📄 মোকদ্দমার পদ্ধতি
মামলা-মোকদ্দমার কিছু পদ্ধতি পর্যালোচনা করে আমরা এই আলোচনার ইতি টানব। এসব পদ্ধতির কিছু ছিল প্রশাসনিক, কিছু সিস্টেমেটিক। এজন্য এই আলোচনাগুলো প্রশাসনিক এবং গঠনমূলক ব্যবস্থাপনার পরে করা হয়েছে। এসব পদ্ধতির কোনো কোনোটা সে-সময় পূর্বাঞ্চলেও জারি ছিল। আর কিছু পদ্ধতি ছিল একেবারে অত্যাধুনিক, যা মূলত আন্দালুসের একক আবিষ্কার।
• ডেটা সংরক্ষণ
এজলাসের বিবরণ এবং বিচারকের কাছে উত্থাপিত আলোচনা-পর্যালোচনাগুলোর আদ্যোপান্ত নথিভুক্ত রাখার প্রচলন ছিল। এমনটা তখন পূর্বাঞ্চলেও ছিল না। সেখানে বিচারের ডেটা নথিভুক্ত করার বিষয়টি পর্যায়ক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আন্দালুসে লেখালেখির ব্যাপক প্রচলন ছিল। সর্বত্রই তখন জ্ঞানের ছড়াছড়ি। সেখানকার উজ্জ্বল সভ্যতার মাঝে লিপিবদ্ধ ছিল বাহ্যিক জীবন-পদ্ধতির রূপরেখা।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশির আল-মুআফিরির জীবনীতে আন-নুবাহি লিখেন, মুহাম্মাদ ইবনু বাশিরই সর্বপ্রথম আমির হাকামের বিচার করে তার সমস্ত বিবরণ লিখে রেখেছিলেন। মোকদ্দমাটি ছিল জাঁতাকল-সংক্রান্ত। বাদীর কাছে থাকা দলিল- প্রমাণ মুহাম্মাদ ইবনু বাশির আমলে নিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে আমিরের কাছে দলিল না থাকায় তিনি বাদীর যুক্তি-তর্ক খণ্ডন করতে পারেননি। বিচারপতি মুহাম্মাদ এই মোকদ্দমা নথিভুক্ত করে এ ব্যাপারে সাক্ষী রেখে দেন। এরপর সময় পেরিয়ে গেলে জাঁতাকলটি আইনমাফিক বিক্রি করেন। এ ঘটনার পর থেকে হাকাম বলতেন, 'মুহাম্মাদ ইবনু বাশিরের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি সঠিকভাবে আমাদের বিচার করেছেন। আমাদের হাতে থাকা সন্দেহজনক বস্তুকে তিনি সংশোধন করে দিয়েছেন।'
■ রায়ের ব্যাপারে সাক্ষী রাখা
এটা ছিল আন্দালুসে প্রচলিত একটি বিশেষ নীতি। পূর্বাঞ্চলে এটি ততটা পরিচিতি লাভ করেনি। পদ্ধতিটি ছিল এমন—বিচারক শহর, অঞ্চল বা জনপদ থেকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের নির্বাচন করতেন। যাতে বিভিন্ন ঘটনা এবং ব্যক্তির ব্যাপারে তারা সাক্ষ্য প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। এদেরকে ‘আল-উদুল’ তথা নির্ভরযোগ্য সাক্ষী বলা হতো। কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত থেকে নামটা গ্রহণ করা হয়েছিল:
وَأَشْهِدُوا ذَوَى عَدْلٍ مِّنْكُمْ | তোমরা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রাখো।
আস-সিলাহ গ্রন্থ থেকে যাফির আল-কাসিমি এমন কয়েকজন সাক্ষীর কথা আলোচনা করেছেন। সুলাইমান ইবনু ইয়াহইয়ার ব্যাপারে এসেছে, 'তিনি ছিলেন কর্ডোভার নির্ভরযোগ্য সাক্ষীদের অন্যতম।' আবদুর রহমান ইবনু আবদিল্লাহর জীবনীতে আছে, 'তিনি ছিলেন অভিজ্ঞ, জ্ঞানী এবং চরিত্রবান। সর্বদা শ্রেষ্ঠত্ব ও সততায় তিনি ছিলেন অনন্য। সাক্ষ্যদানে তিনি ছিলেন বিশেষ পারদর্শী। তার নির্ভরযোগ্যতার কথা লোকমুখে প্রচলিত ছিল। তিনি মসজিদে মসজিদে মানুষকে নসিহত করতেন। জনসাধারণ তাকে সমীহ করত। কর্ডোভার জামে মসজিদে তিনি ইমামতির দায়িত্বও পালন করেছেন।'
বিচারকরা নিজে থেকেই আস্থাভাজন সাক্ষীদের নির্বাচন করতেন। বিচারপতি, ফকিহ এবং মুফতিরা অনেক সময় শাস্তিস্বরূপ কারও কারও সাক্ষ্য রহিত করে দিতেন। এ ব্যাপারে সম্মিলিত ফতোয়া প্রদান করতেন অনেক সময়। আমিরের রীতি ছিল-বিচারকের চুক্তিনামা এবং নিয়োগপত্র তিনি লিখিত আকারে প্রদান করতেন। পাশাপাশি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।
• বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষদের কাছে আমানতের মাল
বিচারকদের কাছে অনেক আমানতের মাল গচ্ছিত থাকত। অনেক সময় দেখা যেত, কিছু কিছু সম্পদের মালিক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কিছু সম্পদের মালিক পাওয়া গেলেও নাবালক বা বেআইনি ব্যক্তি হওয়ার কারণে তাদের কাছে সোপর্দ করা যেত না। উপযুক্ত ওয়ারিশের জন্য এসব সম্পদ সংরক্ষণ করে রাখা শরীয়তের স্পষ্ট দাবি। নষ্ট হওয়ার ভয় থাকলে এগুলো বিনিয়োগ করার অনুমতিও শরীয়ত দিয়েছে। আন্দালুস, মরক্কো এবং পূর্বাঞ্চলের বিচারকরা এসব সম্পদ নিজেদের কাছে কিংবা বিচার বিভাগে সংরক্ষণ করে রাখতেন। ইতিপূর্বে তার আলোচনা গত হয়েছে।
আমানতের সম্পদ পরিমাণে অনেক বেশি হয়ে গেলে তা সংরক্ষণ কিংবা বিনিয়োগ করাটা বিচারকদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় এ সম্পদের কারণে বিচারক তার মূল দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতেন। তাই আন্দালুস, মরক্কো এবং মিশরের বিচারকরা নির্ভরযোগ্য, আস্থাবান এবং বিশ্বস্ত কয়েকজন কোষাধ্যক্ষের কাছে আমানতের সম্পদ গচ্ছিত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
আফ্রিকার বিচারক আবদুস সালাম ইবনু সাঈদ সাহনুন সর্বপ্রথম আমানতের সম্পদ বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষদের কাছে গচ্ছিত রাখেন। পরবর্তী বিচারকরাও তার পন্থা অবলম্বন করেন। আন-নুবাহি তার জীবনীতে লিখেছেন, 'বিচারকদের মাঝে তিনিই সর্বপ্রথম হিসবাহ বিভাগ পরিচালনা করেছেন। তিনি অন্যায় প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়েছেন। জামে মসজিদ থেকে বিদআতের আখড়াগুলো সরিয়ে দিয়েছেন। প্রবৃত্তির অনুসারীদের মসজিদ থেকে বিতাড়িত করেছেন। আমানতের সম্পদ বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষের কাছে রাখার নীতি প্রচলন করেছেন। এর আগে আমানতের সম্পদ থাকত বিচারকদের জিম্মায়।' ঈসা ইবনু মিসকিন বলেছেন, 'তাই মানুষ তার নেতৃত্বে শরীয়তের সঠিক পথের দিশা পেয়েছিল। তার মতো দায়িত্ব আফ্রিকায় আর কেউ পালন করেননি।
■ সাক্ষী এবং শপথের মাধ্যমে বিচার
সাক্ষ্য এবং শপথ হচ্ছে প্রমাণ সাব্যস্তকরণের অন্যতম মাধ্যম। এটা ইমাম মালিক এবং তাঁর মাযহাবের অনুসারী আলিমদের অভিমত। শাফিয়ি এবং হাম্বলি মাযহাবের অনুসারীরাও এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন। পক্ষান্তরে হানাফি আলিমগণ একজন সাক্ষী এবং শপথের মাধ্যমে বিচার করার মতটি গ্রহণ করেননি। আন্দালুসের বিচারকরা এই ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের বক্তব্য গ্রহণ করেননি। তারা একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং বিচারপ্রার্থীর শপথের মাধ্যমে ফয়সালা করার অনুমোদন দেননি।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশির আল-মুআফিরির জীবনীতে আবুল হাসান আন-নুবাহি উল্লেখ করেছেন, 'ওয়াকফের সম্পত্তি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে লিখিত বিষয়ে সাক্ষ্যের অনুমোদন তিনি দিতেন না। সাক্ষীর সাথে বিচারপ্রার্থীর শপথের মাধ্যমে বিচার করা তার কাছে অনুমোদিত ছিল না।' এরপর আন-নুবাহি আরও লিখেন, 'একজন সাক্ষী এবং শপথের মাধ্যমে বিচার করাকে ইবনু বাশির সেই চারটি মাসআলার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, আন্দালুসের বাসিন্দারা যেগুলোর ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের অনুসরণ থেকে বিরত ছিল। মাসআলাগুলো হচ্ছে:
✓ (ক) মিশ্র সম্পদ তথা যৌথ সম্পদের ব্যাপারে তারা ফয়সালা করতেন না।
✓ (খ) কেবল একজন সাক্ষী এবং বিচারপ্রার্থীর শপথের মাধ্যমেই বিচার করতেন না।
✓ (গ) ইমাম লাইস ইবনু সা'দের মত অনুসারে তারা উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে জমি ভাড়া দেওয়ার অনুমোদন দিতেন।
✓ (ঘ) ইমাম আওযায়ির মাযহাব অনুসারে তারা মসজিদে গাছ রোপণের বৈধতা দিতেন।
টিকাঃ
[১০০] সূরা তলাক, ৬৫: ২
[১০১] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৬১। মুনযির ইবনু সাঈদকে নির্ভরযোগ্য সাক্ষী গ্রহণের বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার ঘটনা জানতে তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ৭৩-৭৪ দেখুন।
[১০২] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ২৯; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩০২
[১০৩] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ২৯
[১০৪] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ৪৯-৫১
📄 বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা
আন্দালুসে এমন কিছু বিশেষ রাজনৈতিক সময় গিয়েছিল, যখন বিচার বিভাগ কর্মহীন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তেমনই একটি সময় ছিল বিচারক ইয়াহইয়া ইবনু মা'নের ইন্তেকালের পর। তখন প্রায় ছয় মাসের মতো মানুষের মাঝে কোনো বিচারক ছিল না। এতে মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। আমির আবদুর রহমান তখন বিশেষভাবে ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়াকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ইয়াহইয়া অসম্মতি জানালে আবদুর রহমান তাকে অন্য কারও নাম প্রস্তাব করতে বাধ্য করেন। ইয়াহইয়া তখন ইবরাহীম ইবনু আব্বাসের নাম প্রস্তাব করেন। ইবরাহীমকে দায়িত্ব দিয়ে তখন ইয়াহইয়া থেকে হাত গুটিয়ে নেন আমির।
এমনই আরেকটা শাসক সুলাইমান ইবনুল হাকামের শাসনামলে। তার শাসনামলের দীর্ঘ সময় কর্ডোভার বিচার বিভাগ নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল। সুলাইমানের দাবি ছিল, বিচারকার্য পরিচালনার উপযুক্ত কাউকে তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে প্রশাসক আহমাদ ইবনু যাকওয়ান তার কথা মানতে নারাজ ছিলেন। ফলে সুলাইমান বিচার বিভাগের নামটাই তিন বছর তিন মাস যাবৎ নিষ্ক্রিয় করে রাখেন।
৪০৪ হিজরির মুহাররম মাসে সুলাইমান মারা যাওয়ার পর আলি ইবনু হামুদ আল-ফাতিমি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিচার বিভাগ পুনরায় চালু করেন। দায়িত্ব প্রদান করেন ফকিহ আবদুর রহমান ইবনু বিশরকে। যিনি আলির উপদেষ্টাও ছিলেন। তিনি ছিলেন আন্দালুসের খলিফার পক্ষ থেকে নিযুক্ত সর্বশেষ বিচারক। এটা ৪০৭ হিজরির কথা। আলি ইবনু হামুদ তখন আন্দালুসে মারওয়ান বংশের শাসক সুলাইমান ইবনু হাকামের বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে রাজধানী কর্ডোভা দখল করে নিয়েছিলেন।
টিকাঃ
[১০৫] তারীখু কুদ্দাতিল আন্দালুস, পৃ. ১৪-১৫
[১০৬] তারীখু কুদ্দাতিল আন্দালুস, পৃ. ৮৯
📄 বিচার বিভাগের উপদেষ্টা পরিষদ
শূরা পদ্ধতি হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহর স্বীকৃত একটি ব্যবস্থাপনা। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সমস্যার সমাধানে শূরা ছিল একটি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা। শূরার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল ফকিহ, আলিম এবং মুফতিদের সাথে সমন্বয় করে বিচারকার্য পরিচালনা করা। আমাদের আলিমগণ তো ফকিহদেরকেই বিচারকের একমাত্র সহযোগী বলে অভিহিত করেছেন। ফকিহদের সাথে পরামর্শ করা, বিচারপতির সাথে বা পাশে তাদের বসতে দেওয়া, অথবা ফকিহদের সাথে পরামর্শের জন্য মামলা এবং বিচারের রায় পিছিয়ে দেওয়া আলিমরা আবশ্যক বলেছেন। পূর্বাঞ্চলে বিচারকদের মধ্যে শূরার প্রচলন ছিল। তবে আন্দালুসে এটি ছিল রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের, প্রশাসনিক ও আবশ্যকীয় ব্যবস্থাপনা। আমির এবং খলিফাদের শূরা বা উপদেষ্টা পরিষদ সাধারণ বিষয় হলেও বিচারকদের জন্য সেটা ছিল একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনা।
আলি ইবনু ইউসুফ ইবনি তাশফিন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার সময় বলে দিতেন-চারজন ফকিহের উপস্থিতি ছাড়া কোনো বিষয়ে যেন চূড়ান্ত ফয়সালা না দেওয়া হয়। আর নির্দেশনা অনুযায়ী বাদী-বিবাদীর বক্তব্য শোনার পর পরামর্শের জন্য বিচারক তার সহযোগী এবং উপদেষ্টাদের নিয়ে বসতেন।
শাইখ মাহমুদ আরনুস বলেন, 'আন্দালুসে উমাইয়া সালতানাত শূরার ফয়সালা অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা আবশ্যক করে দিয়েছিল। হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে কর্ডোভায় শীর্ষস্থানীয় আলিমদের সদস্য করে শূরা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত রায়ের জন্য বিচারকরা শূরা সদস্যদের দ্বারস্থ হতেন। এই সদস্যরা কিছু কিছু মাসআলায় ইমাম মালিকের সাথে দ্বিমত পোষণ করে ইবনুল কাসিমের মত গ্রহণ করেছেন। অবশ্য শূরা বোর্ডের কার্যক্রমের ইতিহাস সুস্পষ্টভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেনি। প্রখ্যাত ইতিহাস গবেষক উসতায রফিক বেক আযাম এমনটাই বলেছেন। '
উসতায আহমাদ আমিন আন্দালুসে বিচারের উপদেষ্টা পরিষদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন। এ সংক্রান্ত অনেক বর্ণনা উল্লেখ করার পাশাপাশি বিচারকদের ইতিহাস, ঘটনাবলি, উপদেষ্টা পরিষদ, ব্যবহৃত কিছু পরিভাষা এবং বিভিন্ন উপাধির কথাও তুলে এনেছেন।
ওপর্যুক্ত বক্তব্য খণ্ডন করে উসতায যাফির আল-কাসিমি বলেন, 'আহমাদ আমিন তো এক আজগুবি শূরা বোর্ডের কথা বলেছেন। তার কল্পনা ছাড়া অন্য কোথাও এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অবশ্য তৎকালীন সময়ে বিচার বিভাগে কিছু গতানুগতিক উপদেষ্টা থাকত। আর পূর্ব-পশ্চিমের সব জায়গাতেই তা পরিচিত ছিল।
আমার মনে হয়, ওপর্যুক্ত মতবিরোধটি নিতান্তই কাঠামোগত এবং পারিভাষিক। আন্দালুসের মাজলিসে শূরার সরকারি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অস্তিত্ব কি আধুনিক যুগের মতো ছিল কি না, মতবিরোধ মূলত এটা নিয়ে। বাস্তবতা হলো, আন্দালুসের বিচার বিভাগ নিয়ে গবেষণা করলে এটা দৃশ্যমান হয় যে-শূরা বোর্ড, পরামর্শ বিভাগ, মন্ত্রণালয়, মাজলিসে শূরা, শূরার আমির, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং প্রবীণ শূরা সদস্যদের অনেক বিষয় নিয়ে ইতিহাসে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। এগুলো থেকে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায়, আন্দালুসে শূরা বোর্ডের অনেক গুরুত্ব ছিল। আর এটা ছিল পূর্বাঞ্চলের বিচার বিভাগ থেকেও অগ্রগামী। কিন্তু এই মাজলিসে শূরা আধুনিক যুগের সুশৃঙ্খল উপদেষ্টা পরিষদের মতো ছিল না।
ড. হামদি আবদুল মুনইম মুহাম্মাদ হুসাইন উপদেষ্টা পরিষদের নাম 'খুত্তাতুশ শূরা' বলেছেন। এই নামটি আন্দালুসেই প্রবর্তিত হয়। ফকিহদের মধ্য থেকেও শূরা থাকতেন একজন। বিচারকের কাছে উত্থাপিত মামলাগুলোর চূড়ান্ত রায়ের ক্ষেত্রে তিনি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করতেন।
মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াবকারের জীবনীতে আবুল হাসান আন-নুবাহি লিখেন, 'তিনি ছিলেন আন্দালুসের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ। ইলম এবং তাকওয়ার জন্য তাকে ইবনুল কাসিম নামে ডাকা হতো। বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শূরা সদস্যদের ডেকে পাঠান। তাকে অভিবাদন জানানোর জন্য সবাই উপস্থিত হয়। তখন তিনি দাসকে আদেশ করলে একটি স্বর্ণমুদ্রার বাক্স খোলা হয়। এরপর সকলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার খারাপ পরিণাম কী, সেটা তো আপনারা জানেন-ই। আমার আশঙ্কা হচ্ছে, মানুষ আমার কোনো গোপন বিষয় নিয়ে সন্দেহ করবে। দেখুন, এই হচ্ছে আমার অর্জিত সম্পদ। এগুলোতে স্বর্ণ-রুপা ও মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। আর আমার ব্যবসায়িক সম্পদ সম্পর্কে তো আপনারা সকলেই অবগত আছেন। সুতরাং এই পরিমাণ সম্পদ আমার থেকে প্রকাশ পেলে তো কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে আমি তিরস্কৃতও হব না। কিন্তু এর চেয়ে বেশি হয়ে গেলে আমাকে শাস্তি পেতে হবে। হারামের সংমিশ্রণ থেকে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই।” উপস্থিত সকলেই তখন তার জন্য দুআ করেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াবকার ছিলেন আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং ইলমের অধিকারী। মুজতাহিদ এবং আল্লাহভীরু। তিনি বেশি বেশি নামাজ আদায় এবং কুরআন তিলাওয়াত করতেন। এমনকি প্রতি রাতে এক খতম কুরআন পড়তেন বলেও জানা যায়।
ইয়াহইয়া ইবনু ওয়াফিদ আল-লাখমি সম্পর্কে আন-নুবাহি লিখেন, 'হিজরি ৪০১ সালে তিনি বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন স্বাধীন। আমেরিদের যুগে তিনি মজলিসে শূরার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পাশাপাশি আয-যাহরা মসজিদে কিছুকাল ইমামতিও করেন। বিচার বিভাগ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন।
আবুল আসবাগ ঈসা ইবনু সাহলও ছিলেন গ্রানাডার বিচারপতি। তিনি ছিলেন প্রথম সারির আলিম ও ফকিহ। বিচারকার্যের অনেক রায় ছিল তার মুখস্থ। অনেক মাসআলা-মাসায়েল জানতেন তিনি। নিত্যনতুন ঘটনাপ্রবাহের সমাধানে ছিলেন পারদর্শী। বিচারকার্য পরিচালনায় ছিলেন দূরদর্শী। এ সম্পর্কিত অনেক উপকারী কিতাব তিনি রচনা করেছেন, বিচারকরা যার ওপর এখনো নির্ভরশীল। টলেডোর বিচারক আবু যায়দ আল-হাশশা এবং কর্ডোভার বিচারক আবু বকর ইবনু মানযুরের পক্ষ থেকে পত্র লেখার কাজও তিনি করেছিলেন। এরপর কর্ডোভার শূরার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে মিশরের 'আল-উদওয়া' শহরের বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তারপর তাকে গ্রানাডার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৪৮৬ হিজরিতে বিচারের দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়ার পর ইন্তেকাল করেন তিনি।
আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হাজ ছিলেন কর্ডোভার কাযিউল জামাআহ। তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় আলিম এবং ফকিহ। হাদিসবিশারদ, শূরা পরিষদের প্রধান এবং বিশিষ্ট কথা-সাহিত্যিক হিসেবেও খ্যাতি ছিল তার। ফতোয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী। বিচক্ষণতা এবং দ্বীনদারি তার ফতোয়া ছিল সকলের কাছে সমাদৃত। মানুষ তার প্রতি আস্থা রাখত।
আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনুল আরাবি আল-মুআফিরির ব্যাপারে আবুল হাসান আন-নুবাহি বলেন, '৪৮৫ হিজরিতে তিনি পূর্বাঞ্চল ও শামে সফর করেন। ৪৮৯ হিজরিতে হজের মৌসুমে যান হিজাজে। পরপর দুবার তিনি বাগদাদে গমন করেন। মিশরে এবং ইস্কান্দারিয়াতে একটি দলের সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটে। ৪৯৩ হিজরিতে আন্দালুসে ফিরে আসার পর তার বাবার মৃত্যু হয়। তারপর নিজ শহর ইশবিলিয়াতেই তিনি বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি শূরার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হাদিস এবং ফিকহ নিয়ে পড়াশোনা করার পর কিছু সময় বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত সুচারুভাবে বিচার পরিচালনা করতেন তিনি। সত্য বলতে কখনো দ্বিধা করতেন না। জালিমের ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। আর ইয়াতিম ও অসহায়দের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত কোমলপ্রাণ। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। এজন্য তার বিভিন্ন গ্রন্থ এবং সম্পদের ওপর হামলা করা হয়েছিল। তাকে অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি চরম ধৈর্যের পরিচয় দেন। এরপর তাকে বিচারপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে তিনি ইলমের প্রচার-প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন।
অনেক ফকিহ সরাসরি বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালেও শূরার দায়িত্ব গ্রহণ করতেন। যেমন হাতিম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদির রহমান আত-তামিমি। ইবনুত তরাবলুসি নামে তিনি অধিক সমাদৃত। আরেকজন ছিলেন ঈসা ইবনু মুহাম্মাদ। তিনি পরপর দুবার বিচারকের পদ গ্রহণ করতে অসম্মতি জানালে মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াবকা তাকে উপদেষ্টা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অনেক মানুষকে উপকৃত করেছেন। কর্ডোভার জামে মসজিদে তিনি ফতোয়া প্রদান করতেন।
এই তালিকায় আরও ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু আত্তাব। তিনি ছিলেন শূরার প্রবীণ সদস্য। সে যুগে ফতোয়ার ভিত্তি তার ওপরই ছিল। কর্ডোভার বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তাকে বেশ কয়েকবার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনই আরেকজন ছিলেন আহমাদ ইবনু তাহির আল-আনসারি। তিনি ছিলেন দানিয়া শহরের উপদেষ্টা। সেখানেই ফতোয়া প্রদান করতেন। তাকে বিচারকের পদ গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনিও নাকচ করে দেন।
কখনো দেখা যেত, বিচারক নিজেই উপদেষ্টা পরিষদে কাউকে নিয়োগ দিতেন। ৩৯৫ হিজরিতে বিচারক আবদুর রহমান ইবনু ফুতাইস উমাইয়া বংশের মুহাম্মাদ ইবনু কাসিম এবং আবু বকর আত-তুজিবিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কখনো কখনো এক শহরের বিচারক অন্য শহরের উপদেষ্টা হিসেবে থাকতেন। যেমন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আন্দালুসের ফারিশ শহরে বিচারকার্য পরিচালনার পাশাপাশি কর্ডোভার উপদেষ্টাও ছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহইয়া আত-তামিমি প্রথমে বিজানাতে, পরে ইশবিলিয়াতে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন কর্ডোভার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।
উসতায আল-কাসিমির মতে আন্দালুসে অনেক সময় শূরা এবং ফতোয়া একই অর্থে ব্যবহৃত হতো। তবে আমার কাছে মনে হয়, এ দুটি পদ ভিন্ন ভিন্ন ছিল। আলিমরা অনেক সময় শূরার দায়িত্ব গ্রহণেও অপারগতা প্রকাশ করতেন। এ থেকে বুঝে আসে, শূরা ছিল একটি বিশেষ পদ এবং প্রসিদ্ধ ব্যবস্থাপনা। একটি নির্ধারিত পরিষদ এবং স্বতন্ত্র একটি দায়িত্ব ছিল এই শূরা সিস্টেম।
শূরার দায়িত্ব থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-মুআফিরি। ফিকহশাস্ত্রে তিনি অগাধ পাণ্ডিত্য রাখতেন। সমস্যার সমাধানে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দূরদর্শী। কর্ডোভার শূরা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ডাকা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ইউনুস ইবনু আবদিল্লাহর জীবনীতে এসেছে, তাকে সর্বপ্রথম বাদাজোয শহর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারপর সেখান থেকে সরিয়ে আয-যাহরা মসজিদে খতিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তিনি পান শূরার দায়িত্ব। এরপর তিনি খুত্তাতুর রদ তথা বিচারের রায় পুনঃনিরীক্ষণ বিভাগের দায়িত্ব পান। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, বিচারকার্য পরিচালনা, নামাজের ইমামতি এবং কর্ডোভার জামে মসজিদে জুমুআর খুতবার দায়িত্ব একসাথে পালন করতে থাকেন। এরপর যাবতীয় দায়িত্ব হতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তখন তিনি ঘরে অবস্থান করতে থাকেন। ৪১৯ হিজরিতে শাসক মুতামিদ বিল্লাহ হিশাম ইবনু মুহাম্মাদ আল-মারওয়ানি তাকে কর্ডোভার প্রধান বিচারপতি বানানোর পাশাপাশি নামাজের ইমামতি এবং খতিবের দায়িত্ব প্রদান করেন। সে-সময় তিনি ছিলেন অশীতিপর বৃদ্ধ। বিচারকের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ৪২৯ হিজরিতে এই আলিম ইন্তেকাল করেন।
উসতায আল-কাসিমি উপদেষ্টা পরিষদে থাকা আলিমদের জীবনী অধ্যয়ন করে তাদের উপাধিগুলো একত্র করেছেন। সেগুলো হচ্ছে: প্রধান মুফতি, কর্ডোভার গ্র্যান্ড মুফতি, মুফতিদের সভাপতি, উপদেষ্টা পরিষদের মুখপাত্র, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা কমিটির প্রধান, সমকালীন উপদেষ্টা পরিষদের মুরুব্বি এবং প্রবীণ ব্যক্তি।
এসব আলোচনা থেকে বুঝে আসে যে, আন্দালুসে উপদেষ্টা পরিষদ ছিল একটি উচ্চতর বিভাগ। যা সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচিত এবং সমাদৃত ছিল। তৎকালীন সমস্ত দেশে তার ব্যাপক প্রচলনের কথা জানা যায়। ইতিবাচক এবং উত্তম বিষয় এই উপদেষ্টা পরিষদ শরীয়তের দাবি হওয়ার পাশাপাশি বিবেক সমর্থিত। আর বাস্তবতার আলোকেও তা স্বীকৃত। বিশেষভাবে বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে এবং সাধারণভাবে সকল কাজের ক্ষেত্রে শূরাগণ উত্তম ফলাফল বাস্তবায়ন করতেন।
আন্দালুস এবং মরক্কোর প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থার সংক্ষিপ্ত আলোচনা আমরা এখানেই শেষ করছি। হারিয়ে যাওয়া স্বর্গ আন্দালুস এবং প্রিয় মরক্কো-যা এখনো তার সন্তানদের নিয়ে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে-এর বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে একটি ছোট চিত্র তুলে ধরার চেষ্টাটুকুই কেবল আমরা এখানে করেছি।
টিকাঃ
[১০৭] নিষামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩২৭
[১০৮] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১৩৭; আল-মু'জিব ফী তালখীসি আখবারিল মাগরিব, পৃ. ২৩৫
[১০৯] তারীখুল কাদ্ধা, পৃ. ১৩১
[১১০] যুহরুল ইসলাম: ৩/২৩, ৩/৪৯, ৩/৫০, ৩/৬৭
[১১১] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৪০
[১১২] তারীখুল মাগরিবি ওয়াল আন্দালুসি ফী আহদিল মুরাবিতিন, পৃ. ২৯১
[১১৩] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ৭৭; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৩২
[১১৪] তারীখু কুদ্ধাতিল আন্দালুস, পৃ. ৮৮
[১১৫] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ৯৬-৯৭
[১১৬] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ১০২
[১১৭] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ১০৫-১০৭, ঈষৎ পরিবর্তিত
[১১৮] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৩৩
[১১৯] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২৩৪
[১২০] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৩৫
[১২১] প্রাগুক্ত
[১২২] প্রাগুক্ত
[১২৩] নিযামূল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৩৩৬; তারীখু কুদ্ধাতিল আন্দালুস, পৃ. ৯৫-৯৬