📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের শাফিযি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের শাফিযি বিচারকগণ


১. আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ: ইবনু খাল্লিকান নামে তিনি পরিচিত। তার উপনাম ছিল শামসুদ্দিন আবুল আব্বাস। প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৬৫৯ হিজরিতে শামের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে-সময় তিনি কেবল মামলা পরিচালনা এবং রায় দিতেন। পরবর্তী সময়ে ৬৬৪ হিজরিতে তিনজন বিচারপতির সাথে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬৬৯ হিজরিতে বরখাস্ত করা হয় তাকে। এরপর তিনি সাত বছর মিশরে অবস্থান করেন। তারপর ৬৭৭ হিজরির শুরুতে পুনরায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৬৮০ হিজরিতে আবার তিনি বরখাস্ত হন। শেষমেশ ৬৮১ হিজরিতে তার মৃত্যু হয়।

২. মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম: বাদরুদ্দিন ইবনু জামাআহ নামে তিনি পরিচিত। ৭০১ হিজরিতে বিচারকাজ শুরু করেন। তিনি একাধারে ছিলেন প্রধান বিচারপতি, বাগ্মী বক্তা এবং শাইখদের শাইখ। ৭০২ হিজরিতে ইবন দাকীকিল ঈদ মৃত্যুবরণ করলে তাকে মিশরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে আল-মালিকুন নাসির মুহাম্মাদ ইবনু কালাউন তাকে বরখাস্ত করেন। ৭১১ হিজরিতে তিনি পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ৭২২ হিজরিতে বার্ধক্যজনিত কারণে তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে। তখন তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ করেন। ৭৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম।

৩. আলি ইবনু আবদিল কাফি: তাকিউদ্দিন আস-সুবকি নামে তিনি পরিচিত। তার উপাধি ছিল শাইখুল ইসলাম। ইমাম, ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং কারী হওয়ার পাশাপাশি ধর্মতত্ত্ববিদ, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ এবং সুসাহিত্যিক ছিলেন তিনি। ৭৩৯ হিজরিতে তিনি শামের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হলে মুসলিমরা আনন্দিত হয়। শেষ বয়সে এসে শামের বিচারকার্য পরিচালনা থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি নিজ দেশ মিশরে ফিরে যান। ৭৫৬ হিজরিতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

৪. আবদুল ওয়াহহাব ইবনু আলি: তাজুদ্দিন আস-সুবকি নামে তিনি পরিচিত। পিতা তাকিউদ্দিন আস-সুবকির সাথে তিনি দামিস্কে এসেছিলেন। পরবর্তীকালে দামেস্কের প্রধান বিচারপতির পদ অলংকৃত করেন। এরপর এক মাসের মতো সাসপেন্ড থাকার পর পুনরায় নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর তার ভাই বাহাউদ্দিন মুহাম্মাদের কারণে পুনরায় পদচ্যুত হয়ে ভাইয়ের দায়িত্ব নিয়ে মিশরে গমন করেন। এরপর কায়রোতে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীকালে ৭৭১ হিজরিতে দামিস্কে মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাতবরণ করেন তিনি।

৫. আবু বকর ইবনু আহমাদ: উপনাম তাকিউদ্দিন। ইবনু কাদি শুবহাহ নামে তিনি পরিচিত ছিলেন। ছিলেন শাফিয়ি মাযহাবের প্রবীণ ব্যক্তি। ৮৪২ হিজরিতে বিচারপতি হওয়ার পর ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব থেকে সরে যান। পরবর্তীকালে পদচ্যুত হন। ৮৫১ হিজরিতে তার মৃত্যু হয়।

মামলুক শাসনামলে দামিস্কে মোট ৬০ জন শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন বলে জানা যায়।

টিকাঃ
[১০০২] দামিস্কের শাফিয়ি বিচারকদের তালিকা দেখতে কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ৩৩৯-৩৫১ দেখুন।
[১০০৩] কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ৭৬; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১৩/৩০১; শাযারাতুয যাহাব : ৫/৩৭১
[১০০৪] কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ৮০; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১৪/১৬৩; আদ-দুরারুল কামিনা: ৩/৩৬৭; শাযারাতুয যাহাব: ৬/১০৫
[১০০৫] কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ১০৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১৪/৩১৬; আদ-দুরারুল কামিনা: ৩/১৩৪; শাযারাতুয যাহাব: ৬/১৮০
[১০০৬] কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ১০৩; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১৪/৩১৬; আদ-দুরারুল কামিনা: ৩/৩৯; শাযারাতুয যাহাব: ৬/২২১
[১০০৭] কুদ্দাতু দিমাশক, পৃ. ১৬৮
[১০০৮] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ১৭৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের হানাফি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের হানাফি বিচারকগণ


মামলুক শাসনামলে দামিস্কে মোট ৪১ জন হানাফি মাযহাবের বিচারক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন: ১. শামসুদ্দিন আবদুল্লাহ আল-আযরায়ি (৬৭৩ হি.), ২. মাজদুদ্দিন ইবনুল আদিম (৬৭৭ হি.), ৩. সদরুদ্দিন সুলাইমান ইবনু আবিল ইয (৬৭৭ হি.) এবং ৪. বাদরুদ্দিন ইবনুল ফুরফুর। ইনি ছিলেন মামলুক জামানার দামিস্কের সর্বশেষ বিচারক। ৯৫০ হিজরিতে তার মৃত্যু হয়。

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের মালিকি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের মালিকি বিচারকগণ


এদের মাঝে যাইনুদ্দিন আয-যাভাভি (৬৭১ হি.), জামালুদ্দিন ইউসুফ আয-যাভাভি (৬৮৩ হি.), জামালুদ্দিন মুহাম্মাদ আয-যাভাভি (৭১৭ হি.), ফাখরুদ্দিন ইবনু সালামাহ (৭১৮ হি.), শারাফুদ্দিন আল-মালিকি (৭৪৮ হি.), শিহাবুদ্দিন আত-তিলমিসানি (৮৬২ হি.) প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দামিস্কে মালিকি মাযহাবের সর্বশেষ বিচারক ছিলেন খাইরুদ্দিন আল-গাযযি (৯২৮ হি.)। মামলুক শাসনামলে সেখানে মোট ৩১ জন মালিকি মাযহাবের বিচারক ছিলেন।

টিকাঃ
[১০০৯] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ৩৪৭

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 দামিস্কের হাম্বলি বিচারকগণ

📄 দামিস্কের হাম্বলি বিচারকগণ


শামসুদ্দিন ইবনু কুদামাহ (৬৮২ হি.), নাজমুদ্দিন ইবনু কুদামাহ (৬৮৯ হি.), আলাউদ্দিন ইবনুল মানজা (৭৫০ হি.), জামালুদ্দিন আল-মারদাভি (৭৬৩ হি.), শারাফুদ্দিন ইবনু কাদিল জাবাল (৭৭১ হি.), বুরহানুদ্দিন ইবনু মুফলিহ (৮০৩ হি.), সদরুদ্দিন ইবনু মুফলিহ (৮২০ হি.) ছিলেন দামিস্কের উল্লেখযোগ্য হাম্বলি বিচারক। সেখানে সর্বশেষ হাম্বলি বিচারক ছিলেন শারাফুদ্দিন ইবনু মুফলিহ। সুলতান সালিম ইবনু উসমান দামিস্কে এসে তাকে বরখাস্ত করেন। মামলুক শাসনামলে দামিস্কে সর্বমোট ২৭ জন হাম্বলি বিচারক দায়িত্ব পালন করেছেন।

টিকাঃ
[১০১০] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ৩৫০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00