📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 মরক্কো এবং উত্তর আফ্রিকা

📄 মরক্কো এবং উত্তর আফ্রিকা


আমরা ইতিমধ্যেই মরক্কো এবং উত্তর আফ্রিকা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষ করেছি। এখানে আরেকটি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করব। কিছু সাম্রাজ্য বাগদাদের আব্বাসি খিলাফতের আনুগত্য থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র সাম্রাজ্য বা সালতানাত প্রতিষ্ঠা করে। যাদের মাঝে প্রথম ছিল ইবাদ্বি খারিজিদের প্রতিষ্ঠিত রুস্তমী সাম্রাজ্য। আব্বাসি খলিফা আল-মানসুরের সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই সাম্রাজ্যটি ১৩০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। ২০২ হিজরিতে এর সমাপ্তি ঘটে। এ ছাড়াও মুরাবিত, মুওয়াহ্হিদ, বনু মারিন এবং হাফসিয় সালতানাতের মতো আগলাবি এবং ইদরিসি রাজবংশও ছিল।

মরক্কোর সিজিলমাসায় ২৯৬ হিজরিতে চালু হওয়া ফাতিমি সাম্রাজ্য ক্রমান্বয়ে পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়। এরা ছিল আব্বাসি সাম্রাজ্যের গলার কাঁটা। এদের রাজারা মৌলিকভাবে ইসমাঈলি শিয়া। শামের সালামিয়াতে ছিল এদের আদি নিবাস। ক্রমান্বয়ে মরক্কোতে এদের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। এরপর ২৯৭ হিজরিতে আবু উবাইদিল্লাহ আল-মাহদি এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে আমিরুল মুমিনীন নাম গ্রহণ করে। রাজত্বের অপর দাবিদার আবু আবদিল্লাহ আশ-শিয়ায়ি তার হাতে নিহত হয়। রাসূলুল্লাহ -এর আদরের দুলালি ফাতিমা -এর সাথে সম্পৃক্ত করে নিজেদের ফাতিমি দাবি করলেও তারা আসলে উবাইদি। এই নামকরণ হয়েছে আবু উবাইদিল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে।

ক্রমে গোটা উত্তর আফ্রিকায় তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত হয়। আবু আবদিল্লাহ রাজনীতি গুছিয়ে নিয়ে নিজের সাম্রাজ্যকে সুসংহত করে। মিশর জয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে দুআ চাইতে থাকে। অবশেষে ৩৫৮ হিজরিতে তার সেনাপতি জাওহার সিকলির হাতে মিশর বিজিত হয়। তখন রাজধানী চলে যায় কায়রোতে। উপাধি গ্রহণের ক্ষেত্রে ফাতিমিদের অনেক বাড়াবাড়ি ছিল। ৩৬২ হিজরিতে তাদের পক্ষে হারামাইনে বক্তব্যও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ৩৯৬ হিজরিতে আল-হাকিম বি আমরিল্লাহ নিজেও হারামাইনে বক্তব্য দিয়েছেন। শাম অঞ্চল দখল করে নেওয়ায় তাদের রাজত্বের পরিধি ইরাক অবধি বিস্তৃত হয়ে যায়।

খলিফা আল-হাকিমের সপক্ষে বনু আকিলের আমির ৪০১ হিজরিতে মুসেলে, আনবারে, মাদায়েনে এবং কুফাতে বক্তব্য দিয়েছেন। আবুল হারিস আরসালান ইবনু আবদিল্লাহ আল-বাসাসিরি বাগদাদস্থ আল-মানসুর জামে মসজিদে তাদের সপক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। উত্তর আফ্রিকাতে তাদের ক্ষমতা খর্ব হতে থাকে। অবশেষে সালাহুদ্দিন আইয়ুবির নিরলস প্রচেষ্টা এবং উবাইদিদের সর্বশেষ খলিফা আল-আদ্বিদের মৃত্যুর মাধ্যমে ফাতিমি যুগের অবসান ঘটে।

আল্লাহ তাআলার দয়ায় মরক্কো এবং উত্তর আফ্রিকাতে এখনো আরবি ভাষার প্রচলন আছে এবং মুসলিমরা সেখানে অবস্থান করছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00