📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 শারঈ আদালতের বিলুপ্তি

📄 শারঈ আদালতের বিলুপ্তি


আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পর মিশরীয় সরকার হৃদয়বিদারক এবং দুঃখজনক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। রাষ্ট্রীয় সকল বিষয় আপন আপন জায়গায় ফিরিয়ে আনা, মিশরীয় জাতির দ্বীন, জনগণের আকীদা-বিশ্বাস, আসমানি পবিত্র আইন আঁকড়ে ধরা, শারঈ আইন বাস্তবায়ন, শারঈ বিচারব্যবস্থায় ন্যায় এবং ইনসাফ আর সত্য এবং প্রাণ ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে শারঈ আদালতকে তারা একেবারেই বিলুপ্ত করে দেয়।

১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ৪৬২ নং আইন জারি করা হয়। যা-তে শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় কাউন্সিলের বিলুপ্তির কথা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা-তে এটাও ছিল, ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এ আইন কার্যকর হবে। এর ফলে শারঈ আদালত এবং ধর্মীয় পরিষদগুলোতে নোটারাইজেশন কলম বিলুপ্তির প্রয়োজন দেখা দেয়। মিশরীয় বিধায়ক ১৯৫৫ সালে ৬২৯ নং একটি বিশেষ আইন জারি করেন। ১৯৪৭ সালের প্রমাণিকরণ আইনের কিছু বিধান সংশোধন করে এবং শারঈ আদালত ও ধর্মীয় কাউন্সিলের নোটারাইজেশন কলমগুলো বাতিল করে দেয়। শারঈ আদালতে পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এ আইনটি শারঈ বিচারকদের দেওয়ানি আদালতের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তারা অবসরের বয়সে পৌঁছলে অন্য কোনো শারঈ আলিম নিয়োগ দেওয়া হবে না।

তারপর মিশরের ভূমি থেকে শারঈ আদালতের অস্তিত্ব মুছে যায়। এরপর ১৫ই অক্টোবর ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে মিশরে বসবাসরত যাবতীয় মিশরীয়র প্রতি লক্ষ্য রেখে বাণিজ্যিক এবং দেওয়ানি সমস্যার সমাধানে পারিবারিক বিচারব্যবস্থার পরিধি শুধু বিশেষ দেওয়ানি আদালতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। যেসব আদালত দেওয়ানি এবং বাণিজ্যিক মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করত, দেওয়ানি আদালত সেসব আদালতের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। এমনটা বিশেষভাবে তখনই হতো, যদি বিচারপ্রার্থীদের কোনো এক পক্ষ ভিনদেশি হতো।

শারঈ আদালত বিলুপ্ত করার পর ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সকল মিশরীয়র পারিবারিক মামলা পরিচালনার দায়িত্ব চলে যায় দেওয়ানি আদালতের কাছে। দেওয়ানি প্রাথমিক আদালত একাধিক বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে কিছু বাণিজ্যিক এবং দেওয়ানি বিষয়গুলোর শুনানি করত। আর কিছু পরিচালনা করত ফৌজদারি আইন। আবার কিছু শুধু ব্যক্তিগত অবস্থার দায়িত্ব পালন করত।

টিকাঃ
[১১২৯] আল-মুরাফাআতুল মাদানিয়্যাহ ওয়াত তিজারিয়্যাহ, পৃ. ৩২১
[১১৩০] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়‍্যাহ, পৃ. ১৪৬ এবং ১৬৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিভিন্ন শ্রেণির আদালত

📄 বিভিন্ন শ্রেণির আদালত


মিশরের বিচারব্যবস্থা সাধারণ বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনিক বিচার বিভাগ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এগুলোর পাশাপাশি সিরিয়ার মতো সামরিক বিচার বিভাগ এবং বিশেষ আদালতও ছিল। যেমন সামরিক আদেশ পরিচালিত সর্বোচ্চ এবং আংশিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আদালত ১৯৫৮ সালের ৪০ নং আইন। মিশরের সাধারণ বিচারব্যবস্থা যেসব আদালত নিয়ে গঠিত হয়েছিল, সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো।

১. রেফার আদালত: ১৯৩১ সাল থেকে এটা চলে আসছিল। এই আদালত একজন প্রধান বিচারক, তিনজন প্রতিনিধি এবং একাধিক উপদেষ্টার সমন্বয়ে গঠিত ছিল। এ আদালতে মৌলিক তিনটি বিভাগ ছিল। যথা: (ক) ফৌজদারি বিভাগ, (খ) নগর আর বাণিজ্য বিভাগ এবং (গ) পারিবারিক বিভাগ। এই আদালতে পাঁচজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে রায় জারি করা হতো। ফৌজদারি বিভাগ ছাড়াও বিভিন্ন মামলার ত্রুটি তদন্ত করার জন্য আরও কিছু বিভাগ ছিল। যার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হতো তিনজন উপদেষ্টার পক্ষ থেকে।

২. আপিল আদালত: এই আদালতের অধীনে দুই শ্রেণির আদালত ছিল। (ক) দেওয়ানি মামলাগুলোর প্রাথমিক রায় আপিল এবং শুনানির জন্য উচ্চ আপিল আদালত। (খ) ফৌজদারি আদালত। এটা ছিল দুই শ্রেণির। সাধারণ ফৌজদারি আদালত তিনজন উপদেষ্টা নিয়ে গঠিত হতো। দণ্ডবিধি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনের নিবন্ধন ৫১ আর ৪২০ অনুসারে একজন স্বতন্ত্র উপদেষ্টা থাকতেন। যার দায়িত্ব ছিল চুরি, স্থায়ী অক্ষমতা, এবং লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনের অপরাধগুলো দেখা।

৩. প্রাথমিক আদালত: অপরাধমূলক আপিল, দেওয়ানি, বাণিজ্যিক, জরুরি আপিল এবং পারিবারিক আপিল বিভাগ ছিল এর অন্তর্ভুক্ত। ফৌজদারি আদালতের রায়গুলোর জমা দেওয়া আপিল শুনানির জন্য একক বিচারক বিভাগ এবং জরুরি আদালত বিভাগ—এই আপিল বিভাগ দুটি কাজ করত। একক বিচারকের আদালত ছাড়াও এই আদালত তিনজন বিচারক নিয়ে গঠিত হতো। কারণ একক বিচারকের আদালতে কেবল একজন বিচারক থাকতেন।

৪. আংশিক আদালত: এটা কেবল একজন বিচারক নিয়ে গঠিত হতো। দেওয়ানি, বাণিজ্যিক এবং পারিবারিক মামলাগুলোর শুনানি করা ছিল এর পরিধি। আংশিক আদালত থাকত প্রাথমিক আদালতের অধীনে।

আর প্রশাসনিক বিচার বিভাগ ছিল রাজ্য পরিষদের অধীনে। যা ১৯৪৬ সালের ১১২ নং আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৫৯ সালের ১৫৫ নং আইনে এর পরিধি বর্ণনা করা হয়েছে। রাজ্য কাউন্সিল গঠিত ছিল একটি বিচার বিভাগ এবং একটি উপদেষ্টা বিভাগ নিয়ে। আর বিচার বিভাগটি গঠিত ছিল নিম্নোক্ত আদালতগুলো নিয়ে।

(ক) প্রশাসনিক উচ্চ আদালত: ১৯৫৫ সালের ১৫৫ নং আইনের অধীনে এই আদালতটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই আদালত প্রশাসনিক আদালত বা প্রশাসনিক বিচার বিভাগীয় আদালত কর্তৃক জারি করা সমস্ত রায়ের ওপর মন্তব্য করার দায়িত্ব পালন করত। রাজ্য পরিষদের সভাপতি এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক উপদেষ্টা নিয়ে এই আদালতটি গঠিত ছিল। পাঁচজন উপদেষ্টা নিয়ে এর রায়গুলো জারি করা হতো। মামলা এবং রায়ের ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্ত করার জন্য থাকত এক বা একাধিক বিভাগ। যা তিনজন উপদেষ্টা নিয়ে গঠন করা হতো।

(খ) প্রশাসনিক বিচার আদালত: রাজ্য পরিষদ-চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি এর পরিচালনায় থাকতেন। এই আদালতের রায়গুলো তিনজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে জারি করা হতো। এই আদালতের আরও কিছু বিভাগীয় সংস্থা ছিল। এই সংস্থাগুলোর কাছে প্রথমে বিশেষভাবে মামলাগুলো উপস্থাপন করা হতো।

(গ) প্রশাসনিক আদালত: একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং দুজন সদস্য নিয়ে এই আদালত গঠিত হতো। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানির জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় অথবা প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য থাকত এক বা একাধিক প্রশাসনিক আদালত।

(ঘ) রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ: এতে একজন প্রধান, বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, সহকারী উপদেষ্টা, নায়েব এবং প্রতিনিধিরা থাকতেন। এটিকে রাজ্য পরিষদের বিচার বিভাগীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এটা পূর্বে উল্লেখিত তিনটি বিভাগের প্রতিটি প্রশাসনিক আদালতে কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করত। যার লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক বিচার বিভাগকে সহায়তা করা। মামলার প্রস্তুতির বোঝা অপসারণ এবং বিভিন্ন দিক থেকে তাদের সমস্যাগুলো যাচাই করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করার কাজ তারা করতেন।

টিকাঃ
[১১৩১] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ১৪৬
[১১৩২] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়াহ, পৃ. ১৫০
[১১৩৩] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ১৫৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ব্যক্তিগত অবস্থার সমাধানে নগর-আদালতের পরিধি

📄 ব্যক্তিগত অবস্থার সমাধানে নগর-আদালতের পরিধি


১৯৫৪ সালের ৪৬২ নং আইন ব্যক্তিগত অবস্থার পরিধিগুলো একীভূত করেছে। নগর-আদালতই তখন বিশেষভাবে ব্যক্তিগত যাবতীয় বিরোধের নিষ্পত্তি করত।

কিন্তু বিচারক যে আইন অনুযায়ী বিচার করবেন, মিশরীয় প্রশাসন সে আইনকে একীভূত করতে পারেনি। সুতরাং মোকদ্দমা দায়েরকারীরা অমুসলিম হলে তাদের ধর্ম, চিন্তা-চেতনা এবং সম্প্রদায় এক হলে এমতাবস্থায় তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সুশৃঙ্খল কোনো বিচারব্যবস্থা থাকলে রায় জারির সময় তাদের মতাদর্শ অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। পক্ষান্তরে মিশরীয় মুসলিম এবং অমুসলিমদের মাঝে যদি বিবাদ হতো এবং ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা, মাযহাব ও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে তারা ভিন্ন হলে ১৯৩১ সালের ২৮০ নং প্রস্তাবনাতে বর্ণিত ইসলামি শারঈ রায় বাস্তবায়ন করা হতো। এই রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতামত এবং এ ব্যাপারে জারি করা বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত মতামত বেছে নেওয়া হতো। মিশরীয় এসকর্ট আইনে নির্ধারিত নিয়ম-পদ্ধতি এবং ১৯৩১ সালের শারঈ আদালতের প্রস্তাবনায় থাকা বিশেষ বিধি এবং তার পরিপূরক আইন প্রয়োগ করা হতো।

সাধারণ বিচার বিভাগের আদালত হচ্ছে নগর-আদালত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে আংশিক আদালত সামনে উল্লেখিত প্রস্তাবনার ৫ এবং ৬ নং ধারার শারঈ মামলাগুলোর দেখাশোনা করত।

১. আংশিক আদালতের প্রাথমিক পরিধি ছিল সন্তান লালনপালন এবং দেখাশোনা করা, ছোট বাচ্চাকে লালনপালনকারী নারী ছোট বাচ্চা নিয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে স্থানান্তরিত হওয়া, স্ত্রী এবং ছোট সন্তানের সব ধরনের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা, আত্মীয়দের ভরণপোষণ, মোহর এবং যৌতুক, সব ধরনের উত্তরাধিকার মামলা, বিবাহের সাথে এবং স্ত্রীর সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়, এবং উল্লেখিত বিষয়গুলোতে দুই বাদী-বিবাদীর কারও পক্ষ থেকে উকিল নিযুক্ত করার ক্ষেত্রে।

২. আংশিক আদালতের সর্বশেষ পরিধি হলো—স্ত্রী অথবা সন্তানের ভরণপোষণ-সংক্রান্ত রায় (মাসিক ১০০ পিয়াস্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হলে), মোহর (১০ হাজার পিয়াস্টারের কম হলে)। সর্বোপরি শরীয়াহ-সম্মত কোনো বিষয়ে বাদী-বিবাদীর মাঝে সমাধান করার ক্ষেত্রে দাবিকৃত অধিকার সম্পর্কে কোনো বিরোধ না থাকলে।

৩. শারঈ ইস্যুতে প্রাথমিক আদালতের পরিধি: এটা আংশিক আদালতের পরিধির মধ্যে ছিল না। আইন প্রণেতা বিরোধের অনুমোদন দিয়ে ২০০ মিশরীয় পাউন্ডের বেশি ঋণের জন্য অনুরোধ করে ওয়াকফ সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপে তাদের পরিধি চূড়ান্ত করেছেন। ঋণের জন্য অনুরোধ এবং একচেটিয়া ঋণ পরিশোধের জন্য স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করা, এবং সম্পত্তির মূল্য ২০০ মিশরীয় পাউন্ডের বেশি না হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য লিজ দেওয়া হতো। প্রাথমিক আদালতের সিদ্ধান্ত প্রাথমিক এবং বিষয়টি আপিলযোগ্য হতে হবে।

এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মিশরে পারিবারিক মামলার বিষয়গুলো প্রাথমিক বিচার বিভাগ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আপিলের অধীনস্থ হতো। আংশিক আদালতে একজন বিচারক এবং প্রাথমিক আদালতে তিনজন বিচারক দ্বারা শুনানি হতো। তবে পূর্বের শারঈ বিচারকদের একজনের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

টিকাঃ
[১১৩৪] আল-মুরাফাআত, পৃ. ৩৩২; আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ২০৫; কাওয়াইদুল মুরাফাআত, পৃ. ৪২৬
[১১৩৫] আল-মুরাফাআত, পৃ. ৩৪১; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ২০৫; কাওয়াইদুল মুরাফাআত, পৃ. ৪২৯

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ব্যক্তিগত অবস্থার উদ্দেশ্য

📄 ব্যক্তিগত অবস্থার উদ্দেশ্য


ব্যক্তিগত অবস্থা যে একটি বিদেশি পরিভাষা—তা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। ব্যক্তিগত অবস্থা বলতে কী বোঝায় এবং এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য—এর সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাখ্যাকার এবং আদালতের মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য আছে। ১৯৩৪ সালে মিশরের আপিল আদালত এর সংজ্ঞা পেশ করেছে। যেমন ১৯৪৭ সালে মিশ্র বিচারব্যবস্থার প্রশাসনিক ধারা ব্যক্তিগত অবস্থা গণনা করেছে। তারপর ১৯৪৭ সালের ৯১ নং আইনের মধ্যেও রাষ্ট্রীয় ফরমান এই কেইসগুলো গণনা করেছে। এভাবে বিচারব্যবস্থার আইনের ১৩ নং প্রস্তাবনায় এ সংক্রান্ত যত রায় জারি করা হয়েছে, সেগুলোর আলোকে ব্যক্তিগত অবস্থাগুলো গণনা করা হয়েছে। আমরা এখানে এই পরিভাষার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল আপিল আদালতের সিদ্ধান্ত এবং বিচারব্যবস্থার আইন উল্লেখ করেই আমরা ক্ষান্ত থাকব।

আপিল আদালতের দৃষ্টিতে ব্যক্তিগত অবস্থা বলে মানুষের এমন সব বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য, যা তাকে অপর থেকে আলাদা করে রাখে। যেমন প্রাকৃতিক এবং পারিবারিক গুণাবলি। যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তার সামাজিক জীবনে আইনকানুনের প্রভাব সৃষ্টি হয়। যেমন একজন মানুষ নারী বা পুরুষ হওয়া, স্বামী বা স্ত্রী হওয়া, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত হওয়া, বাবা কিংবা আইনগত সন্তান হওয়া, পরিপূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী হওয়া বা না হওয়া। এই অযোগ্যতা বয়স কম হওয়ার কারণে, কিংবা অক্ষম বা পাগল হওয়ার কারণেও হতে পারে। স্বাধীন যোগ্যতার অধিকারীর হতে পারে অথবা আইনগত কারণে নির্ধারিত যোগ্যতার অধিকারীও হতে পারে।

আপিল আদালত আরও বলে, মিশরীয় প্রশাসনের মতে ওয়াকফ, উপহার এবং ওসিয়ত—সবগুলোই মুস্তাহাব অনুদানের নিয়তে অর্পণ করা হয়। তাই এগুলোকে ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও এগুলো দেওয়ানি আদালতের পরিধি অনুসারেই সম্পাদন করা হয়ে থাকে। অথচ ধর্মীয় ইস্যু সংবলিত এমন সমস্যাগুলো সমাধান করা দেওয়ানি আদালতের দায়িত্ব নয়।

মিশরের বিচারব্যবস্থা আইনের ১৩ নং ধারা মানুষের অবস্থা এবং যোগ্যতা বা পরিবার-ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত বিরোধ এবং সমস্যা ব্যক্তিগত অবস্থা হিসেবে গণ্য করেছে। যেমন বিবাহের প্রস্তাব, বিবাহ, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, তাদের পারস্পরিক কর্তব্য, মোহর এবং যৌতুক (যা বিবাহের প্রস্তাবদাতা দিয়ে থাকে), স্বামী-স্ত্রীর মাঝে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, তালাক প্রদান করা এবং তালাক চাওয়া, বিচ্ছেদ, সন্তান গ্রহণ, স্বামীর পক্ষ থেকে বাবার স্বীকৃতি, পূর্বসূরি এবং উত্তরসূরিদের মাঝে সম্পর্ক, আত্মীয়স্বজন এবং মেয়ের জামাতাদের প্রতি খরচ করার নীতি ধরে রাখা, বংশ সংশোধন, ওসিয়ত করা, অভিভাবকত্ব, নিষেধাজ্ঞা, পরিচালনার অনুমতি, অনুপস্থিতি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত বিবেচনা করা। এগুলো ছাড়া আরও আছে উত্তরাধিকার, ওসিয়ত এবং মৃত্যুর পরবর্তী আরও অন্যান্য ইস্যু সংক্রান্ত বিরোধ এবং সমস্যা।

ব্যক্তিগত ইস্যু বিষয়ে বিচারব্যবস্থার আইন লঙ্ঘন করা হয়নি। তবে হেবা বা উপহার আর অনুদান ইস্যু এর ব্যতিক্রম। এটা নগর-আইনের অধীনে রয়েছে।

টিকাঃ
[১১৩৬] আল-মুরাফাআতুল মাদানিয়্যাহ ওয়াত তিজারিয়‍্যাহ, পৃ. ৪৩৪; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ১৯৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00