📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 সামরিক বিচারক

📄 সামরিক বিচারক


আব্বাসি এবং আইয়ুবি যুগে মিশরে সামরিক বিচারক থাকলেও মামলুক শাসনামলে তা স্থায়ী এবং বিকশিত হয়েছিল। আল-কালকাশান্দি বলেছেন, 'সামরিক বাহিনীর বিচার ছিল দ্বিতীয় ধর্মীয় দায়িত্ব। মহান ও প্রাচীন এই দায়িত্বটি মিশরে সুলতান সালাহুদ্দিন ইবনু ইউসুফের সময় চালু ছিল। মিশরে এ সংক্রান্ত দায়িত্বশীলরা অন্যান্য বিচারকের সাথে 'দারুল আদল' নামক দফতরে উপস্থিত থাকতেন। সুলতান সফর করলে তারাও সঙ্গে থাকতেন। তারা শাফিয়ি, হানাফি এবং মালিকি-এই তিন মাযহাব অনুসরণ করতেন। এদের কেউ হাম্বলি মাযহাব অনুসরণ করতেন না। দারুল আদলেও চারজন বিচারকের পরিবর্তে তারা তিনজনই বসতেন। '

আল-কালকাশান্দি অন্যত্র হাম্বলি মাযহাবের বিচারক থাকার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, 'প্রত্যেক মাযহাব থেকে সর্বমোট চারজন সামরিক বিচারক হওয়ার রীতি চলে আসছে।'

আবু ইউসুফের যুগে সামরিক বিচারকদের 'কুদাতু আমিরিল মুমিনীন' তথা আমিরুল মুমিনীনের বিচারক বলা হতো।

সামরিক বাহিনীর বিচারকদের পরিধি কেবল ফৌজিদের ব্যাপারেই সীমাবদ্ধ থাকত। সিভিলিয়ানদের বিচারকার্য পরিচালনা করার এখতিয়ার তাদের ছিল না। তবে সামরিক বাহিনী এবং নাগরিকদের মাঝে বিবাদ সংঘটিত হলে সে ক্ষেত্রে তারা ফয়সালা করে দিতেন। লিসানুল হুক্কাম গ্রন্থের লেখক ইবনুশ শিহনাহ জামিউল ফাতাওয়ার সূত্রে ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, 'খলিফা যেখানে অবস্থান করতেন, তার সাথে-থাকা বিচারকরা সেখানেই বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কারণ তারা নির্দিষ্ট কোনো এলাকার বিচারক ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন খলিফার বিচারক। খলিফার সঙ্গ ছাড়া নিজেরা নিজেরা কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানে তারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন না। '

সামরিক বিচারকের কিছু পরিধি বর্ণনা প্রসঙ্গে আল-কালকাশান্দি বলেছেন, 'সামরিক বাহিনীতে যেসব বিষয় মীমাংসা করে দেওয়ার প্রয়োজন বেশি হয়, সেসব ব্যাপারে সামরিক বিচারকগণ সচেষ্ট থাকতেন। যেমন গনিমতের মাল, যৌথ সম্পত্তি, বন্টন, ত্রুটিযুক্ত পণ্য ফেরত দেওয়া ইত্যাদি। মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে গিয়ে যেন যুদ্ধ-সংক্রান্ত কাজে উদাসীন না হয়ে পড়তে হয়, সেজন্য তারা দ্রুত বিচার-ফয়সালা করে দিতেন।

তুর্কিরা শাম অঞ্চল এবং মিশর দখল করে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সামরিক বিচারক পদ বহাল ছিল। বিজয়ী বাহিনীর সাথে আগত তুর্কি বিচারকই ছিলেন সামরিক বিচারক।

টিকাঃ
[৯৭০] সুবহুল আ'শা: ৪/৩৬। আরও দেখুন, নিযামুল হুকমি, পৃ. ২৬০
[৯৭১] তারী দেওয়া হয়নি। বরং সেটা ধাপে ধাপে হয়েছে।

মিশরের চারজন বিচারক নিয়োগের পদ্ধতিটি ৯২৮ হিজরি অর্থাৎ উসমানিদের মিশর জয়ের পর অবধি চালু ছিল। ৯২৮ হিজরির রজব মাসে উসমানি সুলতান সুলাইমান মিশরে চারজন বিচারক নিয়োগের পদ্ধতি বাতিল করে ফরমান জারি করেন। সে স্থানে সামরিক তুর্কি বিচারক সাইয়িদ শিবলি চার মাযহাব অনুসারে রায় প্রদানের দায়িত্ব নেন।

টিকাঃ
[৯৬৪] তারীখুল কাদ্বা ফিল ইসলাম, পৃ. ১০৫; তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৫; তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩১৮ এবং ৩১৯; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া: ১৩/৩২২
[১৬৫] তারীখুল কাদ্বা ফিল ইসলাম, পৃ. ১০৬
[১৬৬] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩১৮; তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১০৬; হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৬
[১৬৭] তবাকাতুশ শাফিইয়্যাতিল কুবরা: ৮/৩১৯-৩২০। আরও দেখুন, হুসনুল মুহাদ্বারাহ: ২/১৬৫-১৬৬
[১৬৮] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১০৭; তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৫; সুবহুল আ'শা: ৪/৩৫
[৯৬৯] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১০৭

আব্বাসি এবং আইয়ুবি যুগে মিশরে সামরিক বিচারক থাকলেও মামলুক শাসনামলে তা স্থায়ী এবং বিকশিত হয়েছিল। আল-কালকাশান্দি বলেছেন, 'সামরিক বাহিনীর বিচার ছিল দ্বিতীয় ধর্মীয় দায়িত্ব। মহান ও প্রাচীন এই দায়িত্বটি মিশরে সুলতান সালাহুদ্দিন ইবনু ইউসুফের সময় চালু ছিল। মিশরে এ সংক্রান্ত দায়িত্বশীলরা অন্যান্য বিচারকের সাথে 'দারুল আদল' নামক দফতরে উপস্থিত থাকতেন। সুলতান সফর করলে তারাও সঙ্গে থাকতেন। তারা শাফিয়ি, হানাফি এবং মালিকি-এই তিন মাযহাব অনুসরণ করতেন। এদের কেউ হাম্বলি মাযহাব অনুসরণ করতেন না। দারুল আদলেও চারজন বিচারকের পরিবর্তে তারা তিনজনই বসতেন। '

আল-কালকাশান্দি অন্যত্র হাম্বলি মাযহাবের বিচারক থাকার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, 'প্রত্যেক মাযহাব থেকে সর্বমোট চারজন সামরিক বিচারক হওয়ার রীতি চলে আসছে।'

আবু ইউসুফের যুগে সামরিক বিচারকদের 'কুদাতু আমিরিল মুমিনীন' তথা আমিরুল মুমিনীনের বিচারক বলা হতো।

সামরিক বাহিনীর বিচারকদের পরিধি কেবল ফৌজিদের ব্যাপারেই সীমাবদ্ধ থাকত। সিভিলিয়ানদের বিচারকার্য পরিচালনা করার এখতিয়ার তাদের ছিল না। তবে সামরিক বাহিনী এবং নাগরিকদের মাঝে বিবাদ সংঘটিত হলে সে ক্ষেত্রে তারা ফয়সালা করে দিতেন। লিসানুল হুক্কাম গ্রন্থের লেখক ইবনুশ শিহনাহ জামিউল ফাতাওয়ার সূত্রে ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা করেছেন, 'খলিফা যেখানে অবস্থান করতেন, তার সাথে-থাকা বিচারকরা সেখানেই বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কারণ তারা নির্দিষ্ট কোনো এলাকার বিচারক ছিলেন না; বরং তারা ছিলেন খলিফার বিচারক। খলিফার সঙ্গ ছাড়া নিজেরা নিজেরা কোথাও বেড়াতে গেলে সেখানে তারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন না। '

সামরিক বিচারকের কিছু পরিধি বর্ণনা প্রসঙ্গে আল-কালকাশান্দি বলেছেন, 'সামরিক বাহিনীতে যেসব বিষয় মীমাংসা করে দেওয়ার প্রয়োজন বেশি হয়, সেসব ব্যাপারে সামরিক বিচারকগণ সচেষ্ট থাকতেন। যেমন গনিমতের মাল, যৌথ সম্পত্তি, বন্টন, ত্রুটিযুক্ত পণ্য ফেরত দেওয়া ইত্যাদি। মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে গিয়ে যেন যুদ্ধ-সংক্রান্ত কাজে উদাসীন না হয়ে পড়তে হয়, সেজন্য তারা দ্রুত বিচার-ফয়সালা করে দিতেন।

তুর্কিরা শাম অঞ্চল এবং মিশর দখল করে নেওয়ার আগ পর্যন্ত সামরিক বিচারক পদ বহাল ছিল। বিজয়ী বাহিনীর সাথে আগত তুর্কি বিচারকই ছিলেন সামরিক বিচারক।

টিকাঃ
[৯৭০] সুবহুল আ'শা: ৪/৩৬। আরও দেখুন, নিযামুল হুকমি, পৃ. ২৬০
[৯৭১] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯৯; তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৫; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়‍্যাহ, পৃ. ৬৮
[৯৭২] লিসানুল হুক্কাম, পৃ. ৯। আরও দেখুন, তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৯৯
[৯৭৩] সুবহুল আ'শা: ১১/৯৬
[৯৭৪] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১০০

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারকদের সহযোগী

📄 বিচারকদের সহযোগী


আগের যুগের মতো মামলুক যুগেও বিচারকের কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন কর্মচারী ছিলেন। তবে এ যুগে তাদের বিচার-সংক্রান্ত দায়িত্বগুলো আরও সুস্পষ্ট আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছিল। এই কর্মচারীদের বিবরণ এখানে উল্লেখ করা হলো।

১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী: এদের কাজ ছিল বিচারকার্য চলাকালীন ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং উপস্থিতি অনুসারে বাদী-বিবাদীর ধারাবাহিকতা ঠিক করা। আদালতের শৃঙ্খলা ঠিক রাখা, বিচারের এজলাসের শিষ্টাচার রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলভাবে বিচারকের কাছাকাছি হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার জন্য এরা অনেক সময় হাতে লাঠি বা চাবুক রাখতেন।
২. প্রহরী: এ শ্রেণির কাজ ছিল মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে আদালতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা।
৩. সহায়ক: এদের কাজ ছিল বাদী-বিবাদীকে আদালতে উপস্থিত করা এবং শুনানি চলাকালীন বিচারকের সম্মানার্থে তাঁর সামনে উপস্থিত থাকা।
৪. দায়িত্বশীল: ইয়াতিম এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিদের সম্পত্তি দেখাশোনা করা ছিল এদের দায়িত্ব।
৫. নিষ্ঠাবান: এরা সাক্ষী হিসেবে থাকার উদ্যোগ নিতেন। নথি এবং চুক্তির বক্তব্য লক্ষ করার পাশাপাশি তা শরীয়ত মোতাবেক হচ্ছে কি না-সেটাও খেয়াল রাখতেন।

টিকাঃ
[৯৭৫] আন-নুযুমুল কাম্বাইয়্যাহ, পৃ. ৬৯; তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৬

আগের যুগের মতো মামলুক যুগেও বিচারকের কাজে সহযোগিতার জন্য কয়েকজন কর্মচারী ছিলেন। তবে এ যুগে তাদের বিচার-সংক্রান্ত দায়িত্বগুলো আরও সুস্পষ্ট আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছিল। এই কর্মচারীদের বিবরণ এখানে উল্লেখ করা হলো।

১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী: এদের কাজ ছিল বিচারকার্য চলাকালীন ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখা এবং উপস্থিতি অনুসারে বাদী-বিবাদীর ধারাবাহিকতা ঠিক করা। আদালতের শৃঙ্খলা ঠিক রাখা, বিচারের এজলাসের শিষ্টাচার রক্ষা এবং বিশৃঙ্খলভাবে বিচারকের কাছাকাছি হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার জন্য এরা অনেক সময় হাতে লাঠি বা চাবুক রাখতেন।

২. প্রহরী: এ শ্রেণির কাজ ছিল মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে আদালতে প্রবেশের ব্যবস্থা করা।

৩. সহায়ক: এদের কাজ ছিল বাদী-বিবাদীকে আদালতে উপস্থিত করা এবং শুনানি চলাকালীন বিচারকের সম্মানার্থে তাঁর সামনে উপস্থিত থাকা।

৪. দায়িত্বশীল: ইয়াতিম এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিদের সম্পত্তি দেখাশোনা করা ছিল এদের দায়িত্ব।

৫. নিষ্ঠাবান: এরা সাক্ষী হিসেবে থাকার উদ্যোগ নিতেন। নথি এবং চুক্তির বক্তব্য লক্ষ করার পাশাপাশি তা শরীয়ত মোতাবেক হচ্ছে কি না-সেটাও খেয়াল রাখতেন।

টিকাঃ
[৯৭৫] আন-নুযুমুল কাম্বাইয়্যাহ, পৃ. ৬৯; তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অন্যায় ও দুর্নীতির আদালত

📄 অন্যায় ও দুর্নীতির আদালত


বিচারক এবং বাদী-বিবাদীর মধ্যকার অভিযোগ ও মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করতে সুলতান নিজেই এই আদালতের তত্ত্বাবধান করতেন। স্বয়ং সুলতানের তত্ত্বাবধানে এই আদালত সপ্তাহে দুদিন তথা সোম এবং বৃহস্পতিবারে বসত। সুলতান এ কাজের জন্য ৬৬১ হিজরিতে আয-যাহির বাইবার্স কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'দারুল আদল' নামক দফতরে বসতেন। পরবর্তীকালে বড় দরবার হলে বসতে শুরু করেন।

এ আদালতে শাফিয়ি ও মালিকি মাযহাবের বিচারক বসতেন সুলতানের ডান দিকে এবং হানাফি ও হাম্বলি মাযহাবের বিচারক বসতেন বাম দিকে। মালিকি বিচারকের ডান দিকে বসতেন সামরিক বিচারকগণ। তাদের কাছাকাছি থাকতেন দারুল আদল এর মুফতিবৃন্দ। এরপর বাইতুল মাল তথা খিলাফতের কোষাগারের দায়িত্বশীল এবং হিসবাহর পরিচালক বসতেন। আর হাম্বলি মাযহাবের বিচারকের বাম দিকে প্রথমে মন্ত্রী, এর পরের জায়গা ছিল প্রধান মুনশির। সুলতানের পেছনে অবস্থান নিত উঠতি বয়সের মামলুকরা। বয়স্ক আর প্রবীণরা বৃত্তাকারে থাকত সুলতানের কাছাকাছি। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকত যাবতীয় কর্মচারী এবং আমিরগণ। বৃত্তের পেছনেই বিচার-সংক্রান্ত দরকারি কাগজপত্র এগিয়ে দেওয়ার জন্য থাকত দারোয়ান এবং সহকারীরা। এরপর সুলতানের কাছে অভিযোগ পেশ করা হলে সেটি নিয়ে তিনি বিচারকদের সাথে পরামর্শ করতেন। সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলে সামরিক বিচারকদের সাথে আলোচনা করার পর রায় দিতেন। পরবর্তীকালে মামলুক সুলতানরা রাজ্যের রেওয়াজ হিসেবে এভাবে সাজিয়ে হলঘরে সাধারণত খুব কম সময়ই বসতেন। লোকদেরকে প্রথমে বিচারকের কাছে মোকদ্দমা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হতো। বিচারকরা ইনসাফ না করলে তবেই তারা সুলতানের দ্বারস্থ হতো।

টিকাঃ
[৯৭৬] তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৬-১৩৭; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩

বিচারক এবং বাদী-বিবাদীর মধ্যকার অভিযোগ ও মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করতে সুলতান নিজেই এই আদালতের তত্ত্বাবধান করতেন। স্বয়ং সুলতানের তত্ত্বাবধানে এই আদালত সপ্তাহে দুদিন তথা সোম এবং বৃহস্পতিবারে বসত। সুলতান এ কাজের জন্য ৬৬১ হিজরিতে আয-যাহির বাইবার্স কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'দারুল আদল' নামক দফতরে বসতেন। পরবর্তীকালে বড় দরবার হলে বসতে শুরু করেন।

এ আদালতে শাফিয়ি ও মালিকি মাযহাবের বিচারক বসতেন সুলতানের ডান দিকে এবং হানাফি ও হাম্বলি মাযহাবের বিচারক বসতেন বাম দিকে। মালিকি বিচারকের ডান দিকে বসতেন সামরিক বিচারকগণ। তাদের কাছাকাছি থাকতেন দারুল আদল এর মুফতিবৃন্দ। এরপর বাইতুল মাল তথা খিলাফতের কোষাগারের দায়িত্বশীল এবং হিসবাহর পরিচালক বসতেন। আর হাম্বলি মাযহাবের বিচারকের বাম দিকে প্রথমে মন্ত্রী, এর পরের জায়গা ছিল প্রধান মুনশির। সুলতানের পেছনে অবস্থান নিত উঠতি বয়সের মামলুকরা। বয়স্ক আর প্রবীণরা বৃত্তাকারে থাকত সুলতানের কাছাকাছি। তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকত যাবতীয় কর্মচারী এবং আমিরগণ। বৃত্তের পেছনেই বিচার-সংক্রান্ত দরকারি কাগজপত্র এগিয়ে দেওয়ার জন্য থাকত দারোয়ান এবং সহকারীরা। এরপর সুলতানের কাছে অভিযোগ পেশ করা হলে সেটি নিয়ে তিনি বিচারকদের সাথে পরামর্শ করতেন। সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হলে সামরিক বিচারকদের সাথে আলোচনা করার পর রায় দিতেন। পরবর্তীকালে মামলুক সুলতানরা রাজ্যের রেওয়াজ হিসেবে এভাবে সাজিয়ে হলঘরে সাধারণত খুব কম সময়ই বসতেন। লোকদেরকে প্রথমে বিচারকের কাছে মোকদ্দমা নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হতো। বিচারকরা ইনসাফ না করলে তবেই তারা সুলতানের দ্বারস্থ হতো।

টিকাঃ
[৯৭৬] তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৬-১৩৭; আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৭১-৭৩

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 হিসবাহর বিচার

📄 হিসবাহর বিচার


মামলুক শাসনামলে হিসবাহর দায়িত্ব এবং বিচার সংক্রান্ত কর্তৃত্ব শক্তিশালী হয়েছিল। অধিকাংশ সময় বিচারকার্য এবং হিসবাহ-উভয়টি এক ব্যক্তিরই নিয়ন্ত্রণে থাকত। সাধারণ শিষ্টাচার, বাজারের নীতি, ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা, রাস্তা আর ঘরের নিয়ম, ওজনের পদ্ধতি এবং দোকান, খাবার, সরাইখানা, গোসলখানা ইত্যাদির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দ্রুত ফয়সালা করে দিতেন।

সদরুদ্দিন ইবনু আমিনুদ্দিন আল-আদামির জীবনীতে ইবনু তুলুন লিখেছেন, 'আল-মুআইয়াদের যুগে বিচারকার্য এবং হিসবাহর দায়িত্ব তিনি একাই পালন করেছেন।'

মামলুক শাসনামলে হিসবাহ-সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ কিতাবাদি প্রকাশিত হয়েছিল। যেমন ইবনু তাইমিয়্যাহ রচিত কিতাবুল হিসবাহ ফিল ইসলাম এবং ইবনুল ইখওয়াহ রচিত আল-হিসবাহ।

টিকাঃ
[৯৭৭] তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৭
[৯৭৮] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ২০৭

মামলুক শাসনামলে হিসবাহর দায়িত্ব এবং বিচার সংক্রান্ত কর্তৃত্ব শক্তিশালী হয়েছিল। অধিকাংশ সময় বিচারকার্য এবং হিসবাহ-উভয়টি এক ব্যক্তিরই নিয়ন্ত্রণে থাকত। সাধারণ শিষ্টাচার, বাজারের নীতি, ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা, রাস্তা আর ঘরের নিয়ম, ওজনের পদ্ধতি এবং দোকান, খাবার, সরাইখানা, গোসলখানা ইত্যাদির ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দ্রুত ফয়সালা করে দিতেন।

সদরুদ্দিন ইবনু আমিনুদ্দিন আল-আদামির জীবনীতে ইবনু তুলুন লিখেছেন, 'আল-মুআইয়াদের যুগে বিচারকার্য এবং হিসবাহর দায়িত্ব তিনি একাই পালন করেছেন।'

মামলুক শাসনামলে হিসবাহ-সংক্রান্ত প্রসিদ্ধ কিতাবাদি প্রকাশিত হয়েছিল। যেমন ইবনু তাইমিয়্যাহ রচিত কিতাবুল হিসবাহ ফিল ইসলাম এবং ইবনুল ইখওয়াহ রচিত আল-হিসবাহ।

টিকাঃ
[৯৭৭] তারীখুল মামালিক, পৃ. ১৩৭
[৯৭৮] কুদ্ধাতু দিমাশক, পৃ. ২০৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00