📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস 📄 শারঈ আদালতের পরিধি

📄 শারঈ আদালতের পরিধি


১৯৫২ সালে জর্ডানের সংবিধানের ১০৬ নং ধারায় এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে, যে-কয়েকটি বিষয়ে শারঈ আদালতের বিশেষ আইন অনুযায়ী শারঈ আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করার অধিকার রয়েছে—সেগুলো হচ্ছে:
১. মুসলিমদের ব্যক্তিগত বিষয়ে
২. মুসলিমদের মাঝে রক্তপণের বিষয়ে। যদি দুই পক্ষের কোনো এক পক্ষ মুসলিম হয় আর দুই পক্ষই শারঈ আদালত মেনে নেয়।
৩. ওয়াকফকৃত সম্পদের সাথে সম্পৃক্ত মামলার ক্ষেত্রে।

এরপর ১৯৫৯ সালের ৩১ নং আইন আসে। সেটা হলো শারঈ মামলা পদ্ধতি আইন। এর ২ নং ধারায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার বিষয় ছিল শারঈ আদালতের পরিধি। এই আলোচনার মধ্যে উল্লেখ ছিল যে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলো শারঈ আদালত দেখাশোনা করবে।

১. ওয়াকফ করা, মুসলিমদের দ্বারা এর বাস্তবায়ন করা, এর শর্ত, এর ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া, পরিবর্তন, ব্যবস্থাপনা এবং স্থানান্তর।
২. দুই ওয়াকফের মাঝে বিরোধ, এবং ওয়াকফের বৈধতা-সংক্রান্ত মামলা।
৩. শারঈ দলিলভিত্তিক উইলের সম্পত্তি এবং ইয়াতিমদের সম্পত্তির ঋণ তহবিল।
৪. অভিভাবকত্ব, ওসিয়ত এবং উত্তরাধিকার।
৫. নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী।
৬. পরিচালক ও ওসি নিয়োগ এবং তাদের বরখাস্ত করা।
৭. নিখোঁজ ব্যক্তি।
৮. বিবাহ-শাদি, বিবাহ বিচ্ছেদ, মোহর, যৌতুক, মোহর হিসেবে যা পরিশোধ করা হয়, ভরণপোষণ, বংশ এবং লালনপালন।
৯. স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঘটে যাওয়া বিষয় এবং যার মূল কারণ হয় বিবাহের সময়ের চুক্তি।
১০. উত্তরাধিকার সম্পত্তি লিখে রাখা, উত্তরাধিকার স্থাবর সম্পত্তির দাবি ও তার মীমাংসা করা।
১১. দুপক্ষ মুসলিম হলে মুক্তিপণের দাবি। অনুরূপভাবে দুই পক্ষের এক পক্ষ যদি অমুসলিম হয় আর তারা এ ব্যাপারে সম্মতি দেয়, যে ব্যাপারে শারঈ আদালত বিচার করতে পারবে।
১২. স্থাবর সম্পত্তি এবং অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সম্পত্তির সকল বিনিয়োগ।
১৩. মৃত্যুশয্যায় দান এবং ওসিয়ত।
১৪. অভিভাবক, তত্ত্বাবধায়ক এবং পরিচালককে অনুমোদন দেয়া, তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা এবং এই জবাবদিহি অনুসারে ফয়সালা করা।
১৫. শারঈ আদালতের কাছে রেকর্ডকৃত উইল সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা। যদি ওয়াকফকারী অমুসলিম হয় এবং দুপক্ষ এ ব্যাপারে সম্মতি দেয়।
১৬. মুসলিমদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সকল বিষয়।
১৭. শারঈ আদালতের কাছে অথবা শারঈ আদালত সমর্থিত অন্য কোনো আদালতের কাছে রেজিস্ট্রেশন করা বৈবাহিক সকল চুক্তি।

টিকাঃ
[১১৬০] আল-কারারাতুল কাদ্ধাইয়্যাহ ফী উসূলিল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, পৃ. ৩৪০; আল-কাদ্বাউশ শারঈ আল-উরদুন্নি, পৃ. ৬৪; উসুসুত তাশরী, পৃ. ১১৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস 📄 শারঈ বিচারব্যবস্থার রায়ের উৎস

📄 শারঈ বিচারব্যবস্থার রায়ের উৎস


১৯৫২ সালের জর্ডানের সংবিধানের ১০৬ নং ধারায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শারঈ আদালত দ্বীনের সঠিক বিধান বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি নিম্নোক্ত আইনগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারেও শারঈ আদালত দায়িত্বশীল।
১. শারঈ মামলা-নীতির আইন। (১৯৬৯ সালের ৩১ নং আইন।)
২. সাময়িক ব্যক্তিগত আইন। (১৯৭৬ সালের ৬১ নং আইন।)
৩. জর্ডানের অস্থায়ী দেওয়ানি আইন। (১৯৭৬ সালের ৪৩ নং আইন।)
৪. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ বা লেনদেন ও নাগরিকত্ব আইন। যা ১২৯৩ হিজরিতে উসমানি সালতানাতে জারি করা হয়েছিল। জর্ডানের নাগরিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক মাজাল্লার আইনকে বিলুপ্ত করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। শপথ এবং প্রমাণের মতো অন্যান্য আইনগুলো মাজাল্লা অনুসারে পরিচালিত হতো।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস 📄 শারঈ বিচারকদের সহকারী

📄 শারঈ বিচারকদের সহকারী


শারঈ বিচারকদের সাথে বেশ কয়েকজন সহকারী নিয়োগ করা হয়। যাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে: ১. মুনশি, ২. পেশকার, ৩. দোভাষী, ৪. বিশেষজ্ঞ, ৫. শারঈ আইনজীবী এবং ৬. ঘোষক।

ফন্ট সাইজ
15px
17px