📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারকার্য থেকে বিরত থাকা

📄 বিচারকার্য থেকে বিরত থাকা


খলিফা, শাসক এবং প্রত্যেক মাযহাবের প্রধান বিচারপতিরা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ আলিম, ফকিহ এবং আল্লাহভীরুদের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। অনেকে তাদের ডাকে সম্মতিও প্রকাশ করেছিলেন। আবার কেউ কেউ আল্লাহর ভয়, পরিণামের আশঙ্কা, বুজুর্গি এবং দুনিয়াবিমুখতার কারণে সম্মত হননি। এসব কারণের ব্যাখ্যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

মামলুক শাসনামলে আলিম এবং ফকিহদের অনেকেই বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মত হননি। তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে করা হচ্ছে।

■ মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি মাহমুদ
উপনাম আবু আবদিল্লাহ। আকমালুদ্দিন আল-বাবারতি নামে তিনি পরিচিত। হানাফি মাযহাবের অনুসারী এই ফকিহ ছিলেন ধর্মতত্ত্ববিদ এবং মুফাসসির। আমির শাইখুন তাকে কায়রোস্থ শাইখুনি খানকার মুরুব্বি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। আমিরের কাছে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন এবং সম্মানের পাত্র হওয়ায় তাকে বারবার মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আকমালুদ্দিন তাতে সম্মত হননি। আয-যাহির বারকুক তাকে বিশেষ শ্রদ্ধার নজরে দেখতেন। ৭৮৬ হিজরিতে মিশরে তার ইন্তেকাল হয়। তিনি অনেকগুলো কিতাব রচনা করেছেন।

মুহাম্মদ ইবনু আহমাদ ইবনি মুহাম্মাদ
উপনাম আবু আবদিল্লাহ। শাইখ জালালুদ্দিন আল-মাহাল্লি নামেই তিনি পরিচিত। মিশরের অধিবাসী এই শাফিয়ি ফকিহ ছিলেন মুফাসসির। অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি অভিজাত শ্রেণি ও জনসাধারণের কাছে তিনি ছিলেন বরণীয় ব্যক্তি। নির্ভয়ে সত্য উচ্চারণ করতেন। শাসক শ্রেণির লোকেরা ভক্তির সাথে তার কাছে উপস্থিত হতো। তার কাছে বিচারকার্য পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি সম্মত হননি। শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান এবং পড়ানোর প্রতি তিনি অধিক মনোযোগী ছিলেন। সাদামাটা জীবন যাপন করতেন সব সময়। তার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম ছিল ব্যবসা। ৮৬৪ হিজরিতে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। উপকারী এবং প্রসিদ্ধ কিছু গ্রন্থ রচনা করে গেছেন।

আহমাদ ইবনু আলি ইবনি আবদিল কাদির
উপনাম আবুল আব্বাস আল-হুসাইনি আল-উবাইদি। তাকিউদ্দিন আল-মাকরিযি নামে তিনি পরিচিত। মিশরীয় ইতিহাসবিদ ছিলেন। মূলত বালবাকের বাসিন্দা হলেও তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কায়রোতে। ৮৪৫ হিজরিতে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। একাধিক বার সেখানে হিসবাহ, খতিবের দায়িত্ব এবং ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৮১০ হিজরিতে বারকুকের ছেলে আন-নাসিরের সাথে দামিস্কে প্রবেশ করেন। তার কাছে সেখানকার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পেশ করা হলে তিনি অসম্মতি প্রকাশ করে মিশরে ফিরে যান। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন।

শাইখুল ইসলাম যাকারিয়্যা আল-আনসারি
প্রকৃত নাম যাকারিয়্যা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি আহমাদ। যাইনুদ্দিন নামে তিনি পরিচিত। এই শাফিয়ি ফকিহ এবং মুফাসসিরকে সুলতান কাতিয়াবাই আস-সারকাশি প্রধান বিচারপতি হওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে রাজ্যের উলামা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্রমাগত অনুরোধের প্রেক্ষিতে সম্মত হন। কাজের ক্ষেত্রে তিনি সংযম এবং স্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছেন। জুলুমের কারণে সুলতানকে ধমকি দিয়ে পত্র লিখলে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এটা ৯০৬ হিজরির কথা। এরপর তিনি ইলমচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীকালে পুনরায় বিচারকার্য পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি সেটা উপেক্ষা করে যান। ৯২৬ হিজরিতে কায়রোতে তার ইন্তেকাল হয়। বয়স শত পেরিয়ে গেলেও ইলমচর্চা, অধ্যাপনা এবং কিতাব রচনা থেকে তিনি বিরত থাকেননি।

■ যাইনুদ্দিন আল-আইনি
দামিস্কের দুর্গে তার কাছে হানাফি মাযহাবের বিচারকার্য পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শরীয়তের ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্য রাখা সত্ত্বেও এ প্রস্তাবে তিনি সম্মত হননি।

টিকাঃ
[১০৩০] মারজিউল উলূমিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৩৯৪
[১০৩১] মারজিউল উলূমিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ৬০২
[১০৩২] আল-আ'লাম: ১/১৭২; আল-বাদরুত ত্বালি'উ: ১/৭৯; হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ১/৫৫৭
[১০৩৩] মারজিউল উলূমিল ইসলামিয়্যাহ
[১০৩৪] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ২২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00