📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারকদের সহায়ক

📄 বিচারকদের সহায়ক


পূর্বাঞ্চলের মতো আন্দালুস ও মরক্কোতে বিচারকদের কাজে সহায়তা করার জন্য সহায়ক ছিল। সহায়করা হলেন বিচারকের কাতিব বা মুনশি। যিনি বিচারকের পাশে বসতেন। বিভিন্ন মামলা, দলিল-প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তি লেখার কাজে তিনি বিচারককে সহযোগিতা করতেন। তিনি যা লিখতেন, সেটা সাক্ষীদের পড়ে শোনানোর পর লেখার নিচে বিচারক নিজে স্বাক্ষর করে দিতেন।

অনারবি ভাষা অনুবাদ করার জন্য বিচারক নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন কোনো দোভাষী নির্বাচন করতেন। আন্দালুসে পরিপূর্ণভাবে আরবি ভাষার প্রচার হওয়ার পূর্বে এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি আন্দালুসের যেসব অঞ্চলে স্থানীয় ভাষার প্রচলন ছিল, সেসব অঞ্চলেও বিচারকরা দোভাষীর সহায়তা গ্রহণ করতেন।

বিচারকের দরজায় একজন রক্ষী থাকতেন। যার দায়িত্ব ছিল মানুষকে ধারাবাহিকভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করা। প্রবেশের ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদীদের ধারাবাহিকতার ব্যবস্থাপনা রক্ষা করার পাশাপাশি হট্টগোল এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

আন্দালুস ও মরক্কো এবং পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো এসব বিষয়ে ছিল বরাবর। ফকিহ আর আলিমদের থেকে সহযোগিতা গ্রহণের ব্যাপারেও এসব দেশের অবস্থান ছিল অভিন্ন। তবে একটি ব্যাপারে আন্দালুসের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং পরিষ্কার ভিন্নতা ছিল। আন্দালুসে প্রচলিত স্বতন্ত্র শূরা পদ্ধতি ছিল একটি মৌলিক বিষয় এবং উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। আমির এবং বিচারকদের কাছে যা 'মাজলিসুশ শূরা' তথা উপদেষ্টা পরিষদ নামে পরিচিতি লাভ করে। আন্দালুস-সংক্রান্ত সামনের আলোচনায় আমরা এর বিশদ বর্ণনা দেওয়ার আশা রাখি।

আন্দালুসে বিচারকের সহায়কদের মাঝে যাচাইকারীদের এক শ্রেণির প্রসিদ্ধ সহায়ক ছিল। গঠনমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার আলোচনায় 'ফয়সালার ব্যাপারে সাক্ষী' শিরোনামের অধীনে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে তাদের আলোচনা আমরা করব।

টিকাঃ
[৮৪৪] কুরতুবাতু ফিল আসরিল ইসলামি, পৃ. ৩০৬

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারক অপসারণ

📄 বিচারক অপসারণ


আন্দালুসে বিচারক অপসারণের বিষয়টি কম এবং সীমিত পর্যায়ে ছিল। অধিকাংশ সময় বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবীণ হওয়ার পাশাপাশি ইলম, তাকওয়া ও পরহেজগারির ক্ষেত্রে খ্যাতিমান কোনো ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনিই আমরণ বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন। বেশির ভাগ বিচারকদের জীবনীতে এমনটাই পাওয়া যায়।

আমির আবদুর রহমান ইবনু মুআবিয়ার যুগে দুজন বিচারককে পালাক্রমে অপসারণ করার বিষয় দেখা গিয়েছিল। তখন মুআবিয়া ইবনু সালিহের পাশাপাশি উমর ইবনু শারাহিল পালাক্রমে কর্ডোভায় বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এক বছর মুআবিয়া দায়িত্ব পালন করতেন তো আরেক বছর উমর পালন করতেন। হিসাব রাখার সুবিধার্থে বছর শেষ হলে পালা পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আমিরকে জানিয়ে দিতে হতো।

ইমাম মালিকের মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা না করার কারণেও অনেক সময় বিচারক অপসারণ করা হতো। আমির আবদুর রহমান আল-আওসাতের যুগে ১১জন বিচারক একের পর এক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রখ্যাত আলিম ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ছিলেন আমিরের কাছে অগ্রগণ্য এবং মর্যাদাবান ব্যক্তি। তিনিই আমিরকে বিচারক নিয়োগ এবং অপসারণের ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন। কোনো বিচারকের পক্ষ থেকে মালিকি মাযহাব প্রয়োগ না করার বিষয়টি আঁচ করতে পারলেই তাকে অপসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতেন তিনি। এ ব্যাপারে তার কঠোরতা ছিল সর্বজনবিদিত। ২৩৪ হিজরিতে তার মৃত্যুর পর বলা হলো, বিচারকরা তার তৎপরতা থেকে রেহাই পেয়েছে।

অনেক সময় আকস্মিক কিছু কারণেও বিচারকদের অপসারণ করা হতো। এর আবার কিছু সময় পর তাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করা হতো। যেমনটা ঘটেছিল আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনি লাইসের সাথে। ‘মাওয়ালি’ তথা মুক্ত ক্রীতদাসদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ‘কাযিউল জামাআহ’ হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সহনশীল, আত্মসংযমী এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। তাকে অপসারণ করার কিছুকাল পর পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এরকম আরেকজন ছিলেন সুলাইমান ইবনু আসওয়াদ আল-গাফিকি। আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া তিনি করতেন না। কোনো ব্যাপক ফিতনার কারণে আমির প্রথমে তাকে অপসারণ করলেও পরবর্তীকালে পুনরায় বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ প্রদান করেন।

টিকাঃ
[৮৪৫] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ২১-২২
[৮৪৬] কুরতুবাতু ফিল আসরিল ইসলামি, পৃ. ৩১৮
[৮৪৭] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৬৭, ৭২, ৭৩, ৮১, ৮২ এবং ৮৩

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারের জায়গা

📄 বিচারের জায়গা


বিচারের জায়গা বলে এমন জায়গা উদ্দেশ্য, বিচারক যেখানে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। যাকে 'মাজলিসুল কাদ্বা' বা বিচারের এজলাসও বলা হয়। পূর্বাঞ্চলের বিচারের এজলাস এবং আন্দালুসের বিচারের এজলাসের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য ছিল না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারের এজলাস মসজিদেই হওয়ার নিয়ম ছিল। কোনো কোনো বিচারক মসজিদের এক প্রান্তে অথবা মসজিদে থাকা কোনো বিশেষ কামরাতে বিচার করতেন। আবার কেউ কেউ বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিজের বাড়িতে বসতেন। তৃতীয় শতাব্দীতে কর্ডোভায় বিচারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে সেই কার্যালয় বিচারের এজলাস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। অধিকাংশ বড় বড় আলিম এই কার্যালয়ে বসতেন। বিচারক যাতে প্রয়োজনে তাদের শরণাপন্ন হতে পারেন। ফয়সালার ক্ষেত্রে যেন তাদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন।

অনেক বিচারকের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে ইবনুল হারিস আল-খুশানি এবং আবুল হাসান আন-নুবাহি উল্লেখ করেন, বিচারকরা মসজিদে কিংবা জামে মসজিদে বসতেন। সাঈদ ইবনু সুলাইমান আল-গাফিকি সম্পর্কে আল-খুশানি বলেছেন, 'সাঈদ ইবনু সুলাইমান বিচারকার্য পরিচালনা করতেন জামে মসজিদে। তিনি হেঁটেই সেখানে আসতেন।' সাঈদ সম্পর্কে আল-খুশানি আরও বলেছেন, 'তিনি কর্ডোভায় আগমন করলে আমির তাকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। বিচারকার্য পরিচালনার জন্য তিনি মসজিদে বসতেন। তখন তার পরনে থাকত সাদা পশমি জুব্বা।'

যাফির আল-কাসিমি বলেন, 'পরকাল এবং বিচারের পরিণাম সংক্রান্ত চমৎকার উপদেশ এবং আবশ্যকীয়ভাবে ইনসাফ আঁকড়ে ধরার বিষয়টি মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান আল-আনসারির জীবনীতে আমি পড়েছি। ... তাতে এ-ও আছে, বিচারক আবু আবদিল্লাহ মালাগার ভেতরেই উল্লেখিত মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। মসজিদের বিপরীতেই ছিল একটি কবর, যা বিচারক অতিরিক্তরূপে খনন করেছিলেন। পরবর্তীকালে নিজের জন্য খননকৃত এই কবরেই তিনি সমাহিত হয়েছেন।' এটা ৫০০ হিজরির কথা। যা ইবনু বাশকুওয়াল তাঁর গ্রন্থ 'আস-সিলাহ'-এ উল্লেখ করে তার প্রশংসা করেছেন।

মুহাম্মাদ ইবনু বাশিরের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে আল-খুশানি বলেছেন, 'আবু উসমান মসজিদের সামনে থাকা একটি ঝুলন্ত ছাউনিতে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তার বাড়িও ছিল মসজিদের সামনের রাস্তাতে।'

বিচারক সাহনুন জামে মসজিদের মাঝে নির্মিত একটি ঘরে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। ঘরটি তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছিলেন। দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিচারকার্যের পরিচালক হাবিবের এজলাস ছিল জামে মসজিদের অপর একটি ঘরে। যা সাহনুনের ঘরটির কাছেই ছিল। মসজিদের সম্মান রক্ষা এবং মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনার ব্যাপারে যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রচারিত হতো, সেগুলো দূর করার মাঝে এভাবেই সমন্বয় করা হতো।

ইবনু ফারহুন বলেছেন, 'সাহনুন জামে মসজিদে একটি ঘর তৈরি করে নিয়েছিলেন, যেখানে তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে বসতেন। যাতে এই এজলাস লোকদের এবং কথাবার্তা আর হইচইয়ের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে যায়। ... বিশ্বস্ত বিচারক যে-কোনো জায়গাতেই বসে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন।'

টিকাঃ
[৮৪৮] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৬২ এবং ৬৪
[৮৪৯] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮১; তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ১০০
[৮৫০] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৩০
[৮৫১] তারতীবুল মাদারিক: ১/৬০৮
[৮৫২] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮৩
[৮৫৩] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৭

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারের সময়

📄 বিচারের সময়


আন্দালুসে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য সুনির্ধারিত এবং বাধ্যতামূলক কোনো সময় ছিল না। কেননা বিচারের উদ্দেশ্য হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন তথা বিবাদ মীমাংসা করার মাধ্যমে হক প্রতিষ্ঠা করা। তা যে-কোনো সময়েই হতে পারে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিচারকরা যথোপযুক্ত সময় গ্রহণ করতেন। যদিও সময় এবং দেশ হিসেবে তাতে ভিন্নতা থাকত। এ ব্যাপারে থাকা মূলনীতি সম্পর্কে ইবনু ফারহুন বলেছেন, 'বিচারকের উচিত বিচারকার্য পরিচালনায় বসার জন্য এমন একটা সময় নির্ধারণ করা, যখন মানুষের কাজকর্মে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটাবে না।'

কর্ডোভার বিচারক মুহাম্মাদ ইবনু বাশিরের জীবনীতে ইবনুল হারিস আল-খুশানি লিখেন, 'বিচারকার্য পরিচালনা এবং মামলা শুনানির জন্য তিনি সকাল থেকে যুহরের এক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত বসতেন। এরপর যুহরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজের আগ পর্যন্ত বসতেন। এ সময় তার মূল কাজ হতো দলিল-প্রমাণ শোনা। এ সময় ভিন্ন কোনো সময় তিনি দলিল-প্রমাণ শুনতেন না।'

আবদুর রহমান ইবনু আহমাদ প্রত্যেক সোম এবং বৃহস্পতিবারে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। সম্ভবত তার ধারণা ছিল, শহরের মামলা-মোকদ্দমা এবং বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য দুদিনই যথেষ্ট।

ইবনু আবদিল হাকামের সূত্রে ইবনু ফারহুন বর্ণনা করেছেন, 'দুই ঈদে বা ঈদের কাছাকাছি দিনে, যেমন: আরাফার দিন, তারবিয়ার দিন, হাজিদের যাত্রা করার দিন, হাজিদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের দিন এবং নববর্ষের দিন বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতে হতো না। তদ্রূপ অতি বৃষ্টির কারণে রাস্তায় কাদা জমে গেলে সেদিনও বিচারকার্য স্থগিত থাকত। পরবর্তী আলিমদের কেউ কেউ জুমুআর দিনেও বিচারকার্য পরিচালনার জন্য না বসার কথা বলেছেন। এগুলো ছিল সমাজে প্রচলিত ছুটির দিন। এ কারণেই ফকিহগণ বলেছেন, বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিচারক সাধ্যানুসারে দিনে দুই বেলায় বসবেন।

আন্দালুসে কর্ডোভার বিচারক মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াবকা সম্পর্কে আন-নুবাহি বলেছেন, 'তিনি রমজান মাসে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন না। এ সময়টা আমল এবং ইবাদতের জন্য নিজেকে অবসর রাখতেন। আমৃত্যু এ পদ্ধতি তিনি অব্যাহত রেখেছিলেন। আন-নুবাহির বক্তব্য উল্লেখের পর আল-কাসিমি লিখেন, 'আন-নুবাহির বক্তব্যে "আমল” শব্দটা আছে। এর থেকে বোঝা যায়, তিনি ইবাদত এবং বিচারকার্য সংক্রান্ত অধ্যয়নে মগ্ন থাকতেন। সুতরাং রমজানের এই দিনগুলো বিচারকার্যের ছুটির মতোই ছিল।

আবদুর রহমান ইবনু মুআবিয়ার ছেলে হিশাম যখন মুসআব ইবনু উমরানের কাছে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রস্তাব পেশ করেন, তখন মুসআব অসম্মতি জানালেন। হিশাম তখন পীড়াপীড়ি করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাকে হুমকিও দেন। মুসআব তখন এই শর্তে দায়িত্ব গ্রহণ করেন যে, জুমুআর দিন-সহ দুদিন তথা শনি এবং রবিবার তাকে নিজের জায়গা-জমি দেখাশোনা করার অনুমতি দিতে হবে। বাকি দিনগুলোতে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। হিশাম এ শর্ত মেনে নিয়েছিলেন।

আমির আবদুর রহমান ইবনু মুআবিয়া বিচারকার্য পরিচালনায় পালাবদলের পদ্ধতি চালু করেছিলেন। অর্থাৎ দুজন বিচারক পালাবদল করে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। দুজনের প্রত্যেকের কাজের মেয়াদ হবে এক বছর। সে হিসেবে উমর ইবনু শারাহিল কর্ডোভায় মুআবিয়া ইবনু সালিহের সাথে পালাবদল করে বিচারকার্য পরিচালনা করেছিলেন। এক বছর মুআবিয়া দায়িত্ব পালন করতেন, আরেক বছর করতেন উমর।

বর্তমানে প্রচলিত 'দ্রুত বিচার বিভাগ' ছিল পূর্বোল্লেখিত নির্ধারিত সময়ের বাইরে। এ ক্ষেত্রে বিচারকের দায়িত্ব ছিল বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করা। তা যে সময়ই হোক না কেন। ইবনু ফারহুন বলেছেন, 'এসব ছুটির দিন এবং সময় থেকে ভিন্ন ছিল সেসব বিচার, যেগুলো ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এসব বিচারকার্য হালকাভাবে দেখে দ্রুত সম্পন্ন করা হতো।

এ ব্যাপারে আল-মাওয়ারদি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আদাবুল কাদ্বি'-তে এ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এভাবে, 'এক দিনে যদি এমন কোনো মোকদ্দমা বারংবার আসে-যা বিলম্ব করা ঠিক নয়, তাহলে বিচারক সেটাকে মুলতুবি না রেখে তার প্রতি মনোযোগ দেবেন। '

আল-মাওয়ারদি আরও লিখেছেন, 'এই মোকদ্দমা ছাড়া সেদিন যদি এমন আরও বিশেষ মোকদ্দমা আসে-যা বিলম্ব করার কারণে ক্ষতি হয়, তাহলে বিলম্ব করা উচিত নয়।

এসব তথ্য থেকে এটা বুঝে আসে যে, বিচার-সংক্রান্ত আধুনিক আইনকানুন এবং নীতিমালা প্রণীত হওয়ার আগেই ইসলামি ফিকহ এবং ইসলামের বিচারব্যবস্থা ভবিষ্যতের দিকে কতটা অগ্রসর ছিল।

টিকাঃ
[৮৫৪] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৭। আল-মাওয়ারদির আদাবুল কাদ্বি: ২/২৪৪ দেখা যেতে পারে।
[৮৫৫] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৩০
[৮৫৬] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৮
[৮৫৭] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৮; তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ১২৭
[৮৫৮] তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ৭৮
[৮৫৯] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮৬
[৮৬০] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ২১ এবং ২২
[৮৬১] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৮
[৮৬২] আদাবুল কাদ্বি: ১/১৯৬
[৮৬৩] আদাবুল কাদ্বি: ২/২৪৪
[৮৬৪] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00