📄 কাতারের শারঈ বিচারব্যবস্থা
কাতার হচ্ছে আরব সাগরের একটি উপদ্বীপ। যার আয়তন ১১,৪৩৭ বর্গ কিলোমিটার। এর জনসংখ্যা হলো ৩ লাখ ৬৯ হাজার। এখানকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ইসলামি শরীয়ত কাতারের আইনের মূল উৎস। উত্তরাধিকার সূত্রে ‘সানি’ পরিবারের মধ্যেই কাতারের শাসন ক্ষমতা চলে আসছে। সানি পরিবারের মূল এবং প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন সানি ইবনু মুহাম্মাদ। যিনি ১৮৬৮ সালে কাতার শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩/১১/১৯৭১ সালে কাতার স্বাধীনতা লাভ করে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কাতারের বিচারব্যবস্থা বিশেষ পদ্ধতিতে দ্বৈত এবং মিশ্র ব্যবস্থাপনা। কাতারের বেসামরিক আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। আর শারঈ আদালত পরিচালিত হয় সরাসরি রাষ্ট্রের অধীনে। এই বিচারব্যবস্থাপনা ব্রিটিশদের সাথে অঙ্গীকারকৃত স্বাধীনতার শর্তের অন্তর্ভুক্ত। বেসামরিক ব্যবস্থাপনার আদালত একটি ক্ষুদ্র ফৌজদারি আদালত, একটি বৃহৎ ফৌজদারি আদালত এবং একটি আপিল আদালতের সমন্বয়ে গঠিত। কাতারে কোনো রেফার আদালত নেই।
শারঈ বিচার বিভাগটি শারঈ আদালতের প্রেসিডেন্সি নামে একটি বিভাগের সাথে সংযুক্ত। ১ মুহাররম ১৩৭৮ হিজরিতে ১৯৫৮ সালে শারঈ আদালতের প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৩৯২ হিজরিতে ১৯৭২ সালে এই বিভাগের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৩৯৩ হিজরিতে ১৯৭৩ সালে বিভাগটির নাম শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সি রাখা হয়। শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৮৭ সালে ৮ নং আইন জারি করা হয়। এই বিভাগটি সরাসরি আমিরের অনুগামী একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগটিকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালের ২ নং আইনে একটি নির্দেশ জারি হয়। যা-তে শাইখ আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদকে একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় শারঈ আদালত ও ধর্মীয় বিষয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেসিডেন্সিতে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:
(১) শারঈ আদালত।
(২) ওয়াকফ বিষয়ক বিভাগ।
(৩) ইসলামি বিষয় পরিচালনা বিভাগ।
(৪) উত্তরাধিকার সম্পদ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
(৫) অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক বিভাগ।
(৬) গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র।
শারঈ আদালতের অধীনে কয়েকটি আদালত আছে। সেগুলো হচ্ছে:
১. সর্বোচ্চ শারঈ আদালত।
২. প্রথম শারঈ আদালত।
৩. দ্বিতীয় শারঈ আদালত।
৪. প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অফিস।
৫. নির্বাহী বিভাগ।
৬. স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা কমিটির অফিস।
৭. বৈবাহিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অফিস।
শারঈ আদালতের পরিচালক সর্বোচ্চ শারঈ আদালতের প্রধান। উত্তরাধিকার সম্পত্তি বিষয় আদালত পরিচালনার জন্য শারঈ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আদালত অনেকটা রেফার আদালতের মতো।
প্রথম এবং দ্বিতীয় আদালতের রায়ের জন্য নিরীক্ষণ এবং অডিটের ক্ষেত্রে এই আদালত অনেকটা আপিল আদালতের মতো। শারঈ বিষয়গুলো পরিচালনার দায়িত্ব না থাকায় প্রথমবারের মতো এই আদালতটি কিসাস, হাত কাটার শাস্তি এবং রক্তপণের মামলাগুলো পরিচালনা করে। প্রথম শারঈ আদালত চারজন বিচারক নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় শারঈ আদালত দুজন বিচারক নিয়ে গঠিত। হাম্বলি মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত অনুসারে একজন বিচারকের পক্ষ থেকে রায় জারি করা হয়। তবে বিচারক যদি অন্য কোনো মাযহাবের কোনো মতকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন তাহলে ভিন্ন কথা। মামলা আপিলের সময় অথবা গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির জন্য প্রথম আদালতের বিচারকের নেতৃত্বে বিচারকরা সম্মিলিত এজলাসে বসেন।
শারঈ আদালতের পরিধি কেবল মুসলিমদের ব্যক্তিগত মামলা ও অপরাধ, ফৌজদারি অপরাধ, কিসাস, পুলিশ কর্তৃক উত্থাপিত শাস্তি, ইসলাম এবং বিবাহ ঘোষণার ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে। হাত কাটার শাস্তি শারঈ আদালতের পরিধি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাত কাটার বিধান বেসামরিক আদালতে রেফার করে দেয়া হয়েছে যে, এই শাস্তির ক্ষেত্রে হাত কাটা হবে না। মাদক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলাও শারঈ আদালত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শারঈ আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, পরিধি নির্ধারণ এবং তার পদ্ধতি সম্পর্কে একটি বিশেষ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে প্রকাশের ক্ষেত্রে গবেষণা ও পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রীপরিষদে পেশ করা হয়েছে।
টিকাঃ
[১১৮০] ১২৮৫ হিজরি মোতাবেক ১৮৬৮ সালে কাতারের প্রথম বিচারক ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু হামদান। এরপর তার পরিবর্তে সানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর ১৩৩২ হিজরি মোতাবেক ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বাহরাইন থেকে মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল আজিজ আল-মানি'কে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ১৩৫৯ হিজরি মোতাবেক ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিচার বিভাগ এবং আদালত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে কাতারে প্রথম শারঈ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।
[১১৮১] রিআসাতুল মাহাকিমিশ শারইয়্যাহ ওয়াশ শুউনিদ দীনিয়্যাহ বি কাতার, পৃ. ১০
কাতার হচ্ছে আরব সাগরের একটি উপদ্বীপ। যার আয়তন ১১,৪৩৭ বর্গ কিলোমিটার। এর জনসংখ্যা হলো ৩ লাখ ৬৯ হাজার। এখানকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। ইসলামি শরীয়ত কাতারের আইনের মূল উৎস। উত্তরাধিকার সূত্রে ‘সানি’ পরিবারের মধ্যেই কাতারের শাসন ক্ষমতা চলে আসছে। সানি পরিবারের মূল এবং প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন সানি ইবনু মুহাম্মাদ। যিনি ১৮৬৮ সালে কাতার শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩/১১/১৯৭১ সালে কাতার স্বাধীনতা লাভ করে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কাতারের বিচারব্যবস্থা বিশেষ পদ্ধতিতে দ্বৈত এবং মিশ্র ব্যবস্থাপনা। কাতারের বেসামরিক আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। আর শারঈ আদালত পরিচালিত হয় সরাসরি রাষ্ট্রের অধীনে। এই বিচারব্যবস্থাপনা ব্রিটিশদের সাথে অঙ্গীকারকৃত স্বাধীনতার শর্তের অন্তর্ভুক্ত। বেসামরিক ব্যবস্থাপনার আদালত একটি ক্ষুদ্র ফৌজদারি আদালত, একটি বৃহৎ ফৌজদারি আদালত এবং একটি আপিল আদালতের সমন্বয়ে গঠিত। কাতারে কোনো রেফার আদালত নেই।
শারঈ বিচার বিভাগটি শারঈ আদালতের প্রেসিডেন্সি নামে একটি বিভাগের সাথে সংযুক্ত। ১ মুহাররম ১৩৭৮ হিজরিতে ১৯৫৮ সালে শারঈ আদালতের প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৩৯২ হিজরিতে ১৯৭২ সালে এই বিভাগের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৩৯৩ হিজরিতে ১৯৭৩ সালে বিভাগটির নাম শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সি রাখা হয়। শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সি নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯৮৭ সালে ৮ নং আইন জারি করা হয়। এই বিভাগটি সরাসরি আমিরের অনুগামী একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভাগটিকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ১৯৮৭ সালের ২ নং আইনে একটি নির্দেশ জারি হয়। যা-তে শাইখ আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদকে একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদায় শারঈ আদালত ও ধর্মীয় বিষয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেসিডেন্সিতে ছয়টি বিভাগ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে:
(১) শারঈ আদালত।
(২) ওয়াকফ বিষয়ক বিভাগ।
(৩) ইসলামি বিষয় পরিচালনা বিভাগ।
(৪) উত্তরাধিকার সম্পদ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
(৫) অর্থনীতি এবং প্রশাসনিক বিভাগ।
(৬) গবেষণা ও তথ্য কেন্দ্র।
শারঈ আদালতের অধীনে কয়েকটি আদালত আছে। সেগুলো হচ্ছে:
১. সর্বোচ্চ শারঈ আদালত।
২. প্রথম শারঈ আদালত।
৩. দ্বিতীয় শারঈ আদালত।
৪. প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অফিস।
৫. নির্বাহী বিভাগ।
৬. স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা কমিটির অফিস।
৭. বৈবাহিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত অফিস।
শারঈ আদালতের পরিচালক সর্বোচ্চ শারঈ আদালতের প্রধান। উত্তরাধিকার সম্পত্তি বিষয় আদালত পরিচালনার জন্য শারঈ বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই আদালত অনেকটা রেফার আদালতের মতো।
প্রথম এবং দ্বিতীয় আদালতের রায়ের জন্য নিরীক্ষণ এবং অডিটের ক্ষেত্রে এই আদালত অনেকটা আপিল আদালতের মতো। শারঈ বিষয়গুলো পরিচালনার দায়িত্ব না থাকায় প্রথমবারের মতো এই আদালতটি কিসাস, হাত কাটার শাস্তি এবং রক্তপণের মামলাগুলো পরিচালনা করে। প্রথম শারঈ আদালত চারজন বিচারক নিয়ে গঠিত। দ্বিতীয় শারঈ আদালত দুজন বিচারক নিয়ে গঠিত। হাম্বলি মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত অনুসারে একজন বিচারকের পক্ষ থেকে রায় জারি করা হয়। তবে বিচারক যদি অন্য কোনো মাযহাবের কোনো মতকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন তাহলে ভিন্ন কথা। মামলা আপিলের সময় অথবা গুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানির জন্য প্রথম আদালতের বিচারকের নেতৃত্বে বিচারকরা সম্মিলিত এজলাসে বসেন।
শারঈ আদালতের পরিধি কেবল মুসলিমদের ব্যক্তিগত মামলা ও অপরাধ, ফৌজদারি অপরাধ, কিসাস, পুলিশ কর্তৃক উত্থাপিত শাস্তি, ইসলাম এবং বিবাহ ঘোষণার ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে। হাত কাটার শাস্তি শারঈ আদালতের পরিধি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। হাত কাটার বিধান বেসামরিক আদালতে রেফার করে দেয়া হয়েছে যে, এই শাস্তির ক্ষেত্রে হাত কাটা হবে না। মাদক এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলাও শারঈ আদালত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
শারঈ আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, পরিধি নির্ধারণ এবং তার পদ্ধতি সম্পর্কে একটি বিশেষ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে প্রকাশের ক্ষেত্রে গবেষণা ও পর্যালোচনা করার জন্য মন্ত্রীপরিষদে পেশ করা হয়েছে।
টিকাঃ
[১১৮০] ১২৮৫ হিজরি মোতাবেক ১৮৬৮ সালে কাতারের প্রথম বিচারক ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু হামদান। এরপর তার পরিবর্তে সানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তারপর ১৩৩২ হিজরি মোতাবেক ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে বাহরাইন থেকে মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল আজিজ আল-মানি'কে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ১৩৫৯ হিজরি মোতাবেক ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা থেকে আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিচার বিভাগ এবং আদালত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে কাতারে প্রথম শারঈ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।
[১১৮১] রিআসাতুল মাহাকিমিশ শারইয়্যাহ ওয়াশ শুউনিদ দীনিয়্যাহ বি কাতার, পৃ. ১০
📄 লেবাননের শারঈ বিচারব্যবস্থা
লেবানন হলো শাম অঞ্চল এবং সাধারণ সিরিয়ার একটি অংশ। বর্তমান যুগের আগে লেবাননের স্বাধীন কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তা সিরিয়ার সাথে মিলে উসমানি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয়, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে এই অঞ্চলে একপ্রকার স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লেবানন ছিল ফরাসি আধিপত্যের করতলে। ১৯৪৩ সালের নভেম্বর মাসে তা ফরাসিদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এখানে ধর্মীয় এবং মতাদর্শ ভিত্তিক অনেকগুলো সম্প্রদায় আছে। তারা হলো: ১. সুন্নি, ২. শিয়া, ৩. দ্রুজ, ৪. ম্যারোনাইট ক্যাথলিক, ৫. রোমান ক্যাথলিক, ৬. আর্মেনিয়ান ক্যাথলিক, ৭. সিরিয়ান ক্যাথলিক, ৮. গ্রিক অর্থোডক্স, ৯. আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স, ১০. সিরিয়ান অর্থোডক্স, ১১. ইভানজেলিকালস, ১২. ক্যালডীয় অ্যাসিরিয়ান, ১৩. ইহুদি।
প্রতিটি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়ের একটি বিশেষ বিচারব্যবস্থা রয়েছে। ধর্ম এবং বিচার বিভাগের প্রতিটি সাম্প্রদায়িক ও আধ্যাত্মিক আদালতের দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক এবং বিশেষায়িত ডিগ্রিধারী বিচারক। সুন্নি এবং শিয়া সম্প্রদায়গুলো আইনশাস্ত্রের চিন্তাধারায় পৃথক ছিল না। তবে ফরাসি আধিপত্যের সময় একটি আধ্যাত্মিক দ্রুজ সম্প্রদায়ের সাথে তারা আলাদা হয়ে ওঠে।
লেবাননের বিচার বিভাগ দ্বৈত। তা একটি সাধারণ বিচার বিভাগ। যা আইন মন্ত্রণালয় এবং একটি ধর্মীয় বিচার বিভাগের সাথে যুক্ত। সাধারণ বিচার বিভাগটি দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং প্রশাসনিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সাধারণ আদালত তিনটি স্তরের সমন্বয়ে গঠিত। যথা: ১. প্রাথমিক আদালত, ২. আপিল আদালত এবং ৩. বিচার সংশ্লিষ্ট আদালত।
লেবাননে শূরা কাউন্সিল বা উপদেষ্টা পরিষদ, অডিট ব্যুরো (হিসাব ও কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে) এবং সামরিক আদালত আছে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় আদালত আছে। এর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটির কথা এখানে উল্লেখ করা হলো।
১. ইসলামি শারঈ আদালত
এটা দুই রকম। একটি হানাফি মাযহাব অনুসারে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করে। উসমানি সালতানাতে যে মাযহাবকে রাষ্ট্রীয় মাযহাব হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর মাঝে এই মাযহাবই এখনো আমলযোগ্য রয়েছে। তবে পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। আরেকটি বিচারব্যবস্থা শিয়াদের ইমাম জাফারের মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করে। শারঈ আদালত দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
একটি প্রাথমিক আদালত। ব্যক্তিগত, ইসলামি ওয়াকফ, অভিভাবক নির্ধারণ, পরিচালক নির্ধারণ, তাদের বরখাস্ত করা, তাদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া—এ সকল শারঈ মামলার ক্ষেত্রে এই আদালতের পরিধি আছে।
আরেকটি হলো শারঈ সর্বোচ্চ আদালত। প্রাথমিক আদালত থেকে সরাসরি প্রকাশিত রায়কে এই আদালতে আপিল করা হয়। অথবা আপিল করা ছাড়াই এই আদালতের অধীনে প্রাথমিক আদালত থেকে প্রকাশিত রায়গুলোকে রেফার করা হয়। যেমন, শারঈ সর্বোচ্চ আদালত প্রাথমিক আদালতের বিচারগুলোকেও পর্যবেক্ষণ করে থাকে। প্রাথমিক আদালতের রায় যদি আইনভিত্তিক হয়, তাহলে সেগুলোকে অনুমোদন দেয়। অন্যথায় এগুলো আবার উত্থাপন করা হয়।
২. দ্রুত ধর্মীয় বিচার আদালত
১৯৫৯ সালে এই বিচারব্যবস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। দুটি বিভাগ নিয়ে এটি গঠিত। একটি হলো প্রাথমিক আদালত। আরেকটি হলো সর্বোচ্চ আপিল আদালত। এই আদালত দ্রুজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ মামলা, দ্রুজ রীতিনীতি এবং তাদের প্রণয়ন করা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের সাথে সম্পৃক্ত লেনদেন এবং বিভিন্ন মামলার দেখাশোনা করে থাকে। সুতরাং তারা যদি কোনো ডকুমেন্ট বা কোনো রীতিনীতি না পায়, তাহলে শারঈ আদালতে গৃহীত মামলা নীতি অথবা দেওয়ানি আইন অনুসারে যেগুলো তাদের ধর্মীয় মত এবং রীতিনীতির সাথে খাপ খায় সেগুলোতে প্রয়োগ করে। তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হয়। তাদের আদালত দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। প্রাথমিক আদালতটি একজন বিচারক নিয়ে গঠিত এবং সর্বোচ্চ আপিল আদালতটি তিনজন বিচারক নিয়ে গঠিত।
৩. গির্জাভিত্তিক আদালত অথবা আধ্যাত্মিক আদালত
এই আদালতগুলো বিভিন্ন ধর্মীয় এবং খ্রিষ্টান ধর্মের মতাবলম্বীদের জন্য। যার আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে করেছি। এই আদালতগুলো ইতিহাসজুড়ে সংঘটিত খ্রিষ্টান কাউন্সিলের আইন প্রয়োগ করে। তারপর ইস্টার্ন চার্চের বিচার আইন জারি করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চল ও ডায়োসিসে অনেকগুলো প্রাথমিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত এমন সব নির্দেশ এবং শিক্ষা বাস্তবায়ন করত, যেগুলো খ্রিষ্টধর্মের আইনবহির্ভূত নয়। তবে প্রমাণ সংগ্রহ, বিবাদী ও সাক্ষীদের উপস্থিত করা এবং ধর্মের সাথে সম্পর্ক নেই এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের সহযোগিতা নেয়ার অনুমোদন ছিল।
টিকাঃ
[১১৮২] আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ ফী লুবনান মিনান নাহিয়াতাইন আল-কানুনিয়্যাহ ওয়াশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৩৪ এবং তানযীমুল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ লিগায়রিল মুসলিমিন ফী সুরিয়্যাহ ওয়া লুবনান, পৃ. ৬৮ দ্রষ্টব্য
লেবানন হলো শাম অঞ্চল এবং সাধারণ সিরিয়ার একটি অংশ। বর্তমান যুগের আগে লেবাননের স্বাধীন কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তা সিরিয়ার সাথে মিলে উসমানি সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয়, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে এই অঞ্চলে একপ্রকার স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লেবানন ছিল ফরাসি আধিপত্যের করতলে। ১৯৪৩ সালের নভেম্বর মাসে তা ফরাসিদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এখানে ধর্মীয় এবং মতাদর্শ ভিত্তিক অনেকগুলো সম্প্রদায় আছে। তারা হলো: ১. সুন্নি, ২. শিয়া, ৩. দ্রুজ, ৪. ম্যারোনাইট ক্যাথলিক, ৫. রোমান ক্যাথলিক, ৬. আর্মেনিয়ান ক্যাথলিক, ৭. সিরিয়ান ক্যাথলিক, ৮. গ্রিক অর্থোডক্স, ৯. আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স, ১০. সিরিয়ান অর্থোডক্স, ১১. ইভানজেলিকালস, ১২. ক্যালডীয় অ্যাসিরিয়ান, ১৩. ইহুদি।
প্রতিটি সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়ের একটি বিশেষ বিচারব্যবস্থা রয়েছে। ধর্ম এবং বিচার বিভাগের প্রতিটি সাম্প্রদায়িক ও আধ্যাত্মিক আদালতের দায়িত্বে রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক এবং বিশেষায়িত ডিগ্রিধারী বিচারক। সুন্নি এবং শিয়া সম্প্রদায়গুলো আইনশাস্ত্রের চিন্তাধারায় পৃথক ছিল না। তবে ফরাসি আধিপত্যের সময় একটি আধ্যাত্মিক দ্রুজ সম্প্রদায়ের সাথে তারা আলাদা হয়ে ওঠে।
লেবাননের বিচার বিভাগ দ্বৈত। তা একটি সাধারণ বিচার বিভাগ। যা আইন মন্ত্রণালয় এবং একটি ধর্মীয় বিচার বিভাগের সাথে যুক্ত। সাধারণ বিচার বিভাগটি দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং প্রশাসনিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সাধারণ আদালত তিনটি স্তরের সমন্বয়ে গঠিত। যথা: ১. প্রাথমিক আদালত, ২. আপিল আদালত এবং ৩. বিচার সংশ্লিষ্ট আদালত।
লেবাননে শূরা কাউন্সিল বা উপদেষ্টা পরিষদ, অডিট ব্যুরো (হিসাব ও কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে) এবং সামরিক আদালত আছে। সেখানে একাধিক ধর্মীয় আদালত আছে। এর মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটির কথা এখানে উল্লেখ করা হলো।
১. ইসলামি শারঈ আদালত
এটা দুই রকম। একটি হানাফি মাযহাব অনুসারে বিচারব্যবস্থা পরিচালনা করে। উসমানি সালতানাতে যে মাযহাবকে রাষ্ট্রীয় মাযহাব হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর মাঝে এই মাযহাবই এখনো আমলযোগ্য রয়েছে। তবে পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। আরেকটি বিচারব্যবস্থা শিয়াদের ইমাম জাফারের মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করে। শারঈ আদালত দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত:
একটি প্রাথমিক আদালত। ব্যক্তিগত, ইসলামি ওয়াকফ, অভিভাবক নির্ধারণ, পরিচালক নির্ধারণ, তাদের বরখাস্ত করা, তাদের কাছে জবাবদিহি চাওয়া—এ সকল শারঈ মামলার ক্ষেত্রে এই আদালতের পরিধি আছে।
আরেকটি হলো শারঈ সর্বোচ্চ আদালত। প্রাথমিক আদালত থেকে সরাসরি প্রকাশিত রায়কে এই আদালতে আপিল করা হয়। অথবা আপিল করা ছাড়াই এই আদালতের অধীনে প্রাথমিক আদালত থেকে প্রকাশিত রায়গুলোকে রেফার করা হয়। যেমন, শারঈ সর্বোচ্চ আদালত প্রাথমিক আদালতের বিচারগুলোকেও পর্যবেক্ষণ করে থাকে। প্রাথমিক আদালতের রায় যদি আইনভিত্তিক হয়, তাহলে সেগুলোকে অনুমোদন দেয়। অন্যথায় এগুলো আবার উত্থাপন করা হয়।
২. দ্রুত ধর্মীয় বিচার আদালত
১৯৫৯ সালে এই বিচারব্যবস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। দুটি বিভাগ নিয়ে এটি গঠিত। একটি হলো প্রাথমিক আদালত। আরেকটি হলো সর্বোচ্চ আপিল আদালত। এই আদালত দ্রুজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরীণ মামলা, দ্রুজ রীতিনীতি এবং তাদের প্রণয়ন করা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনের সাথে সম্পৃক্ত লেনদেন এবং বিভিন্ন মামলার দেখাশোনা করে থাকে। সুতরাং তারা যদি কোনো ডকুমেন্ট বা কোনো রীতিনীতি না পায়, তাহলে শারঈ আদালতে গৃহীত মামলা নীতি অথবা দেওয়ানি আইন অনুসারে যেগুলো তাদের ধর্মীয় মত এবং রীতিনীতির সাথে খাপ খায় সেগুলোতে প্রয়োগ করে। তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হয়। তাদের আদালত দুটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। প্রাথমিক আদালতটি একজন বিচারক নিয়ে গঠিত এবং সর্বোচ্চ আপিল আদালতটি তিনজন বিচারক নিয়ে গঠিত।
৩. গির্জাভিত্তিক আদালত অথবা আধ্যাত্মিক আদালত
এই আদালতগুলো বিভিন্ন ধর্মীয় এবং খ্রিষ্টান ধর্মের মতাবলম্বীদের জন্য। যার আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে করেছি। এই আদালতগুলো ইতিহাসজুড়ে সংঘটিত খ্রিষ্টান কাউন্সিলের আইন প্রয়োগ করে। তারপর ইস্টার্ন চার্চের বিচার আইন জারি করা হয়। বিভিন্ন অঞ্চল ও ডায়োসিসে অনেকগুলো প্রাথমিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। আদালত এমন সব নির্দেশ এবং শিক্ষা বাস্তবায়ন করত, যেগুলো খ্রিষ্টধর্মের আইনবহির্ভূত নয়। তবে প্রমাণ সংগ্রহ, বিবাদী ও সাক্ষীদের উপস্থিত করা এবং ধর্মের সাথে সম্পর্ক নেই এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতের সহযোগিতা নেয়ার অনুমোদন ছিল।
টিকাঃ
[১১৮২] আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ ফী লুবনান মিনান নাহিয়াতাইন আল-কানুনিয়্যাহ ওয়াশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৩৪ এবং তানযীমুল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ লিগায়রিল মুসলিমিন ফী সুরিয়্যাহ ওয়া লুবনান, পৃ. ৬৮ দ্রষ্টব্য