📄 সিরিয়ার আইন প্রণয়নে বিচার বিভাগ
বর্তমানে বৈশ্বিক আইন রাষ্ট্রের ক্ষমতা তিন ভাগে বিভক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে থাকে। বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের অন্যান্য বিভাগ তথা আইন প্রণয়ন বিভাগ, রায় কার্যকর বিভাগ এবং বিচার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমপর্যায়ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বিভাগগুলো ভিন্ন করার প্রতি গুরুত্বের খাতিরে প্রথমে সংবিধানের কথা, তারপর বলা হয়েছে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথা। বর্তমান সিরিয়া এই নীতির ওপরই চলেছে। সিরিয়ার প্রকাশিত সংবিধানগুলো এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে যে, বিচারব্যবস্থা এবং একটি স্বতন্ত্র বিভাগ। বিচারকরা স্বাধীন; তাদের বিচারের ব্যাপারে আইন ভিন্ন কোনো কর্তৃত্ব নেই। বিচারকদের সম্মান, বিবেক এবং নিরপেক্ষতা মানুষের অধিকার এবং স্বাধীনতার নিশ্চয়তার জিম্মাদার।
টিকাঃ
[১১১৭] ১৯৫০ সালের সিরিয়ান সংবিধানের ১০৪ নং ধারা; ১৯৭৩ সালের সিরিয়ান সংবিধানের ১৩১ নং ধারা।
[১১১৮] ১৯৫০ সালের সিরিয়ান সংবিধানের ১০৫ নং ধারা; ১৯৭৩ সালের সিরিয়ান সংবিধানের ১৩৩ নং ধারা।
📄 সাধারণ বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা
সিরিয়ায় সাধারণ বিচার বিভাগের অবকাঠামো চারটি বিভাগ নিয়ে গঠিত।
১. সাধারণ বিচার বিভাগ: যা আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত ছিল। দেওয়ানি এবং বাণিজ্যিক আইনের নীতি, ফৌজদারি আইনের নীতি, বিচার সংশ্লিষ্ট ক্ষমতার আইন, নিত্যনতুন এবং অন্যান্য মামলার নীতি, সিরিয়ান প্রশাসনের পক্ষ থেকে জারিকৃত আইন এবং রায় বাস্তবায়নের অধীনে ছিল। যেমন বেসামরিক আইন, বাণিজ্যিক আইন, সাজা-সংক্রান্ত আইন, ব্যক্তিগত বিষয় এবং অন্যান্য বিষয় সংক্রান্ত আইন ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থা। মন্ত্রীসভার সাথে এই বিচার-সংস্থার সরাসরি সম্পর্ক। ১৯৫৯ সালের ৫৫ নং আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় পরিষদের ব্যবস্থাপনা এ সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণাধীন। রাষ্ট্রীয় পরিষদের সামনে এ সংস্থাটি মামলার নীতি, রাষ্ট্রীয় ফরমান, আইন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করে থাকে।
বিচার বিভাগ, ফতোয়া এবং আইন-উপদেষ্টা বিভাগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিষদ গঠিত। (ধারা নং: ২।) আর বিচার বিভাগ গঠিত হয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত, প্রশাসনিক আদালত, রাজ্য পরিচালনা কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্য পরিচালনা পরিষদ নিয়ে। (রাজ্যের পরিষদের আইন, ধারা নং: ৩।) প্রতিটি আদালতেরই নির্ধারিত ক্ষমতা এবং পরিধি আছে। (৮ নং এবং তার পরবর্তী ধারাগুলো।)
৩. সামরিক বিচার বিভাগ। এটি সাজা-সংক্রান্ত আইন এবং সামরিক মামলা নীতির অধীন। যা ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৬১ নং আইন অনুসারে জারি করা হয়েছিল। সামরিক বিচার বিভাগ আবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনেও ছিল। সামরিক বিচার বিভাগগুলো একক বিচারকের আদালত এবং সামরিক আদালত (ধারা নং: ১) নিয়ে গঠিত হতো। এই আদালত দুটির প্রতিটিরই নিজস্ব পরিধি ছিল। (ধারা নং: ৩ এবং তার পরবর্তী ধারাগুলো।)
৪. বিশেষ আদালত। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র এই আদালত বসাত। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় বা আইন ইস্যুকারী নির্দিষ্ট সংস্থার অনুগত থাকত। যেমন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আদালত। এগুলো ৮ আগস্ট ১৯৭৭ সালে জারিকৃত ৪৬ নং আইন অনুসারে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগ করত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আদালত-সহ অন্যান্য আদালত ছিল বিশেষ আদালতের অন্তর্ভুক্ত। যার মধ্যে কিছু সাধারণ বিচার বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর কিছু ছিল পরিধি অনুযায়ী বিশেষ বিষয়ে নির্ধারিত। যেমন ট্রাফিক আদালত, কিশোর-সংক্রান্ত আদালত এবং শ্রমিক আদালত ইত্যাদি।
শারঈ বিচার বিভাগ ছিল আইন মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ বিচার বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ বিচার বিভাগের কাজ ছিল ‘সিভিল প্রসিডিউর কোড’ এবং ‘জুডিশিয়াল অথরিটি আইন’ প্রয়োগ করা। তাই এই আলোচনা সাধারণ বিচার বিভাগের মাঝেই সীমাবদ্ধ।
টিকাঃ
[১১১৯] মাজমুআতু তাকনীনি উসূলিল মুহাকামাত দ্রষ্টব্য
[১১২০] মাজমুআতু তাকনীনি উসূলিল মুহাকামাত দ্রষ্টব্য। কানুনু তানযীমি মাজলিসিদ দাওলাহ, পৃ. ৪৪৯
[১১২১] মাজমুআতু তাকনীনি উসূলিল মুহাকামাত দ্রষ্টব্য। কানুনুল উকুবাত ওয়া উসূলুল মুহাকামাতিল আসকারি, পৃ. ৩৪৫
[১১২২] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ, পৃ. ১০২
📄 সিরিয়ার সাধারণ বিচার বিভাগের আদালত
মূলত সাধারণ বিচার বিভাগের আদালত ছিল নিম্নের আদালতগুলো নিয়ে গঠিত।
১. ব্যক্তিগত অবস্থার আদালত: এই আদালতের দায়িত্ব ছিল পরিবারের বিবাহ, তালাক, মিরাস, বংশ, ভরণপোষণ ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত বিষয়ের মামলা শুনানি।
ব্যক্তিগত অবস্থার আদালত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। (ধারা নং: ৩৩।)
ক. শারঈ আদালত: একজন বিচারক নিয়ে এ আদালত গঠিত হতো। যাকে শারঈ বিচারক বলা হতো। কোনো এলাকায় একাধিক শারঈ আদালত থাকলে সর্বোচ্চ বিচারক বা প্রবীণ বিচারক আদালতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করতেন। (ধারা নং: ৩৪।) দামিস্কে বিশেষভাবে প্রথম শারঈ বিচারকের দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা। পূর্ববর্তী আলোচনায় যাকে ‘কাযিউল কুযাত’ বা প্রধান বিচারপতি বলা হতো।
খ. মতাদর্শিক আদালত: এই আদালত দ্রুজ সম্প্রদায়ের লোকদের পক্ষ থেকে একজন শারঈ বিচারক নিয়ে গঠিত হতো। উল্লিখিত সম্প্রদায়ের পারিবারিক বিভিন্ন মামলা শুনানির দায়িত্ব পালন করত এই আদালত। আইনমন্ত্রীর মতামত এবং বিচার বিভাগের উচ্চ পরিষদের সম্মতি গ্রহণের পর একটি ফরমানের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হতো। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৫ নং ধারা অনুযায়ী বিচারক নিয়োগের সকল শর্ত পরিপূর্ণভাবে দেখা হতো। মতাদর্শিক আদালত ৩০৭ নং ধারার প্রতি লক্ষ রেখে সিরিয়ান পারিবারিক আইন প্রয়োগ করত। বিশেষভাবে দ্রুজ সম্প্রদায়ের সাথে সম্পৃক্ত বিশেষ কিছু আইন ছিল এই ধারার অন্তর্ভুক্ত।
গ. আধ্যাত্মিক আদালত: এই আদালত বিধর্মী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পারিবারিক মামলার শুনানির দায়িত্ব পালন করত। রেজোলিউশন নং ৬০ L.R (১৩ই মার্চ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৩৬ নং ধারা এই আদালত নিয়ন্ত্রণ করে তার পরিধি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করত। লেবাননের মতো সিরিয়াতেও এই রেজোলিউশন বিধর্মী সম্প্রদায়ের একটি পরিসংখ্যান করেছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে লেবাননের মতো সিরিয়ার অমুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা গণনা করা হয়েছিল। তারা ছিল—১. ম্যারোনাইটস, ২. গ্রিক অর্থোডক্স, ৩. রোমান ক্যাথলিক, ৪. আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স, ৫. আর্মেনিয়ান ক্যাথলিক, ৬. সিরিয়ান অর্থোডক্স, ৭. সিরিয়ান ক্যাথলিক, ৮. অ্যাসিরিয়ান ক্যালডক্স, ৯. ক্যালদিয়ান, ১০. ল্যাটিন, ১১. প্রোটেস্ট্যান্ট, ১২. দামিস্ক সিনাগগের ইহুদি এবং ১৩. আলেপ্পো সিনাগগের ইহুদি। এই রেজুলেশন এখনো কার্যকর।
সিরিয়ান পারিবারিক আইনের ৩০৮ নং ধারাটি পারিবারিক অবস্থা ধারণ করে। খ্রিষ্টান এবং ইহুদি আধ্যাত্মিক আদালতগুলো পারিবারিক মামলাগুলোর শুনানি দেখার দায়িত্ব পালন করত। এই ধারাটির মধ্যে বলা হয়েছে, খ্রিষ্টান এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ধর্মীয় যে আইনকানুন এবং বিধিবিধান রয়েছে—সেগুলো পালন করতে হবে। বিবাহের প্রস্তাব, বিবাহের শর্ত এবং বিবাহ সম্পাদন, বিবাহের পরে তাদের খোঁজখবর রাখা, স্ত্রীর ভরণপোষণ, ছোটদের ভরণপোষণ, বিবাহ বাতিল এবং বিবাহের বৈধতা, বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া, তালাকে বায়িনের ক্ষেত্রে যৌতুক এবং লালনপালনের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিষয়—এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব ছাড়া আরও যে আইনকানুন রয়েছে, সেগুলো শারঈ আদালতের মধ্যে সকল সিরিয়াবাসীর ওপর কার্যকর করা হতো।
২. কিশোর আদালত অপ্রাপ্তবয়স্কদের সাথে জড়িত সমস্ত মামলার শুনানি করত। ৩০শে মার্চ ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ৩৬ নং ধারায় জারি করা কিশোর আইন বাস্তবায়ন করা হয়।
৩. আপোস আদালত একজন বিচারক নিয়ে গঠিত হতো। যাকে ‘ম্যাজিস্ট্রেট জজ’ বলা হতো। (ধারা নং: ৩৮।) এই আদালত ১০ হাজার সিরিয়ান পাউন্ডের কম মূল্যমানের মামলার মীমাংসা করত। দেওয়ানি, বাণিজ্যিক এবং ফৌজদারি বিষয়গুলো ছিল যার নির্ধারিত কার্যবিধি। ফৌজদারি আইন যেগুলো নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল। (ধারা নং: ৬২ এবং তার পরবর্তী ধারাসমূহ। ধারা নং: ৩৯। বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের আইন থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল।)
৪. প্রাথমিক আদালত একজন বিচারক নিয়ে এই আদালত গঠিত হতো। যাকে প্রাথমিক বিচারক বলা হতো। (বিচার বিভাগ আইনের ৪০ নং ধারা।) এই আদালতগুলো এমন সব মামলার নিষ্পত্তি করত, যার জন্য কোনো বিশেষ বিচারিক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করা হয়নি। (ধারা নং ৪০-এর ২ নং দফা।) মামলা নীতি আইন প্রাথমিক আদালতের পরিধি নির্ধারণ করে দিত। (ধারা নং: ৭৭।)
৫. ফৌজদারি আদালত এটি সিরিয়ার দেওয়ানি বিচার বিভাগের একটি অংশ। ফৌজদারি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো ছোটখাটো লঙ্ঘন এবং অপরাধের বিচার করত। ফৌজদারি প্রাথমিক আদালতগুলোর শুধু অপরাধের বিচার করত। তারপর আপিল আদালত প্রাথমিক অপরাধের বিচার করত। ফৌজদারি আদালত ছিল আপিল বিচারকদের সমন্বয়ে গঠিত। যা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর বিচার করত। ফৌজদারি আদালতে থাকত আপিল আদালতের তিনজন উপদেষ্টা। এই আদালতের রায়গুলো কোনো আপিল গ্রহণ করত না। তবে রেফার আদালতের সামনে রেফারের মাধ্যমে আদালতের রায়গুলো নিয়ে আলোচনা করার বৈধতা ছিল। ফৌজদারি আদালতের সহযোগী ছিল সাধারণ প্রতিনিধি পাবলিক প্রসিকিউশনের মাধ্যমে। আর তদন্ত বিচারক মামলার তদন্ত করত। তদন্ত করার পরে ফৌজদারি আদালত মামলার শুনানি শুরু করত। সিরিয়ার এই আদালতগুলো ছিল স্বাধীন ফৌজদারি মামলা আইনের অধীনে।
৬. আপিল আদালত
এটি একজন প্রধান বিচারক এবং দুইজন উপদেষ্টা নিয়ে গঠিত ছিল। ফৌজদারি মামলা এবং যেসব মামলা আপিল গ্রহণ করত, এই আদালত সেসব মামলার মীমাংসা করত। (বিচার বিভাগীয় আইনের ৪১ নং ধারা এবং দেওয়ানি মামলা নীতির ৭৯ নং ধারা।)
৭. রেফার আদালত
এর মূল কেন্দ্র ছিল দামিস্কে। একজন প্রধান বিচারক, প্রধান বিচারকের কয়েকজন প্রতিনিধি এবং দুইজন উপদেষ্টা নিয়ে এই আদালত গঠিত হতো। এই আদালত ছিল তিন ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. দেওয়ানি এবং বাণিজ্যিক মামলা বিভাগ, ২. ফৌজদারি মামলা বিভাগ এবং ৩. ব্যক্তিগত মামলা বিভাগ। তিনজন উপদেষ্টার সমন্বয়ে রেফার আদালত তার সিদ্ধান্ত জারি করত। (বিচার বিভাগের ৪৪ নং ধারা এবং তার পরবর্তী ধারাগুলো।)
টিকাঃ
[১১২৩] তানযীমুল আহওয়ালিশ শাখসিয়্যাহ, লিগায়রিল মুসলিমিন, পৃ. ৩৭, ৬১, ৬২ এবং ৬৫
[১১২৪] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ ওয়াল মাদানিয়্যাহ, পৃ. ১০৮; মাজমুআতু তাকনীনি উসূলিল মুহাকামাত, পৃ. ১৮১
📄 শারঈ আদালতের পরিধি
সিরিয়ার শারঈ আদালত একদিক থেকে একটি স্বাধীন আদালত হিসেবে বিবেচিত হতো। অন্যদিক থেকে সেটি ছিল একটি বিশেষ আদালত। এই আদালত কেবলমাত্র নির্ধারিত মামলাগুলোর শুনানি করত।
এরপর আসে সিরিয়ান কোড অফ সিভিল প্রসিডিউর। এই আইন শারঈ আদালত সম্পর্কে কথা বলার জন্য ৪ নং বই নির্দিষ্ট করে দেয়। এ আইন এ-কথাও স্পষ্ট করে দেয় যে, শারঈ আদালতের পরিধি দুটি মৌলিক অংশে বিভক্ত।
১. সাধারণ পরিধি: শারঈ আদালতের পরিধি ছিল মতাদর্শিক। চিন্তা-চেতনার ভিন্নতা সত্ত্বেও সমস্ত সিরিয়াবাসীর কিছু বিষয়ের মামলার শুনানির নির্ধারিত দায়িত্ব। এমনকি সিরিয়ায় বসবাসকারী সিরিয়ান নয় বিদেশিদের জন্যও তা প্রযোজ্য হতো। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক রায়ের ক্ষেত্রে তারা ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুসরণ করত। অভিভাবকত্ব, উইল বা ওসিয়ত, আইনি প্রতিনিধিত্ব, মৃত্যু প্রমাণ করা, উত্তরাধিকারীদের জন্য উত্তরাধিকারের ভাগ নির্ধারণ করা, বংশ, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তান ব্যতীত আত্মীয়দের ভরণপোষণ, নিষেধাজ্ঞা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, প্রাপ্তবয়স্কতা প্রমাণ করা এবং নিখোঁজ ব্যক্তির দায়িত্ব ছিল সাধারণ পরিধির অন্তর্ভুক্ত। (ধারা নং: ৫৫৩। আই.এম.)
২. বিশেষ পরিধি: শারঈ আদালতের নির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেবল মুসলিমদের পারিবারিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত মামলাগুলোর দেখাশোনা করা। বিবাহ-শাদি, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর, যৌতুক, শিশুর লালনপালন, স্তন্যপান করানো, স্বামী/স্ত্রী এবং সন্তানদের মধ্যে ভরণপোষণ, শারঈ হুকুম, প্রয়োজনীয়তা ও শর্তসাপেক্ষে জনকল্যাণমূলক দাতব্য ওয়াকফ ছিল এই দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। (ধারা নং: ৫৩৬। আই.এম) আরও ছিল ওসিয়ত, জনকল্যাণমূলক দাতব্য ওয়াকফের সমস্ত অধিকার নিয়ন্ত্রণ, বিবাহ চুক্তি এবং সেটাকে নিশ্চিতকরণ, তালাক তথা বিবাহ বিচ্ছেদ, আইনি উত্তরাধিকার নির্ধারণ নথিপত্র, শারঈ আইনি প্রতিনিধি নিযুক্ত করা, ভরণপোষণ আরোপ করা, পরস্পর সন্তুষ্টির মাধ্যমে ভরণপোষণ রহিত করা, বাবা-মায়ের অনুমোদনের সাথে সন্তানের বংশ সাব্যস্ত করা এবং নতুন চাঁদ সাব্যস্ত করা। (ধারা নং: ৫৩৮। আই. এম)
টিকাঃ
[১১২৫] উসূলুল মুহাকামাতিশ শারইয়্যাহ ওয়াল মাদানিয়্যাহ, পৃ. ১১২