📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস 📄 শারঈ আদালত

📄 শারঈ আদালত


নতুন বিচারব্যবস্থা চার ধরনের আদালত (৫ নং ধারা) নিয়ে শারঈ আদালত সাজিয়েছে।

১. বিচারের সর্বোচ্চ পরিষদ: এই পরিষদটি ১১জন সদস্য নিয়ে গঠিত। এই পরিষদটি মামলা যাচাই-বাছাই করার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, অঙ্গচ্ছেদ বা রজম বিষয়ে জারি করা রায়গুলো পর্যালোচনা করে থাকে।

২. রেফার আদালত: এই আদালত তিনটি বিভাগ নিয়ে গঠিত। প্রত্যেক বিভাগের প্রধান বা তার প্রতিনিধি এটা পরিচালনা করে। বিভাগ তিনটি হচ্ছে: (ক) ফৌজদারি মামলার শুনানি বিভাগ, (খ) ব্যক্তিগত মামলা শুনানি বিভাগ এবং (গ) অন্যান্য মামলা শুনানি বিভাগ। ১০ নং ধারা অনুসারে রেফার আদালতে প্রয়োজনের সময় একাধিক বিচারক থাকতে পারে। তিনজন বিচারকের সমন্বয়ে বিচারের সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড, হাত কাটা এবং রজমের ক্ষেত্রে ৫জন বিচারকের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তগুলো জারি করা হয়। (ধারা নং: ১৩।)

৩. সাধারণ আদালত: এই আদালত এক বা একাধিক বিচারক নিয়ে গঠিত। আদালতের মধ্যে একজন বিচারকের পক্ষ থেকে রায় জারি করা হয়। তবে হত্যা, রজম এবং হাত কাটার মামলার ক্ষেত্রে তিনজন বিচারকের পক্ষ থেকে রায় জারি করা হয়। (ধারা নং: ২৩।)

৪. আংশিক আদালত: এ আদালত এক বা একাধিক বিচারক নিয়ে গঠিত। একজন বিচারকের পক্ষ থেকে আদালতের রায়গুলো প্রকাশ করা হয়। (ধারা নং: ২৪-১৫।)

নতুন বিচারব্যবস্থা এই আদালতের প্রতিটির ধরনের পরিধি নির্ধারণ করে দেয় নি। বিচারের সর্বোচ্চ পরিষদের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে আইনমন্ত্রী কর্তৃক সিদ্ধান্ত জারির ওপর পরিধি নির্ধারণের বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২০/১/১৩৯৭ হিজরিতে মামলা দায়ের ব্যবস্থা, ফৌজদারি পদ্ধতি এবং আইনমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এ আদালতের পরিধি নির্ধারণ করা হয়। (ধারা নং: ১২-১৩।)

বিচারব্যবস্থা সাধারণভাবে শারঈ আদালতের পরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটাও নির্ধারণ করে দিয়েছে যে, শারঈ আদালত সকল বিরোধ এবং সকল অপরাধের বিচার করবে। তবে বিচার বিভাগ যে সমস্ত বিচারকে পৃথক করবে, সেগুলো করতে পারবে না। বিচারের সর্বোচ্চ পরিষদের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে রাজকীয় আদেশে বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করা যাবে। শারঈ আদালত সাধারণ পরিধির অধিকারী। এ ছাড়া অন্যান্য আদালতগুলোকে ব্যতিক্রমধর্মী বিচার বিভাগ মনে করা হয়। যেমন অপ্রাপ্তবয়স্কদের মামলা-সংক্রান্ত আদালত, বিবাহ এবং জরিমানা সংক্রান্ত আদালত।

বিচারক হিসেবে নিয়োগের শর্ত হলো প্রার্থীকে অবশ্যই সৌদি রাজ্যের কোনো শারঈ অনুষদ থেকে সনদ অর্জন করতে হবে। বিচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক একটি বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। জরুরি অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সনদ অর্জন ছাড়াও ইলমে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের কাউকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। (ধারা নং: ৩৭)।

শারঈ আদালত নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অনুসরণ না করে সরাসরি কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে গৃহীত শারঈ বিধান আঁকড়ে ধরার ওপর নির্ভরশীল। ৭/১/১৩৪৭ হিজরির ৩ নং ধারায় বিচার সংস্থার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয় এবং ২৪/৩/১৩৪৭ হিজরিতে সৌদি উচ্চ প্রশাসনের সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে, সকল আদালতের মধ্যে বিচারের রায় যেন হাম্বলি মাযহাবের মুফতির ওপর ভিত্তি করে হয়। তবে জনস্বার্থে অন্যান্য মাযহাবের মতামতও গ্রহণ করা যাবে। ফসলের জমি, স্থাবর সম্পত্তি এবং ওয়াকফের বিরোধের ক্ষেত্রে ওই জায়গায় প্রচলিত মাযহাব অনুসারে বিচার করা হবে।

টিকাঃ
[১১৭১] আল শাইখ, আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ, পৃ. ৫৫ এবং ৫৭
[১১৭২] আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ, পৃ. ১৫৬; আল শাইখ, আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ, পৃ. ৪০ এবং ৪৯
[১১৭৩] আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ, পৃ. ১৬১
[১১৭৪] আত-তানযীমুল কাদ্বাঈ, পৃ. ১৭০

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية