📄 শারঈ আদালতের পরিধি
১৯৬৩ সালের ৪০ নং অনুচ্ছেদে ইরাকি মামলা উত্থাপন তালিকায় শারঈ আদালতের যেসব পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।
১. বিবাহ এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো। যেমন: মোহর, বংশ, সন্তান লালনপালন, বিচ্ছেদ, তালাক-সহ যাবতীয় বৈবাহিক সম্পর্কিত বিষয়। (ধারা: ২-এর দফা: ১)
২. অভিভাবকত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা, ওসিয়ত, পরিচালক আর দায়িত্বশীল নিয়োগ, তাদের বরখাস্ত করা এবং তাদের কাছে জবাবদিহি তলব করা, বৈধ আর আইনগত পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া। (ধারা: ২-এর দফা : ২)
৩. বংশীয় উইলের দায়িত্বশীল নিয়োগ, পরিচালক নিয়োগ, বরখাস্ত ও তার কাছে জবাবদিহি চাওয়া, জনকল্যাণমূলক ওয়াকফের মধ্যে দায়িত্বশীল নিয়োগের প্রস্তাবনা পেশ করা। (ধারা: ২-এর দফা : ৩)
৪. নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রাপ্তবয়স্কতা প্রমাণ করা। (ধারা: ২-এর দফা : ৪)
৫. মৃত্যুর প্রমাণ, উত্তরাধিকার সম্পত্তি লিখে রাখা, ওয়ারিশদের জন্য উত্তরাধিকার সম্পত্তির অংশ নির্ধারণ করা, উত্তরাধিকার সম্পত্তি তাদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া এবং জন্ম-মৃত্যুর প্রমাণ সরকারি রেজিস্টারে লিখে রাখা।
৬. নিখোঁজ ব্যক্তি এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো।
৭. শারঈ আদালতের আরও কিছু বিষয় পরিচালনার পরিধি ছিল। সেগুলো হলো: ক. ওসিয়তের দলিল-প্রমাণ, খ. উইলের দলিল-প্রমাণ এবং শারঈ দলিল-প্রমাণের রেজিস্টার খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা এবং গ. দায়ের করা মামলাগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুমোদন দেওয়া।
৮. শারঈ আদালতের এই পরিধিও ছিল যে, তিনি মৃত ব্যক্তির শারঈ বরাদ্দকৃত অংশের ব্যাপারে রায় জারি করতে পারবেন এবং সম্পদের বরাদ্দকৃত অংশের রেজিস্টার খাতায় তা লিখে রাখবেন।
শারঈ আদালত ইরাকের পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করত। আইনি কোনো দলিল পাওয়া না গেলে তখন ব্যক্তিগত আইনের সাথে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ইসলামি মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করত। এই সকল ক্ষেত্রে ইরাকি আদালতগুলো ইরাকে স্বীকৃত ইসলামি আইন এবং বিচার ব্যবস্থার সমর্থিত এবং অন্যান্য ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর যে আইনগুলো ইরাকি আইনের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে, সেগুলোর দিকনির্দেশনা গ্রহণ করত। (ব্যক্তিগত আইনের ১ নং ধারা।)
শারঈ আদালতকে সকল ইরাকির ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর মামলা দেখাশোনার জন্য ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আদালত মনে করা হতো। আর যদি শারঈ আদালতের রায়ের বিপরীতে কোনো বিধান পাওয়া যেত, তাহলে ব্যক্তিগত বিষয়ের আদালত এবং খ্রিষ্টানদের সাম্প্রদায়িক পরিষদগুলো বিকল্প আদালত হিসেবে বিবেচিত হতো। কেননা যায়দিয়্যা এবং সায়েবা সম্প্রদায় শারঈ আদালত অনুসরণ করে চলত। নিজেদের ওপর তারা ইরাকের ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করত।
নগর-বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব শর্তগুলো ছিল, হুবহু সেই শর্তগুলো শারঈ বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো। তবে আরেকটি অতিরিক্ত শর্ত ছিল যে, বিচারককে অবশ্যই আইন কলেজ অথবা শারঈ অনুষদ থেকে কিংবা এগুলোর সমমানের কোনো কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট হতে হবে।
টিকাঃ
[১১৪৭] মুহাদ্বারাত ফী মাবাদিইত তানযীমিল কাদ্বাঈ ফিল ইরাক, পৃ. ১০৬; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১১৪
[১১৪৮] মুহাদ্বারাত, পৃ. ৪৯