📄 ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, আমরা তার প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের হৃদয়ের অনিষ্টতা এবং মন্দ আমল থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে সুপথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং যাকে তিনি বিপথগামী করেন তাকে সুপথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন মাবুদ নেই, তিনি একক ও তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ সাঃ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির উপর অগণিত নেয়ামত ও অপরিসীমিত অনুগ্রহ দান করেছেন; তন্মধ্যে রাসূলগণ পাঠানোতে বিরতী পরবর্তী সময়ে মুহাম্মাদ সাঃ কে প্রেরণ করা। আর এটি ছিল কালপ্রবাহে মানুষের নিকট এমন সময় আগমন করার পর যখন সে তার মনোবৃত্তি অনুসরণ করে চারিত্রিক অধপতনের অতল গহবরে নিমজ্জিত হয়েছিল। অতঃপর মানবজাতিকে উদ্ধার এবং পূর্ববর্তী আসমানী রেসালাত যে প্রশংসিত চরিত্রের সূচনা করেছিল তা পূর্ণতা দেয়ার লক্ষ্যে মুহাম্মাদ সাঃ এর রেসালাতের আগমন ঘটল। ফলে তার রেসালাত উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দিল যেমনটি তিনি বলেছেন: (সর্বোত্তম স্বভাব-চরিত্রের পূর্ণতা দান করার জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।) (১) রাসূল সাঃ সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত ছিলেন যেমনটি আল্লাহ তায়ালা তার ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন:﴾وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ﴿ ]আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর রয়েছেন।](২) সুতরাং আল্লাহ তায়ালা তার মাধ্যমে সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দান করেছেন। ফলে তিনি তার উম্মতকে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী ও শরয়ী শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন এবং শিক্ষা ও অনুসরণীয় আদর্শের মাধ্যমে তা অর্জনের উপায় তাদেরকে বিশদভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
ইসলামে স্বভাব-চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করেছে; ফলে নিষ্কলুষ হৃদয় এবং সঠিক ফিতরাত তা প্রবলভাবে পেতে চায়। অনুরূপভাবে ইসলামী শিষ্টাচার সমগ্র দ্বীনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং রব, নিজ সত্ত্বা ও সমাজের সাথে মানুষের সম্পর্ককে নির্ধারণ ও সুবিন্যস্ত করেছে। ফলে ইসলামী শিষ্টাচার সমগ্র মানবজাতির সংশোধনের জামিনদারে পরিণত হয়েছে।
আর যখন তরবিয়ত বা পরিপালন কর্মতৎপরতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইসলামী সমাজে ভিন্ন সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে তখন সমাজের কিছু চরিত্রের গতিপথ ইসলামী পরিপালন পদ্ধতির বিপরীত দিকে মোড় নেয়। এমতাবস্থায় এমন বিকৃত চরিত্র প্রকাশ পায় যা ইসলামী পরিপালন পদ্ধতি থেকে দূরে সরে গিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।
অনেকগুলো চারিত্রিক বিষয়াবলী, মূলনীতি এবং গুণাবলী ধারণ করে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন আগমন করেছে। এছাড়াও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে খারাপ ও বিকৃত চরিত্র সম্পর্কিত বিষয় এবং তা সংশোধনের পথ-পদ্ধতির চমৎকার বর্ণনা, মন্দ চরিত্রের ক্ষতিকর দিকসমূহ এবং এ বিকৃত চরিত্রের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব-কর্তব্য।
আমি মহাজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রত্যাশা করছি যে, এ গ্রন্থটিকে এই উম্মতের বিনির্মাণে কার্যকর এবং উপকারী কর্ম হিসেবে পরিণত করবেন, একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গ্রহণ করবেন এবং এটিকে কিয়ামত দিবস অবধি সাদাকা জারিয়া হিসেবে কবুল করে নিবেন। এ গ্রন্থে যা কিছু সঠিক তা তো আল্লাহ তায়ালার তাওফীকে সম্ভব হয়েছে এবং যে সব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে সে বিষয়ে আমার দোয়া হল: رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ]হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না।] অনুরূপভাবে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এবং আপনাদেরকে কথা ও কাজে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনের তাওফীক দান করেন এবং অসৎ চরিত্র ও তার শাস্তি এবং মন্দ পরিণাম থেকে দূরে রাখেন।
আর আমাদের শেষ ধ্বনি হল ‘সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর প্রাপ্য'। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সর্দার আমাদের নবী মুহাম্মাদ ও তার পরিবার-পরিজন এবং সকল সহচরবৃন্দের উপর।
আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাহ ২৭/১১/১৪২৮ হিঃ
টিকাঃ
(১) মুসনাদে আহমদ (২/৩৮১), মুয়াত্তা (২/৯০৪, হা: ৮), শাইখ আলবানী জামেউস সগীরে (হা: ২৩৪৯) এটিকে সহীহ বলেছেন।
(২) সূরা আল-কলম: (০৪)।