📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 বিচারিক বিধিবিধানের উৎস

📄 বিচারিক বিধিবিধানের উৎস


হিজরি দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে বিচারকগণ সাধারণত নিজ নিজ ইজতিহাদ অনুসারে বিচার করতেন। মূলত তারা নির্ভর করতেন পূর্বোল্লেখিত শরীয়তের উৎসাদির ওপরেই। পূর্বোল্লেখিত উৎসগুলো হচ্ছে—কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস, ইজতিহাদ, পূর্ববর্তী কাযিদের বিচারাচার, সাহাবিদের বক্তব্য, উরফ তথা প্রচলিত রীতিনীতি।
ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনু শাইবান আল-হাশিমিকে প্রধান বিচারপতির পদে নিয়োগ দেওয়ার সময় আব্বাসি খলিফা তার উদ্দেশ্যে একটি চুক্তিনামা লিখেছিলেন। যা-তে লেখা ছিল—তিনি (অর্থাৎ আবুল হাসান) যেন কুরআনকে যাবতীয় মতামতের সামনে রাখেন। এর ওপর ভিত্তি করেই যেন বিচারকার্য এবং মোকদ্দমার ফয়সালা বাস্তবায়িত হয়। কুরআনকে যেন তিনি নিজের দিকনির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করেন। কুরআনই যেন হয় তার ভরসার স্থান। রাসূলের সুন্নাহকে যেন তিনি আলোর মিনাররূপে গ্রহণ করে অনুস্মরণীয় আদর্শ হিসেবে রাখেন। তার খেয়াল যেন থাকে ইজমার প্রতি। খুলাফায়ে রাশিদুনের অনুসরণ থেকে তিনি যেন বিচ্যুত না হন। যে ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমার কোনো দলিল পাওয়া যাবে না, সে ক্ষেত্রে তিনি যেন ইজতিহাদ অনুযায়ী আমল করেন।
হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে অধিকাংশ ফকিহ ও বিচারকগণ নিজেদের মাযহাব অনুযায়ী ইজতিহাদ করতেন। বিচারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ বিচারক নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব মেনে চলতেন না। বরং মাসআলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে তারা নিজেদের রায় অনুসারে ইজতিহাদ করতেন, যাতে বিচারের ক্ষেত্রে তারা ইজতিহাদের স্তর অর্জন করতে পারেন। অবশ্য কোনো না কোনো মাযহাবের সাথে সাধারণভাবে তাদের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কেবল সেটার ওপরই নির্ভরশীল হয়ে থাকতেন না।
আল-মাওয়ারদি বলেছেন, ‘শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী কোনো কাযি হানাফি মাযহাব অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারবেন। কেননা বিচারকের জন্য নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও রায় অনুসারে ইজতিহাদ করার সুযোগ রয়েছে।’ এ নীতি অনুসারেই কাযি আবু ইউসুফ ওয়াকফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে আবু হানিফা-এর বক্তব্য গ্রহণ না করে মালিকি মাযহাব অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করতেন।
হিজরি পঞ্চম শতকে ফিকহি মাযহাব নির্ধারিত হয়ে যায়। অধিকাংশ আলিম, ফকিহ, বিচারক এবং সাধারণ জনগণ পাঠদান, ফতোয়া এবং বিচারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একজন ইমামের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যান। ফলে বিচারকরা পূর্ববর্তীদের ফয়সালা অনুসারে বিচার করতে বাধ্য হয়ে পড়েন, যাতে সাধারণ জনগণ তাদের বিচারকার্য নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহে না থাকে।
কাযির মাযহাব থেকে ভিন্ন কোনো মাযহাবের অনুসারী মামলা নিয়ে আসলে বিচারক তখন বাদী-বিবাদীর মাযহাবের অনুসারী কোনো বিচারককে ফয়সালা করার জন্য প্রতিনিধি বানিয়ে দিতেন। এ কারণেই আল-মাওয়ারদি বলেছেন, ‘যে বিচারক নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব অনুসরণ করেন, কোনো কোনো ফকিহ তাকে অন্য মাযহাব অনুসারে বিচার করতে নিষেধ করেছেন। শাফিয়ি মাযহাবের বিচারক আবু হানিফা-এর মাযহাব অনুসারে বিচার করতে পারবেন না। আবার হানাফি মাযহাবের বিচারক নিজস্ব ইজতিহাদ মোতাবেক শাফিয়ি মাযহাব অনুসারে বিচার করতে পারবেন না। কারণ এতে বিচারকার্য পরিচালনা এবং রায় প্রদানের ক্ষেত্রে অপবাদ আরোপ এবং কূটকৌশলের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
আল-মাওয়ারদি আরও বলেন, ‘বিচারক যখন নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব অনুসারে বিচার করবেন, ভিন্ন কোনো মাযহাব ফলো করবেন না, তখন কোনো অপবাদের সুযোগ থাকবে না। বাদী-বিবাদীও এতে সন্তুষ্ট থাকবে। রাজনৈতিক তথা শারঈ আইন এ ধরনের বিচারকার্য সমর্থন করে বটে, কিন্তু আবশ্যক করে না। কেননা তাকলিদ তথা শুধু নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের অনুকরণ করতে বলা হয়নি। বরং শরীয়ত ইজতিহাদ বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে গবেষণা করার সুযোগ দিয়েছে।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবি বর্ণনা করেছেন, ‘কোনো কোনো বিচারক রায় প্রদানের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে লাগলে রাষ্ট্রের কর্ণধাররা তখন নির্দিষ্ট কোনো মাযহাব অনুসারে বিচার করা কাযিদের জন্য আবশ্যক করে দিলেন। তারা নিয়ম বেঁধে দিলেন, নির্দিষ্ট মাযহাবের পরিধি যেন অতিক্রম না করা হয়। সাধারণ জনগণকে সন্দেহে না ফেলে—এমন বিচারকার্যই কেবল তাদের থেকে গৃহীত হবে। তাদের বিচার যেন পূর্ববর্তীদের মতো উন্মুক্ত না হয়।’
প্রত্যেক মাযহাবের গ্রন্থসমূহে প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য যেসব মতামত এবং বক্তব্য লিখিত আছে, বিচারক ও ফকিহগণ সেসবের ওপরই নির্ভর করতে শুরু করলেন। শাইখ ইযযুদ্দিন ইবন আবদিস সালাম (৬৬০ হি.) এটা সুস্পষ্ট করেছেন এভাবে—‘নির্ভরযোগ্য ফিকহি গ্রন্থাবলি অনুসরণ করা যে বৈধ, এ ব্যাপারে বর্তমানের সব আলিম একমত। নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণিত হওয়ায় এসবের ওপর সবার আস্থা রয়েছে। এ কারণেই ত্রুটির সম্ভাবনা থাকার পরও আরবি ব্যাকরণশাস্ত্র, ভাষা, চিকিৎসাবিজ্ঞান-সহ তাবৎ জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত গ্রন্থসমূহের ওপর মানুষ আস্থা রাখে। ... এতটুকু বৈধতা না থাকলে ইসলামের অনেক অর্জন বেকার হয়ে পড়ত।’
শাইখ ইযযুদ্দিনের ছাত্র কারাফি আল-মালিকি (৬৮৪ হি.)-ও এমন কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মূলনীতি ছিল—ফতোয়া হবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর সূত্রে বর্ণিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুযায়ী। এটাই আসল মত। ফতোয়াদাতা যে মুজতাহিদকে অনুসরণ করবে, ফতোয়াও সে অনুযায়ী হতে হবে। যাতে মুজতাহিদের কাছে হাদিস সহিহ হওয়ার মতো ফতোয়া প্রদানকারীর কাছে ফতোয়াও সঠিক হয়। কেননা এটা মূলত দুদিক থেকে আল্লাহর দ্বীনের বর্ণনা। এ ছাড়া অন্য কোনো পন্থা নিষিদ্ধ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তবে বর্তমানে মানুষের মাঝে ব্যাপকতার মানসিকতা কাজ করে। তাই বর্ণনা ছাড়া কেবল বই পড়েই ফতোয়া প্রদান শুরু হয়েছে। যা দ্বীনের ক্ষেত্রে বিরাট এক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় এবং কুরআন ও হাদিসের মূলনীতি-বহির্ভূত কাজ। তবে প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির কথা ভিন্ন। প্রসিদ্ধির কারণে সেগুলো বিকৃতি ও মিথ্যা থেকে মুক্ত থাকায় বাহ্যিকভাবে মানুষ এসবের ওপর নির্ভর করে।’
এসবের ফলে বিচারের উৎসগুলো ফিকহের কিতাবের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব কিতাবের অধিকাংশই ফিকহি মাযহাব অনুসারে লেখা। কোনো কোনো উৎসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকায় এই মাযহাবগুলোও ভিন্ন ভিন্ন। যেসব উৎসের ক্ষেত্রে ভিন্নতা থাকায় এসব মাযহাবের মাঝে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, সেগুলো হচ্ছে : আল-ইস্তিহসান (সাদৃশ্যমূলক সিদ্ধান্ত বর্জন করে উপযুক্ত মতামতকে অগ্রাধিকার প্রদান), আল-ইস্তিসলাহ (কল্যাণ যাচাই করা), আল-ইস্তিসহাব (ধারাবাহিকতার অনুমতি), সাহাবির বক্তব্য, পূর্ববর্তী আইন, আল-উরফ (প্রচলিত রীতিনীতি), ইজমাউ আহলিল মাদীনা (মদীনাবাসীদের ঐকমত্য) এবং অন্যায় নির্মূল ইত্যাদি। এগুলোর কারণে বিচারক যেসব ফিকহি মূলনীতির ওপর নির্ভর করেন, সেগুলো ভিন্ন হয়ে থাকে। এই ভিন্নতা হঠাৎ করে হয়েছে কিংবা ফিকহি মাযহাবের উত্থানের কারণে হয়েছে—এমন নয়। বরং বিচারকরা যখন নিজেদের ইজতিহাদ তথা ব্যক্তিগত গবেষণা অনুসারে বিচার করতেন, তখন থেকেই এই ভিন্নতা দেখা গিয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইজতিহাদ ভিন্ন হওয়ার কারণে অভিমত বা দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে ভিন্নতা এসেছে। এ কারনেই খলিফা মানসুরের সময় বিচারের সমস্ত বিধান এক করার আহ্বান শুরু হয়। বিচারব্যবস্থার কিছু দিক সংস্কার করার ডাক আসতে থাকে। এটা আমরা সামনে দেখব।

টিকাঃ
[৭০৮] আল-মাওয়ারদি বলেছেন, ঘটনা এবং বিধানাবলির ক্ষেত্রে মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত থাকা বিচারকের জন্য জরুরি নয়। বিচারক শাফিয়ি মাযহাবের অনুসারী হয়ে থাকলে রায় প্রদানের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিয়ির বক্তব্যসমূহের দিকে না গিয়ে তিনি ইজতিহাদ করবেন। ইজতিহাদ মোতাবেক আবু হানিফার বক্তব্য তার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হলে সেটাই গ্রহণ করবেন এবং তদনুসারে রায় প্রদান করবেন। (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৬৭)
[৭০৯] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৬৭
[৭১০] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৪৩
[৭১১] তারীখুল কাদ্বা, পৃ. ৮১
[৭১২] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৬৭
[৭১৩] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৬৭
[৭১৪] তারীখুল কাথা, পৃ. ৯৫

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 ফিকহি গ্রন্থাবলি সংকলন

📄 ফিকহি গ্রন্থাবলি সংকলন


আব্বাসি যুগে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান সংকলনের ধারা সর্বজনীনভাবে এবং বিশেষভাবে ইসলামি আইনকানুনের গ্রন্থ সংকলনের সূচনা হয়েছিল। ফিকহি মাযহাবগুলোর উত্থান এবং সেসবের স্থিতির জন্য মাযহাবের ইমামগণ, তাদের ছাত্ররা এবং তাদের পরবর্তীরা পর্যায়ক্রমে অনেক কাজ করে গেছেন। যেমন: রায় এবং দলিল-প্রমাণ পরিমার্জন করা, অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া, মাসআলা উদঘাটন এবং সেসবের দলিল পেশ করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা। এ ছাড়াও তারা আমলযোগ্য দলিল আলোচনা করেছেন, মাযহাবের অনুসারীদের ফিকহি আলোচনা-পর্যালোচনার সুযোগ রেখেছেন।
আবার প্রত্যেক মাযহাবের অনুসারীরা যেসব বিধান সংকলনে গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন—সেসব জানা, সেগুলোর প্রচার-প্রসার, পাঠদান এবং সেগুলোর ওপরই নির্ভরশীল হওয়ার প্রতিও তাদের জোর ছিল। অবশ্য সেটা সম্ভব বিচারক ও মুফতিদের জন্য মাযহাবের বিধানাবলি জানা সহজ করে দেওয়ার মাধ্যমে।
মাযহাবের ইমামগণ নিজেরাও লেখালেখি এবং সংকলনের কাজে অনেক সময় দিয়েছেন। তাদের প্রবীণ অনুসারীরাও সংকলনের কাজ করেছিলেন, যাদের মাঝে নির্দিষ্ট মাযহাবের সাথে সম্পৃক্ত বিচারকগণও ছিলেন। ফিকহের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান ছিল উঁচু স্তরে। বিচারকার্য এবং মোকদ্দমার ক্ষেত্রে মাযহাবের বিধানাবলি সমন্বয়ের চেষ্টা করতেন তারা।
ফিকহ-সংক্রান্ত গ্রন্থের সংখ্যা কত—তা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। আবার প্রত্যেক মাযহাবের গ্রন্থ পৃথক পৃথকভাবে সংকলন করা হয়েছে। এজন্য আব্বাসি যুগে লেখা গ্রন্থসমূহ এবং বিশেষভাবে বিচারব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থগুলো নিয়ে আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করব।

হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ
যহিরুর রিওয়ায়াহ হানাফি মাযহাবের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এটা মূলত মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানি (১৮৯ হি.) কর্তৃক বর্ণিত কয়েকটি গ্রন্থের সমষ্টি। যা-তে তিনি হানাফি মাযহাবের বিধানাবলি এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহের ব্যাপারে আবু হানিফা -এর পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্যগুলো সংকলন করেছেন। পরবর্তীকালে হাকিম আশ-শাহিদ (৩৩৪ হি.) যহিরুর রিওয়ায়াহ-এর আলোচনাগুলো একত্রিত করে সেগুলোর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন এবং রিপিট হওয়া বিষয়গুলো বাদ দিয়েছেন। এ গ্রন্থটির নাম তিনি আল-কাফী রেখেছেন। এরপর আল-কাফী-এর ব্যাখ্যায় আস-সারাখসি (৪৮৩ হি.) তাঁর ফতোয়া বিশ্বকোষ আল-মাবসূত লিখেছেন, যা আজ পর্যন্ত হানাফি মাযহাবের অন্যতম কিতাব।
এসব ছাড়াও হানাফি মাযহাবের আরও কিছু গ্রন্থের নাম এখানে উল্লেখ করা হচ্ছে। যেমন:
* আল-খাসসাফ (২৬১ হি.) রচিত আদাবুল কাদী এবং সদরুস শাহিদ (৫৩৬ হি.) কৃত তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
* আস-সামনানি (৪৯৯ হি.) রচিত রাওদাতুল কুদ্বাহ ওয়া তরীকুন নাজাহ।
* আল-কাসানি (৫৮৭ হি.)-এর লেখা বাদাউস সানায়ে এবং
* আল-মুরগিনানি (৫৯৩ হি.) লিখিত আল-হিদায়া

মালিকি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ
ইমাম মালিক (১৭৯ হি.) কর্তৃক সংকলিত আল-মুওয়াত্তা হচ্ছে মালিকি মাযহাবের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এতে হাদিস, সাহাবিদের বক্তব্য এবং ফতোয়া আছে। ইমাম মালিকের দিকে সম্পর্কিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হচ্ছে আল-মুদাওয়্যানাতুল কুবরা, যার সংকলন এবং বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম ইবনু সাঈদ আত-তানুখি (২৪০ হি.)। তাঁর উপাধি ছিল সাহনুন। অন্যান্য গ্রন্থসমূহের মাঝে আছে আল-কারাফি (৬৮৪ হি.) রচিত আয-যাখীরাহ।
* খলিল ইবনু ইসহাক (৭৭৬ হি.) লিখিত মুখতাসারু খলিল মালিকি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ এবং সংক্ষিপ্ত একটি গ্রন্থ।
* ইবনু ফারহুন (৭৯৯ হি.) কর্তৃক সংকলিত তাবসিরাতুল হুক্কাম ফী উসূলিল আকদিয়াতি ওয়া মানাহিজিল আহকাম ইসলামি বিচারব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

শাফিয়ি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ
শাফিয়ি মাযহাবের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ ইমাম শাফিয়ি (২০৪ হি.) নিজেই রচনা করেছেন। তাঁর মাযহাবের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হচ্ছে আল-উম্ম। আল-মুযানি (২৬৪ হি.) যার সংক্ষেপণ করে মুখতাসারুল মুযানি নাম রেখেছেন। ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনি (৪৭৮ হি.) উক্ত গ্রন্থের ব্যাখ্যা করেছেন। যার নাম হলো নিহায়াতুল মাতলাব ফী দিরায়াতিল মাযহাব।
শাফিয়ি মাযহাবের অন্যতম বিশাল আর বৃহৎ গ্রন্থ হচ্ছে আল-হাভীল কাবীর। যা আল-মাওয়ারদি (৪৫০ হি.) সংকলন করেছেন। এ ছাড়াও আল- আহকামুস সুলতানিয়্যাহ নামে আল-মাওয়ারদির আরেকটি গ্রন্থ আছে।
আশ-শিরাযি (৬৪২ হি.) প্রণীত দুটি গ্রন্থের নাম হচ্ছে আল-মুহাযযাব এবং আত-তাম্বীহ।
আল-গাযালি (৫০৫ হি.) কর্তৃক রচিত কয়েকটি গ্রন্থের নাম হচ্ছে আল- বাসিত, আল-ওয়াসিত, এবং আল-ওয়াজিয। এগুলোর মধ্যে আল-ওয়াজিয- এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন আর-রাফিয়ি (৬২৩ হি.), যার নাম ফাতহুল আযিয।
ইবনু আবিদ দাম আল-হামাবি (৬৪২ হি.) লিখিত আদাবুল কাদা।
এ ছাড়াও আন-নববি (৬৭৬ হি.) কর্তৃক রচিত গ্রন্থগুলো শাফিয়ি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ রচনার অন্তর্ভুক্ত।

হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ
হাম্বলি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির অন্যতম হচ্ছে আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইন ইবনি আবদিল্লাহ আল-খিরাকি (৩৩৪ হি.) কর্তৃক সংকলিত মুখতাসারুল খিরাকি। এই গ্রন্থটির বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ হচ্ছে আল-মুগনী, যা ইবনু কুদামাহ (৬২০ হি.) লিখেছেন। তাঁর লিখিত আরেকটি গ্রন্থের নাম আল-মুকনি। তা ছাড়া আল-কাফী নামেও তাঁর একটি গ্রন্থ আছে। এই গ্রন্থগুলোও হাম্বলি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাদির অন্যতম।
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ-এর সংকলক কাযি আবু ইয়ালা আল-ফাররা আল-হাম্বলি (৪৫৮ হি.)।
আল-মুহাররার-এর লেখক মাজদুদ্দিন আবুল বারাকাত আবদুস সালাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (৬৫২ হি.)।
ইবনুল কাইয়িম (৭৫১ হি.)-এর আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস সিয়াসাতিশ শারইয়্যাহ।
এ ছাড়াও ইবনু তাইমিয়্যাহ (৭২৮ হি.) এবং মানসুর আল-বাহুতি (১০৫১ হি.)-এর কিছু গ্রন্থের কথা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

শিয়া ও যাহিরিদের কিতাব
শিয়াদের জাফারি ইমামিয়্যাহ মতাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির মাঝে আছে নাজমুদ্দিন আবুল কাসিম আল-মুহাক্কিক আল-হিল্লি (৬৭৬ হি.) কর্তৃক সংকলিত শারাই’উল ইসলাম এবং আল-মুখতাসারুন নাফি।
শিয়াদের যায়িদিয়্যাহ মতাদর্শের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলো হচ্ছে ইমাম যায়িদ ইবনু আলি (১২২ হি.) কর্তৃক সংকলিত আল-মাজমূ, আল-মুরতাযা (৮৪০ হি.) কর্তৃক সংকলিত আল-বাহরুয যাখখার এবং আস-সিয়াগি (১২২১ হি.) কর্তৃক সংকলিত আর-রাওদুন নাদীর।
যাহিরি মতাদর্শের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হচ্ছে আল-মুহাল্লা, যা ইবনু হাযাম (৪৫৬ হি.) রচনা করেছেন।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহের পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা

📄 অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহের পরিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা


বিচার বিভাগীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সূচনা নবি-যুগেই হয়েছিল। তবে এই দীর্ঘ সময়ে বিচারব্যবস্থার যে উন্নতি এবং পরিপূর্ণতা লাভ এবং সুসংহত হয়েছিল, সেটা হলো সাধারণ বিচারব্যবস্থা। উমাইয়া যুগে পরিপূর্ণরূপে এবং বিশেষভাবে দুর্নীতির বিচারের সূচনা ঘটে। আব্বাসি যুগে ‘হিসবাহ’ সংক্রান্ত বিচারব্যবস্থা সুসংহত হয়ে উঠেছিল। সরকারি অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এই বিভাগটির কিছু বিশেষত্ব ছিল। এখানে স্বতন্ত্র এবং পৃথক কিছু দায়িত্ব থাকত।
তদ্রূপ আব্বাসি যুগেই সামরিক বিচার বিভাগ পূর্ণতা লাভ করে। এর মাধ্যমেই আব্বাসি যুগের বিচার বিভাগের অধীনস্থ তাবৎ প্রতিষ্ঠান পরিপূর্ণ রূপ ধারণ করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ অবস্থানের পাশাপাশি স্বতন্ত্র ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত কাজ এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল। আলিম, ফকিহ এবং বিচারকগণ সব ক’টি প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু রচনা করেছেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে স্বতন্ত্রভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে রাখার মতো কিছু গ্রন্থ লিখে গেছেন। এসবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাজ নির্ধারিত হয়ে থাকত। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে তা পৃথক হয়ে যেত। এগুলো ছিল বিচার বিভাগ, বিচারব্যবস্থাপনা, বিচার-সংক্রান্ত গ্রন্থাদি, বিচারের নীতিমালা, রাষ্ট্রীয় অনুশাসন এবং আইনের অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
[৭১৫] আল-মাওয়ারদির আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ-এ বিচার সংক্রান্ত দায়িত্ব, পৃ. ৬৫; অন্যায় দমন সংক্রান্ত দায়িত্ব, পৃ. ৭৭ এবং হিসবাহর বিধান, পৃ. ২৪০ দেখুন। আবু ইয়ালার আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ-এ বিচার সংক্রান্ত দায়িত্ব, পৃ. ৬০; অন্যায় দমন সংক্রান্ত দায়িত্ব, পৃ. ৭৩ এবং হিসবাহর বিধান, পৃ. ২৮৪-ও দেখা যেতে পারে।

📘 ইসলামি বিচারব্যবস্থার ইতিহাস > 📄 পরিধি নির্দিষ্টকরণ

📄 পরিধি নির্দিষ্টকরণ


আব্বাসি যুগে বিচারব্যবস্থার পরিধি নির্দিষ্ট ছিল। আলিমগণ মূলত সাধারণ বিচারব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অন্যায় সংক্রান্ত বিচার, জনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিচার এবং সামরিক বিচার সংক্রান্ত পরিধি নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে থাকেন। কিন্তু এসব পরিধি চূড়ান্ত বা স্থায়ী ছিল না। বরং সময়ভেদে এসব পরিধি একটি অপরটির সাথে মিলে যেত। কখনো-বা পরিস্থিতি কিংবা বিচারকের ব্যক্তিত্ব অনুপাতে, খলিফা, প্রশাসক বা প্রধান বিচারপতির সীমা অনুসারে এটি বিস্তৃত হতো। আবার একজন বিচারককে অন্য বিচারকের অধীনস্থ বিষয়ের মাঝে দিতেও দেখা গেছে। সাধারণ বিচার বিভাগ কিংবা জনশৃঙ্খলা অধিদপ্তরের পরিধিতে পড়ে—এমন কিছু দায়িত্ব পুলিশকে অর্পণ করা হতো। কখনো ঘটত এর উলটোটাও। যেমন, কিছু প্রশাসনিক এবং আধা বিচারিক বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব বিচারকের কাছে অর্পণ করা হতো।
আমরা এখানে কেবল সাধারণ বিচারব্যবস্থার পরিধি সংক্রান্ত আলোচনা করব। নিপুণ এবং পূর্ণাঙ্গ বিচারব্যবস্থা ছিল আব্বাসি যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর একটি অংশ ছিল সময়সীমা। অর্থাৎ বিচারক কোন দিনগুলোতে বিচারকার্য পরিচালনা করবেন এবং কোন দিনগুলোতে ছুটিতে থাকবেন, আব্বাসি যুগে সেটা নির্ধারিত থাকত। যেমন, ঈদের দিন এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বিচারকার্য চলত না। আবার দৈনিক কতটুকু সময় বিচারকার্য চলবে, সেটাও নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে তা ‘কর্মঘণ্টা’ হিসেবে পরিচিত।
তদ্রূপ স্থানগত পরিধিও ছিল নির্দিষ্ট। প্রথম আব্বাসি যুগে পুরো প্রশাসনিক কাজের জন্য বিচারক নিয়োগ দেওয়া হতো। পরবর্তী জামানার আব্বাসি বিচারকরা নিজ নিজ মাযহাবের প্রতিনিধিত্ব করতেন। বিচারকের পরিধি নির্দিষ্ট শহরে বা শহরের প্রান্তে সীমাবদ্ধ থাকত। যেমন: বাগদাদের পূর্ব প্রান্তের বিচারক এবং পশ্চিম প্রান্তের বিচারক, দামিস্কের বিচারক এবং কায়রোর বিচারক, মিশরের নিম্ন ভূমি এবং উচ্চ ভূমির বিচারক ইত্যাদি।
বিচারকগণ সাধারণত মসজিদেই বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। কিন্তু একসময় খলিফা আল-মুতাদিদ মসজিদে বিচারকার্য পরিচালনা করতে নিষেধ করেন। বিচারক কখনো মসজিদের ভেতরে বসতেন, আবার কখনো মসজিদের সামনে। অনেক সময় নিজের বাড়িতে বা রাস্তাতেই বিচার করতেন। একপর্যায়ে বিচারের আদালত মসজিদের সাথেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আবার কখনো শহরের মাঝে প্রশস্ত কোনো জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। যাতে বিচারপ্রত্যাশী লোকেরা সেখানে সহজে বসতে পারে। তাহলে বাদী-বিবাদীর কষ্ট করে বসে থাকতে বা অপেক্ষা করতে হবে না।
আব্বাসি যুগে বিচারকের ক্ষমতা ছিল বিস্তৃত। আর্থিক, দেওয়ানি, ফৌজদারি এবং সমস্ত মামলার ক্ষেত্রে সাধারণত বিচারকই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অনেক সময় তাকে পুলিশি ক্ষমতা, দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব, কিসাস বা বদলা গ্রহণ, জনশৃঙ্খলা, টাকশাল এবং কোষাগারের দায়িত্বও প্রদান করা হতো।
তৎকালীন সাধারণ বিচারব্যবস্থার ধরণ কেমন ছিল, আল-মাওয়ারদি তার বিবরণ দিয়েছেন। যা থেকে বোঝা যায়, সে যুগে সাধারণ বিচারব্যবস্থা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

দেওয়ানি বিচার বিভাগ
আল-মাওয়ারদির বর্ণনা অনুসারে, বিচারকের ক্ষমতা সাধারণ হলে এই বিভাগের পরিধি থাকত দশটি। সেগুলো হচ্ছে: (১) বিরোধ-মীমাংসা এবং অধিকার আদায়, (২) অভিভাবকহীন লোকদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ, (৩) ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দেখাশোনা করা, (৪) ওসিয়ত বাস্তবায়ন, (৫) বিধবাদের বিয়ের ব্যবস্থা, (৬) অপরাধীদের দণ্ড কার্যকর, (৭) জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ রাখা, (৮) রাস্তাঘাটে অন্যায় প্রতিহত করা, (৯) সাক্ষী এবং আমানতদারদের তদারকি এবং (১০) প্রতিনিধি নির্বাচন করা এবং জনগণের মাঝে মীমাংসা করার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন অনুসারে কখনো কখনো একটা ক্ষেত্রের মধ্যেই বিচারকের ক্ষমতা নির্ধারিত থাকত।

ফৌজদারি বিচার বিভাগ
এটা ছিল অপরাধ, অন্যায় এবং বিবেচনামূলক শাস্তির সাথে সম্পৃক্ত। তবে এটা সাধারণ দেওয়ানি বিচারকের আওতায় পড়ত না। কারণ আল-মাওয়ারদি তার পরিধি-সংক্রান্ত আলোচনায় এটা উল্লেখ করেননি। বরং স্বতন্ত্রভাবে ‘অপরাধের বিধিবিধান’ শিরোনামের অধীনে অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। এ থেকে বুঝে আসে, একজন স্পেশাল কাযি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ের তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষভাবে নিযুক্ত সেই কাযির ওপর বর্তায়। বিশেষত অপবাদ আরোপ সংক্রান্ত বিষয়াদি যাচাই-বাছাই করা এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক দণ্ডবিধি আরোপ করা তার দায়িত্ব। এখানে অপরাধ, মুক্তিপণ ও বিশেষ বিবেচনাধীন শাস্তির কথা আল-মাওয়ারদি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
আব্বাসি খিলাফতের পরবর্তী সময়গুলোতে বিচারকের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে যায়। খিলাফতের দুর্বলতা, একাধিক নেতৃত্ব এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে বিচারকের কর্তৃত্ব সীমিত হয়ে পড়ে। কিছু কিছু বিচারকের কাজ হয়ে যায় কেবল অর্থনৈতিক বিবাদের মীমাংসা এবং ব্যক্তিগত বিষয়ের তত্ত্বাবধান করা।
আব্বাসি যুগে কোনো কোনো বিচারকের পরিধি ছিল নিতান্তই সীমিত। ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বসরার আমিরগণ জামে মসজিদে বিচারক নিয়োগ করতেন। এদেরকে বলা হতো ‘মসজিদের কাযি’। তাদের বিচারের বিষয়গুলো ২০০ দিরহাম বা ২০ দিনারের চেয়ে কম হতো। তিনি নাফাকাহ বা খরচের হুকুম দিতেন। নিজের পদ কিংবা নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে কোনো বিচারকার্য তিনি পরিচালনা করতেন না। তাদের অবস্থা ছিল বর্তমান যুগের সালিশি বৈঠকের মতো।
ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনু আকসাম বসরায় এসে আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু আসাদ আল-কিলবিকে মসজিদের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য নিয়োগ দেন। তখন তিনি কিছু ঋণের ব্যাপারে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। স্বামীকে তার স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব আবশ্যক করে দেওয়া-সহ ছোটখাটো বিষয়ের সুরাহা করতেন। তারপর ইয়াহইয়া তাকে চিঠি পাঠিয়ে বললেন, ‘২০ দিরহামের বেশি হয়—এমন কোনো অর্থদণ্ডের বিচার করা থেকে আপনি বিরত থাকবেন।

টিকাঃ
[৭১৬] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৬৫
[৭১৭] আন-নুযুমুল কাদ্ধাইয়্যাহ, পৃ. ৬৫; নিযামুল হুকমি ফিশ শারীআহ, পৃ. ২৯৭
[৭১৮] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭০
[৭১৯] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ২২১-২৪১
[৭২০] আন-নুযুমুল কাদ্বাইয়্যাহ, পৃ. ৬৬
[৭২১] আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ. ৭৩; আল-কাদ্বাউল ইদারি, পৃ. ৫৯
[৭২২] আখবারুল কুদ্ধাহ: ২/১৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00