📄 বিচারকদের বেশ-ভূষা
আন্দালুস ও মরক্কোর বিচারকরা সাধারণ জনগণ থেকে ভিন্ন নির্দিষ্ট কোনো পোশাকে অভ্যস্ত ছিলেন না। তবে বিচারকার্য চলাকালীন তারা নির্ধারিত এক ধরনের পোশাক পরতেন। এ ক্ষেত্রে একেক বিচারকের বিশেষ পোশাক একেক ধরনের হতো। তবে ইমাম আবু ইউসুফ সর্বসাধারণ থেকে বিচারকদের পৃথক রাখার সুবিধার্থে বাগদাদ এবং পূর্বাঞ্চলের আলিম, ফকিহ এবং বিচারকদের পোশাক এক ধরনের হওয়ার নীতি প্রচলন করেছিলেন। পক্ষান্তরে আন্দালুসে প্রত্যেক বিচারককে ইচ্ছামাফিক পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই আন্দালুসের বিচারকদের বেশ-ভূষার ব্যাপারে নানাধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়।
আবদুর রহমান ইবনু আহমাদ প্রত্যেক সোম এবং বৃহস্পতিবারে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। এ দুদিন তিনি কালো পোশাক পরিধান করতেন। আর অন্যান্য দিন পরতেন সাদা পোশাক।
সাঈদ ইবনু সুলাইমান আল-গাফিকি সম্পর্কে ইবনুল হারিস আল-খুশানি বলেন, 'তিনি কর্ডোভায় আগমন করলে আমির মুহাম্মাদ তাকে বিচারকার্যের দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি মসজিদে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তখন তার পরনে থাকত পশমের সাদা জুব্বা। তার মাথায় থাকত "আকরুফ" নামে পরিচিত সাদা টুপি এবং গায়ে থাকত একই জাতীয় সাদা রঙের বিশেষ কপ।'
ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া সম্পর্কে বিচারক ইয়াদ্ব বলেন, 'তিনি জুমুআর দিন পাগড়ি পরিধান করে পায়ে হেঁটে মসজিদে যেতেন।
ইবনু ফাতিন ছিলেন একজন দুনিয়াদার ব্যক্তি। বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর তার বেশ-ভূষা পালটে গেল। মন্ত্রীদের পোশাক ছেড়ে ফকিহদের সবুজ পোশাক পরতে লাগলেন। এই পোশাকের রং হালকা সবুজ অথবা গাঢ় সবুজ হতো।
তবে ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ বিচারকদের বেশ-ভূষার বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকতেন। অভিজাত শ্রেণির এবং ফকিহগণের পোশাকের মাঝামাঝি স্তরের পোশাক পরিধান করতেন তিনি। যা থেকে আন্দালুসের প্রচলিত পোশাক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ড. আহমাদ ফিকরি বর্ণনা করেছেন, আন্দালুসের বিচারকরা সবুজ রঙের বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করতেন। কিন্তু আন্দালুস ও মরক্কোর বিচারকদের সম্পর্কে রচিত গ্রন্থাবলিতে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।
উসতায আহমাদ আমিন বলেন, 'আন্দালুসের এই সভ্যতায় মানুষের বেশ-ভূষাতে পাগড়ির ব্যবহার খুব কমই দেখা যেত। তবে তাদের শাইখ, আলিম এবং বিচারকদের মাঝে পাগড়ির ব্যবহার চোখে পড়ত।'... আন্দালুসবাসীর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। বিচারক অথবা মুফতিকে আপনি খালি মাথায় দেখতে পাবেন। আর পাগড়ির ব্যবহার তো ছিল না বললেই চলে।
উসতাযের এই বক্তব্যটি সাধারণ গবেষণা মাত্র। আন্দালুসের বিচারকদের জীবনীতে এ কথার সমর্থনে কোনো বর্ণনা আমরা খুঁজে পাইনি।
আন্দালুসের কোনো কোনো বিচারক দায়িত্ব গ্রহণের আগে পরিধেয় পোশাক পরিবর্তন করতেন না। আর এটাই গ্রহণযোগ্য এবং অধিকাংশের মতামত। খালফ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি ফাতহুনের জীবনীতে এসেছে, তিনি পোশাক পরিবর্তন করেননি।
অনেকে নির্ধারিত পোশাক বাধ্য থাকতেন না। মুহাম্মাদ ইবনু বাশির আল-মুআফিরির জীবনীতে আল-খুশানি লিখেন, 'তিনি আমাদের জুমুআর নামাজ পড়াতেন। তার মাথায় থাকত একটি পশমি টুপি।' ... 'জুমুআর দিনে তিনি একটি হলুদ আলখাল্লা গায়ে দিয়ে এলেন। তার পায়ে ছিল চটি জুতা। মাথার চুল একটু এলোমেলো হয়ে ছিল। এরপর এই পোশাকেই দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন তিনি। একজন অপরিচিত আগন্তুক এই বিশেষ পোশাক, এলোমেলো মাথার চুল, হলুদ হয়ে যাওয়া চাদর, চোখে লাগানো সুরমা, মিসওয়াক এবং হাতে লেগে থাকা মেহেদির দিকে তাকিয়ে তাকে বিচারক বলে চিনতে পারল না। লোকটি তাকে বাঁশিওয়ালা বলে ভ্রম করছিল। অবশেষে চিনতে পারার পর তার মাঝে সে ন্যায়পরায়ণতা আর ইনসাফ দেখতে পেল।
টিকাঃ
[৮৩৬] কুদ্বাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৬২
[৮৩৭] তারতীবুল মাদারিক: ১/৫৩৭
[৮৩৮] নিয়ামুল হুকমি ফিশ শাবীআহ, পৃ. ২৩৭
[৮৩৯] নিযামুল হকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২৩৭-
[৮৪০] কুরতুবার ফিল আহদিল ইসলামি, পৃ. ৩০৬
[৮৪১] বুহরুল ইসলাম। ৩/৪ এবং ৮
[৮৪২] নিযামূল হকমি ফিশ শাহীআহ, পৃ. ২৩৮
[৮৪৩] কুদ্ধাতু কুরতুবাহ, পৃ. ২৮ এবং ৩২
📄 বিচারকদের সহায়ক
পূর্বাঞ্চলের মতো আন্দালুস ও মরক্কোতে বিচারকদের কাজে সহায়তা করার জন্য সহায়ক ছিল। সহায়করা হলেন বিচারকের কাতিব বা মুনশি। যিনি বিচারকের পাশে বসতেন। বিভিন্ন মামলা, দলিল-প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তি লেখার কাজে তিনি বিচারককে সহযোগিতা করতেন। তিনি যা লিখতেন, সেটা সাক্ষীদের পড়ে শোনানোর পর লেখার নিচে বিচারক নিজে স্বাক্ষর করে দিতেন।
অনারবি ভাষা অনুবাদ করার জন্য বিচারক নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজন কোনো দোভাষী নির্বাচন করতেন। আন্দালুসে পরিপূর্ণভাবে আরবি ভাষার প্রচার হওয়ার পূর্বে এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি আন্দালুসের যেসব অঞ্চলে স্থানীয় ভাষার প্রচলন ছিল, সেসব অঞ্চলেও বিচারকরা দোভাষীর সহায়তা গ্রহণ করতেন।
বিচারকের দরজায় একজন রক্ষী থাকতেন। যার দায়িত্ব ছিল মানুষকে ধারাবাহিকভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করা। প্রবেশের ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদীদের ধারাবাহিকতার ব্যবস্থাপনা রক্ষা করার পাশাপাশি হট্টগোল এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।
আন্দালুস ও মরক্কো এবং পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো এসব বিষয়ে ছিল বরাবর। ফকিহ আর আলিমদের থেকে সহযোগিতা গ্রহণের ব্যাপারেও এসব দেশের অবস্থান ছিল অভিন্ন। তবে একটি ব্যাপারে আন্দালুসের সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং পরিষ্কার ভিন্নতা ছিল। আন্দালুসে প্রচলিত স্বতন্ত্র শূরা পদ্ধতি ছিল একটি মৌলিক বিষয় এবং উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। আমির এবং বিচারকদের কাছে যা 'মাজলিসুশ শূরা' তথা উপদেষ্টা পরিষদ নামে পরিচিতি লাভ করে। আন্দালুস-সংক্রান্ত সামনের আলোচনায় আমরা এর বিশদ বর্ণনা দেওয়ার আশা রাখি।
আন্দালুসে বিচারকের সহায়কদের মাঝে যাচাইকারীদের এক শ্রেণির প্রসিদ্ধ সহায়ক ছিল। গঠনমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার আলোচনায় 'ফয়সালার ব্যাপারে সাক্ষী' শিরোনামের অধীনে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে তাদের আলোচনা আমরা করব।
টিকাঃ
[৮৪৪] কুরতুবাতু ফিল আসরিল ইসলামি, পৃ. ৩০৬
📄 বিচারক অপসারণ
আন্দালুসে বিচারক অপসারণের বিষয়টি কম এবং সীমিত পর্যায়ে ছিল। অধিকাংশ সময় বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রবীণ হওয়ার পাশাপাশি ইলম, তাকওয়া ও পরহেজগারির ক্ষেত্রে খ্যাতিমান কোনো ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হতো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনিই আমরণ বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতেন। বেশির ভাগ বিচারকদের জীবনীতে এমনটাই পাওয়া যায়।
আমির আবদুর রহমান ইবনু মুআবিয়ার যুগে দুজন বিচারককে পালাক্রমে অপসারণ করার বিষয় দেখা গিয়েছিল। তখন মুআবিয়া ইবনু সালিহের পাশাপাশি উমর ইবনু শারাহিল পালাক্রমে কর্ডোভায় বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। এক বছর মুআবিয়া দায়িত্ব পালন করতেন তো আরেক বছর উমর পালন করতেন। হিসাব রাখার সুবিধার্থে বছর শেষ হলে পালা পূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আমিরকে জানিয়ে দিতে হতো।
ইমাম মালিকের মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা না করার কারণেও অনেক সময় বিচারক অপসারণ করা হতো। আমির আবদুর রহমান আল-আওসাতের যুগে ১১জন বিচারক একের পর এক দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রখ্যাত আলিম ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ছিলেন আমিরের কাছে অগ্রগণ্য এবং মর্যাদাবান ব্যক্তি। তিনিই আমিরকে বিচারক নিয়োগ এবং অপসারণের ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন। কোনো বিচারকের পক্ষ থেকে মালিকি মাযহাব প্রয়োগ না করার বিষয়টি আঁচ করতে পারলেই তাকে অপসারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতেন তিনি। এ ব্যাপারে তার কঠোরতা ছিল সর্বজনবিদিত। ২৩৪ হিজরিতে তার মৃত্যুর পর বলা হলো, বিচারকরা তার তৎপরতা থেকে রেহাই পেয়েছে।
অনেক সময় আকস্মিক কিছু কারণেও বিচারকদের অপসারণ করা হতো। এর আবার কিছু সময় পর তাকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করা হতো। যেমনটা ঘটেছিল আমর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনি লাইসের সাথে। ‘মাওয়ালি’ তথা মুক্ত ক্রীতদাসদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ‘কাযিউল জামাআহ’ হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সহনশীল, আত্মসংযমী এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। তাকে অপসারণ করার কিছুকাল পর পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এরকম আরেকজন ছিলেন সুলাইমান ইবনু আসওয়াদ আল-গাফিকি। আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া তিনি করতেন না। কোনো ব্যাপক ফিতনার কারণে আমির প্রথমে তাকে অপসারণ করলেও পরবর্তীকালে পুনরায় বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োগ প্রদান করেন।
টিকাঃ
[৮৪৫] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ২১-২২
[৮৪৬] কুরতুবাতু ফিল আসরিল ইসলামি, পৃ. ৩১৮
[৮৪৭] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৬৭, ৭২, ৭৩, ৮১, ৮২ এবং ৮৩
📄 বিচারের জায়গা
বিচারের জায়গা বলে এমন জায়গা উদ্দেশ্য, বিচারক যেখানে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। যাকে 'মাজলিসুল কাদ্বা' বা বিচারের এজলাসও বলা হয়। পূর্বাঞ্চলের বিচারের এজলাস এবং আন্দালুসের বিচারের এজলাসের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য ছিল না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচারের এজলাস মসজিদেই হওয়ার নিয়ম ছিল। কোনো কোনো বিচারক মসজিদের এক প্রান্তে অথবা মসজিদে থাকা কোনো বিশেষ কামরাতে বিচার করতেন। আবার কেউ কেউ বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিজের বাড়িতে বসতেন। তৃতীয় শতাব্দীতে কর্ডোভায় বিচারের উপদেষ্টা পরিষদের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকে সেই কার্যালয় বিচারের এজলাস হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। অধিকাংশ বড় বড় আলিম এই কার্যালয়ে বসতেন। বিচারক যাতে প্রয়োজনে তাদের শরণাপন্ন হতে পারেন। ফয়সালার ক্ষেত্রে যেন তাদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন।
অনেক বিচারকের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে ইবনুল হারিস আল-খুশানি এবং আবুল হাসান আন-নুবাহি উল্লেখ করেন, বিচারকরা মসজিদে কিংবা জামে মসজিদে বসতেন। সাঈদ ইবনু সুলাইমান আল-গাফিকি সম্পর্কে আল-খুশানি বলেছেন, 'সাঈদ ইবনু সুলাইমান বিচারকার্য পরিচালনা করতেন জামে মসজিদে। তিনি হেঁটেই সেখানে আসতেন।' সাঈদ সম্পর্কে আল-খুশানি আরও বলেছেন, 'তিনি কর্ডোভায় আগমন করলে আমির তাকে বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। বিচারকার্য পরিচালনার জন্য তিনি মসজিদে বসতেন। তখন তার পরনে থাকত সাদা পশমি জুব্বা।'
যাফির আল-কাসিমি বলেন, 'পরকাল এবং বিচারের পরিণাম সংক্রান্ত চমৎকার উপদেশ এবং আবশ্যকীয়ভাবে ইনসাফ আঁকড়ে ধরার বিষয়টি মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান আল-আনসারির জীবনীতে আমি পড়েছি। ... তাতে এ-ও আছে, বিচারক আবু আবদিল্লাহ মালাগার ভেতরেই উল্লেখিত মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বসতেন। মসজিদের বিপরীতেই ছিল একটি কবর, যা বিচারক অতিরিক্তরূপে খনন করেছিলেন। পরবর্তীকালে নিজের জন্য খননকৃত এই কবরেই তিনি সমাহিত হয়েছেন।' এটা ৫০০ হিজরির কথা। যা ইবনু বাশকুওয়াল তাঁর গ্রন্থ 'আস-সিলাহ'-এ উল্লেখ করে তার প্রশংসা করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবনু বাশিরের জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে আল-খুশানি বলেছেন, 'আবু উসমান মসজিদের সামনে থাকা একটি ঝুলন্ত ছাউনিতে তিনি বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তার বাড়িও ছিল মসজিদের সামনের রাস্তাতে।'
বিচারক সাহনুন জামে মসজিদের মাঝে নির্মিত একটি ঘরে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। ঘরটি তিনি নিজেই তৈরি করে নিয়েছিলেন। দুর্নীতি-সংক্রান্ত বিচারকার্যের পরিচালক হাবিবের এজলাস ছিল জামে মসজিদের অপর একটি ঘরে। যা সাহনুনের ঘরটির কাছেই ছিল। মসজিদের সম্মান রক্ষা এবং মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনার ব্যাপারে যেসব নিষেধাজ্ঞা প্রচারিত হতো, সেগুলো দূর করার মাঝে এভাবেই সমন্বয় করা হতো।
ইবনু ফারহুন বলেছেন, 'সাহনুন জামে মসজিদে একটি ঘর তৈরি করে নিয়েছিলেন, যেখানে তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে বসতেন। যাতে এই এজলাস লোকদের এবং কথাবার্তা আর হইচইয়ের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে যায়। ... বিশ্বস্ত বিচারক যে-কোনো জায়গাতেই বসে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারেন।'
টিকাঃ
[৮৪৮] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৬২ এবং ৬৪
[৮৪৯] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮১; তারীখু কুদ্বাতিল আন্দালুস, পৃ. ১০০
[৮৫০] কুদ্দাতু কুরতুবাহ, পৃ. ৩০
[৮৫১] তারতীবুল মাদারিক: ১/৬০৮
[৮৫২] নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ৪৮৩
[৮৫৩] তাবসিরাতুল হুক্কাম: ১/২৭