📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের হানাফি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের হানাফি বিচারকগণ


মামলুক শাসনামলে দামিস্কে মোট ৪১ জন হানাফি মাযহাবের বিচারক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: ১. শামসুদ্দিন আবদুল্লাহ আল-আযরায়ি (৬৭৩ হি.), ২. মাজদুদ্দিন ইবনুল আদিম (৬৭৭ হি.), ৩. সদরুদ্দিন সুলাইমান ইবনু আবিল ইয (৬৭৭ হি.) এবং ৪. বাদরুদ্দিন ইবনুল ফুরফুর। ইনি ছিলেন মামলুক জামানার দামিস্কের সর্বশেষ বিচারক। ৯৫০ হিজরিতে তার মৃত্যু হয়。

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের মালিকি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের মালিকি বিচারকগণ


এদের মাঝে যাইনুদ্দিন আয-যাভাভি (৬৭১ হি.), জামালুদ্দিন ইউসুফ আয-যাভাভি (৬৮৩ হি.), জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ আয-যাভাভি (৭১৭ হি.), ফাখরুদ্দিন ইবনু সালামাহ (৭১৮ হি.), শারাফুদ্দিন আল-মালিকি (৭৪৮ হি.), শিহাবুদ্দিন আত-তিলমিসানি (৮৬২ হি.) প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দামিস্কে মালিকি মাযহাবের সর্বশেষ বিচারক ছিলেন খাইরুদ্দিন আল-গাযযি (৯২৮ হি.)। মামলুক শাসনামলে সেখানে মোট ৩১ জন মালিকি মাযহাবের বিচারক ছিলেন।

টিকাঃ
[১০০৯] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ৩৪৭

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের হাম্বলি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের হাম্বলি বিচারকগণ


শামসুদ্দিন ইবনু কুদামাহ (৬৮২ হি.), নাজমুদ্দিন ইবনু কুদামাহ (৬৮৯ হি.), আলাউদ্দিন ইবনুল মানজা (৭৫০ হি.), জামালুদ্দিন আল-মারদাভি (৭৬৩ হি.), শারাফুদ্দিন ইবনু কাদিল জাবাল (৭৭১ হি.), বুরহানুদ্দিন ইবনু মুফলিহ (৮০৩ হি.), সদরুদ্দিন ইবনু মুফলিহ (৮২০ হি.) ছিলেন দামিস্কের উল্লেখযোগ্য হাম্বলি বিচারক। সেখানে সর্বশেষ হাম্বলি বিচারক ছিলেন শারাফুদ্দিন ইবনু মুফলিহ। সুলতান সালিম ইবনু উসমান দামিস্কে এসে তাকে বরখাস্ত করেন। মামলুক শাসনামলে দামিস্কে সর্বমোট ২৭ জন হাম্বলি বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন।

টিকাঃ
[১০১০] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ৩৫০

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 মিশরের বিচারকগণ

📄 মিশরের বিচারকগণ


মামলুক শাসনামলে শামের অনেক বিচারকই বিচারকার্য পরিচালনার জন্য মিশরে চলে যেতেন। আবার মিশরের অনেক বিচারক চলে যেতেন শামে। কারণ রাজ্য ছিল অভিন্ন। কোনো কোনো বিচারক তো দায়িত্ব গ্রহণের জন্য এ দেশে বা ও দেশে যেতেন কিংবা দুই দেশের কোনো-একটাতে থিত হয়ে যেতেন। কখনো কখনো বিচারককে নিজের ক্ষমতায় মিশর থেকে সিরিয়ায় বা সিরিয়া থেকে মিশরে চলে যেতে দেখা গেছে। যেমনটা আল-ইয ইব্ন আবদিস সালাম এবং আস-সুবকি করেছিলেন।

মিশরে মামলুক শাসনামলের প্রথম বিচারক ছিলেন বাদরুদ্দিন (৬৪৮ হি.)। পরবর্তীকালে সদরুদ্দিন মাওহুব ইবনু উমর আল-জাযারি, ইমাদুদ্দিন আল-হামাতি, পুনরায় বাদরুদ্দিন আস-সিনজারি, তারপর তাজুদ্দিন আবদুল ওয়াহহাব ইবনু বিনতিল আ'আয বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন।

কায়রোর বিচারক এবং মিশর আর উঁচু ভূমির বিচার বিভাগের মাঝে মিশরের বিচারব্যবস্থা বিভক্ত ছিল। অনেক সময় অবশ্য দুটোই একসাথে পরিচালিত হতো। যেমন তাজুদ্দিন ইবনু বিনতিল আ'আয একইসাথে মিশর এবং কায়রোর বিচার বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ৬৬১ হিজরিতে তাকে মিশরের বিচারকার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেবল কায়রোর বিচার বিভাগের দায়িত্বে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো মিশরের দায়িত্ব জুড়ে দেওয়া হয়। যা ৬৬৫ হিজরিতে তার মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিল। তার সময়েই চার মাযহাবের বিচারক ব্যবস্থার প্রচলন ঘটে।

তাজুদ্দিনের পর মিশর এবং উঁচু ভূমির দায়িত্ব পালন করেন মুহিউদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনু শারাফুদ্দিন। আর কায়রো এবং নিম্ন ভূমির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকিউদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানকে। পরবর্তীকালে তাজুদ্দিন ইবনু বিনতিল আ'আয-এর ছেলে সদরুদ্দিন উমর দায়িত্ব গ্রহণ করলে অনমনীয়তা এবং অনুসন্ধানমূলক কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তিনি বাবার অনুসরণ করেন।

৬৭৯ হিজরিতে শাফিয়ি বিচারকরা একের পর এক দায়িত্ব পালন করেন। কারও দায়িত্ব ছিল মিশর এবং উঁচু ভূমিতে। আবার কেউ ছিলেন কায়রো এবং নিম্ন ভূমির দায়িত্বে। বাদরুদ্দিন ইবনু জামাআহ ৬৯০ হিজরিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ৬৯৫ হিজরি পর্যন্ত তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। এরপর প্রচণ্ড অমত সত্ত্বেও ইবনু দাকীকিল ঈদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বারংবার স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেওয়ার পরও তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল। সুলতান তাকে যথেষ্ট সম্মান করতেন। নিজের নায়েবদের উদ্দেশ্যে ঘন ঘন উপদেশ সংবলিত লিখতেন তিনি। মিশর জয়ের পর থেকে ইবনু জামাআহর যুগ পর্যন্ত সমস্ত বিচারকের নাম নিয়ে তিনি একটি কবিতা লিখেছিলেন। পরবর্তীকালে আস-সুয়ুতি কবিতাটির সাথে আরও কয়েক লাইন বৃদ্ধি করে নিজের যুগ তথা দশম শতাব্দীর সূচনা পর্যন্ত বিচারকদের নাম জুড়ে দেন।

এরপর আস-সুয়ুতি মামলুক শাসনামলে মিশরের হানাফি বিচারকদের কথা উল্লেখ করেছেন। ৬৬৩ হিজরিতে আয-যাহির বাইবার্সের সময় যার সূচনা হয়। মিশরে প্রথম হানাফি বিচারক ছিলেন সদরুদ্দিন সুলাইমান ইবনু আবিল ইয। আরও ছিলেন নাজমুদ্দিন আহমাদ ইবনু ইসমাঈল। ৬৭৭ হিজরিতে তাকে দামিস্ক থেকে নিয়ে আসা হয়।

আয-যাহির বাইবার্সের যুগে ৬৬৩ হিজরিতে মিশরে মালিকি বিচারক ছিলেন শারাফুদ্দিন উমর ইবনুস সুবকি। ৬৬৭ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। আবদুর রহমান ইবনু খালদুন ছিলেন তাদের অন্যতম। যিনি বারংবার অপসারিত এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

আয-যাহির বাইবার্সের যুগে মিশরে সর্বপ্রথম হাম্বলি মাযহাবের বিচারক ছিলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনুল ইমাদ। ৬৭০ হিজরিতে তিনি পদচ্যুত হন। ৬৭৬ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত কেউ এ দায়িত্ব পালন করেননি। মিশরে কয়েকজন হাম্বলি বিচারক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এদের মাঝে মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসির কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মিশরের অন্যতম প্রসিদ্ধ বিচারক হচ্ছেন ইবনু দাকীকিল ঈদ। তার প্রকৃত নাম ছিল মুহাম্মাদ ইবনু আলি ইবনি ওয়াহাব আল-কুশাইরি আল-মানফালুতি। তার উপনাম তাকিউদ্দিন। ইসলামি আইনবিদ হওয়ার পাশাপাশি তিনি একাধারে সুসাহিত্যিক, কবি এবং বিচারক ছিলেন। মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর একাধিক বার স্বেচ্ছায় ইস্তফা প্রদান করেন। তা সত্ত্বেও তাকে পুনরায় দায়িত্ব প্রদান করা হতে থাকে। অবশেষে ৭০২ হিজরিতে কাজীর পদে বহাল থাকা অবস্থায় কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।

টিকাঃ
[১০১১] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৪ দ্রষ্টব্য
[১০১২] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৪
[১০১৩] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৬
[১০১৪] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৮৪
[১০১৫] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৮৮
[১০১৬] হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৯০
[১০১৭] মারজিউল উলূমিল ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ২৭০; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১৯৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00