📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস 📄 উসমানি যুগে ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ

📄 উসমানি যুগে ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ


প্রশাসনিক ক্ষেত্রে উসমানি যুগের ধর্মীয় কর্মকর্তাগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তারা ছিলেন মুফতি বা শাইখুল ইসলাম, সামরিক বিচারক, সাধারণ বিচারক এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের তত্ত্বাবধায়ক। বিচারের সাথে সম্পর্ক থাকায় আমরা কেবল প্রথম তিনজনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

১. মুফতি বা শাইখুল ইসলাম পদটি সুলতান সুলাইমান আল-কানুনির শাসনামলে শুরু হয়েছিল। ইস্তাম্বুলের মুফতিকে সুলতান সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং আলিমদের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করতেন। যাকে ‘শাইখুল ইসলাম’ উপাধি দেওয়া হতো। মুফতিকে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ ছিল, সে-সময় উসমানি সাম্রাজ্যের আইনের ওপর ভিত্তি করেই অধিক পরিমাণে ফতোয়া প্রদান করা হতো। বিপুল সংখ্যক প্রশাসনিক আইন প্রণয়নের কারণে সুলতান সুলাইমানকে ‘আল-কানুনি’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ইস্তাম্বুলের মুফতির এ অধিকার থাকত যে, তিনি সরাসরি সুলতানকে বরখাস্ত করার ব্যাপারেও ফতোয়া জারি করতে পারতেন। আবার বৃহৎ রাজ্যের কেন্দ্রগুলোতেও তিনি মুফতিদের নিয়োগ দিতেন। প্রদেশসমূহের বেশির ভাগ কেন্দ্রে সিনিয়র হানাফি বিচারক নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্বও শাইখুল ইসলাম পালন করতেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে জোট এবং প্রগতিশীল দলের পক্ষ থেকে শাসনের দায়িত্ব নেওয়া হলে কেবল সামরিক অফিসারেরই প্রভাব থাকে। ১৯২৩ সালে শাইখুল ইসলামের পদ বাতিল ঘোষণা করা হয়।

২. ইস্তাম্বুলের পদমর্যাদায় শাইখুল ইসলামের পরেই আসে রুমিয়ার সামরিক বিচারক এবং আনাতোলিয়ায় সামরিক বিচারকের পদ। প্রথম মুরাদের শাসনামলে (১৩৬০-১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দে) এই পদটি চালু হয়। এই বিচারক উসমানি বাহিনীর সাথে থাকতেন বিধায় তাকে এ নামে নামকরণ করা হয়েছিল। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রধান বিচারকের সমান পদমর্যাদার অধিকারী। সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মাদের শাসনামলে (১৪৫১-১৪৮১ খ্রিষ্টাব্দে) সামরিক বিচারকের আরেকটি পদ চালু করা হয়। যার উপাধি দেওয়া হয় আনাতোলিয়ার সামরিক বিচারক। তিনি সাম্রাজ্যের পূর্ব দিক এবং এশিয়ার অংশ সামাল দিতেন। আর প্রথমজন দেখতেন রুমিয়া তথা ইউরোপের সামরিক দিক।

৩. প্রদেশসমূহের কেন্দ্রীয় বিচারক। এই বিচারকের উপাধি ছিল ‘মুল্লা’ বা ‘মুনলা’। যার অর্থ ছিল সর্দার বা প্রধান। ১৮ শতকের বিচারের প্রশাসনিক বিভাগ অনুসারে সামরিক বিচারক এবং ইস্তাম্বুলের বিচারককে একই পদমর্যাদার অধিকারী বলে গণ্য করা হতো। তার পরবর্তী স্তরেই ছিলেন মক্কা এবং মদীনার বিচারক। তারপর সাবেক দুই রাষ্ট্রের রাজধানী বুরসা এবং এডিরনার বিচারক। তার পরবর্তী স্তরে থাকতেন ইসলামি খিলাফতের দুই কেন্দ্র দামিস্ক এবং কায়রোর বিচারক। রাষ্ট্রের দাপ্তরিক বিচারক হতেন হানাফি মাযহাবের অনুসারী। তবে পাশাপাশি অন্যান্য মাযহাবের স্বীকৃত বিচারকরাও থাকতেন।

টিকাঃ
[১০৫৭] বিলাদুশ শামি ওয়া মিশর মিনাল ফাতহিল উসমানি ইলা হামলাতি নাবিলিয়ন, পৃ. ৮১

ফন্ট সাইজ
15px
17px