📄 উসমানি যুগে বিচারের উৎস
উসমানি সালতানাতে আইন প্রণয়নের প্রথম যুগে বিচারের একমাত্র উৎস ছিল শারঈ আইন। কেবল শরীয়ত থেকে এবং বিশেষভাবে হানাফি মাযহাব থেকে তারা সহায়তা গ্রহণ করতেন।
আইন প্রণয়নের দ্বিতীয় যুগে ভিনদেশি আইন আমদানি করা এবং বেসামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার পর একাধিক উৎস থেকে বিচারব্যবস্থা এবং বিধিবিধান গ্রহণ করা হতে থাকে। সেই উৎসগুলোর বিবরণ এখানে দেওয়া হলো।
১. ফিকহি মাযহাব। লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিষয়ের ক্ষেত্রে শারঈ বিচারব্যবস্থার বিবেচনায় বিভিন্ন মাযহাবের প্রতিনিধিরা থাকলেও বিচারকার্য পরিচালনা এবং ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাবই ছিল উসমানি সালতানাত কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃত। হানাফি মতাবলম্বী বিচারকরা তো সাধারণভাবে বিচারের ক্ষেত্রে হানাফি মাযহাব মেনে চলত। আর জেলা পর্যায়ের এবং প্রাদেশিক বিচারকরা বিশেষভাবে হানাফি মাযহাব মেনে চলত। এটা হতো ব্যক্তিগত বিষয় এবং শারঈ আদালতের পরিধির সীমায় থেকে মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতামত অনুসারে।
২. মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ তথা আদালতের বিধিবিধানের সংকলন। উসমানি খিলাফতের অধীনে থাকা প্রায় সবগুলো রাষ্ট্রেই এ আইন কার্যকর ছিল। এর অধীনেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিক এবং দেওয়ানি (আইনি) লেনদেন।
৩. আমদানিকৃত ভিনদেশি আইন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা। উসমানি খিলাফত এবং মিশরের সুলতান আর প্রশাসকরা যার প্রচলন করেছিলেন। ইতিপূর্বে এগুলোর আলোচনা করা হয়েছে।
৪. ভিনদেশি আদালত বা দূতাবাস ইত্যাদিতে থাকা বিদেশি আইন।
৫. ধর্মীয় আদালতের জন্য প্রযোজ্য অনৈসলামি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিধান।
বিচারের একাধিক উৎসের ফল এই হয় যে, জীবনের অনেক অঙ্গন থেকেই শরীয়তের অনুশাসন খতম হয়ে যায়। শারঈ বিধানের প্রয়োগ কেবল সংকীর্ণ কিছু ক্ষেত্রে এবং নির্দিষ্ট কিছু পরিধির মাঝে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
টিকাঃ
[১০৯৩] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৬৭, ১০৭-১১০