ক্ষমাশীল রবের নিকট শেষ হয় না।
টিকাঃ
(১) আদাবুদ দুনিয়া ওয়া আদদ্বীন পৃঃ (২৮)।
(২) সূরা আল-ফাতির: (২৮)।
(৩) তাফসীরে সাদী (৪/২১৬)।
(৪) মিফতাহু দারীস সায়াদা (১/৫২)।
(১) সূরা আল-আনফাল: (২৪)।
(২) আল-জামে লি আহকামিল কুরআনঃ (৭/২৪৭)।
(৩) আল-জাওয়াবুল ইজতেমায়িয়া আয-যহেরাতিল ইদমান (২/৮২)।
(৪) পূর্বোক্ত (২/১২৭)
(১) সহীহ বুখারী (৩/৪৬৩, হাঃ ৫৫৩৪), সহীহ মুসলিম (৪/২০২৬, হাঃ ১৪৬-২৬২৮)।
(২) সুনানে আবু দাউদ (৫/১৬৮, হাঃ ৪৮৩৩), শায়খ আলবানী হাদিসটিকে হাসান বলেছেন, সিলসিলা সহিহা (২/৬৩৩, হাঃ ৯২৭)।
(৩) আল-আখলাক ওয়া আস-সিরা, পৃঃ (২৪)।
(৪) সূরা আল-ফুরকানঃ (২৭-২৯)।
(৫) ইকতেযাইস সিরাত আল-মুস্তাকিম পৃঃ (২৫)।
(৬) আল-জাওয়াবুল ইজতেমায়িয়া আয-যহেরাতিল ইদমান (২/৯০)।
(১) সূরা আল মায়েদাঃ (৪৪)।
(২) সূরা আল মায়েদাঃ (৪৫)।
(৩) তাফসীরে সাদী (১/৪৮৮-৪৮৯)।
(৪) আত-তারবিয়া ইসলামিয়া ওয়া দাওরুহা ফি মুকাফাহাতিল জারিমা পৃঃ (২২৪)।
(৫) সহীহ মুসলিম (৩/১৩১৫, হাঃ ১/১৬৮৮)।
(৬) সূরা আন-নূরঃ (২)।
(১) ইলমু ইজতেমায়ীল ইকাব (১/১১৫)।
(২) ওকী বিন হিব্বান রচিত, আখবারুল কুযা (১/১০৪)।
(১) সহীহ মুসলিম (২/৫৯২, হাঃ ৮৬৭)।
(২) মিম্বারুল জুমআ, আমানাহ ওয়া মাসউলিয়াহ পৃঃ (২১)।
(১) দেখুনঃ মিম্বারুল জুমআ, আমানাহ ওয়া মাসউলিয়াহ।
(২) সুনানে আবু দাউদ (১/৬৬৫, হাঃ ১১১২)।
(১) সূরা ইউসুফঃ (৫৩)।
(২) ইবনে তাইমিয়া রচিত সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, পৃঃ (৪০-৪১)।
(৩) সূরা আন-নাযিয়াতঃ (৪০-৪১)।
(১) সূরা ইউসুফঃ (৯০)।
(২) তাফসীরে সাদী (২/৪৩৪)।
(১) সূরা আল-আলাঃ (১৬-১৭)।
(২) সূরা আল-বাকারাঃ (১৫৬)।
(৩) সূরা আল-মুলকঃ (২)।
(৪) সূরা আল-কাহাফঃ (৭)।
(৫) তাফসীরে সাদী (৩/১৪৩)।