📄 চারিত্রিক শিক্ষা এবং চারিত্রিক হুকুম আরোপের ভিত্তিসমূহ
চারিত্রিক শিক্ষার বুনিয়াদ সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে দু'টি বিষয়ে অবগত হওয়া প্রয়োজন: তন্মধ্যে একটি হল চারিত্রিক হুকুম আরোপের সাথে সম্পর্কিত; কেননা এটি মানুষের মাঝে চারিত্রিক ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তরবিয়তি কার্যক্রমের উপর এর প্রভাব রয়েছে।
দ্বিতীয়টি হল চারিত্রিক শিক্ষার বুনিয়াদের সাথে সম্পর্কিত। এর আলোচনা নিম্নরূপ:
প্রথমত: চারিত্রিক হুকুম আরোপ:
চারিত্রিক হুকুম আরোপ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মানুষেরা একে অপরের উপর যে প্রশংসনীয় বা নিন্দিত বিশেষণ আরোপ করে।
একে অন্যের উপর মানুষেরা যে হুকুম আরোপ করে সেক্ষেত্রে তাদের মাঝে ব্যবধান রয়েছে। তুমি কাউকে দেখবে যে ধারাবাহিকভাবে তার উপকরা করার পরেও যখন একবার করবেনা তখন সে তার সাথে সংঘটিত সর্বশেষ আচরণের সাথে তোমাকে সম্পৃক্ত করবে এবং সে ভুলে যাবে তোমার প্রকৃত ভাল আচরণ। আর কিছু মানুষকে দেখবে যে তারা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের বলায়, বক্তৃতায় এবং কাজে সামান্য ভুল পেলে তা উল্লেখ করে। আবার কখনো তাদের স্বাভাবিক মহৎ চারিত্রিক গুণাবলীর বিপরীত গুণে তাদেরকে অভিযুক্ত করে।
এ জন্য মানুষের চরিত্রে, তাদের লেনদেনে, তাদের আন্তঃসম্পর্ক ও বিচ্ছিন্নতায়, তাদের পারস্পরিক নৈকট্য ও দূরত্বে এবং শত্রুতা ও মিত্রতায় চারিত্রিক হুকুম আরোপের প্রভাব রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপূর্ণ শরয়ী বিধানের আলোকে এর জন্য মূলনীতি তৈরি করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
চারিত্রিক আচরণ যদি এমন প্রতিটি গুণ হয় যা ব্যক্তি নিজের মাঝে বা অন্যের সাথে আচারণে ধারণ করে এবং তা তার স্বভাবে পরিণত হয়; তাহলে এর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যতিক্রমী আচরণ বাদ দেয়া হবে যা মানুষের সহজাত চরিত্র বা ব্যক্তির জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। কেননা যে ব্যক্তিকে মানুষেরা কৃপণ হিসেবে জেনে অভ্যস্ত সে যদি কোন প্রলোভনে হঠাৎ কখনো দান করে; তাহলে সে এই একক কর্মের বিনিময়ে দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হওয়ার উপযুক্ত নয়। কেননা এই গুণসহ অন্যান্য গুণ হারিয়ে যায় যখন এর উদ্দেশ্য লোপ পায়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তির যদি দান করা অভ্যাস হয়ে থাকে এবং সে যদি হঠাৎ আগত জাগতিক বা অন্যান্য কারণে এ গুণটি হারিয়ে ফেলে; তাহলে তার উপর কৃপণতার হুকুম আরোপ করা হবে না; কেননা তার উপর এ হুকুম আরোপ করলে যুলুম করা হবে। সহীহ বুখারীর হাদিসে এসেছে রাসূল সাঃ তার কসওয়া উটনী সম্পর্কে বলেছেন: (কসওয়া জিদ করেনি এবং এটা তার স্বভাবজাতও নয়।) (১)
ইবনে হাজার রহিঃ বলেন: “অত্র হাদিসে কোন কিছুর উপর তার অভ্যাস অনুপাতে হুকুম আরোপের বৈধতা রয়েছে, যদিও তার অভ্যাসের বিপরীত কিছু আকস্মিকভাবে তার উপর আসতে পারে। সুতরাং কোন ব্যক্তি থেকে যদি এমন কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশ পায় যার অনুরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি তার থেকে সাধারণত পাওয়া যায় না; তাহলে সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির সাথে তাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে না”।(১) বস্তুত ভুলকে ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত করা যায়, ব্যক্তিকে ভুলে দিকে নয়।
এ নীতির আলোকে ব্যক্তির আচরণে আকস্মিক আগত ভাল বা মন্দ স্বভাব দ্বারা তাকে গুণান্বিত করা যাবে না; বরং এক্ষেত্রে সে যে স্বভাব, চরিত্র ও অভ্যাসের উপর গড়ে উঠেছে এবং পরিচিত হয়েছে; তাই গ্রহণীয় দলীল। যদিও ভুল তার দিকে সম্বন্ধিত করা যাবে কিন্তু সেটিকে তার স্বভাব হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না। আর শরয়ী দণ্ডবিধি ও বিচারিক রায়ের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
দ্বিতীয়ত: চারিত্রিক শিক্ষার ভিত্তিসমূহ:
শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চারিত্রিক শিক্ষার কার্যক্রম নির্ভর করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর:
১- উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ব্যক্তি ও সমাজের উপর তার প্রতিফল এবং উপকারিতা বর্ণনা করার মাধ্যমে।
২- মন্দ চারিত্রিক গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ব্যক্তি ও সমাজের উপর তার কুফল এবং ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা করার মাধ্যমে।
৩- কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত দলীল এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতের উলামাদের থেকে বর্ণিত উক্তির দ্বারা উক্ত দিকনির্দেশনাকে শক্তিশালী করা।
৪- চারিত্রিক অংশে গুরুত্ব দেয় না এমন সমাজের নৈতিক অধঃপতন সম্পর্কে যা দেখা যায় এবং শোনা যায় তার সাথে এই নির্দেশনাগুলোকে সংযুক্ত করা। আর তা হবে ঘটনা বর্ণনা, উদাহরণ পেশ এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীরা যে দুর্ঘটনা, বিপদাপদ এবং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে।
শিক্ষা কার্যক্রমে এই পদ্ধতির অনুসরণ শিক্ষার্থীর মনে বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করে; কেননা এই পদ্ধতি বিশদ বিবরণ, বিশ্লেষণ, বক্তব্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী করণকে ধারণ করার সাথে সাথে সেগুলোকে প্রত্যক্ষ অথবা শ্রুত বাস্তবতার সাথে যুক্ত করে।
এর মাধ্যমে এই ইসলামী মহান মূলনীতির গুরুত্ব সুস্পষ্ট হয়। যে মূলনীতি মানুষের সুপ্ত বাসনা ও তার ধারণ করা গুণাবলীকে বর্ণনা করে এবং যা নিজের সাথে ও অন্যের সাথে তার আচরণ এব কর্মে প্রতিফলিত হয়। আর ইসলাম এই মূলনীতির প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে ফলে এটি নবী প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে; যিনি আগমন করেছেন উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিতে।
কিন্তু কিছু মানুষ এই মূলনীতিকে ভিন্ন অর্থে, সংজ্ঞায় এবং পদ্ধতিতে বুঝে থাকে; ফলে মানুষের মাঝে পরিমাপক এবং হুকুম ভিন্নতর হয়ে থাকে। এ জন্য এই পরিচ্ছদে শিষ্টাচারকে বুঝা ও তা প্রয়োগের জন্য সংজ্ঞা এবং পদ্ধতিগত মূলনীতি আলোচিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে চারিত্রিক শিক্ষার ভিত্তিসমূহকে ধারণ করাও আবশ্যকীয় কর্তব্য।
টিকাঃ
(১) সহীহ বুখারী (২/২৭৯, হা: ২৭৩১, ২৭৩২)।
(১) ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী (৫/৩৩৫)।
চারিত্রিক শিক্ষার বুনিয়াদ সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে দু'টি বিষয়ে অবগত হওয়া প্রয়োজন: তন্মধ্যে একটি হল চারিত্রিক হুকুম আরোপের সাথে সম্পর্কিত; কেননা এটি মানুষের মাঝে চারিত্রিক ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তরবিয়তি কার্যক্রমের উপর এর প্রভাব রয়েছে।
দ্বিতীয়টি হল চারিত্রিক শিক্ষার বুনিয়াদের সাথে সম্পর্কিত। এর আলোচনা নিম্নরূপ:
প্রথমত: চারিত্রিক হুকুম আরোপ:
চারিত্রিক হুকুম আরোপ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মানুষেরা একে অপরের উপর যে প্রশংসনীয় বা নিন্দিত বিশেষণ আরোপ করে।
একে অন্যের উপর মানুষেরা যে হুকুম আরোপ করে সেক্ষেত্রে তাদের মাঝে ব্যবধান রয়েছে। তুমি কাউকে দেখবে যে ধারাবাহিকভাবে তার উপকরা করার পরেও যখন একবার করবেনা তখন সে তার সাথে সংঘটিত সর্বশেষ আচরণের সাথে তোমাকে সম্পৃক্ত করবে এবং সে ভুলে যাবে তোমার প্রকৃত ভাল আচরণ। আর কিছু মানুষকে দেখবে যে তারা মর্যাদাবান ব্যক্তিদের বলায়, বক্তৃতায় এবং কাজে সামান্য ভুল পেলে তা উল্লেখ করে। আবার কখনো তাদের স্বাভাবিক মহৎ চারিত্রিক গুণাবলীর বিপরীত গুণে তাদেরকে অভিযুক্ত করে।
এ জন্য মানুষের চরিত্রে, তাদের লেনদেনে, তাদের আন্তঃসম্পর্ক ও বিচ্ছিন্নতায়, তাদের পারস্পরিক নৈকট্য ও দূরত্বে এবং শত্রুতা ও মিত্রতায় চারিত্রিক হুকুম আরোপের প্রভাব রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে প্রজ্ঞাপূর্ণ শরয়ী বিধানের আলোকে এর জন্য মূলনীতি তৈরি করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
চারিত্রিক আচরণ যদি এমন প্রতিটি গুণ হয় যা ব্যক্তি নিজের মাঝে বা অন্যের সাথে আচারণে ধারণ করে এবং তা তার স্বভাবে পরিণত হয়; তাহলে এর মাধ্যমে প্রতিটি ব্যতিক্রমী আচরণ বাদ দেয়া হবে যা মানুষের সহজাত চরিত্র বা ব্যক্তির জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়। কেননা যে ব্যক্তিকে মানুষেরা কৃপণ হিসেবে জেনে অভ্যস্ত সে যদি কোন প্রলোভনে হঠাৎ কখনো দান করে; তাহলে সে এই একক কর্মের বিনিময়ে দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হওয়ার উপযুক্ত নয়। কেননা এই গুণসহ অন্যান্য গুণ হারিয়ে যায় যখন এর উদ্দেশ্য লোপ পায়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তির যদি দান করা অভ্যাস হয়ে থাকে এবং সে যদি হঠাৎ আগত জাগতিক বা অন্যান্য কারণে এ গুণটি হারিয়ে ফেলে; তাহলে তার উপর কৃপণতার হুকুম আরোপ করা হবে না; কেননা তার উপর এ হুকুম আরোপ করলে যুলুম করা হবে। সহীহ বুখারীর হাদিসে এসেছে রাসূল সাঃ তার কসওয়া উটনী সম্পর্কে বলেছেন: (কসওয়া জিদ করেনি এবং এটা তার স্বভাবজাতও নয়।) (১)
ইবনে হাজার রহিঃ বলেন: “অত্র হাদিসে কোন কিছুর উপর তার অভ্যাস অনুপাতে হুকুম আরোপের বৈধতা রয়েছে, যদিও তার অভ্যাসের বিপরীত কিছু আকস্মিকভাবে তার উপর আসতে পারে। সুতরাং কোন ব্যক্তি থেকে যদি এমন কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশ পায় যার অনুরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি তার থেকে সাধারণত পাওয়া যায় না; তাহলে সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির সাথে তাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে না”।(১) বস্তুত ভুলকে ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত করা যায়, ব্যক্তিকে ভুলে দিকে নয়।
এ নীতির আলোকে ব্যক্তির আচরণে আকস্মিক আগত ভাল বা মন্দ স্বভাব দ্বারা তাকে গুণান্বিত করা যাবে না; বরং এক্ষেত্রে সে যে স্বভাব, চরিত্র ও অভ্যাসের উপর গড়ে উঠেছে এবং পরিচিত হয়েছে; তাই গ্রহণীয় দলীল। যদিও ভুল তার দিকে সম্বন্ধিত করা যাবে কিন্তু সেটিকে তার স্বভাব হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না। আর শরয়ী দণ্ডবিধি ও বিচারিক রায়ের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো আল্লাহর শরীয়ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
দ্বিতীয়ত: চারিত্রিক শিক্ষার ভিত্তিসমূহ:
শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চারিত্রিক শিক্ষার কার্যক্রম নির্ভর করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর:
১- উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ব্যক্তি ও সমাজের উপর তার প্রতিফল এবং উপকারিতা বর্ণনা করার মাধ্যমে।
২- মন্দ চারিত্রিক গুণাবলী বিশ্লেষণ করা ব্যক্তি ও সমাজের উপর তার কুফল এবং ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা করার মাধ্যমে।
৩- কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত দলীল এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উম্মতের উলামাদের থেকে বর্ণিত উক্তির দ্বারা উক্ত দিকনির্দেশনাকে শক্তিশালী করা।
৪- চারিত্রিক অংশে গুরুত্ব দেয় না এমন সমাজের নৈতিক অধঃপতন সম্পর্কে যা দেখা যায় এবং শোনা যায় তার সাথে এই নির্দেশনাগুলোকে সংযুক্ত করা। আর তা হবে ঘটনা বর্ণনা, উদাহরণ পেশ এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীরা যে দুর্ঘটনা, বিপদাপদ এবং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে।
শিক্ষা কার্যক্রমে এই পদ্ধতির অনুসরণ শিক্ষার্থীর মনে বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করে; কেননা এই পদ্ধতি বিশদ বিবরণ, বিশ্লেষণ, বক্তব্যকে দলীল-প্রমাণ দ্বারা শক্তিশালী করণকে ধারণ করার সাথে সাথে সেগুলোকে প্রত্যক্ষ অথবা শ্রুত বাস্তবতার সাথে যুক্ত করে।
এর মাধ্যমে এই ইসলামী মহান মূলনীতির গুরুত্ব সুস্পষ্ট হয়। যে মূলনীতি মানুষের সুপ্ত বাসনা ও তার ধারণ করা গুণাবলীকে বর্ণনা করে এবং যা নিজের সাথে ও অন্যের সাথে তার আচরণ এব কর্মে প্রতিফলিত হয়। আর ইসলাম এই মূলনীতির প্রতি ব্যাপক গুরুত্বারোপ করেছে ফলে এটি নবী প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে; যিনি আগমন করেছেন উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিতে।
কিন্তু কিছু মানুষ এই মূলনীতিকে ভিন্ন অর্থে, সংজ্ঞায় এবং পদ্ধতিতে বুঝে থাকে; ফলে মানুষের মাঝে পরিমাপক এবং হুকুম ভিন্নতর হয়ে থাকে। এ জন্য এই পরিচ্ছদে শিষ্টাচারকে বুঝা ও তা প্রয়োগের জন্য সংজ্ঞা এবং পদ্ধতিগত মূলনীতি আলোচিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে চারিত্রিক শিক্ষার ভিত্তিসমূহকে ধারণ করাও আবশ্যকীয় কর্তব্য।
টিকাঃ
(১) সহীহ বুখারী (২/২৭৯, হা: ২৭৩১, ২৭৩২)।
(১) ইবনে হাজার, ফাতহুল বারী (৫/৩৩৫)।
📄 সারসংক্ষেপ
আমরা এই পরিচ্ছেদে কুরআন, সুন্নাহ, অভিধান এবং উলামাদের পরিভাষায় 'আখলাক' বা শিষ্টাচারের পরিচয় উল্লেখ করেছি; যা থেকে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, শিষ্টাচারের কিছু অংশ সহজাত এবং কিছু অংশ অর্জনীয়। আর ‘আখলাক' শব্দটি ভাল ও মন্দ চরিত্র দুটো বুঝাতেই ব্যবহৃত হয় এবং প্রতীয়মান হয়েছে যে, কুরআন, সুন্নাহ, অভিধান ও পরিভাষায় আখলাকের অর্থ একই।
এর পর আমরা এ ফলাফল বের করেছি যে, নন্দিত চরিত্র হল: প্রতিটি উত্তম গুণাবলী যা একজন মানুষ আল্লাহর খালেস নিয়তে ও তাঁর পদ্ধতি অনুযায়ী ধারণ করে।
পক্ষান্তরে নিন্দিত চরিত্র হল: প্রতিটি গুণাবলী যা আল্লাহর প্রদর্শিত পদ্ধতি ও তাঁর খালেস নিয়ত ব্যতীত মানুষ ধারণ করে থাকে।
আর চারিত্রিক আচরণ হল: প্রতিটি গুণাবলী যা মানুষ নিজের মাঝে অথবা অন্যের সাথে লেনদেনে ধারণ করে এবং এটি তার স্বভাবে পরিণত হয়; চাই তা সহজাত বা অর্জনীয়, নন্দিত বা নিন্দিত হোক।
ইসলামী চরিত্রের ভিত্তিসমূহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামের মানদণ্ডে উত্তম চরিত্রের চারিত্রিক মূল্য তখনই অর্জিত হবে যখন তা আল্লাহর খালেস নিয়তে এবং ইসলামী মানহাযের কাঠামোর মধ্যে থেকে ধারণ করা হবে। আরো প্রতীয়মান হয়েছে যে, ইসলামী চরিত্রের ভিত্তিসমূহ যার উপর স্থাপিত তা হল আরোপিত। অর্থাৎ ইসলামী চরিত্র ধারণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি সহজ, সরল ও মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এর মাঝে মানুষের সাধ্য ও সক্ষমতার বাইরে কোন চাপ নেই।
স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামী চরিত্র তার আওতায় লজ্জাশীলতা, ধৈর্য, সত্যবাদিতা, কোমলতা, দয়া এবং আমানতদারিতা ন্যায় সকল উত্তম গুণাবলীকে ধারণ করে। অনুরূপভাবে তা রবের সাথে, নবীর সাথে এবং সমাজের সকলের সাথে বান্দার আদবের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামী চরিত্রের ধারণা জীবনের সকল ক্ষেত্র ও মানুষের সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ইসলামী চরিত্র হল উপযুক্ত মানহায যা সমাজের পার্থিব ও পরকালীন সুখ-শান্তি নিশ্চিত করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মানুষের মাঝে সম্পর্কের অবনতি, সামাজিক ভাঙ্গন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণ হল ইসলামী তরবিয়তের মানহায থেকে সমাজগুলোর দূরে সরে যাওয়া।
আমরা এই পরিচ্ছেদে কুরআন, সুন্নাহ, অভিধান এবং উলামাদের পরিভাষায় 'আখলাক' বা শিষ্টাচারের পরিচয় উল্লেখ করেছি; যা থেকে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, শিষ্টাচারের কিছু অংশ সহজাত এবং কিছু অংশ অর্জনীয়। আর ‘আখলাক' শব্দটি ভাল ও মন্দ চরিত্র দুটো বুঝাতেই ব্যবহৃত হয় এবং প্রতীয়মান হয়েছে যে, কুরআন, সুন্নাহ, অভিধান ও পরিভাষায় আখলাকের অর্থ একই।
এর পর আমরা এ ফলাফল বের করেছি যে, নন্দিত চরিত্র হল: প্রতিটি উত্তম গুণাবলী যা একজন মানুষ আল্লাহর খালেস নিয়তে ও তাঁর পদ্ধতি অনুযায়ী ধারণ করে।
পক্ষান্তরে নিন্দিত চরিত্র হল: প্রতিটি গুণাবলী যা আল্লাহর প্রদর্শিত পদ্ধতি ও তাঁর খালেস নিয়ত ব্যতীত মানুষ ধারণ করে থাকে।
আর চারিত্রিক আচরণ হল: প্রতিটি গুণাবলী যা মানুষ নিজের মাঝে অথবা অন্যের সাথে লেনদেনে ধারণ করে এবং এটি তার স্বভাবে পরিণত হয়; চাই তা সহজাত বা অর্জনীয়, নন্দিত বা নিন্দিত হোক।
ইসলামী চরিত্রের ভিত্তিসমূহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামের মানদণ্ডে উত্তম চরিত্রের চারিত্রিক মূল্য তখনই অর্জিত হবে যখন তা আল্লাহর খালেস নিয়তে এবং ইসলামী মানহাযের কাঠামোর মধ্যে থেকে ধারণ করা হবে। আরো প্রতীয়মান হয়েছে যে, ইসলামী চরিত্রের ভিত্তিসমূহ যার উপর স্থাপিত তা হল আরোপিত। অর্থাৎ ইসলামী চরিত্র ধারণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক, এটি সহজ, সরল ও মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এর মাঝে মানুষের সাধ্য ও সক্ষমতার বাইরে কোন চাপ নেই।
স্পষ্ট হয়েছে যে, ইসলামী চরিত্র তার আওতায় লজ্জাশীলতা, ধৈর্য, সত্যবাদিতা, কোমলতা, দয়া এবং আমানতদারিতা ন্যায় সকল উত্তম গুণাবলীকে ধারণ করে। অনুরূপভাবে তা রবের সাথে, নবীর সাথে এবং সমাজের সকলের সাথে বান্দার আদবের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামী চরিত্রের ধারণা জীবনের সকল ক্ষেত্র ও মানুষের সম্পর্ককে অন্তর্ভুক্ত করে। আর ইসলামী চরিত্র হল উপযুক্ত মানহায যা সমাজের পার্থিব ও পরকালীন সুখ-শান্তি নিশ্চিত করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মানুষের মাঝে সম্পর্কের অবনতি, সামাজিক ভাঙ্গন ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণ হল ইসলামী তরবিয়তের মানহায থেকে সমাজগুলোর দূরে সরে যাওয়া।