📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 শারঈ আদালতের পরিধি

📄 শারঈ আদালতের পরিধি


সিরিয়ার শারঈ আদালত একদিক থেকে একটি স্বাধীন আদালত হিসেবে বিবেচিত হতো। অন্যদিক থেকে সেটি ছিল একটি বিশেষ আদালত। এই আদালত কেবলমাত্র নির্ধারিত মামলাগুলোর শুনানি করত।

এরপর আসে সিরিয়ান কোড অফ সিভিল প্রসিডিউর। এই আইন শারঈ আদালত সম্পর্কে কথা বলার জন্য ৪ নং বই নির্দিষ্ট করে দেয়। এ আইন এ-কথাও স্পষ্ট করে দেয় যে, শারঈ আদালতের পরিধি দুটি মৌলিক অংশে বিভক্ত।

১. সাধারণ পরিধি: শারঈ আদালতের পরিধি ছিল মতাদর্শিক। চিন্তা-চেতনার ভিন্নতা সত্ত্বেও সমস্ত সিরিয়াবাসীর কিছু বিষয়ের মামলার শুনানির নির্ধারিত দায়িত্ব। এমনকি সিরিয়ায় বসবাসকারী সিরিয়ান নয় বিদেশিদের জন্যও তা প্রযোজ্য হতো। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক রায়ের ক্ষেত্রে তারা ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুসরণ করত। অভিভাবকত্ব, উইল বা ওসিয়ত, আইনি প্রতিনিধিত্ব, মৃত্যু প্রমাণ করা, উত্তরাধিকারীদের জন্য উত্তরাধিকারের ভাগ নির্ধারণ করা, বংশ, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তান ব্যতীত আত্মীয়দের ভরণপোষণ, নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রাপ্তবয়স্কতা প্রমাণ করা এবং নিখোঁজ ব্যক্তির দায়িত্ব ছিল সাধারণ পরিধির অন্তর্ভুক্ত। (ধারা নং: ৫৫৩। আই.এম.)

২. বিশেষ পরিধি: শারঈ আদালতের নির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেবল মুসলিমদের পারিবারিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত মামলাগুলোর দেখাশোনা করা। বিবাহ-শাদি, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, যৌতুক, শিশুর লালনপালন, স্তন্যপান করানো, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে ভরণপোষণ, শারঈ হুকুম, প্রয়োজনীয়তা ও শর্তসাপেক্ষে জনকল্যাণমূলক দাতব্য ওয়াকফ ছিল এই দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। (ধারা নং: ৫৩৬। আই.এম) আরও ছিল ওসিয়ত, জনকল্যাণমূলক দাতব্য ওয়াকফের সমস্ত অধিকার নিয়ন্ত্রণ, বিবাহ চুক্তি এবং সেটাকে নিশ্চিতকরণ, তালাক তথা বিবাহ বিচ্ছেদ, আইনি উত্তরাধিকার নির্ধারণ নথিপত্র, শারঈ আইনি প্রতিনিধি নিযুক্ত করা, ভরণপোষণ আরোপ করা, পরস্পর সন্তুষ্টির মাধ্যমে ভরণপোষণ রহিত করা, বাবা-মায়ের অনুমোদনের সাথে সন্তানের বংশ সাব্যস্ত করা এবং নতুন চাঁদ সাব্যস্ত করা। (ধারা নং: ৫৩৮। আই. এম)

টিকাঃ
[১১২৫] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ ওয়াল মাদানিয়্যাহ, পৃ. ১১২

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সিরিয়ার শারঈ বিচারকের শর্তাবলি

📄 সিরিয়ার শারঈ বিচারকের শর্তাবলি


সিরিয়ায় সাধারণভাবে বিচার বিভাগ, পাবলিক প্রসিকিউশন এবং বিশেষভাবে শারঈ আদালতে যে দায়িত্ব পালন করত, তার ক্ষেত্রে যেসব শর্ত প্রযোজ্য ছিল সেগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো।

১. ব্যক্তিটির কমপক্ষে পাঁচ বছর সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের নাগরিকত্ব থাকতে হবে। তার ধর্ম বা বর্ণ যা-ই হোক না কেন।
২. তাকে অবশ্যই সম্পূর্ণ যোগ্য হতে হবে এবং নাগরিক অধিকার ভোগ করতে হবে।
৩. তাকে অবশ্যই সংক্রামক রোগ এবং এমন অক্ষমতা থেকে মুক্ত হতে হবে, যা তাকে দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয়।
৪. বয়স। একজন সহকারী শারঈ বিচারক বা একজন প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ হলে তার বয়স ২২ হতে হবে। আর আপিল আদালতের সভাপতি এবং রেফার আদালতের উপদেষ্টা পদের জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ হওয়া বাঞ্ছনীয়। সর্বোচ্চ বয়স হলো ৫০।
৫. প্রার্থী যেন কোনোভাবেই গুরুতর বা জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত না হয়। কিংবা এক বছর মেয়াদের বেশি সময় যেন কারাদণ্ডে দণ্ডিত না হয়।
৬. প্রার্থীকে অবশ্যই আইনের ডিগ্রিধারী হতে হবে। প্রযোজ্য আইনে নির্ধারিত এবং নিরপেক্ষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শারঈ বিচার বিভাগের সনদও গৃহীত হবে না।
৭. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তথা সর্বোচ্চ বিচার পরিষদ অবশ্যই তার মনোনয়ন গ্রহণে সম্মত হতে হবে।

টিকাঃ
[১১২৬] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ ওয়াল মাদানিয়্যাহ, পৃ. ১০২ এবং ১০৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00