📄 ব্যক্তিগত অবস্থার উদ্দেশ্য
ব্যক্তিগত অবস্থা যে একটি বিদেশি পরিভাষা—তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। ব্যক্তিগত অবস্থা বলতে কী বোঝায় এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য—এর সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাখ্যাকার এবং আদালতের মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য আছে। ১৯৩৪ সালে মিশরের আপিল আদালত এর সংজ্ঞা পেশ করেছে। যেমন ১৯৪৭ সালে মিশ্র বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক ধারা ব্যক্তিগত অবস্থা গণনা করেছে। তারপর ১৯৪৭ সালের ৯১ নং আইনের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় ফরমান এই কেইসগুলো গণনা করেছে। এভাবে বিচারব্যবস্থার আইনের ১৩ নং প্রস্তাবনায় এ সংক্রান্ত যত রায় জারি করা হয়েছে, সেগুলোর আলোকে ব্যক্তিগত অবস্থাগুলো গণনা করা হয়েছে। আমরা এখানে এই পরিভাষার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিচারব্যবস্থার আইন উল্লেখ করেই আমরা ক্ষান্ত থাকব।
আপিল আদালতের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত অবস্থা বলে মানুষের এমন সব বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য, যা তাকে অপর থেকে আলাদা করে রাখে। যেমন প্রাকৃতিক এবং পারিবারিক গুণাবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তার সামাজিক জীবনে আইনকানুনের প্রভাব সৃষ্টি হয়। যেমন একজন মানুষ নারী বা পুরুষ হওয়া, স্বামী বা স্ত্রী হওয়া, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত হওয়া, বাবা কিংবা আইনগত সন্তান হওয়া, পরিপূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী হওয়া বা না হওয়া। এই অযোগ্যতা বয়স কম হওয়ার কারণে, কিংবা অক্ষম বা পাগল হওয়ার কারণেও হতে পারে। স্বাধীন যোগ্যতার অধিকারীর হতে পারে অথবা আইনগত কারণে নির্ধারিত যোগ্যতার অধিকারীও হতে পারে।
আপিল আদালত আরও বলে, মিশরীয় প্রশাসনের মতে ওয়াকফ, উপহার এবং ওসিয়ত—সবগুলোই মুস্তাহাব অনুদানের নিয়তে অর্পণ করা হয়। তাই এগুলোকে ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও এগুলো দেওয়ানি আদালতের পরিধি অনুসারেই সম্পাদন করা হয়ে থাকে। অথচ ধর্মীয় ইস্যু সংবলিত এমন সমস্যাগুলো সমাধান করা দেওয়ানি আদালতের দায়িত্ব নয়।
মিশরের বিচারব্যবস্থা আইনের ১৩ নং ধারা মানুষের অবস্থা এবং যোগ্যতা বা পরিবার-ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিরোধ এবং সমস্যা ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে গণ্য করেছে। যেমন বিবাহের প্রস্তাব, বিবাহ, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, তাদের পারস্পরিক কর্তব্য, মোহর এবং যৌতুক (যা বিবাহের প্রস্তাবদাতা দিয়ে থাকে), স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, তালাক প্রদান করা এবং তালাক চাওয়া, বিচ্ছেদ, সন্তান গ্রহণ, স্বামীর পক্ষ থেকে বাবার স্বীকৃতি, পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিদের মাঝে সম্পর্ক, আত্মীয়স্বজন এবং মেয়ের জামাতাদের প্রতি খরচ করার নীতি ধরে রাখা, বংশ সংশোধন, ওসিয়ত করা, অভিভাবকত্ব, নিষেধাজ্ঞা, পরিচালনার অনুমতি, অনুপস্থিতি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত বিবেচনা করা। এগুলো ছাড়া আরও আছে উত্তরাধিকার, ওসিয়ত এবং মৃত্যুর পরবর্তী আরও অন্যান্য ইস্যু সংক্রান্ত বিরোধ এবং সমস্যা।
ব্যক্তিগত ইস্যু বিষয়ে বিচারব্যবস্থার আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। তবে হেবা বা উপহার আর অনুদান ইস্যু এর ব্যতিক্রম। এটা নগর-আইনের অধীনে রয়েছে।
টিকাঃ
[১১৩৬] আল-মুরাফাআতুল মাদানিয়্যাহ ওয়াত তিজারিয়্যাহ, পৃ. ৪৩৪; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ১৯৬