📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আন্দালুসে উমাইয়া খিলাফত

📄 আন্দালুসে উমাইয়া খিলাফত


আবদুর রহমান আন-নাসির ৩১৭ হিজরিতে নিজেকে আন্দালুসের খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেন। তার সময় উমাইয়ারা আন্দালুসে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে। আন্দালুসের খলিফাদের মাঝে তিনিই সর্বাধিক ক্ষমতাধর ছিলেন। তিনি ফিরিঙ্গিদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার পর আন্দালুস সভ্যতায় জ্ঞান-বিজ্ঞান চরম উৎকর্ষতা লাভ করে। তবে ইসলামি রাষ্ট্রের পরিধি কমে ৪.৪০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটারে নেমে আসে। মুসলিমদের অনেক অঞ্চল স্প্যানিশরা দখল করে নেয়।

৩৫০ হিজরিতে (৯৬১ ঈ.) আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর বেশ কয়েকজন উমাইয়া খলিফা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তারা কেউ আবদুর রহমানের সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারেননি। তাদের সময়কালে রাজ্য ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে। হিজরি ৫ম শতকের শুরুতে উমাইয়া খিলাফত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। অবশেষে ৪২২ হিজরিতে (১০২১ ঈ.) তা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর আন্দালুস বিভাজিত হয়ে যায় বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজাদের কাছে। এইসব রাজারা বাগদাদের আব্বাসি খলিফাদের উপাধি নিজেদের সাথে সম্পৃক্ত করতেন。

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 মুলুকুত তাওয়াইফ বা আঞ্চলিক রাজা

📄 মুলুকুত তাওয়াইফ বা আঞ্চলিক রাজা


আন্দালুসে উমাইয়া খিলাফত অবসানের পর বিভিন্ন অঞ্চল আর শহরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। প্রতিটি রাজ্য চলত একজন পৃথক রাজার অধীনে। একপর্যায়ে রাজার সংখ্যা ২৩ জনে গিয়ে ঠেকে। প্রত্যেক রাজা খলিফা নাম ধারণ করে জনগণ থেকে বাইয়াত নিতেন। এর ফলে, কোথাও কোথাও ৮০ কিলোমিটার দূরত্বের মাঝে চারজন আমিরুল মুমিনীনের দেখা মিলত। যেমন: ইশবিলিয়া, আল-জাযিরাতুল খাদ্বরা, মালাকা এবং সাবতাহ অঞ্চল।

স্প্যানিশরা মুসলিমদের এই বিভক্তির সুযোগ নেয়। তারা একের পর এক ইসলামি অঞ্চল দখল করতে থাকে। অবশেষে ৪৮৭ হিজরিতে (১০৮৫ ঈ.) টলেডো নগরীর পতন হয়। আন্দালুসের মুসলিমরা তখন মরক্কোর আমির ইউসুফ ইবনু তাশফিনের কাছে সাহায্য চেয়ে খবর পাঠান।

টিকাঃ
[৭৭৩] আঞ্চলিক রাজাদের সময় আন্দালুসের সীমানা, রাজাদের নাম এবং আল-মুরাবিত রাজবংশের আমিরগণের নাম জানতে আতলাসুত তারীখিল আরাবি, পৃ. ৫৩ দেখুন। যুহরুল ইসলাম: ৩/৩১৬; আল-মু'জিব, পৃ. ১১১

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 আল-মুরাবিত রাজবংশ

📄 আল-মুরাবিত রাজবংশ


আমির ইউসুফ ইবনু তাশফিন আল-মুরাবিতি আন্দালুসের মুসলিমদের সাহায্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ৪৭৯ হিজরিতে (১০৮৬ ঈ.) তার বাহিনী যালাকার যুদ্ধে স্প্যানিশ খ্রিষ্টানদের পরাজিত করে। আঞ্চলিক রাজাদের বিচার করে আন্দালুসকে তিনি মরক্কোর সাথে জুড়ে দেন। আব্বাসি খলিফাদের জন্য দুআ করার নীতি প্রচলন করেন। খলিফার আদবের প্রতি লক্ষ রেখে তাকে ‘আমিরুল মুমিনীন’ না বলে ‘আমিরুল মুসলিমীন’ বলা হতো।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলতে হয়, আন্দালুসের সীমানা তখন ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারে নেমে আসে। টলেডো-সহ বিশাল অঞ্চল জুড়ে চলতে থাকে খ্রিষ্টানদের শাসন।

টিকাঃ
[৭৭৪] যুহরুল ইসলাম: ৩/৩৭

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 মুওয়াহিদিদের রাজত্ব

📄 মুওয়াহিদিদের রাজত্ব


শাসকদের অবহেলা, ইবাদতে ব্যস্ত থাকা এবং যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ মহিলাদের হাতে চলে যাওয়ার দরুন তাশফিন বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে যায়। আন্দালুস পুনরায় আঞ্চলিক রাজত্বে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জনগণ তখন মরক্কোর মুওয়াহহিদদের কাছে সাহায্য চায়।

মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ (৫২৪ হি.) নিজেকে প্রতিক্ষিত মাহদি বলে দাবি করে মরক্কোতে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের নাম 'মাহদি' রেখে অনুসারীদের মুওয়াহহিদ তথা একত্ববাদী বলে আখ্যায়িত করেন। এরপর ৫২৮ হিজরিতে তাদের সর্দার আবদুল মুমিন ইবনু আলি বারবারির নেতৃত্বে আফ্রিকা বিজিত হয়। উমাইয়া যুগের পর মরক্কোতে মাহদিকেই সর্বপ্রথম 'আমিরুল মুমিনীন' বলে অভিহিত করা হয়।

এরপর মুওয়াহহিদ রাজারা আন্দালুসের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৫৪০ হিজরিতে (১১৪৫ ঈ.) তাদের উদ্ধার করে। আন্দালুসকে দ্বিতীয়বারের মতো মরক্কোর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আন্দালুসের আরও কিছু জায়গা মুসলিমদের হাতছাড়া হয়ে যায়। যার মাঝে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা ছিল সারকাসতা। এটা ৫১২ হিজরির (১১১৮ ঈ.) কথা।

স্প্যানিশ খ্রিষ্টানরা মুসলিমদের ওপর ঘন ঘন হামলা করে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে ৬০৯ হিজরির (১২১২ ঈ.) আল-ইকাব যুদ্ধে খ্রিষ্টানদের হাতে মুওয়াহহিদ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। ইবনু হুদ এবং ইবনুল আহমারের নেতৃত্বে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে গণযুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু তারা কর্ডোভাকে খ্রিষ্টানদের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। অবশেষে ৬৩৩ হিজরিতে (১২৩৬ ঈ.) কর্ডোভা মুসলিমদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ৬৩৫ হিজরিতে ইবন হুদের মৃত্যু হলে তার অনুসরণ করে ইবনুল আহমার আন্দালুসে মুওয়াহহিদদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।

টিকাঃ
[৭৭৫] আল-মু'জিব ফী তালখীসি আখবারিল মাগরিব, পৃ. ২৪৫; যুহরুল ইসলাম: ৩/৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00