📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারব্যবস্থা এবং একক বিচার বিভাগ

📄 বিচারব্যবস্থা এবং একক বিচার বিভাগ


ইরাকে পৃথক পৃথক তিনটি বিভাগ পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে একটি হলো বিচার বিভাগ। বিরোধ মীমাংসা এবং নির্ধারিত দণ্ড আরোপ করার মাধ্যমে যা আইনি বিধানগুলো বাস্তবায়ন করে থাকে। অস্থায়ী সংবিধান এবং বিচার বিভাগের আইন অনুসারে বিচারব্যবস্থা ছিল একটি স্বতন্ত্র বিভাগ।

স্বতন্ত্র ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা-নীতির ওপর ইরাক চলে। তার নীতি হচ্ছে দেওয়ানি আদালতগুলো ব্যক্তি, সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের মাঝে সকল বিরোধ মীমাংসা করার দায়িত্ব পালন করবে। সুতরাং দেওয়ানি আদালতগুলো কেবল প্রশাসনিক বিষয়গুলো এবং দেওয়ানি মামলাগুলো পরিচালনা করত। কিন্তু ইরাকে রাজ্য পরিষদ অথবা প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থা পাওয়া যায় না। যেমনটি সিরিয়াতে এবং বর্তমান মিশরে আছে।

দেওয়ানি বিচারব্যবস্থার বহির্ভূত দায়িত্ব ছিল সার্বভৌমত্বের আইন (তথা নির্বাহী কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দায়িত্ব), কূটনৈতিক নিরাপত্তার অধিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা মামলা এবং যখন কোনো আইনি প্রক্রিয়া বিচার বিভাগকে কিছু কিছু বিরোধ মীমাংসা করতে বাধা দিত।

টিকাঃ
[১১০৮] মুহাদ্বারাত, পৃ. ৩৭ এবং ৪০
[১১০৯] মুহাদ্বারাত, পৃ. ১০২; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১০২
[১১৪০] মুহাদ্বারাত, পৃ. ১২৪; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ৯৫

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আদালতের বিন্যাস

📄 আদালতের বিন্যাস


ইরাকের নগর-আদালতগুলো যেসব আদালত নিয়ে গঠিত ছিল, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।

১. রেফার আদালত: যা সমস্ত আদালতের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগ। এটি সমস্ত দেওয়ানি আদালতের প্রধান। দেওয়ানি, শারঈ এবং ফৌজদারি আদালতে আইনের সঠিক প্রয়োগের তত্ত্বাবধান করে এবং রায় অনুমোদন বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই আদালত সমস্ত আদালতের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে একটি স্তর—এমন নয়। বরং তা বিভিন্ন বিভাগীয় সংস্থা এবং বিভাগ নিয়ে গঠিত। সেই বিভাগগুলো হচ্ছে রেফার আদালতের সাধারণ বিভাগ, দেওয়ানি এবং বাণিজ্যিক বিভাগ, ব্যক্তিগত আইনি বিভাগ এবং ফৌজদারি বিভাগ।

২. আপিল আদালত: ইরাকে একাধিক আপিল আদালতের কথা জানা যায়। একজন প্রধান এবং দুজন বিচারকের সদস্যপদ নিয়ে এই আদালত গঠিত ছিল। দেওয়ানি, বাণিজ্যিক এবং বিভিন্ন বিষয়ের মামলার আপিলযোগ্য রায়, প্রাথমিক আদালত থেকে প্রকাশিত রায় এবং সকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিচালনার দায়িত্ব এই আদালত পালন করত।

৩. প্রাথমিক আদালত : এ আদালত ছিল দুই ভাগে বিভক্ত। (ক) প্রাথমিক নির্ধারিত আদালত। (খ) প্রাথমিক অনির্ধারিত আদালত। এই আদালত দুটির দায়িত্ব ছিল বাণিজ্যিক এবং দেওয়ানি মামলাগুলো দেখাশোনা করা। যেসব মামলার ক্ষেত্রে কোনো রেফারেন্স পাওয়া যেত না, সেসব মামলার ক্ষেত্রে এ আদালত দুটির সাধারণ পরিধি ছিল। প্রাথমিক আদালতের একজন বিচারক নিয়ে এই আদালত গঠিত হতো। শারঈ আদালতের কোনো বিচারক না থাকলে প্রাথমিক আদালতের মুসলিম বিচারক শারঈ আদালতের বিচারক হতেন। বিচারকের অনুপস্থিতিতে তিনি হতেন আপোস বিচারক। অনুরূপভাবে অমুসলিমদের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ের মামলার বিচারকও তিনি হতেন। এরপর আসে নতুন আপিল আইন। এই আইন প্রাথমিক নির্ধারিত আদালত এবং প্রাথমিক অনির্ধারিত আদালতের মধ্যে পার্থক্য বিলুপ্ত করে দেয়। প্রাথমিক আদালত এবং আপোস আদালত—উভয়টির জন্যই এই আইন পরিধি নির্ধারণ করে দেয়।

৪. আপোস আদালত : এ আদালতকে আবার আংশিক আপোস আদালত বলা হতো। এ আদালত একজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হতো। ইরাকের বাণিজ্যিক এবং দেওয়ানি আপিল আইনের ২১ নং ধারা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিধি নির্ধারন করে দিয়েছে।

৫. ব্যক্তিগত বিষয়ের আদালত : এই আদালত একজন বিচারক নিয়ে গঠিত হতো। যিনি ইরাকের অধিবাসী। খ্রিষ্টান এবং ইহুদিদের যদি ধর্মীয় আধ্যাত্মিক বিচার পরিষদ না থাকত তাহলে তাদের ব্যক্তিগত মোকদ্দমা তুর্কি মুসলিমদের মতো যেসব বিদেশিদের তাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়ে নগর-আইন ছিল সে-সকল বিদেশিদের মামলার মতো পরিচালনা করতেন। আর যদি কোনো বিদেশির ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক আইন শারঈ আইন থাকত, তাহলে এই বিদেশির মামলা শারঈ আদালতের পরিধিতে পরিচালিত হতো। যেমন সৌদি, কুয়েত এবং সিরিয়ার ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়ের মামলা। ব্যক্তিগত আদালত থেকে প্রকাশিত সিদ্ধান্ত রেফার এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত নেয়া আলোচনা পর্যালোচনার অধীনে হতো। কিন্তু আপিলের মাধ্যমে আলোচনা-পর্যালোচনার কোনো পন্থাকে গ্রহণ করা হতো না। বিবাহ-শাদি, মোহর, তালাক, স্ত্রীর ভরণপোষণের মামলার ক্ষেত্রে ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক আদালত তাদের ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক পণ্ডিতের সাথে পরামর্শের পর তাদের ধর্মীয় রায়গুলো কার্যকর করা হতো। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন মিরাস, ওসিয়ত তাদের ব্যক্তিগত আইনের রায় প্রয়োগ করা হতো। এরপর ১৯৬৯ সালে নতুন আপিল আইন আসে। এই আইন ইরাকে বসবাসরত সকল অমুসলিমদের ব্যক্তিগত বিষয়ে মামলা পরিচালনা করাকে প্রাথমিক আদালতের পরিধির অন্তর্ভুক্ত করেন। এ সকল অমুসলিমদের নিজস্ব ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক কোনো পরিষদ ছিল না। সে-সকল বিদেশিদের মামলা পরিচালনাও এই আদালতের পরিধির অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয়, যাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে নগর-আইন প্রয়োগ করা হতো।

৬. শারঈ আদালত: শারঈ আদালত একজন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হতো। এমন প্রত্যেক জায়গায় শারঈ আদালত দেখা যেত, যেখানে প্রাথমিক আদালত থাকত। শারঈ আদালতের কোনো বিচারক না থাকলে প্রাথমিক আদালতের মুসলিম বিচারক শারঈ আদালতের বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।

৭. খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় আদালত: ১৯৫৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে ‘হুমায়ুনলিপি’ জারি করার পর থেকেই উসমানি সালতানাতে এই আদালত চলে আসছে। রোমান, আর্মেনিয়ান এবং ইহুদিদের প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কাউন্সিল গঠন করা হয়। ১৯১৭ সালে ইংরেজরা ইরাক দখল করলে ১৯১৮ সালে আদালতের ফরমান জারি হয়। যে ফরমানের মধ্যে বিধর্মীদের আধ্যাত্মিক সম্প্রদায়ের আদালতের অস্তিত্বকে নিশ্চিত করা হয়। এরপর ১৯২৫ সালে ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবিধানের মধ্যে এই আইনকে নিশ্চিত করা হয়। তারপর ১৯৪৭ সালের ৩২ নং আইনের মাধ্যমে এই আদালত সুগঠিত হয়। ইরাকি প্রশাসন আগত সম্প্রদায়গুলোর প্রত্যেকের জন্য এক বা একাধিক ধর্মীয় আধ্যাত্মিক আদালত এবং রেফার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে দেয়। সেই সম্প্রদায়গুলো হচ্ছে: ১. সব ধরনের ক্যাথলিক, ২. আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স, ৩. সিরিয়ান অর্থোডক্স এবং ৪. ইসরায়েলিরা। নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ব্যক্তিদের তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত হতো আধ্যাত্মিক সাম্প্রদায়িক এই আদালত। আদালতের প্রধান এবং সদস্যদের তিন বছরের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিযুক্ত করা হতো। যা হতো সম্প্রদায়ের কাউন্সিল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এবং সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রধান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মনোনয়নের তালিকা থেকে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক আদালতের পরিধি ছিল বিবাহ-শাদি, মোহর, তালাক, বিচ্ছেদ এবং স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষেত্রে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ১৯৫০ সালের ১০ নং ধারা অনুযায়ী ইহুদি এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মামলা পদ্ধতিতে আইন প্রয়োগ করা হতো। ক্যাথলিকদের মামলার রায় দিতে সাম্প্রদায়িক আদালতের অস্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে ১৯৪৮ সালের ১১ জুলাই ৪৮১ নং ধারা অনুযায়ী ক্যাথলিক দলগুলোর সাম্প্রদায়িক আদালত বিলুপ্ত করার ব্যাপারে ইরাকি রাষ্ট্রীয় একটি ফরমান জারি করা হয়। তখন থেকে এই সকল সম্প্রদায়ের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ের মামলাগুলো ব্যক্তিগত বিষয়ের মামলার আদালতের পরিধির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তারপর ১৯৫১ সালের মার্চের ৪ তারিখ ১৫৫ নং অনুচ্ছেদে মুসাভি সাম্প্রদায়িক আদালত বিলুপ্তির ফরমান জারি করা হয়। তাই মুসাভি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত বিষয়ের মামলাগুলো ব্যক্তিগত বিষয়ের আদালতের পরিধিতে পরিণত হয়ে যায়। ১৯৬৩ সালের ৮৭ নং ধারার মধ্যে আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রশাসনিক আইনের প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে: নগর-আদালতগুলোর এ পরিধি রয়েছে যে, এই আদালত আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত বিষয়ের মামলাগুলো পরিচালনা করবে। এরপর থেকে এ সম্প্রদায়ের মামলা দেখাশোনা করার পরিধি ব্যক্তিগত বিষয়ে আদালতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ৩২ নং আইনের পর মুসাভি এবং খ্রিষ্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আদালতের কোনো সুগঠিত আইন বাকি থাকেনি। তবে সিরিয়ান অর্থোডক্সদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কিছু আইন বাকি ছিল। কেননা বাগদাদে তাদের বিশেষ আধ্যাত্মিক ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক আদালত ছিল।

৮. ফৌজদারি আদালত: লঙ্ঘন, অপকর্ম আর অপরাধের বিচারকার্য পরিচালনা করা এবং দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এই আদালতের পরিধি ছিল। ফৌজদারি মামলার আইন অনুযায়ী এই আদালত কাজ করত। প্রাথমিক স্তর, দ্বিতীয় স্তর এবং তৃতীয় স্তরের রায়ের আদালতের মতো কয়েকটি বড় বড় ভাগে এই আদালতটি বিভক্ত ছিল।

টিকাঃ
[১১৪১] আপিল আদালতের নাম একেক দেশে একেক রকম ছিল। এ বিষয়টি আমরা সামনে লক্ষ করব। মুহাদ্বারাত, পৃ. ৯১
[১১৪২] বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১৮ এবং ১০৬
[১১৪৩] মুহাদ্বারাত, পৃ. ৯১; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১১১
[১১৪৪] বুহুসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১৯ এবং ১১১
[১১৪৫] মুহাদ্বারাত ফী মাবাদিইত তানযীমিল কাদ্বাঈ ফিল ইরাক, পৃ. ১০৬-১১৫; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১১৪; আত-তাতবীকাতুশ শারইয়্যাহ, পৃ. ১৯
[১১৪৬] মুহাদ্বারাত, পৃ. ১৩৩

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 শারঈ আদালতের পরিধি

📄 শারঈ আদালতের পরিধি


১৯৬৩ সালের ৪০ নং অনুচ্ছেদে ইরাকি মামলা উত্থাপন তালিকায় শারঈ আদালতের যেসব পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে।

১. বিবাহ এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো। যেমন: মোহর, বংশ, সন্তান লালনপালন, বিচ্ছেদ, তালাক-সহ যাবতীয় বৈবাহিক সম্পর্কিত বিষয়। (ধারা: ২-এর দফা: ১)
২. অভিভাবকত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা, ওসিয়ত, পরিচালক আর দায়িত্বশীল নিয়োগ, তাদের বরখাস্ত করা এবং তাদের কাছে জবাবদিহি তলব করা, বৈধ আর আইনগত পদক্ষেপের অনুমোদন দেওয়া। (ধারা: ২-এর দফা : ২)
৩. বংশীয় উইলের দায়িত্বশীল নিয়োগ, পরিচালক নিয়োগ, বরখাস্ত ও তার কাছে জবাবদিহি চাওয়া, জনকল্যাণমূলক ওয়াকফের মধ্যে দায়িত্বশীল নিয়োগের প্রস্তাবনা পেশ করা। (ধারা: ২-এর দফা : ৩)
৪. নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং প্রাপ্তবয়স্কতা প্রমাণ করা। (ধারা: ২-এর দফা : ৪)
৫. মৃত্যুর প্রমাণ, উত্তরাধিকার সম্পত্তি লিখে রাখা, ওয়ারিশদের জন্য উত্তরাধিকার সম্পত্তির অংশ নির্ধারণ করা, উত্তরাধিকার সম্পত্তি তাদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া এবং জন্ম-মৃত্যুর প্রমাণ সরকারি রেজিস্টারে লিখে রাখা।
৬. নিখোঁজ ব্যক্তি এবং তার সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো।
৭. শারঈ আদালতের আরও কিছু বিষয় পরিচালনার পরিধি ছিল। সেগুলো হলো: ক. ওসিয়তের দলিল-প্রমাণ, খ. উইলের দলিল-প্রমাণ এবং শারঈ দলিল-প্রমাণের রেজিস্টার খাতায় সেগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখা এবং গ. দায়ের করা মামলাগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুমোদন দেওয়া।
৮. শারঈ আদালতের এই পরিধিও ছিল যে, তিনি মৃত ব্যক্তির শারঈ বরাদ্দকৃত অংশের ব্যাপারে রায় জারি করতে পারবেন এবং সম্পদের বরাদ্দকৃত অংশের রেজিস্টার খাতায় তা লিখে রাখবেন।

শারঈ আদালত ইরাকের পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করত। আইনি কোনো দলিল পাওয়া না গেলে তখন ব্যক্তিগত আইনের সাথে সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত ইসলামি মূলনীতিগুলো প্রয়োগ করত। এই সকল ক্ষেত্রে ইরাকি আদালতগুলো ইরাকে স্বীকৃত ইসলামি আইন এবং বিচার ব্যবস্থার সমর্থিত এবং অন্যান্য ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর যে আইনগুলো ইরাকি আইনের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে, সেগুলোর দিকনির্দেশনা গ্রহণ করত। (ব্যক্তিগত আইনের ১ নং ধারা।)

শারঈ আদালতকে সকল ইরাকির ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর মামলা দেখাশোনার জন্য ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আদালত মনে করা হতো। আর যদি শারঈ আদালতের রায়ের বিপরীতে কোনো বিধান পাওয়া যেত, তাহলে ব্যক্তিগত বিষয়ের আদালত এবং খ্রিষ্টানদের সাম্প্রদায়িক পরিষদগুলো বিকল্প আদালত হিসেবে বিবেচিত হতো। কেননা যায়দিয়্যা এবং সায়েবা সম্প্রদায় শারঈ আদালত অনুসরণ করে চলত। নিজেদের ওপর তারা ইরাকের ব্যক্তিগত আইন প্রয়োগ করত।

নগর-বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব শর্তগুলো ছিল, হুবহু সেই শর্তগুলো শারঈ বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো। তবে আরেকটি অতিরিক্ত শর্ত ছিল যে, বিচারককে অবশ্যই আইন কলেজ অথবা শারঈ অনুষদ থেকে কিংবা এগুলোর সমমানের কোনো কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট হতে হবে।

টিকাঃ
[১১৪৭] মুহাদ্বারাত ফী মাবাদিইত তানযীমিল কাদ্বাঈ ফিল ইরাক, পৃ. ১০৬; বুহূসুন ওয়া দিরাসাত, পৃ. ১১৪
[১১৪৮] মুহাদ্বারাত, পৃ. ৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00