📄 ব্যক্তিগত অবস্থার সমাধানে নগর-আদালতের পরিধি
১৯৫৪ সালের ৪৬২ নং আইন ব্যক্তিগত অবস্থার পরিধিগুলো একীভূত করেছে। নগর-আদালতই তখন বিশেষভাবে ব্যক্তিগত যাবতীয় বিরোধের নিষ্পত্তি করত।
কিন্তু বিচারক যে আইন অনুযায়ী বিচার করবেন, মিশরীয় প্রশাসন সে আইনকে একীভূত করতে পারেনি। সুতরাং মোকদ্দমা দায়েরকারীরা অমুসলিম হলে তাদের ধর্ম, চিন্তা-চেতনা এবং সম্প্রদায় এক হলে এমতাবস্থায় তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সুশৃঙ্খল কোনো বিচারব্যবস্থা থাকলে রায় জারির সময় তাদের মতাদর্শ অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। পক্ষান্তরে মিশরীয় মুসলিম এবং অমুসলিমদের মাঝে যদি বিবাদ হতো এবং ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, মাযহাব ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন হলে ১৯৩১ সালের ২৮০ নং প্রস্তাবনাতে বর্ণিত ইসলামি শারঈ রায় বাস্তবায়ন করা হতো। এই রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতামত এবং এ ব্যাপারে জারি করা বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত মতামত বেছে নেওয়া হতো। মিশরীয় এসকর্ট আইনে নির্ধারিত নিয়ম-পদ্ধতি এবং ১৯৩১ সালের শারঈ আদালতের প্রস্তাবনায় থাকা বিশেষ বিধি এবং তার পরিপূরক আইন প্রয়োগ করা হতো।
সাধারণ বিচার বিভাগের আদালত হচ্ছে নগর-আদালত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে আংশিক আদালত সামনে উল্লেখিত প্রস্তাবনার ৫ এবং ৬ নং ধারার শারঈ মামলাগুলোর দেখাশোনা করত।
১. আংশিক আদালতের প্রাথমিক পরিধি ছিল সন্তান লালনপালন এবং দেখাশোনা করা, ছোট বাচ্চাকে লালনপালনকারী নারী ছোট বাচ্চা নিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে স্থানান্তরিত হওয়া, স্ত্রী এবং ছোট সন্তানের সব ধরনের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা, আত্মীয়দের ভরণপোষণ, মোহর এবং যৌতুক, সব ধরনের উত্তরাধিকার মামলা, বিবাহের সাথে এবং স্ত্রীর সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়, এবং উল্লেখিত বিষয়গুলোতে দুই বাদী-বিবাদীর কারও পক্ষ থেকে উকিল নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে।
২. আংশিক আদালতের সর্বশেষ পরিধি হলো—স্ত্রী অথবা সন্তানের ভরণপোষণ-সংক্রান্ত রায় (মাসিক ১০০ পিয়াস্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলে), মোহর (১০ হাজার পিয়াস্টারের কম হলে)। সর্বোপরি শরীয়াহ-সম্মত কোনো বিষয়ে বাদী-বিবাদীর মাঝে সমাধান করার ক্ষেত্রে দাবিকৃত অধিকার সম্পর্কে কোনো বিরোধ না থাকলে।
৩. শারঈ ইস্যুতে প্রাথমিক আদালতের পরিধি: এটা আংশিক আদালতের পরিধির মধ্যে ছিল না। আইন প্রণেতা বিরোধের অনুমোদন দিয়ে ২০০ মিশরীয় পাউন্ডের বেশি ঋণের জন্য অনুরোধ করে ওয়াকফ সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপে তাদের পরিধি চূড়ান্ত করেছেন। ঋণের জন্য অনুরোধ এবং একচেটিয়া ঋণ পরিশোধের জন্য স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করা, এবং সম্পত্তির মূল্য ২০০ মিশরীয় পাউন্ডের বেশি না হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য লিজ দেওয়া হতো। প্রাথমিক আদালতের সিদ্ধান্ত প্রাথমিক এবং বিষয়টি আপিলযোগ্য হতে হবে।
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মিশরে পারিবারিক মামলার বিষয়গুলো প্রাথমিক বিচার বিভাগ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আপিলের অধীনস্থ হতো। আংশিক আদালতে একজন বিচারক এবং প্রাথমিক আদালতে তিনজন বিচারক দ্বারা শুনানি হতো। তবে পূর্বের শারঈ বিচারকদের একজনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
টিকাঃ
[১১৩৪] আল-মুরাফাআত, পৃ. ৩৩২; আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ২০৫; কাওয়াইদুল মুরাফাআত, পৃ. ৪২৬
[১১৩৫] আল-মুরাফাআত, পৃ. ৩৪১; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ২০৫; কাওয়াইদুল মুরাফাআত, পৃ. ৪২৯
📄 ব্যক্তিগত অবস্থার উদ্দেশ্য
ব্যক্তিগত অবস্থা যে একটি বিদেশি পরিভাষা—তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। ব্যক্তিগত অবস্থা বলতে কী বোঝায় এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য—এর সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাখ্যাকার এবং আদালতের মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য আছে। ১৯৩৪ সালে মিশরের আপিল আদালত এর সংজ্ঞা পেশ করেছে। যেমন ১৯৪৭ সালে মিশ্র বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক ধারা ব্যক্তিগত অবস্থা গণনা করেছে। তারপর ১৯৪৭ সালের ৯১ নং আইনের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় ফরমান এই কেইসগুলো গণনা করেছে। এভাবে বিচারব্যবস্থার আইনের ১৩ নং প্রস্তাবনায় এ সংক্রান্ত যত রায় জারি করা হয়েছে, সেগুলোর আলোকে ব্যক্তিগত অবস্থাগুলো গণনা করা হয়েছে। আমরা এখানে এই পরিভাষার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিচারব্যবস্থার আইন উল্লেখ করেই আমরা ক্ষান্ত থাকব।
আপিল আদালতের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত অবস্থা বলে মানুষের এমন সব বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য, যা তাকে অপর থেকে আলাদা করে রাখে। যেমন প্রাকৃতিক এবং পারিবারিক গুণাবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তার সামাজিক জীবনে আইনকানুনের প্রভাব সৃষ্টি হয়। যেমন একজন মানুষ নারী বা পুরুষ হওয়া, স্বামী বা স্ত্রী হওয়া, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত হওয়া, বাবা কিংবা আইনগত সন্তান হওয়া, পরিপূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী হওয়া বা না হওয়া। এই অযোগ্যতা বয়স কম হওয়ার কারণে, কিংবা অক্ষম বা পাগল হওয়ার কারণেও হতে পারে। স্বাধীন যোগ্যতার অধিকারীর হতে পারে অথবা আইনগত কারণে নির্ধারিত যোগ্যতার অধিকারীও হতে পারে।
আপিল আদালত আরও বলে, মিশরীয় প্রশাসনের মতে ওয়াকফ, উপহার এবং ওসিয়ত—সবগুলোই মুস্তাহাব অনুদানের নিয়তে অর্পণ করা হয়। তাই এগুলোকে ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও এগুলো দেওয়ানি আদালতের পরিধি অনুসারেই সম্পাদন করা হয়ে থাকে। অথচ ধর্মীয় ইস্যু সংবলিত এমন সমস্যাগুলো সমাধান করা দেওয়ানি আদালতের দায়িত্ব নয়।
মিশরের বিচারব্যবস্থা আইনের ১৩ নং ধারা মানুষের অবস্থা এবং যোগ্যতা বা পরিবার-ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিরোধ এবং সমস্যা ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে গণ্য করেছে। যেমন বিবাহের প্রস্তাব, বিবাহ, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, তাদের পারস্পরিক কর্তব্য, মোহর এবং যৌতুক (যা বিবাহের প্রস্তাবদাতা দিয়ে থাকে), স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, তালাক প্রদান করা এবং তালাক চাওয়া, বিচ্ছেদ, সন্তান গ্রহণ, স্বামীর পক্ষ থেকে বাবার স্বীকৃতি, পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিদের মাঝে সম্পর্ক, আত্মীয়স্বজন এবং মেয়ের জামাতাদের প্রতি খরচ করার নীতি ধরে রাখা, বংশ সংশোধন, ওসিয়ত করা, অভিভাবকত্ব, নিষেধাজ্ঞা, পরিচালনার অনুমতি, অনুপস্থিতি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত বিবেচনা করা। এগুলো ছাড়া আরও আছে উত্তরাধিকার, ওসিয়ত এবং মৃত্যুর পরবর্তী আরও অন্যান্য ইস্যু সংক্রান্ত বিরোধ এবং সমস্যা।
ব্যক্তিগত ইস্যু বিষয়ে বিচারব্যবস্থার আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। তবে হেবা বা উপহার আর অনুদান ইস্যু এর ব্যতিক্রম। এটা নগর-আইনের অধীনে রয়েছে।
টিকাঃ
[১১৩৬] আল-মুরাফাআতুল মাদানিয়্যাহ ওয়াত তিজারিয়্যাহ, পৃ. ৪৩৪; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ১৯৬